ঢাকা ১০ আষাঢ় ১৪৩৩, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
ইংল্যান্ডকে জিততে দিল না ঘানা মায়ের মৃত্যুতে দেশে ফিরে গেলেন ফ্রান্সের কোচ অতঃপর দেম্বেলে… প্রথমার্ধে ইংল্যান্ডকে রুখে দিল ঘানা বিশ্বকাপে ইরানের সফর নীতি নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবলের ক্যানভাসে চিরযৌবন নেইমারে ভয় নেই স্কটল্যান্ডের মাঠে হেঁটেই সফল মেসি রোনালদোর রেকর্ডের রাতে পর্তুগালের গোল উৎসব ৪১ বছরেও থামেননি রোনালদো, ভাঙলেন মেসির রেকর্ড পর্তুগিজ কিংবদন্তিতে ছাড়িয়ে শীর্ষে রোনালদো রোনালদোর বিশ্বরেকর্ড, প্রথমার্ধে উজবেকিস্তানের জালে ৩ গোল পর্তুগালের গোল করেই ইতিহাস গড়লেন রোনালদো ফ্রান্স ম্যাচ নিয়ে ভাবছেন না হালান্ড তৃণমূল থেকে ফিরহাদ-অরূপসহ ৮ নেতা বহিষ্কার উপদেষ্টা জাহেদের ফেরা ছিল তার নিজের সিদ্ধান্ত: জয়সওয়াল কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় সিএফমোটো বাংলাদেশের নতুন শোরুম উদ্বোধন পর্তুগালের একাদশে ২ পরিবর্তন ব্লিং লেদার প্রোডাক্টস লিমিটেড ঘুরে দেখলেন রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি বিস্ফোরক সংকটে বন্ধ মধ্যপাড়া পাথরখনির উত্তোলন কার্যক্রম জলবায়ু অঙ্গীকার বাস্তবায়নে বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর হরমুজ প্রণালিতে রেকর্ড তেল রপ্তানির তথ্য দিলেন ট্রাম্প কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিশু নির্যাতন ও ধর্ষণবিরোধী মানববন্ধন আলোচিত কৃষক কবির হোসেন আর নেই ‘জুয়া প্রতিরোধ বিল, ২০২৬’ সংসদে উত্থাপন আদব মানুষকে সম্মানিত করে, আদবহীনতা মর্যাদা নষ্ট করে: ছারছীনার পীর ছাহেব কারা পাবেন হেদায়েতের এই পরম নিয়ামত? রেকর্ড তাপপ্রবাহে ফ্রান্সে ট্র্যাজেডি, পানিতে ডুবে ৪০ জনের মৃত্যু জাইমা রহমানের ছবি ব্যবহার করে প্রতারণা, রিমান্ডে আইনজীবী বাংলাদেশের সঙ্গে ৫৮ দেশের বাণিজ্য ঘাটতি, শীর্ষে চীন ও ভারত: বাণিজ্যমন্ত্রী

কর্মবর্ষের নয়, করবর্ষের সম্পদের হিসাব দিয়েছেন উপদেষ্টারা

প্রকাশ: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:২৯ পিএম
আপডেট: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:৫২ এএম
কর্মবর্ষের নয়, করবর্ষের সম্পদের হিসাব দিয়েছেন উপদেষ্টারা
খবরের কাগজ ইনফোগ্রাফ

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদের বিবরণী প্রকাশ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এটা প্রকাশ করেছে। গত ৩০ জুন পর্যন্ত আয়কর বিবরণীর তথ্য অনুযায়ী তারা সম্পদের হিসাব দাখিল করেছেন। যদিও এরপর আরও প্রায় ৭ মাস দায়িত্ব পালন করেছেন তারা। সেই হিসাব দেখানো হয়নি। তবে পরবর্তী সময়ে সেই হিসাবও জমা দেবেন বলে জানিয়েছেন অনেক উপদেষ্টা। 

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। পরে কয়েক দফায় নতুন উপদেষ্টা নিয়োগ দেওয়া হয়। সংযোজন-বিয়োজনের পর শেষ পর্যন্ত উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যসংখ্যা প্রধান উপদেষ্টাসহ ছিল ২১ জন। এ ছাড়া উপদেষ্টা পদমর্যাদায় বিশেষ সহকারী, বিশেষ দূত ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা চারজন। প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধান উপদেষ্টার চার বিশেষ সহকারী এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ বোর্ডের নির্বাহী চেয়ারম্যানও দায়িত্ব পালন করেছেন।

উপদেষ্টাদের সম্পদের হিসাব বিবরণী বিশ্লেষণে দেখা যায়, উপদেষ্টাদের চেয়ে তাদের স্ত্রী বা স্বামীর অর্থ-সম্পদ বেশি। দু-একজন বাদে অধিকাংশ উপদেষ্টার দেশের বাইরে কোনো অর্থ-সম্পদ নেই। এ ছাড়া বন ও পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানসহ বেশ কয়েকজন উপদেষ্টার অর্থ-সম্পদের পরিমাণ কমে গেছে। 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শেষ সময়ে হলেও উপদেষ্টারা যে সম্পদের হিসাব জনগণের কাছে প্রকাশ করেছেন, এটা অবশ্যই ভালো দিক। এতে জবাবদিহিও নিশ্চিত হয়। 

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা দায়িত্ব গ্রহণের পর বলেছিলেন, নিয়ম মেনে সব উপদেষ্টার সম্পদের বিবরণ প্রকাশ করা হবে। পরে সরকারি কর্মকর্তাদেরও এই হিসাব দিতে হবে। 

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিশ্বব্যাংকের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন খবরের কাগজকে বলেন, ‘উপদেষ্টারা যে সম্পদের হিসাব দাখিল করেছেন, এটা অবশ্যই ভালো চর্চা। এর মধ্য দিয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিও নিশ্চিত হয়েছে। তবে কার সম্পদ কত বেড়েছে বা কমেছে, সেটা আমার কাছে বিবেচ্য বিষয় নয়।’ 

তিনি বলেন, ‘যেখানে আমাদের চোখের সামনে হাতি পার হয়ে যাচ্ছে, সেখানে দড়ি নিয়ে টানাটানি করে লাভ নেই।’ 

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের মোট পরিসম্পদ ছিল ১৫ কোটি ৬২ লাখ ৪৪ হাজার ৬৫ টাকার। এক বছর আগে তা ছিল ১৪ কোটি ১ লাখ ৩৯ হাজার ৬৭৩ টাকা। অর্থাৎ এক বছরে প্রধান উপদেষ্টার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৬১ লাখ ৪ হাজার ৩৯২ টাকা। উপদেষ্টাদের মধ্যে প্রধান উপদেষ্টার সম্পদ সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। 

সঞ্চয়পত্র নগদায়ন, সঞ্চয়ী বা মেয়াদি আমানত বৃদ্ধি, উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া শেয়ার ইত্যাদি কারণে মোট সম্পদ বেড়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। প্রধান উপদেষ্টার স্ত্রী আফরোজী ইউনূসের মোট পরিসম্পদ ১ কোটি ২৭ লাখ ৬৩ হাজার ৩৬০ টাকা, যা আগের অর্থবছরে ছিল ২ কোটি ১১ লাখ ৭৭ হাজার ২৭৪ টাকা। সে হিসাবে এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ৮৪ লাখ ১৩ হাজার ৯১৪ টাকা।

আয়কর আইন অনুযায়ী, একজন করদাতার মালিকানাধীন স্থাবর-অস্থাবর, আর্থিক ও মূলধনি সম্পত্তির সমষ্টি হলো পরিসম্পদ।

অধ্যাপক ইউনূসের সম্পদের বিবরণের তথ্য অনুযায়ী, তার আর্থিক সম্পদের পরিমাণ ১৪ কোটি ৭৬ লাখ ৬৪ হাজার ৪০১ টাকা। এক বছর আগে এই অর্থের পরিমাণ ছিল ১৩ কোটি ১৮ লাখ ৭১ হাজার ৪৩৩ টাকা। আর তার নন-ফাইন্যান্সিয়াল সম্পদ আছে ২১ লাখ ৬ হাজার ২৫০ টাকার। এক বছর আগে ছিল ২০ লাখ ৯২ হাজার ৫০০ টাকা। দেশের বাইরে তার সম্পদ আছে ৬৪ লাখ ৭৩ হাজার ৪১৪ টাকার। এক বছর আগে ছিল ৬১ লাখ ৭৫ হাজার ৭৪০ টাকার।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০২৩ সালের আয়কর আইন প্রণয়নের সময় ব্যক্তির সম্পদের সংজ্ঞা আন্তর্জাতিক রীতি-নীতি অনুসারে ঠিক করা হয়। সেখানে আর্থিক সম্পদ বলতে বোঝায়, নগদ টাকার পাশাপাশি ব্যাংকে রাখা টাকা, সঞ্চয়পত্র, বিভিন্ন শেয়ার, কোম্পানি থেকে পাওয়া লভ্যাংশ ইত্যাদি। আর নন-ফাইন্যান্সিয়াল সম্পদ হলো আর্থিক সম্পদের বাইরে থাকা সম্পদ। এই তালিকায় আছে জমি, বাড়ি, ফ্ল্যাট, প্লটসহ সব ধরনের স্থাবর সম্পদ।

প্রধান উপদেষ্টার স্ত্রী আফরোজী ইউনূসের সম্পদ বিবরণীর তথ্য অনুযায়ী, তার আর্থিক সম্পদ আছে ৪ লাখ ৫১ হাজার ৮৬০ টাকার। এক বছর আগে এর পরিমাণ ছিল ৯৫ লাখ ৪১ হাজার ৬৭৯ টাকার। আর তার নন-ফাইন্যান্সিয়াল সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ২৩ লাখ ১১ হাজার ৫০০ টাকার। এক বছর আগে এর পরিমাণ ছিল ১ কোটি ১৬ লাখ ৩৫ হাজার ৫৯৫ টাকার। তার বিদেশে কোনো সম্পদ নেই। অধ্যাপক ইউনূসের কোনো দায় না থাকলেও তার স্ত্রীর ১৬ লাখ ৯৬ হাজার টাকার দায় রয়েছে।

গত ৩০ জুন পর্যন্ত অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদের মোট পরিসম্পদ ৭ কোটি ১৬ লাখ ১৫ হাজার ২৬ টাকার। এক বছর আগে তা ছিল ৭ কোটি ১০ লাখ ৪৯ হাজার ৭১৮ টাকা। অর্থাৎ এক বছরে অর্থ উপদেষ্টার সম্পদ বেড়েছে ৫ লাখ ৬৫ হাজার ৩০৮ টাকা। আয়কর বিবরণী অনুযায়ী, তার আর্থিক সম্পদের পরিমাণ ৬ কোটি ৮৭ লাখ ৫২ হাজার ৮২৬ টাকা। এক বছর আগে এই অর্থের পরিমাণ ছিল ৬ কোটি ৫২ লাখ ৪২ হাজার ৫১৮ টাকা। আর তার নন-ফাইন্যান্সিয়াল সম্পদ আছে ২৮ লাখ ৬২ হাজার ২০০ টাকার। এক বছর আগে ছিল ৫৮ লাখ ৭ হাজার ২০০ টাকার সম্পদ। দেশের বাইরে তার কোনো সম্পদ নেই। এ ছাড়া ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক দায় নেই। এক বছর আগে ছিল ৮৪ হাজার টাকা। 

তার স্ত্রী পারভীন আহমেদের মোট পরিসম্পদ ৫ কোটি ৩৮ লাখ ৮৩ হাজার ৯৯৭ টাকা। এক বছর আগে যা ছিল ৪ কোটি ৬৪ লাখ ২৭ হাজার ৩০৫ টাকা। অর্থাৎ এক বছরে তার সম্পদ বেড়েছে ৭৪ লাখ ৫৬ হাজার ৬৯২ টাকা। এ সময় তার ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক দায় ৫৭ লাখ ৭০ হাজার টাকা বেড়ে হয়েছে ৩ কোটি ১২ লাখ ৩০ হাজার টাকা। 

পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদের মোট পরিসম্পদের পরিমাণ ১৬ কোটি ২২ লাখ ৯৫ হাজার ৪৮৩ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১৫ কোটি ০৯ লাখ ১৩ হাজার ১০২ টাকা। অর্থাৎ এক বছরে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ১৩ লাখ ৮২ হাজার ৩৮১ টাকা। ব্যাংক আমানত থেকে প্রাপ্ত মুনাফা, ডেভেলপার কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি হতে আয়ের কারণে মোট সম্পদ বেড়েছে। তার স্ত্রী মৃত। 

আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের এক বছরে মোট সম্পদ বেড়েছে ১২ লাখ ৮৭ হাজার ৭৯৯ কোটি টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন শেষে তার মোট সম্পদ ছিল ১ কোটি ৬০ লাখ ৯৮ হাজার ২৩২ টাকা। এক বছর আগে যা ছিল ১ কোটি ৪৮ লাখ ১০ হাজার ৪৩৩ টাকা। এ সময় তার আর্থিক সম্পদ ছিল ৯১ লাখ ৩২ হাজার ৪৩২ টাকা এবং নন-ফাইন্যান্সিয়াল সম্পদ ছিল ৬৯ লাখ ৬৫ হাজার ৮০০ টাকা, যা এক বছর আগে ছিল ৮৮ হাজার ৪৪ হাজার ৬৩৩ এবং ৫৯ লাখ ৬৫ হাজার ৮০০ টাকা। দেশের বাইরে কোনো সম্পদ আগেও ছিল না, এখনো নেই। 

তার স্ত্রী শীলা আহমেদের মোট সম্পদ ২ কোটি ৪৪ লাখ ৯২ হাজার ৬১৩ টাকা। এক বছর আগে ছিল ২ কোটি ১ লাখ ৩৪ হাজার ৭২০ টাকা। 

স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নুরজাহান বেগমের মোট সম্পদের পরিমাণ ৬ কোটি ২৪ লাখ ৮৬ হাজার ৬৬৩ টাকা। আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৬ কোটি ২০ লাখ ৭৬ হাজার ৮২৬ টাকা। সেই হিসাবে এক বছরে তার সম্পদ বেড়েছে ৪ লাখ ৯ হাজার ৮৩৭ টাকা। উপদেষ্টাদের মধ্যে তার সম্পদই সবচেয়ে কম বেড়েছে। 

৩০ জুন শেষে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ৯৩ লাখ ১১ হাজার ১৫৮ টাকা। আগের বছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ২ কোটি ৮৬ লাখ ৮৬ হাজার ৬০৯ টাকা। অর্থাৎ এক বছরে সম্পদ বেড়েছে ৬ লাখ ২৪ হাজার ৫৪৯ টাকা। 

এ সময় তার স্ত্রীর মোট সম্পদের পরিমাণ ৩ কোটি ৬৬ লাখ ৫৭ হাজার ৪৭২ টাকা। এক বছর আগে যার পরিমাণ ছিল ৩ কোটি ৬৭ লাখ ৮৭ হাজার ৭৮৩ টাকা। 

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলমের মোট সম্পদ ১৫ লাখ ৫৪ হাজার ৮৯৫ টাকা বেড়ে হয়েছে ২ কোটি ৭৭ লাখ ২০ হাজার ৭৭৪ টাকা। এক বছর আগে এর পরিমাণ ছিল ২ কোটি ৬১ লাখ ৬৫ হাজার ৮৭৯ টাকা। 

এ সময় তার স্ত্রী লায়লা আরজুর মোট সম্পদ বেড়েছে ২ লাখ ৩৮৬ টাকা। ৩০ জুন শেষে তার সম্পদ ছিল ১ কোটি ১৩ লাখ ৯৯ হাজার ৫৫৪ টাকা। এক বছর আগে যা ছিল ১ কোটি ১১ লাখ ৯৯ হাজার ১৬৮ টাকা। 

আয়কর বিবরণীর তথ্য অনুযায়ী, শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমানের মোট সম্পদের পরিমাণ ২ কোটি ৫২ লাখ ৯৯ হাজার ২৬৯ টাকা। এক বছর আগে যা ছিল ৯৮ লাখ ২২ হাজার ৭ টাকা। অর্থাৎ এক বছরে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৪ লাখ ৭৭ হাজার ২৬২ টাকা। এ সময় তার নন-ফাইন্যান্সিয়াল সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৪১ লাখ ৬৭ হাজার টাকা। উত্তরাধিকার সূত্রে গৃহসম্পত্তি ও কৃষি সম্পত্তি প্রাপ্ত হওয়ায় নন-ফাইন্যান্সিয়াল সম্পদ বেড়েছে বলে তিনি আয়কর বিবরণীতে উল্লেখ করেছেন। এ সময় তার স্ত্রীর মোট সম্পদের পরিমাণ দেখানো হয়েছে ৫ কোটি ৮৩ লাখ ৭৮ হাজার ২৮৫ টাকা, যা এক বছর আগে ছিল ৫ কোটি ১৯ লাখ ৩৯ হাজার ৩১৪ টাকা। 

বন ও পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দ রিজওয়ানা হাসানের মোট সম্পদ কমেছে ১ কোটি ১২ লাখ ৯২ হাজার ১৩১ টাকা। ৩০ জুন শেষে তার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ১২ লাখ ৭২ হাজার ৯২৪ টাকা। এক বছর আগে যা ছিল ২ কোটি ২৫ লাখ ৬৫ হাজার ৫৫ টাকা। এ সময় তার স্বামী আবু বকর সিদ্দিকের মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৯০ লাখ ৩৯ হাজার ৮৯৫ টাকা। এক বছর আগে যা ছিল ১ কোটি ৮৯ লাখ ৬০ হাজার ৭৮৩ টাকা। 

উপদেষ্টাদের হিসাব বিবরণী বিশ্লেষণে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি সম্পদের অধিকারী বাণিজ্য উপদেষ্টা সেখ বশির উদ্দিন। তার মোট সম্পদ ছিল ৯১ কোটি ৬৫ লাখ ১০ হাজার ৮৯৫ টাকা, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ৯১ কোটি ১০ লাখ ৯৮ হাজার ৮৪২ টাকা। 

সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। অর্থাৎ এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। 

৩০ জুন শেষে ২০২৪ সালের আগস্টে গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্বদানকারী আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার সম্পদের পরিমাণ ছিল ১৫ লাখ ৩৪ হাজার ৭১৭ টাকা। এর আগে তার কোনো টিন নম্বর ছিল না। ফলে আগের বছরের হিসাব বিবরণীর তথ্যও নেই। 

গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দানকারী তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মো. মাহফুজ আলমের সম্পদের পরিমাণ ছিল ১২ লাখ ৭৬ হাজার ৮৭৯ টাকা। আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা। 

প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিকবিষয় সংক্রান্ত বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী অবৈতনিক হিসেবে কাজ করেন। অর্থাৎ তিনি সরকারের কোনো সুযোগ-সুবিধা নেন না। তাই তিনি হিসাব বিবরণীও দেননি।

উপদেষ্টা জাহেদের ফেরা ছিল তার নিজের সিদ্ধান্ত: জয়সওয়াল

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ১০:৫৫ পিএম
উপদেষ্টা জাহেদের ফেরা ছিল তার নিজের সিদ্ধান্ত: জয়সওয়াল
রণধীর জয়সওয়াল। ছবি: সংগৃহীত

দিল্লির বিমানবন্দরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানকে বাধা দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে অবশেষে ব্যাখ্যা দিল ভারত।

 মঙ্গলবার (২৩ জুন) নয়াদিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, তিনি নিজেই বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশনের (আইওআরএ) জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের ২৮তম বৈঠকে যোগ দিতে তিনি একটি সার্ক ভিসাসহ ব্যক্তিগত পাসপোর্টে এখানে এসেছিলেন। দিল্লি বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা তাকে কিছু জিজ্ঞাসাবাদ করেছিলেন। তার সফরের উদ্দেশ্য যে একটি বহুপক্ষীয় বৈঠকে যোগ দেওয়া–সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার পর তাকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। তবে তিনি নিজের ইচ্ছায় ঢাকায় ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। 

গত ১৪ জুন দিল্লি বিমানবন্দরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাকে ২ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে বসিয়ে রাখার পর তার ঢাকায় ফিরে আসার ঘটনা নিয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে রণধীর জয়সওয়াল এই ব্যাখ্যা দেন।

এসএন/

জলবায়ু অঙ্গীকার বাস্তবায়নে বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ১০:০২ পিএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬, ১১:১৬ পিএম
জলবায়ু অঙ্গীকার বাস্তবায়নে বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
মঙ্গলবার দালিয়ান ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স সেন্টারে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে ‘শিফটিং গ্লোবাল ল্যান্ডস্কেপে ক্লাইমেট লিডারশিপ’ শীর্ষক অধিবেশনে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি : পিএমও

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে বিপন্ন লাখ লাখ মানুষের জীবন রক্ষায় বিশ্বনেতাদের জলবায়ু সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেছেন, এখন সময় এসেছে জলবায়ু সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতিকে কাজে এবং অঙ্গীকারকে ফলাফলে পরিণত করার, যাতে বিশ্ব আত্মবিশ্বাসের সাথে ভবিষ্যৎকে আলিঙ্গন করতে পারে। আমরা আশা করি, কপ-৩১ এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করবে এবং বাংলাদেশ তার ভূমিকা পালনে প্রস্তুত।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) দালিয়ান ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স সেন্টারে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) ১৭তম ‘অ্যানুয়াল মিটিং অব দ্য নিউ চ্যাম্পিয়ন্স’-এ ‘শিফটিং গ্লোবাল ল্যান্ডস্কেপে ক্লাইমেট লিডারশিপ’ শীর্ষক এক অধিবেশনে উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বাস করে, জলবায়ু কার্যক্রম কোনো ব্যয় নয়, আমরা এটিকে সমৃদ্ধি, স্থিতিশীলতা এবং একটি যৌথ ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি বিনিয়োগ হিসেবে দেখি। আমরা এখানে উপস্থিত সকলে মিলে একটি সবুজ, নিরাপদ, টেকসই এবং আরও ন্যায়সঙ্গত ভবিষ্যৎ গড়তে পারি।

তিনি বলেন, কোনো দেশ একা জলবায়ু সহনশীলতা গড়ে তুলতে পারে না। এর জন্য প্রয়োজন অংশীদারিত্ব, প্রযুক্তি, অর্থায়ন এবং যৌথ অঙ্গীকার। কপ-৩১ এবং কপ-৩২ এর দিকে তাকিয়ে আমরা তিনটি অগ্রাধিকারের ওপর জোর দিতে চাই। প্রথমত, ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য সহজলভ্য ও অনুমানযোগ্য সহায়তাসহ ক্ষয়ক্ষতি তহবিলকে প্রতিশ্রুতি থেকে বাস্তবায়নে আনতে হবে।

দ্বিতীয়ত, জলবায়ু অর্থায়নকে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য আরও সহজলভ্য, সহজসাধ্য এবং চাহিদা-সাপেক্ষ হতে হবে। এর মাধ্যমে প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং বেসরকারি খাতের বিনিয়োগও ত্বরান্বিত হওয়া উচিত। এ লক্ষ্যে, আমাদের ‘সবুজ জলবায়ু তহবিল’ (জিসিএফ)-এর বৃহত্তর সংহতকরণ এবং কার্যকরীকরণ প্রয়োজন।

তৃতীয়ত, প্রশমনের পাশাপাশি অভিযোজনও অপরিহার্য। বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর জন্য অভিযোজন কোনো নীতিগত বিকল্প নয়, এটি একটি অপরিহার্য বিষয়। ইউএনসিটিএডি’র মতে, ৩০০ বিলিয়ন ডলারের নতুন সম্মিলিত পরিমাণগত লক্ষ্যমাত্রা (এনসিকিউজি) উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য প্রশমন ও অভিযোজনের প্রয়োজনীয়তা পূরণে অপর্যাপ্ত।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা আজ এখানে শুধু জলবায়ু সংকটে একটি সম্মুখসারির রাষ্ট্র হিসেবেই নয়, বরং বৈশ্বিক সমাধানে আগ্রহী একটি জাতি হিসেবেও সমবেত হয়েছি। 

তিনি বলেন, আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারে যেমনটি উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশ সরকার একটি অগ্রণী জলবায়ু-সহনশীল জাতি হিসেবে গড়ে উঠতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পরিবেশ সুরক্ষা, টেকসই উন্নয়ন এবং সবুজ প্রবৃদ্ধি এখন আমাদের জাতি গঠন কৌশলের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। এটি এমন একটি বিষয় যা নিয়ে আমি  ব্যক্তিগতভাবে গভীরভাবে ভাবি এবং যার জন্য আমি সচেষ্ট থাকি। এটি জীবন, জীবিকা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করার বিষয়।

জলবায়ু সংক্রান্ত বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পানির প্রবাহ পুনরুদ্ধার, বন্যার ঝুঁকি হ্রাস এবং জলাভূমি পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে আমরা আগামী ৫ বছরে প্রায় ২০ হাজার  কিলোমিটার নদী ও খাল খনন করার পরিকল্পনা করেছি। আমরা পানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে, কৃষিকে সহায়তা করতে এবং জলবায়ুগত অভিঘাত মোকাবিলার লক্ষ্যে আমাদের প্রধান নদীর উপর পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের উদ্যোগকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। আমরা একটি মহাপরিকল্পনার মাধ্যমে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে তিস্তা ব্যারেজকেও আধুনিকীকরণ করছি।

তিনি আরও বলেন, আমরা আগামী ৫ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানো ও রক্ষণাবেক্ষণের অঙ্গীকার করেছি। স্কুল, সম্প্রদায় এবং তরুণদের সম্পৃক্ত করে দেশব্যাপী একটি আন্দোলনের মাধ্যমে, যেমন ‘এক শিক্ষার্থী, এক গাছ কর্মসূচি’র মাধ্যমে, আমরা বনাঞ্চল সম্প্রসারণ করব, জীববৈচিত্র্য পুনরুদ্ধার করব, সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করব এবং তাপমাত্রা হ্রাস করব।

বাংলাদেশ সরকার বন, জলাভূমি, বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল এবং ঝুঁকিপূর্ণ উপকূলীয় বাস্তুতন্ত্র রক্ষা করছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা গ্রামীণ এলাকায় বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের জন্য বিনিয়োগ করছি এবং পরিবেশবান্ধব নির্মাণ মান চালু করছি। একই সাথে, আমাদের সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে সৌর, বায়ু, বর্জ্য থেকে শক্তি এবং অন্যান্য সমাধানের মাধ্যমে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে বাংলাদেশের অন্তত ২০ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।

তিনি বলেন, আমরা পাটজাত পণ্য এবং বৈদ্যুতিক যানবাহনসহ পরিবেশবান্ধব পরিবহনের মতো সবুজ শিল্পকেও উৎসাহিত করি।  সবুজ বিনিয়োগ এবং কার্বন-ক্রেডিটের সুযোগ উন্মোচনের জন্য একটি জাতীয় কার্বন বাজার গড়ে তোলা হবে। বাংলাদেশ সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পুনর্ব্যবহার, জৈব সার উৎপাদন এবং চক্রাকার অর্থনীতি উদ্যোগের মাধ্যমে বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তরিত করার পরিকল্পনাও করছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা সবুজ উৎপাদন নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে ব্যাপক অগ্রগতি অর্জন করেছি। এখন আমরা গর্বের সাথে বলতে পারি যে, বিশ্বের শীর্ষ ১০০টি লিড প্রত্যয়িত কারখানার মধ্যে ৬৯ টিই বাংলাদেশের।

তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে নেতৃবৃন্দকে অবশ্যই তাদের মতপার্থক্য দূরে সরিয়ে রেখে লাখ লাখ মানুষের জন্য তাদের প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে হবে, যাদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। কপ-৩১ এর উচিত জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত কাঠামো কনভেনশন (ইউএনএফসিসিসি) এবং প্যারিস চুক্তির লক্ষ্য ও চেতনাকে পুনঃনিশ্চিত করা। এ প্রসঙ্গে, বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম সংলাপকে উৎসাহিত করতে, ঐকমত্য গড়ে তুলতে এবং সম্মিলিত পদক্ষেপকে অনুপ্রাণিত করার জন্য একটি মূল্যবান মঞ্চ।

নাঈম/

‘জুয়া প্রতিরোধ বিল, ২০২৬’ সংসদে উত্থাপন

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৯:৩২ পিএম
‘জুয়া প্রতিরোধ বিল, ২০২৬’ সংসদে উত্থাপন
সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ছবি: সংগৃহীত

জুয়া, অনলাইন জুয়া এবং অনলাইন বেটিংসহ সংশ্লিষ্ট সব ধরনের অনৈতিক ও অবৈধ কার্যক্রম প্রতিরোধে জাতীয় সংসদে ‘জুয়া প্রতিরোধ বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করা হয়েছে। বিলটিতে এসব অপরাধ দমনে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। 

মঙ্গলবার (২৩ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৩তম দিনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি সংসদে উপস্থাপন করেন। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জয়নুল আবেদীন।

বিলটি উত্থাপনের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এটি বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সংসদের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব দেন। পরে তিনি প্রস্তাব করেন, কমিটি পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে বিলটি যাচাই-বাছাই শেষে সংসদে প্রতিবেদন আকারে উপস্থাপন করবে। এ প্রস্তাব কণ্ঠভোটে সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয় এবং বিলটি স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।
স্থায়ী কমিটিতে পরীক্ষার পর প্রস্তাবিত বিলটি সংসদে প্রতিবেদন আকারে উপস্থাপন করা হবে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিলটির খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়। ওই সময় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানায়, আধুনিক প্রযুক্তির প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে অনলাইন ও অফলাইন উভয় মাধ্যমেই জুয়ার বিস্তার বৃদ্ধি পেয়েছে। জনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ প্রবণতা নিয়ন্ত্রণ এবং আর্থসামাজিক ও মানসিক ক্ষতি প্রতিরোধের লক্ষ্যে বিদ্যমান আইন হালনাগাদ করে নতুন কাঠামো প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

প্রস্তাবিত এই আইনে জুয়া, অনলাইন জুয়া, ডিজিটাল গ্যাম্বলিং প্ল্যাটফর্ম, ডিজিটাল ওয়ালেট, বাজি, টোটালাইজেটর, ম্যাচ ফিক্সিং ও স্পট ফিক্সিংসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়কে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। পাশাপাশি অপরাধের ধরন অনুযায়ী অর্থদণ্ড, কারাদণ্ড এবং উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

এলিস/এসএন

আদব মানুষকে সম্মানিত করে, আদবহীনতা মর্যাদা নষ্ট করে: ছারছীনার পীর ছাহেব

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৯:২৪ পিএম
আদব মানুষকে সম্মানিত করে, আদবহীনতা মর্যাদা নষ্ট করে: ছারছীনার পীর ছাহেব
ছবি: সংগৃহীত

আমীরে হিযবুল্লাহ ছারছীনা দরবার শরীফের পীর ছাহেব আলহাজ হজরত মওলানা শাহ্ আবু নছর নেছারুদ্দীন আহমদ হুসাইন (মা. জি. আ.) বলেছেন- ইসলামে আদবের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। একজন মানুষের ঈমান, আমল ও চরিত্রের সৌন্দর্য প্রকাশ পায় তার আদব-আখলাকের মাধ্যমে। মানুষকে মানুষের মাঝে সম্মানিত করে তার সম্পদ নয়, তার বংশ নয়, বরং তার আদব ও চরিত্র। আদব এমন একটি গুণ, যা একজন মানুষকে সমাজে মর্যাদাবান করে তোলে। “আদব ছাড়া ইলম হলো ফলহীন বৃক্ষের মতো”। আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মাদ (সা.) ছিলেন আদব ও উত্তম চরিত্রের সর্বোত্তম নমুনা। তাঁর জীবন আমাদের জন্য আদবের সর্বোত্তম শিক্ষা।

পীর ছাহেব কেবলা আরও বলেন- আদবের প্রথম ধাপ হলো আল্লাহর সাথে আদব। এরপর পিতা-মাতার সাথে আদব। আজ অনেক সন্তান পিতা-মাতার কথা শুনতে চায় না। শিক্ষকদের সাথে আদব, আলেমদের সাথে আদব, প্রতিবেশীদের সাথে আদব বর্তমান যুগে আমরা অনেকেই শিক্ষিত হচ্ছি, কিন্তু আদব শিখছি না। ফলে সমাজে অশান্তি, পারিবারিক কলহ এবং পারস্পরিক বিদ্বেষ বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই আমাদের উচিত কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে নিজেদের চরিত্র গঠন করা। মনে রাখতে হবে, আদব মানুষকে সম্মানিত করে পক্ষান্তরে আদবহীনতা মানুষের মর্যাদা নষ্ট করে।

সোমবার (২২ জুন) মাগরিবের পর ছারছীনা দরবার শরীফ জামে মসজিদে হজরত পীর ছাহেব কেবলা পবিত্র হজব্রত পালন শেষে দেশে এসে ছারছীনা দারুস্সুন্নাত জামেয়ায়ে ইসলামিয়া, ছারছীনা দারুসসুন্নাত জামেয়ায়ে নেছারিয়া দীনিয়া ও হাফেজিয়া মাদ্রাসায় অধ্যায়নরত ছাত্রদের উদ্দেশ্যে নসিহত করতে গিয়ে একথা বলেন।

এসময় অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন- ছারছীনা দারুস্সুন্নাত জামেয়ায়ে ইসলামিয়া, ছারছীনা দারুসসুন্নাত জামেয়ায়ে নেছারিয়া দীনিয়া ও হাফেজিয়া মাদ্রাসার আসাতিজায়ে কেরামগণ।

এসএন/

বাংলাদেশের সঙ্গে ৫৮ দেশের বাণিজ্য ঘাটতি, শীর্ষে চীন ও ভারত: বাণিজ্যমন্ত্রী

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৮:১৯ পিএম
বাংলাদেশের সঙ্গে ৫৮ দেশের বাণিজ্য ঘাটতি, শীর্ষে চীন ও ভারত: বাণিজ্যমন্ত্রী
সংসদে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। ছবি: সংগৃহীত

গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিশ্বের ৫৮টি দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, এর মধ্যে সবচেয়ে বড় ঘাটতি রয়েছে চীন ও ভারতের সঙ্গে, যা দেশের সামগ্রিক বাণিজ্য ভারসাম্যহীনতার মূল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে সংসদ সদস্য সাবিকুন নাহারের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ঘাটতি মূলত কয়েকটি প্রধান বাণিজ্য অংশীদারের মধ্যেই কেন্দ্রীভূত। শিল্প খাতে কাঁচামাল, জ্বালানি পণ্য এবং মূলধনী যন্ত্রপাতির ওপর উচ্চ আমদানি নির্ভরশীলতার কারণে এই ভারসাম্যহীনতা তৈরি হচ্ছে।

সংসদে দেওয়া তথ্যে দেখা যায়, এককভাবে সবচেয়ে বেশি বাণিজ্য ঘাটতি চীনের সঙ্গে, যার পরিমাণ ১৭ দশমিক ৮৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। চীন থেকে ভারী যন্ত্রপাতি, ইলেকট্রনিক্স, শিল্প কাঁচামাল ও মূলধনী পণ্যের বিপুল আমদানির বিপরীতে বাংলাদেশ ওই অর্থবছরে দেশটিতে রপ্তানি করেছে মাত্র ৬৯৪ দশমিক ৪৯ মিলিয়ন ডলার।

দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে প্রতিবেশী ভারত। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন ডলার। তুলা, রাসায়নিক, খাদ্যপণ্য ও ভোগ্যপণ্যের বড় আকারের আমদানির কারণে এই ব্যবধান তৈরি হয়েছে। একই সময়ে বাংলাদেশ ভারতে রপ্তানি করেছে মাত্র ১ দশমিক ৭৬ বিলিয়ন ডলারের পণ্য।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গেও উল্লেখযোগ্য ঘাটতি রয়েছে বাংলাদেশের। এর মধ্যে ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে ৩ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ডলার, সিঙ্গাপুরের সঙ্গে ২ দশমিক ৮০ বিলিয়ন ডলার এবং মালয়েশিয়ার সঙ্গে ২ দশমিক ০১ বিলিয়ন ডলারের ঘাটতি রেকর্ড করা হয়েছে। ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডের সঙ্গেও যথাক্রমে ৭৯৯ দশমিক ৭৪ মিলিয়ন ও ৭২৩ দশমিক ৮৫ মিলিয়ন ডলারের ঘাটতি রয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা যায়। কাতারের সঙ্গে ২ দশমিক ১১ বিলিয়ন ডলার, সৌদি আরবের সঙ্গে ১ দশমিক ৩৬ বিলিয়ন ডলার, সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে ১ দশমিক ১৯ বিলিয়ন ডলার এবং ওমানের সঙ্গে ২১৯ দশমিক ৬৬ মিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য ঘাটতি হয়েছে।
পূর্ব এশিয়ার উন্নত অর্থনীতির দেশগুলোর মধ্যে তাইওয়ানের সঙ্গে ৮০৩ দশমিক ৯৮ মিলিয়ন ডলার, দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে ৭৪০ দশমিক ০২ মিলিয়ন ডলার, জাপানের সঙ্গে ৪৮৯ দশমিক ৩০ মিলিয়ন ডলার এবং হংকংয়ের সঙ্গে ১৯৯ দশমিক ৩৫ মিলিয়ন ডলারের ঘাটতি রয়েছে।

দক্ষিণ এশিয়ায় পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৬৮১ দশমিক ৩০ মিলিয়ন ডলার। ইউরোপ ও ইউরেশিয়ার মধ্যে রাশিয়ার সঙ্গে ১ দশমিক ২৬ বিলিয়ন ডলার এবং সুইজারল্যান্ডের সঙ্গে ৪১৪ দশমিক ৩৯ মিলিয়ন ডলারের ঘাটতি হয়েছে।

দক্ষিণ আমেরিকায় ব্রাজিলের সঙ্গে ২ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন ডলার, আর্জেন্টিনার সঙ্গে ৭৬৩ দশমিক ১৩ মিলিয়ন ডলার এবং প্যারাগুয়ের সঙ্গে ৮৩ দশমিক ৭০ মিলিয়ন ডলারের ঘাটতি রেকর্ড করা হয়েছে।

আফ্রিকা অঞ্চলেও বাণিজ্য ঘাটতির বিস্তার রয়েছে। মরক্কো, বেনিন, ক্যামেরুন, মালি, বুর্কিনা ফাসো, মোজাম্বিক ও নাইজেরিয়ার সঙ্গে উল্লেখযোগ্য ঘাটতি দেখা গেছে। পাশাপাশি ওশেনিয়া অঞ্চলে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ৩২০ দশমিক ১৯ মিলিয়ন ডলার এবং নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে ২৯৭ দশমিক ৯৭ মিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, শিল্পায়ন ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় আমদানিনির্ভরতার কারণেই এই বাণিজ্য ঘাটতি তৈরি হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে বাণিজ্য কৌশল ও রপ্তানি বহুমুখীকরণের মাধ্যমে কমিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।

এলিস/এসএন