ঢাকা ৯ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
কারা পাবেন হেদায়েতের এই পরম নিয়ামত? রেকর্ড তাপপ্রবাহে ফ্রান্সে ট্র্যাজেডি, পানিতে ডুবে ৪০ জনের মৃত্যু জাইমা রহমানের ছবি ব্যবহার করে প্রতারণা, রিমান্ডে আইনজীবী বাংলাদেশের সঙ্গে ৫৮ দেশের বাণিজ্য ঘাটতি, শীর্ষে চীন ও ভারত: বাণিজ্যমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে কড়া বক্তব্য দিলেন এমপি রেহানা রানু টিআর-কাবিটা প্রকল্পে অনিয়মের তদন্ত চলছে: ত্রাণমন্ত্রী এক অর্থবছরে প্রবাসী আয় ৩০.৩২ বিলিয়ন ডলার: প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী ফ্যান্টাসী কিংডম-খবরের কাগজ প্রতিদিনের অনলাইন কুইজ বিজয়ী ডিজিটাল নকল প্রতিরোধে কঠোর নজরদারির আহ্বান শিক্ষামন্ত্রীর শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে সাত দশকের অগ্রগতির দাবি প্রশ্নবিদ্ধ: সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী মন্ত্রীদের অনুপস্থিতি ও সংসদ কক্ষের শৃঙ্খলা নিয়ে উদ্বেগ বিরোধীদলীয় নেতার পোশাক ছাড়া গোসল করলে ওজু থাকবে কি? গুজব ও বিচারাধীন ইস্যুতে সংসদের সময় নষ্ট না করার আহ্বান স্পিকারের চালের বাজারে কারসাজি ঠেকাতে কঠোর নজরদারি চলছে: খাদ্য প্রতিমন্ত্রী নতুন ও প্রথম আয়কর রিটার্ন  দাখিলকারীর প্রতি পরামর্শ সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় জিএম কাদেরের নিন্দা ও উদ্বেগ অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ডব্লিউইএফ প্রেসিডেন্টের সাক্ষাৎ ওয়ান ব্যাংক থেকে নগদে তাৎক্ষণিক টাকা পাঠানোর সেবা চালু Wisdom of King Soloman বিষয়ক Story Writing নিয়ে আলোচনা, ২য় পর্ব, এইচএসসির ইংরেজি ১ম পত্র শুধু সাফল্য নয়, অনিয়মও তুলে ধরুন-সাংবাদিকদের প্রাণীসম্পদ মন্ত্রী উন্নত স্বাস্থ্যসেবা ও বিশেষ সুবিধা নিশ্চিতে মাস্টারকার্ড ও অ্যাসেন্ট হেলথ লিমিটেডের অংশীদারিত্ব ক্যালিফোর্নিয়ার আকাশে বাংলাদেশের রং নায়িকা ববি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বললেন বাশার তার স্বামী নন ইউল্যাবে জেন্ডার সমতা, সামাজিক ন্যায়বিচার বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত পানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে এশিয়ার দেশগুলোর সম্মিলিত উদ্যোগের তাগিদ স্পিকারের সাহিত্যের খেলা প্রবন্ধর ৪০টি জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর, ১ম পর্ব, এইচএসসির বাংলা ১ম পত্র প্রাইভেট ব্যাংকে চাকরির সুযোগ সিয়াটলে যাওয়ার অনুমতি পেল না মিশর ডিবি পরিচয়ে ব্যবসায়ীর বাড়িতে তাণ্ডব, আসবাবপত্র ভাঙচুরের পর লুটপাট জর্ডান ম্যাচে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত স্কালোনির

আনসার ও ভিডিপি প্রযুক্তিনির্ভর মানবিক বাহিনীতে পরিণত হবে: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: ২০ মে ২০২৬, ১১:৫৩ এএম
আপডেট: ২০ মে ২০২৬, ১১:৫৭ এএম
আনসার ও ভিডিপি প্রযুক্তিনির্ভর মানবিক বাহিনীতে পরিণত হবে: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী ভবিষ্যতে একটি ‘প্রযুক্তিনির্ভর মানবিক সামাজিক বাহিনী’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেন, দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষায় বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আনসার-ভিডিপি) দীর্ঘ ও যথেষ্ট অভিজ্ঞতা রয়েছে। এই বিশাল বাহিনীর সদস্যদের অভিজ্ঞতা ও সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা ভবিষ্যতে এ বাহিনীকে আরও দক্ষ ও গতিশীল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বুধবার (২০ মে) বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৪৬তম জাতীয় সমাবেশ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে মহান মুক্তিযুদ্ধে আনসার বাহিনীর গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা স্মরণ করে বলেন, ‘প্রায় ৪০ হাজার রাইফেল নিয়ে আনসার সদস্যরা স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন এবং ৬৭০ জন সদস্য শহিদ হয়েছেন। স্বাধীনতোত্তর অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা ফেরাতে শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান আনসার ও ভিডিপিকে একীভূত করে একটি শক্তিশালী কাঠামো প্রদান করেছিলেন। পরবর্তীতে ১৯৯৫ সালে খালেদা জিয়া সরকারের সময় এই বাহিনীকে একটি স্বতন্ত্র ‘‘শৃঙ্খলা বাহিনীর’’ মর্যাদা দেয়া হয়, যা এর প্রাতিষ্ঠানিক বিকাশে মাইলফলক হিসেবে কাজ করেছে।’

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সংকটময় সময়ে থানা পাহারা, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে আনসার বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘শৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য চেইন অফ কমান্ড ও ডিসিপ্লিন অপরিহার্য। এতে সামান্য অবহেলা হলে জনমনে আস্থার সংকট তৈরি হয়, যা আমাদের খেয়াল রাখতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী জানান, বর্তমানে ৪৭টি ব্যাটালিয়নের মধ্যে ১৬টি পার্বত্য চট্টগ্রামে নিয়োজিত থেকে সম্প্রীতি রক্ষায় কাজ করছে। এছাড়াও ৫২ হাজার অঙ্গীভূত আনসার সদস্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিরাপত্তায় নিয়োজিত।

প্রধানমন্ত্রী বিশ্বাস করেন, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী ভবিষ্যতে একটি ‘প্রযুক্তিনির্ভর মানবিক সামাজিক বাহিনী’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।

বাহিনীটিকে আধুনিক করতে গৃহীত পদক্ষেপগুলো তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘সঞ্জীবন প্রকল্প’, আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক এবং ‘এভিজবস’ পোর্টালের মাধ্যমে দেশি-বিদেশি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হচ্ছে। জাপানি ভাষা, ফ্রিল্যান্সিং, ডিজিটাল মার্কেটিং এবং ৬জি ওয়েল্ডিংয়ের মতো আধুনিক প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা হচ্ছে। ‘আনসার ব্যাটালিয়ন বিধিমালা-২০২৬’, ‘ভিডিপি প্রবিধানমালা-২০২৬’ এবং ‘উপজেলা আনসার প্রবিধানমালা-২০২৬’ প্রণয়নের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। আনসার বাহিনীর ১৫ জন ক্রীড়াবিদকে সরকারের পক্ষ থেকে ‘স্পোর্টস কার্ড’ প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া ১০টি ক্রিকেট স্টেডিয়ামের নিরাপত্তায় ৩৭৯ জন আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

রিফাত/

বাংলাদেশের সঙ্গে ৫৮ দেশের বাণিজ্য ঘাটতি, শীর্ষে চীন ও ভারত: বাণিজ্যমন্ত্রী

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৮:১৯ পিএম
বাংলাদেশের সঙ্গে ৫৮ দেশের বাণিজ্য ঘাটতি, শীর্ষে চীন ও ভারত: বাণিজ্যমন্ত্রী
সংসদে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। ছবি: সংগৃহীত

গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিশ্বের ৫৮টি দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, এর মধ্যে সবচেয়ে বড় ঘাটতি রয়েছে চীন ও ভারতের সঙ্গে, যা দেশের সামগ্রিক বাণিজ্য ভারসাম্যহীনতার মূল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে সংসদ সদস্য সাবিকুন নাহারের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ঘাটতি মূলত কয়েকটি প্রধান বাণিজ্য অংশীদারের মধ্যেই কেন্দ্রীভূত। শিল্প খাতে কাঁচামাল, জ্বালানি পণ্য এবং মূলধনী যন্ত্রপাতির ওপর উচ্চ আমদানি নির্ভরশীলতার কারণে এই ভারসাম্যহীনতা তৈরি হচ্ছে।

সংসদে দেওয়া তথ্যে দেখা যায়, এককভাবে সবচেয়ে বেশি বাণিজ্য ঘাটতি চীনের সঙ্গে, যার পরিমাণ ১৭ দশমিক ৮৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। চীন থেকে ভারী যন্ত্রপাতি, ইলেকট্রনিক্স, শিল্প কাঁচামাল ও মূলধনী পণ্যের বিপুল আমদানির বিপরীতে বাংলাদেশ ওই অর্থবছরে দেশটিতে রপ্তানি করেছে মাত্র ৬৯৪ দশমিক ৪৯ মিলিয়ন ডলার।

দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে প্রতিবেশী ভারত। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন ডলার। তুলা, রাসায়নিক, খাদ্যপণ্য ও ভোগ্যপণ্যের বড় আকারের আমদানির কারণে এই ব্যবধান তৈরি হয়েছে। একই সময়ে বাংলাদেশ ভারতে রপ্তানি করেছে মাত্র ১ দশমিক ৭৬ বিলিয়ন ডলারের পণ্য।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গেও উল্লেখযোগ্য ঘাটতি রয়েছে বাংলাদেশের। এর মধ্যে ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে ৩ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ডলার, সিঙ্গাপুরের সঙ্গে ২ দশমিক ৮০ বিলিয়ন ডলার এবং মালয়েশিয়ার সঙ্গে ২ দশমিক ০১ বিলিয়ন ডলারের ঘাটতি রেকর্ড করা হয়েছে। ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডের সঙ্গেও যথাক্রমে ৭৯৯ দশমিক ৭৪ মিলিয়ন ও ৭২৩ দশমিক ৮৫ মিলিয়ন ডলারের ঘাটতি রয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা যায়। কাতারের সঙ্গে ২ দশমিক ১১ বিলিয়ন ডলার, সৌদি আরবের সঙ্গে ১ দশমিক ৩৬ বিলিয়ন ডলার, সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে ১ দশমিক ১৯ বিলিয়ন ডলার এবং ওমানের সঙ্গে ২১৯ দশমিক ৬৬ মিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য ঘাটতি হয়েছে।
পূর্ব এশিয়ার উন্নত অর্থনীতির দেশগুলোর মধ্যে তাইওয়ানের সঙ্গে ৮০৩ দশমিক ৯৮ মিলিয়ন ডলার, দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে ৭৪০ দশমিক ০২ মিলিয়ন ডলার, জাপানের সঙ্গে ৪৮৯ দশমিক ৩০ মিলিয়ন ডলার এবং হংকংয়ের সঙ্গে ১৯৯ দশমিক ৩৫ মিলিয়ন ডলারের ঘাটতি রয়েছে।

দক্ষিণ এশিয়ায় পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৬৮১ দশমিক ৩০ মিলিয়ন ডলার। ইউরোপ ও ইউরেশিয়ার মধ্যে রাশিয়ার সঙ্গে ১ দশমিক ২৬ বিলিয়ন ডলার এবং সুইজারল্যান্ডের সঙ্গে ৪১৪ দশমিক ৩৯ মিলিয়ন ডলারের ঘাটতি হয়েছে।

দক্ষিণ আমেরিকায় ব্রাজিলের সঙ্গে ২ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন ডলার, আর্জেন্টিনার সঙ্গে ৭৬৩ দশমিক ১৩ মিলিয়ন ডলার এবং প্যারাগুয়ের সঙ্গে ৮৩ দশমিক ৭০ মিলিয়ন ডলারের ঘাটতি রেকর্ড করা হয়েছে।

আফ্রিকা অঞ্চলেও বাণিজ্য ঘাটতির বিস্তার রয়েছে। মরক্কো, বেনিন, ক্যামেরুন, মালি, বুর্কিনা ফাসো, মোজাম্বিক ও নাইজেরিয়ার সঙ্গে উল্লেখযোগ্য ঘাটতি দেখা গেছে। পাশাপাশি ওশেনিয়া অঞ্চলে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ৩২০ দশমিক ১৯ মিলিয়ন ডলার এবং নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে ২৯৭ দশমিক ৯৭ মিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, শিল্পায়ন ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় আমদানিনির্ভরতার কারণেই এই বাণিজ্য ঘাটতি তৈরি হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে বাণিজ্য কৌশল ও রপ্তানি বহুমুখীকরণের মাধ্যমে কমিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।

এলিস/এসএন

শেখ হাসিনাকে নিয়ে কড়া বক্তব্য দিলেন এমপি রেহানা রানু

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৭:৫২ পিএম
শেখ হাসিনাকে নিয়ে কড়া বক্তব্য দিলেন এমপি রেহানা রানু
বিএনপির সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু। ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় সংসদে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে কড়া বক্তব্য দিয়েছেন সংরক্ষিত মহিলা আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু।

তিনি বলেন, “হাসিনা আবার ফিরে এলে যারা ফেসবুকে প্রোফাইল লাল করেছিলেন, তাদের জীবন কালো করে ছাড়বে।”

মঙ্গলবার (২৩ জুন) প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৩তম দিন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

বিরোধী দলের উদ্দেশে রেহানা আক্তার রানু বলেন, বর্তমান সরকারের মাত্র চার মাস হয়েছে। এখনই নতুন আন্দোলন বা বিপ্লবের কথা বলা ঠিক নয়।

তিনি বলেন, “আপনারা আমাদের প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আস্থা রাখুন, সরকারকে সহযোগিতা করুন। আল্লাহ না করুক, আবারও যদি দানব হাসিনা ফিরে আসে, যারা ফেসবুকে প্রোফাইল লাল করেছিলেন, তাদের জীবন কালো করে ছাড়বে।”

একই বক্তব্যে তিনি সম্প্রতি আলোচিত ‘আয়নাঘর’ প্রসঙ্গও তুলে ধরে বলেন, সেখানে এমন একটি চেয়ার দেখেছেন, যেখানে বিরোধী দলের নেতাদের ইলেকট্রিক শক দেওয়া হতো। তার দাবি, শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে ওই চেয়ারে বসিয়ে একইভাবে জবাবদিহির আওতায় আনা হোক।

প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে বক্তব্যে বিএনপির এই সংসদ সদস্য বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে কর ছাড় দেওয়ায় সাধারণ মানুষ কিছুটা স্বস্তি পেলেও বাজারে মূল্য নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা জরুরি।

তিনি অভিযোগ করেন, ব্যবসায়ীরা একবার দাম বাড়ালে পরে আর তা কমাতে চান না। এ কারণে বাজার মনিটরিং আরও জোরদারের দাবি জানান তিনি।

ব্যাংক খাতে অনিয়ম ও অর্থ লুটপাটের সমালোচনা করে রেহানা রানু বলেন, কিছু ব্যাংকমালিক ও প্রভাবশালী ব্যক্তি গ্রাহকের টাকা লুট করে বিদেশে বিলাসবহুল জীবনযাপন করছেন। অথচ সাধারণ গ্রাহকরা নিজেদের টাকা তুলতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন। তিনি লুট হওয়া অর্থ ফেরত দিতে দায়ীদের সম্পত্তি নিলামে বিক্রির দাবি জানান।

এ সময় তিনি ব্যাংক হিসাব খুলতে টিআইএন বাধ্যতামূলক করা এবং সঞ্চয়পত্রে ১০ শতাংশ কর কাটার প্রস্তাব প্রত্যাহারের আহ্বান জানান।

রানু আরও বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে ফেনীতে নিহত ১১ জনের পরিবার এখনও বিচার না পাওয়ার অভিযোগ করছে। নিহতদের স্বজনরা তাকে জানিয়েছেন- পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তার করছে না, আবার গ্রেপ্তার হলেও আদালত জামিন দিয়ে দিচ্ছে। তারা শুধু হত্যাকাণ্ডের বিচার চান।

এ ছাড়া স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির প্রসঙ্গ টেনে তিনি সরকারি হাসপাতালের সেবার মান উন্নয়নের দাবি জানান। ফেনী জেনারেল হাসপাতালে জনবল সংকট দূর করা, সেখানে মেডিক্যাল কলেজ স্থাপন, লালপোল ফ্লাইওভার নির্মাণ, একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, গ্যাস সংযোগ চালু, এলপিজি সিলিন্ডারের দাম কমানো এবং ফেনীতে দ্রুত ফ্যামিলি কার্ড চালুর দাবি জানান বিএনপির এই সংসদ সদস্য।

এলিস/নাঈম

টিআর-কাবিটা প্রকল্পে অনিয়মের তদন্ত চলছে: ত্রাণমন্ত্রী

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৭:৫০ পিএম
টিআর-কাবিটা প্রকল্পে অনিয়মের তদন্ত চলছে: ত্রাণমন্ত্রী
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। ছবি: সংগৃহীত

বিগত সরকারের আমলে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার কর্মসূচির আওতায় টিআর, কাবিটা ও কাবিখা প্রকল্পে বরাদ্দ নিয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। তিনি বলেন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে যথাযথ কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) জাতীয় সংসদে জামালপুর-৩ আসনের সরকারি দলের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের টেবিলে উত্থাপিত এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য জানান।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী বলেন, “বিগত সরকারের শাসনামলে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কারের কর্মসূচির নামে টিআর, কাবিটা ও কাবিখা বরাদ্দ নিয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে যথাযথ কার্যকরী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সংসদে দেওয়া তথ্যে মন্ত্রী ইঙ্গিত দেন, গ্রামীণ উন্নয়ন ও অবকাঠামো সংস্কারের নামে পরিচালিত বিভিন্ন প্রকল্পে বরাদ্দ ব্যবহারে অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে টেস্ট রিলিফ (টিআর), কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) এবং কাজের বিনিময়ে টাকা (কাবিটা) কর্মসূচির আওতায় বরাদ্দ বণ্টন ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় বিষয়গুলো তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, এসব কর্মসূচি মূলত গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দুর্যোগ-পরবর্তী পুনর্বাসন কার্যক্রমে সহায়তার উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয়ে থাকে। তবে অতীতে বিভিন্ন এলাকায় প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম, রাজনৈতিক প্রভাব ও বরাদ্দ অপব্যবহারের অভিযোগ বিভিন্ন সময়ে সামনে এসেছে।
মন্ত্রী জানান, তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এলিস/এসএন

এক অর্থবছরে প্রবাসী আয় ৩০.৩২ বিলিয়ন ডলার: প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৭:৪৫ পিএম
এক অর্থবছরে প্রবাসী আয় ৩০.৩২ বিলিয়ন ডলার: প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত

২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ রেকর্ড ৩০.৩২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স অর্জন করেছে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো এই বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখা এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের চতুর্দশ বৈঠকে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সেলিনা সুলতানার এক প্রশ্নের জবাবে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এ তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রশ্নোত্তর পর্বের তথ্য টেবিলে উপস্থাপন করা হয়।

সংসদে দেওয়া তথ্যমতে, একক দেশ হিসেবে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। দেশটিতে বসবাসরত বাংলাদেশিরা বিদায়ি অর্থবছরে ৪.৭৩ বিলিয়ন ডলার দেশে পাঠিয়েছেন, যা মোট রেমিট্যান্সের প্রায় ১৫.৬ শতাংশ। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা সৌদি আরব থেকে এসেছে ৪.২৬ বিলিয়ন ডলার এবং তৃতীয় অবস্থানে থাকা সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে এসেছে ৪.১৭ বিলিয়ন ডলার। এই তিন দেশ থেকেই এসেছে ১৩.১৬ বিলিয়ন ডলারের বেশি, যা মোট প্রবাসী আয়ের প্রায় ৪৩.৪ শতাংশ।

রেমিট্যান্স প্রাপ্তির তালিকায় চতুর্থ স্থানে রয়েছে যুক্তরাজ্য (৩.১৭ বিলিয়ন ডলার) এবং পঞ্চম স্থানে মালয়েশিয়া (২.৮০ বিলিয়ন ডলার)। উপসাগরীয় অঞ্চলের সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান, কুয়েত, কাতার ও বাহরাইন থেকে সম্মিলিতভাবে এসেছে প্রায় ১৩.৬৬ বিলিয়ন ডলার, যা মোট রেমিট্যান্সের প্রায় ৪৫ শতাংশ।

ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে ইতালি থেকে এসেছে ১.৬৫ বিলিয়ন ডলার। এ ছাড়া ফ্রান্স, গ্রিস, জার্মানি ও পর্তুগাল থেকেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রেমিট্যান্স এসেছে। প্রচলিত শ্রমবাজারের বাইরে দক্ষিণ কোরিয়া, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, জর্ডান, দক্ষিণ আফ্রিকা, মালদ্বীপ, মরিশাস, জাপান ও ব্রুনাই থেকেও প্রবাসীরা উল্লেখযোগ্য অঙ্কের বৈদেশিক মুদ্রা দেশে পাঠিয়েছেন।

এলিস/নাঈম

ডিজিটাল নকল প্রতিরোধে কঠোর নজরদারির আহ্বান শিক্ষামন্ত্রীর

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৭:২২ পিএম
ডিজিটাল নকল প্রতিরোধে কঠোর নজরদারির আহ্বান শিক্ষামন্ত্রীর
ছবি: খবরের কাগজ

পরীক্ষায় নকলের কৌশল সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হয়েছে উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন বলেছেন, বর্তমানে ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে নকলের চেষ্টা করা হচ্ছে। এ ধরনের অনিয়ম প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আরও সতর্ক ও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) চট্টগ্রাম কলেজ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্র সচিব, শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তা এবং মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রশাসনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, চলতি বছরের মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষার ফল আগামী ২০ জুলাই প্রকাশ করা হবে। ফল প্রকাশের পর দ্রুত কলেজে ভর্তি কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনার কথাও তিনি তুলে ধরেন। তাঁর মতে, দীর্ঘ সময় ফাঁকা রাখলে শিক্ষার্থীরা কোচিংনির্ভর হয়ে পড়তে পারে, তাই ভর্তি প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা প্রয়োজন।

শিক্ষাব্যবস্থার গুণগত উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, দেশের শিক্ষা কাঠামোকে সময়োপযোগী করতে পাঠ্যক্রম ও সিলেবাস নিয়মিত হালনাগাদ করা জরুরি। শিক্ষার্থীদের তথ্যভিত্তিক, প্রযুক্তিনির্ভর, মূল্যবোধসম্পন্ন এবং বাস্তবজীবনমুখী শিক্ষা নিশ্চিত করার ওপর সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।

তিনি বলেন, দেশে উচ্চশিক্ষার সম্প্রসারণের পাশাপাশি কারিগরি ও কর্মমুখী শিক্ষার প্রতিও সমান গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। শুধু ডিগ্রি অর্জন নয়, শিক্ষার্থীদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলাই হওয়া উচিত মূল লক্ষ্য।

পরীক্ষার মূল্যায়ন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সব শিক্ষা বোর্ডের উত্তরপত্র থেকে নমুনা ভিত্তিকভাবে খাতা পুনরায় যাচাই করা হবে বলেও জানান তিনি। এতে নম্বর প্রদানে কোনো ধরনের অসঙ্গতি থাকলে তা শনাক্ত করা সম্ভব হবে।

প্রশ্নফাঁস প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, অতীতে এটি দেশের শিক্ষাব্যবস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। তবে বর্তমানে প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে। প্রশ্নপত্র মুদ্রণ ও বিতরণ প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।

সভায় তিনি আরও বলেন, শিক্ষাব্যবস্থায় বৈষম্য কমিয়ে একটি সমন্বিত কাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই মানদণ্ডে শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করার মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে দক্ষ, দায়িত্বশীল ও যুগোপযোগী নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।

এসএন/