প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম জাতীয় বাজেট উত্থাপন করা হবে বৃহস্পতিবার (১১ জুন)। বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
প্রস্তাবিত এ বাজেট পাস হলে এটি হবে দেশের ৫৫তম জাতীয় বাজেট এবং বর্তমান সরকারের মেয়াদে অর্থমন্ত্রীর প্রথম বাজেট।
জানা গেছে, আগামী অর্থবছরের বাজেটের সম্ভাব্য আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপে থাকা সাধারণ মানুষের স্বস্তি বাড়াতে এবারের বাজেটে চাল-ডালসহ ৬০টি নিত্যপণ্যে কর ছাড় দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে ক্যানসারসহ বিভিন্ন রোগের ওষুধ তৈরির ৬৮ ধরনের কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক প্রত্যাহারের প্রস্তাব রাখা হতে পারে।
আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ইলেকট্রনিক খাতে বড় ধরনের কর ছাড়ের সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে দেশে তৈরি বিভিন্ন গৃহস্থলিসামগ্রী ও প্রযুক্তিনির্ভর পণ্যের দাম কমতে পারে।
যেসব পণ্যের দাম কমতে পারে
ইলেকট্রনিক ও গৃহস্থালি পণ্য: দেশে উৎপাদিত টেলিভিশন, এসি, ফ্রিজ ও হাউজহোল্ড পণ্যের ভ্যাট ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে সাড়ে ৭ শতাংশ করা হতে পারে। একইসঙ্গে দেশীয় এসব ইলেকট্রনিক পণ্যের কাঁচামাল আমদানিতেও শুল্ককর ছাড় দেওয়া হতে পারে এবং এই অব্যাহতি সুবিধা আগামী ২০৩০ সাল পর্যন্ত বজায় থাকতে পারে। এর ফলে দেশে তৈরি এসি, ফ্রিজ, টেলিভিশন, ওয়াশিং মেশিন ও অন্যান্য হাউজহোল্ড পণ্যের দাম কমতে পারে।
প্রযুক্তি পণ্য: দেশে তৈরি ল্যাপটপ, কম্পিউটার, মনিটর ও মোবাইল ফোনের দাম কমতে পারে।
বাদ্যযন্ত্র: বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র আমদানিতে বর্তমানে বিদ্যমান ৫ শতাংশ শুল্ককর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হতে পারে। ইলেকট্রিক গাড়ি ও ই-বাইক: স্থানীয় উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে ইলেকট্রিক গাড়ি ও ই-বাইক উৎপাদনে কর রেয়াত সুবিধা দেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি ইলেকট্রিক গাড়ির রেজিস্ট্রেশনে অগ্রিম আয়কর ২ লাখ টাকা থেকে কমিয়ে গাড়ির কিলোওয়াট অনুযায়ী ২৫ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা করা হতে পারে।
সৌর বিদ্যুৎ: সৌর বিদ্যুৎ ব্যবহারের ক্ষেত্রে খরচ কমার সম্ভাবনা রয়েছে, যা আমদানিকৃত জ্বালানি তেলের ওপর চাপ কমাবে।
ভোজ্যতেল: দেশীয় ভোজ্যতেল উৎপাদনে করছাড় সুবিধা আরও ১০ বছর অব্যাহত রাখা হতে পারে।
স্বর্ণ: স্বর্ণ বিক্রিতে বর্তমানে বিদ্যমান ৫ শতাংশ ভ্যাটের পরিবর্তে ভরিপ্রতি সুনির্দিষ্ট হারে আড়াই হাজার টাকা নির্ধারণ করা হতে পারে। এ ছাড়া এ খাতের উৎসে কর ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ এবং টার্নওভার কর ১ শতাংশ থেকে কমিয়ে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ করা হতে পারে।
মোবাইল সিম: মোবাইল সিমের ওপর থাকা ৩০০ টাকা কর বাতিল করা হতে পারে।
চিকিৎসাসামগ্রী: কিডনি ডায়ালাইসিস ফিল্টার আমদানিতে ৫ শতাংশ আগাম কর প্রত্যাহার করা হতে পারে, যার ফলে কিডনি ডায়ালাইসিস বাবদ খরচ প্রতিবারে প্রায় ৬০০ টাকা কমতে পারে।
লিপস্টিক: আমদানিকৃত লিপস্টিকের শুল্ক প্রতি কেজিতে ৪০ ডলার থেকে কমিয়ে ৩০ ডলার করা হতে পারে।
অন্যান্য সুবিধা: ১১৩টি পণ্যের ওপর আরোপিত ৩ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক প্রত্যাহার হতে পারে। কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের ওপর থাকা সাড়ে ৭ শতাংশ ভ্যাট এবং ৭ শতাংশ আয়কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হতে পারে। মেট্রোরেল সেবাকে ২০২৮ সাল পর্যন্ত ভ্যাট অব্যাহতি দেওয়া হতে পারে। প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রতি মাসের পরিবর্তে ৩ মাস অন্তর অন্তর ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের সুযোগ দেওয়া হতে পারে (তবে ভ্যাট প্রতি মাসেই জমা দিতে হবে)। এ ছাড়া রপ্তানি বাড়াতে বন্ড সুবিধার আওতা বাড়িয়ে যেকোনো খাতের জন্য উন্মুক্ত করা হতে পারে।
অন্তরা/