ঢাকা ৯ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
ওয়ান ব্যাংক থেকে নগদে তাৎক্ষণিক টাকা পাঠানোর সেবা চালু Wisdom of King Soloman বিষয়ক Story Writing নিয়ে আলোচনা, ২য় পর্ব, এইচএসসির ইংরেজি ১ম পত্র শুধু সাফল্য নয়, অনিয়মও তুলে ধরুন—সাংবাদিকদের প্রাণীসম্পদ মন্ত্রী উন্নত স্বাস্থ্যসেবা ও বিশেষ সুবিধা নিশ্চিতে মাস্টারকার্ড ও অ্যাসেন্ট হেলথ লিমিটেডের অংশীদারিত্ব ক্যালিফোর্নিয়ার আকাশে বাংলাদেশের রং নায়িকা ববি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বললেন বাশার তার স্বামী নন ইউল্যাবে জেন্ডার সমতা, সামাজিক ন্যায়বিচার বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত পানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে এশিয়ার দেশগুলোর সম্মিলিত উদ্যোগের তাগিদ স্পিকারের সাহিত্যের খেলা প্রবন্ধর ৪০টি জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর, ১ম পর্ব, এইচএসসির বাংলা ১ম পত্র প্রাইভেট ব্যাংকে চাকরির সুযোগ সিয়াটলে যাওয়ার অনুমতি পেল না মিশর ডিবি পরিচয়ে ব্যবসায়ীর বাড়িতে তাণ্ডব, আসবাবপত্র ভাঙচুরের পর লুটপাট জর্ডান ম্যাচে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত স্কালোনির লক্ষ্মীপুরে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে যুবদলের বিক্ষোভ পোড়া ক্ষত সারাতে তেলাপিয়া মাছের চামড়া, চিকিৎসাবিজ্ঞানে নতুন সম্ভাবনা দাউদকান্দি পৌরসভার ৪৩ কোটি টাকার উন্মুক্ত বাজেট ঘোষণা ব্র্যাকের প্রশিক্ষণ শেষে নারীরা পেলেন পেশাদার চালকের সনদ সিএনজি সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য: জিম্মি যাত্রীরা বিপৎসীমার ওপরে তিস্তার পানি, নিম্নাঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী অসামান্য গদ্যশৈলীর রূপকার টেকনাফে যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে আহত ১০ মুক্তমঞ্চে খেলা দেখা নিয়ে শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ রোবোটিক্স প্রতিযোগিতায় চ‍্যাম্পিয়ন লিডিং ইউনিভার্সিটি দল আখাউড়ায় ‘পার্টনার কংগ্রেস’ গোল্ডেন বুট নিয়ে ভাবছেন না কিলিয়ান এমবাপ্পে সাবেক ভূমিমন্ত্রীসহ ৩৬ আসামির মামলায় আরও ৭ সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ অস্তিত্ব সংকটে মমতার তৃণমূল সরাসরি মোবাইলেই মিলবে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পদত্যাগ করলেন ১৮ ডেপুটি ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও নেইমারের কাউকে কিছু প্রমাণ করার নেই: জোয়াও কানসেলো

এমআরডিআই-এর মতবিনিময় সভা সাংবাদিকতায় দলীয় লেজুড়বৃত্তিমুক্ত পরিবেশ প্রয়োজন: মোস্তফা কামাল

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৬:৫৮ পিএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬, ০৭:২২ পিএম
সাংবাদিকতায় দলীয় লেজুড়বৃত্তিমুক্ত পরিবেশ প্রয়োজন: মোস্তফা কামাল
‘গণমাধ্যম কমিশন: সরকারের কাছে প্রত্যাশা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন ‘খবরের কাগজ’-এর প্রকাশক ও সম্পাদক মোস্তফা কামাল। ছবি: খবরের কাগজ

সংবাদপত্র ও সাংবাদিকতায় দলীয় প্রভাবমুক্ত, বস্তুনিষ্ঠ এবং সত্যনিষ্ঠ পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন ‘খবরের কাগজ’-এর প্রকাশক ও সম্পাদক মোস্তফা কামাল।

তিনি বলেন, সাংবাদিকতাকে কোনো বিশেষ রাজনৈতিক মতাদর্শ বা দলের লেজুড়বৃত্তি থেকে মুক্ত হতে হবে। তবেই গণমাধ্যম প্রকৃত শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাতে পারবে।

শনিবার (১৩ জুন) সকালে রাজধানীর ফার্মগেটে ডেইলি স্টার ভবনে মিডিয়া রিসোর্সেস ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ (এমআরডিআই) আয়োজিত ‘গণমাধ্যম কমিশন: সরকারের কাছে প্রত্যাশা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

এমআরডিআইয়ের নির্বাহী পরিচালক হাসিবুর রহমানের সঞ্চালনায় এই মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন  বিশিষ্ট আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মী ব্যারিস্টার সারা হোসেন, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে গঠিত গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রধান কামাল আহমেদ, কমিশনের দুই সদস্য অধ্যাপক গীতি আরা নাসরীন, জিমি আমির। উপস্থিত ছিলেন অ্যাসোসিয়েশন অব টেলিভিশন ওনার্সের মহাসচিব আব্দুস সালাম, দ্য ফাইনান্সিয়্যাল এক্সপ্রেসের সম্পাদক শামসুল হক জাহিদ, সমকালের সম্পাদক শাহেদ মোহাম্মদ আলী, ঢাকা ট্রিবিউনের সম্পাদক রিয়াজ আহমেদ, আগামীর সময়ের সম্পাদক মোস্তফা মামুন, বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের নির্বাহী সম্পাদক সাখাওয়াত লিটন, চ্যানেল আইয়ের নির্বাহী সম্পাদক জাহিদ নেওয়াজ খান, প্রথম আলোর উপসম্পাদক লাজ্জাত এনাব মহছি, দৈনিক সংবাদের নির্বাহী সম্পাদক শাহরিয়ার করিম, যশোরের সংবাদপত্র লোকসমাজের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক আনোয়ারুল কবির নান্টু, গ্রামের কাগজের সম্পাদক মবিনুল ইসলাম মবিন, প্রকাশিতব্য দৈনিক ওয়াদার প্রধান সম্পাদক শফিকুল আলম।

সম্প্রতি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় ‘গণমাধ্যম কমিশন’ গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে।  এর পরিপ্রেক্ষিতে স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন গঠন প্রক্রিয়া, এর পরিধি এবং কমিশনের কাছে অংশীজনদের প্রত্যাশার ব্যাপারে সুস্পষ্ট মতামত ও পরামর্শ তুলে ধরা ছিল এমআরডিআইয়ের সভার মূল উদ্দেশ্য।

হাল আমলে ফেক নিউজ বা ভুয়া সংবাদের ছড়াছড়ি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মোস্তফা কামাল দাবি করেন, গত তিন বছরে বিভিন্ন গবেষণায় ‘খবরের কাগজ’ ফেক নিউজ মুক্ত হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। এরপরও গণমাধ্যমকে সরকারি বিভিন্ন সংস্থার অতিরিক্ত যাচাই-বাছাই ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়।

তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘একটি পত্রিকা ডিক্লারেশন নেওয়ার পর সরকারি অনুমোদন পায়। অথচ এরপরও মিডিয়াভুক্ত হওয়ার নামে নানা হয়রানির শিকার হতে হয়। মাসে আড়াই কোটি টাকা খরচ করে একটি প্রতিষ্ঠান চালানোর পর আবার কেন বারবার যাচাই-বাছাইয়ের মুখে পড়তে হবে?’ তিনি সরকারি সংস্থাগুলোর এই কার্যক্রমকে এক ধরনের ‘হয়রানি’ হিসেবে অভিহিত করেন।

সরকার গঠিত মিডিয়া কমিশন প্রসঙ্গে সম্পাদক মোস্তফা কামাল বলেন, গণমাধ্যমকে কেবল বিশেষ কোনো রাজনৈতিক লাইনের অনুসারী বা প্রতিপক্ষ হিসেবে বিবেচনা করার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। অনেক সময় একই ধরণের সংবাদের জন্য নির্দিষ্ট গণমাধ্যমকে যেভাবে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়, অন্য গণমাধ্যমের ক্ষেত্রে তা করা হয় না। এই বৈষম্য দূর করার আহ্বান জানান তিনি।

সবশেষে তিনি সাংবাদিকদের পেশাদারিত্বের ওপর জোর দিয়ে বলেন, অতীতের মতো সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্ম থাকলে গণমাধ্যম অনেক বেশি শক্তিশালী থাকে। সাংবাদিকরা যদি কোনো দলের অনুসারী না হয়ে নিছক পেশাদার হিসেবে কাজ করেন, তবেই দুর্নীতি ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে নির্ভীক সাংবাদিকতা সম্ভব হবে। ব্যক্তিগত স্বার্থ বা রাজনৈতিক পরিচয় নয়, সত্য ও জনগণের স্বার্থ রক্ষা করাই হোক সাংবাদিকতার মূল লক্ষ্য।

দেশে সাংবাদিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং গণমাধ্যমের প্রতি জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে একটি কার্যকর ও স্বাধীন ‘ইউনিফাইড ইনস্টিটিউশন’ (একীভূত প্রতিষ্ঠান) গড়ে তোলার তাগিদ দিয়েছেন বিশিষ্ট আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মী ব্যারিস্টার সারা হোসেন। সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবে প্রেস কাউন্সিল বিলুপ্ত করার কথা বলা হলেও ২৬-এর আইজেক খসড়ায় প্রেস কাউন্সিলকে রেখে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। সারা হোসেন একে ঝুঁকি হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, ‘একদিকে গণমাধ্যম কমিশনকে ব্যাপক ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে, আবার ৫০ বছরের পুরনো প্রেস কাউন্সিলকেও রাখা হচ্ছে। এতে কাজের ওভারল্যাপিং হবে। একটি ‘ইউনিফাইড ইনস্টিটিউশন’ বা একীভূত প্রতিষ্ঠান হওয়াই সবচেয়ে যৌক্তিক।’

আইজেক খসড়ায় নির্বাচক কমিটিতে কেবল একজন সরকারি প্রতিনিধি (ক্যাবিনেট সেক্রেটারি) রাখার ইতিবাচক দিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগের অভিজ্ঞতার আলোকে এই সিলেকশন প্রক্রিয়া যেন অত্যন্ত স্বচ্ছ, উন্মুক্ত ও আন্তর্জাতিক মানের হয়, তা বিধিমালায় স্পষ্ট করতে হবে।’ এছাড়া ফৌজদারি অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তি যেন দুই বছর পার হলেই নিয়োগ না পান, সেই অযোগ্যতার ধারাটি কঠোর করার তাগিদ দেন তিনি।

মোবাইল জার্নালিজমের এই যুগে সাংবাদিকদের জন্য সুনির্দিষ্ট শিক্ষাগত বা প্রাতিষ্ঠানিক যোগ্যতা বাধ্যতামূলক করার বিরোধিতা করেন সারা হোসেন। তিনি বলেন, ‘যোগ্যতা নির্ধারণ যেন কোনোভাবেই লাইসেন্সিং-এর মতো না হয়ে দাঁড়ায়। এটি বাধ্যতামূলক না করে বরং প্রশিক্ষণ, প্রফেশনাল ডেভেলপমেন্ট ও অ্যাক্রেডিটেশনের সুযোগ রাখা উচিত।

আইজেকের খসড়ায় কমিশনকে জরিমানা করার ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। দেশের অতীত প্রেক্ষাপট ও সাংবাদিকদের ওপর জুলুম-হয়রানির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে সারা হোসেন বলেন, ‘ফাইন বা জরিমানা করাকে নেতিবাচকভাবে দেখার সুযোগ নেই, কারণ এটি অন্য কোনো বড় সাজা বা হয়রানির চেয়ে ভালো।’

আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ‘কনফিডেনশিয়ালিটি অব সোর্সেস’ বা সোর্সের গোপনীয়তা সুরক্ষার ওপর কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ যেন না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান

গণমাধ্যম খাতে যে নৈরাজ্য বিরাজ করছে, তার উল্লেখ করে কামাল আহমেদ বলেন, ‘এই নৈরাজ্যের মধ্যে কেবল একটি কমিশন কাজ করতে পারবে না। গণমাধ্যম খাতে যে সীমাহীন বিশৃঙ্খলা, আগে সেখানে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হবে। কোনো নীতিমালা বা স্বচ্ছতা ছাড়াই প্রতিষ্ঠান খোলার যে প্রবণতা, তা বন্ধ করতে হবে।

গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন থেকে আগেই কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ তুলে দেওয়া হয়েছিল বলে জানান কামাল আহমেদ। তার মতে, সেগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। 
একটি হাউসের নিয়ন্ত্রণে থাকা গণমাধ্যমের সংখ্যা সীমিত রাখা; দৈনিক পত্রিকার সার্কুলেশন এবং টেলিভিশনের টিআরপি নির্ধারণে শৃঙ্খলা ফেরাতে পরিদর্শন ব্যবস্থায় নাগরিক সমাজ ও বিজ্ঞাপনদাতাদের প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করা এবং পত্রিকাগুলোর টার্নওভার ট্যাক্স ও অডিট রিপোর্ট যাচাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত সার্কুলেশন ও আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো নিয়ে আবারও তিনি গণমাধ্যমের মালিকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

তিনি স্পষ্ট করেন যে, ‘কমিশনকে কেবল ফ্যাসিলিটেটর হিসেবে কাজ করতে হবে এবং এর আইনি ভিত্তি এমন হতে হবে যেন সরকারের হস্তক্ষেপ ছাড়াই তারা স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।’

জয়ন্ত সাহা/এসএন

শুধু সাফল্য নয়, অনিয়মও তুলে ধরুন—সাংবাদিকদের প্রাণীসম্পদ মন্ত্রী

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৬:১২ পিএম
শুধু সাফল্য নয়, অনিয়মও তুলে ধরুন—সাংবাদিকদের প্রাণীসম্পদ মন্ত্রী
কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী আমিন উর রশিদ ইয়াসিন। ছবি: সংগৃহীত

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ সাংবাদিকদের প্রতি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের ইতিবাচক অর্জনের পাশাপাশি অনিয়ম, সীমাবদ্ধতা ও নেতিবাচক দিকগুলোও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) সচিবালয়ে নিজ দফতরে ফিশারিজ অ্যান্ড লাইভস্টক জার্নালিস্টস ফোরামের (এফএলজেএফ) নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ আহ্বান জানান।

সাক্ষাৎকালে এফএলজেএফের সভাপতি তরিকুল ইসলাম সুমন এবং সাধারণ সম্পাদক জাহিদুর রহমান সংগঠনের পক্ষ থেকে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের টেকসই উন্নয়ন ও গণমাধ্যমের কার্যকর ভূমিকা বিষয়ে বিভিন্ন প্রস্তাবনা তুলে ধরেন।

এ সময় মন্ত্রী সাংবাদিকদের মতামত মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং খাতটির বিদ্যমান নানা চ্যালেঞ্জ ও সীমাবদ্ধতার বিষয়েও আলোচনা করেন। তিনি বলেন, মন্ত্রণালয় ও এর আওতাধীন দপ্তরগুলোর সাফল্যের খবর যেমন গণমাধ্যমে প্রকাশ হওয়া প্রয়োজন, তেমনি সমস্যা ও দুর্বলতাগুলোও তুলে ধরা উচিত। এতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে উৎসাহিত হবে এবং সেবার মান আরও উন্নত হবে।

সৌজন্য সাক্ষাৎকালে মন্ত্রীর একান্ত সচিব পঙ্কজ বড়ুয়া, সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা মো. মামুন হাসান এবং সহকারী একান্ত সচিব মো. আমিনুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া এফএলজেএফের সহ-সভাপতি মোহাম্মদ নঈমুদ্দীন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বায়েজীদ মুন্সী, অর্থ সম্পাদক শাহজাহান মোল্লা, সাংগঠনিক সম্পাদক শওকত আলী, দপ্তর সম্পাদক মো. বেলাল হোসেন, কার্যনির্বাহী সদস্য কাওসার আজম, নাসির উদ্দিন, শাহাদাৎ হোসেন বিপ্লব এবং সদস্য গোলাম সামদানি ভূঁইয়া ও আরিফুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

তপন/এসএন

পানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে এশিয়ার দেশগুলোর সম্মিলিত উদ্যোগের তাগিদ স্পিকারের

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৫:৫৯ পিএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬, ০৬:০১ পিএম
পানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে এশিয়ার দেশগুলোর সম্মিলিত উদ্যোগের তাগিদ স্পিকারের
হা সাং জে এর নেতৃত্বে দক্ষিণ কোরিয়ার একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। ছবি : সংগৃহীত

বর্তমান বিশ্বের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দেওয়া পানি সংকট মোকাবিলায় এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ ও সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। তিনি বলেছেন, পানি সংকট এখন শুধু পরিবেশগত বা উন্নয়নগত সমস্যা নয়, অনেক দেশের জন্য এটি জীবন-মরণ ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) জাতীয় সংসদ ভবনে স্পিকারের কার্যালয়ে এশিয়া ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি ওয়াটার কনসালটেটিভ বোর্ড (এএডব্লিউসি)-এর জেনারেল সেক্রেটারি মি. হা সাং জে’র নেতৃত্বে দক্ষিণ কোরিয়ার একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে স্পিকার এসব কথা বলেন।

স্পিকার বলেন, “পানি সমস্যা এতটাই তীব্র আকার ধারণ করেছে যে বাংলাদেশসহ অনেক দেশের জন্য এটি জীবন-মরণের প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো—বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানে এ সংকট আরও গভীর। পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ স্বাধীনতার পর থেকেই প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রেখেছে।”
তিনি আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, নদী ব্যবস্থাপনার জটিলতা এবং সীমান্তবর্তী নদীর পানিবণ্টন সংকট ভবিষ্যতে পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে। এ কারণে পানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আঞ্চলিক সহযোগিতার বিকল্প নেই।

এ সময় এএডব্লিউসি’র জেনারেল সেক্রেটারি মি. হা সাং জে বৈশ্বিক পানি সংকট সমাধানে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সদস্যদের আরও সক্রিয় অংশগ্রহণ কামনা করেন। তিনি বাংলাদেশের সংসদ সদস্যদের এএডব্লিউসি’র কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান এবং আগামী ২০২৬ সালে লাওসে অনুষ্ঠিতব্য সংস্থাটির বার্ষিক সম্মেলনে অংশ নেওয়ার জন্য স্পিকারকে আমন্ত্রণ জানান।

স্পিকার এএডব্লিউসি’র কার্যক্রমের প্রশংসা করে বলেন, ২০১৯ সাল থেকে একটি আইনি ও নীতিগত কাঠামোর মাধ্যমে পানি সংকট সমাধানে সংগঠনটির প্রচেষ্টা প্রশংসনীয়। পানি নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, পানি ব্যবস্থাপনা ও টেকসই উন্নয়ন ইস্যুতে এশিয়ার সংসদ সদস্যদের সম্পৃক্ত করে যে লেজিসলেটিভ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তাতে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ সদস্যদের সম্পৃক্ত হওয়ার বিষয়ে তিনি সুপারিশ করবেন বলেও প্রতিনিধিদলকে আশ্বস্ত করেন।

স্পিকার আরও জানান, লাওসে অনুষ্ঠিতব্য এএডব্লিউসি’র পরবর্তী বার্ষিক সম্মেলনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ থাকবে বলে তিনি আশা করছেন।

প্রসঙ্গত, এএডব্লিউসি এশিয়ার বিভিন্ন দেশের সংসদ সদস্যদের একটি আন্তঃসংসদীয় প্ল্যাটফর্ম, যা পানি নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, পানি ব্যবস্থাপনা এবং টেকসই উন্নয়ন বিষয়ে নীতিগত ও আইনগত সহযোগিতা জোরদারে কাজ করছে।

সাক্ষাৎকালে দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত মি. কিম জি-জুন এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়াসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এলিস/এসএন

নাশকতার পরিকল্পনা ছিল কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের: ডিএমপি কমিশনার

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০১:২৭ পিএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬, ০২:৫৪ পিএম
নাশকতার পরিকল্পনা ছিল কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের: ডিএমপি কমিশনার
ছবি: সংগৃহীত

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সুযোগ পেলে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নাশকতা করার পরিকল্পনা ছিল বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) পবিত্র আশুরা উদযাপন ও তাজিয়া শোক মিছিল উপলক্ষে হোসাইনী দালান ইমামবাড়া পরিদর্শনে গিয়ে এ কথা জানান তিনি।

ডিএমপি কমিশনার জানান, নিষিদ্ধ দলটির নেতারা বা কর্মীরা যেন কোনো নাশকতা করতে না পারে তাই তিন দিনের বিশেষ নিরাপত্তা নিয়েছিল ডিএমপি। বিভিন্ন মেস ও হোটেলে তল্লাশি করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটিয়ে সরকারকে বিপদে ফেলতে চায় তারা।

তিনি জানান, এরই মধ্যে সারা দেশে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের বেশ কিছু নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে ধানমণ্ডি ৩২, গুলিস্তানসহ সারা ঢাকায়।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, আওয়ামী লীগের নাশকতার পরিকল্পনা ছিল। ককটেল ফুটিয়েছে তারা। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উদ্যোগে সেই পরিকল্পনা নস্যাৎ করা হয়েছে।

এ সময় পবিত্র আশুরা ও তাজিয়া মিছিল ঘিরে চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে বলে জানান তিনি। 

একই সঙ্গে তাজিয়া মিছিলে ধারালো বস্তু না আনা এবং মিছিলের দিন কিছু রোড ডাইভারশনের কারণে এড়িয়ে চলার অনুরোধ জানান মোসলেহ উদ্দিন আহমদ।

এ সময় ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন মো. নজরুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

অমিয়/

‘আওয়ামী লীগ দল হিসেবে নিষিদ্ধ হবে কি না, সিদ্ধান্ত নেবে আদালত’

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০১:১০ পিএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬, ০১:৫০ পিএম
‘আওয়ামী লীগ দল হিসেবে নিষিদ্ধ হবে কি না, সিদ্ধান্ত নেবে আদালত’
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগ দল হিসেবে নিষিদ্ধ হবে কিনা সেটি আদালতে নির্ধারিত হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে মাঠে রাজনৈতিকদলগুলোর অবস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি তারা সিম্বোলিক কারণে আছেন। আওয়ামী লীগ একটা নিষিদ্ধ ঘোষিত দল। নিষিদ্ধ ঘোষিত কথাটা আসলে ঠিক না। আমরা যদি টেকনিক্যালি বলি আওয়ামী লীগ দলটা নিষিদ্ধ হবে কি হবে না- এটা পরিষ্কার করা দরকার যে, সেটা নির্ধারিত হবে আদালতে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে। তারা মানবতাবিরোধী অপরাধে যুক্ত ছিল কি ছিল না, সেটা বিচারের পর নির্ধারিত হবে।’ 

যেটা হয়েছে, ওই পর্যন্ত তারা বিচারাধীন থাকবে, তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকবে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অধীনে। এই দল যদি মাঠে কোনও কর্মসূচি নিয়ে নামতে চায়, সেটা আইন ভঙ্গকারী কার্যক্রম হবে। সরকার সেটার ব্যবস্থা নেবে। রাজনৈতিক দলগুলোর আসলে ওখানে করার কিছু নেই। তারা প্রতীকী কারণে হয়তো মাঠে আছেন, বলছেন অনেক কিছু করে ফেলবেন।

ডা. জাহেদ বলেন, ‘আমি মনে করি না আওয়ামী লীগের কিছু করার নৈতিক সাহস আছে। একটা কিছু করতে গেলে নৈতিক সাহস লাগে। আমরা বলি না ‘চোরের মায়ের বড় গলা’, সবার ডিমেনশিয়া হবে, মানে সবাই সবকিছু ভুলে যাবে আর কি! তারপর আওয়ামী লীগ বড় গলায় কথা বলতে পারবে, এর আগে আমার মনে হয় না। তাদের সেই নৈতিক সাহস নেই। নৈতিক সাহস যদি না থাকে কিছু লুটপাটকারী, মাফিয়া, চোর বাটপারের আসলে খুব বেশি নৈতিক সাহস থাকে না।’

রিফাত/

বিশেষ ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা পেল ৬ জেলার সেনা কর্মকর্তারা

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ১১:২৯ এএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬, ১১:২৯ এএম
বিশেষ ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা পেল ৬ জেলার সেনা কর্মকর্তারা
ছবি: সংগৃহীত

ছয় জেলায় সশস্ত্র বাহিনীতে কর্মরত সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন ও তদূর্ধ্ব পদমর্যাদার কমিশনড কর্মকর্তাদের বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা দিয়েছে সরকার।

সোমবার (২২ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। 

এতে বলা হয়, কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ছয় জেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকা, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকা, গাজীপুর মেট্রোপলিটন এলাকা, নারায়ণগঞ্জ জেলা, গোপালগঞ্জ জেলা এবং ফরিদপুর জেলায় ২২ জুন থেকে ৩০ জুন তারিখ পর্যন্ত এই আদেশ কার্যকর থাকবে।

মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ১২(১) ও ১৭ ধারা অনুযায়ী এসব এলাকা ও এ সময়ের জন্য এই কর্মকর্তাদের বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা অর্পণ করা হলো। কোস্টগার্ড ও বিজিবিতে প্রেষণে নিয়োজিত সমপদমর্যাদার কর্মকর্তারাও এই ক্ষমতার আওতাভুক্ত হবেন।

ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ধারা ৬৪, ৬৫, ৮৩, ৮৪, ৮৬, ৯৫(২), ১০০, ১০৫, ১০৭, ১০৯, ১১০, ১২৬, ১২৭, ১২৮, ১৩০, ১৩৩ এবং ১৪২ অনুযায়ী অপরাধগুলোর ক্ষেত্রে তারা এই ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবেন।

অন্তরা/