অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নিজেদের পক্ষের লোক ও দলকে নানাভাবে পৃষ্ঠপোষকতা করছেন বলে মন্তব্য করেন জি এম কাদের। তার মতে, নির্বাচন আয়োজন করতে সরকার নিরপেক্ষ অবস্থানে নেই।
তিনি বলেন, ‘নিজেদের কিছু ফেভারিট মানুষ এবং দলকে তারা (সরকার) বিভিন্নভাবে পৃষ্ঠপোষকতা করছেন। সরকারে তারা না থাকার পরেও সরকারের সমস্ত সুযোগ সুবিধা নিচ্ছেন এবং তারা এভাবে নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। সরকারের নির্বাচন আয়োজনের সক্ষমতা নেই। এখানে নির্বাচনের নামে প্রহসন হবে। সংস্কারের নামে তারা যা করছেন তার প্রধান উদ্দেশ্য হলো বেশি দিন করে ক্ষমতায় থেকে নিজেদের স্বার্থ সিদ্ধি করা, নিজেদের দলকে শক্তিশালী করা।’
বুধবার (১৯ মার্চ) বিকেলে রাজধানীর কচুক্ষেতে জাতীয় পার্টির ইফতার মাহফিলে হামলার ঘটনার পরে গণমাধ্যমে পাঠানো ভিডিও বার্তায় তিনি এসব কথা বলেন।
দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান জি এম কাদের বলেছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উচিত এখনই ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়া। এতে দেশের মানুষ ‘রক্ষা পাবে’ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
জি এম কাদের বলেন, ‘এখন পুলিশ অকার্যকর। ওনারা পুলিশকে কার্যকর করার কোনো ব্যবস্থা না করে এখন আবার দেশটাকে আগুনের মুখে ঢেলে দিচ্ছেন। আমরা কেউ এখানে সেইফ না। এখন ওনারা যেহেতু এখন পারছেন না, ওনাদের এখন ছেড়ে দিয়ে যাওয়া উচিত। যদি অন্য কেউ পারে ভালো করে তাহলে দেশের মানুষের একটু রক্ষা পায়।’
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে জাপা চেয়ারম্যান আরও বলেন, ‘একমাত্র আল্লাহর ওপর ভরসা করে মানুষ এখানে বেঁচে আছে। এ অবস্থায় আমি মনে করি, সরকারের প্রধান দায়িত্ব ছিল মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। সেখানে যখন ব্যর্থ হচ্ছেন এবং হয়েই যাচ্ছেন। পুলিশকে সম্পূর্ণ অকার্যকর করে যাচ্ছেন। মনোবল শূন্য পুলিশ, ঢালাওভাবে তাদের ফ্যাসিবাদের দোসর আখ্যা দিয়ে নানা মামলা মোকাদ্দমা দিয়ে, ট্রান্সফার করে তাদের মনোবল সম্পূর্ণ ভেঙে দেওয়া হয়েছে। পুলিশ নিজেরাই বুঝতে পারছে না কোনটা করলে ভালো, কোনটা করলে খারাপ।’
সরকারের নানা সংস্কার কমিটিতে যারা আছেন তাদের রাজনীতি সম্পর্কে ‘কোনোরকম ধারণা’ নেই বলেও মন্তব্য করেন জাপা চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, ‘তারা রাষ্ট্র পরিচালনা কীভাবে হয়, বাংলাদেশের রাজনীতি কীভাবে পরিচালিত হয়, সে বিষয়ে বাস্তব কোনো অভিজ্ঞতা নেই। তারা যেসব প্রপোজাল দেবেন, সেগুলো বাস্তবসম্মত হবে না। এই সরকারের অধীনে রিফর্মস (রাষ্ট্র পুনর্গঠন) সঠিক হবে না। আমরা মনে করি, ওনারা যত তাড়াতাড়ি চলে যায় জাতির জন্য তত মঙ্গল।’
উদারপন্থী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে ‘ফ্যাসিবাদের দোসর’ হিসেবে রাজনীতি থেকে নির্বাসনের পায়তারা চলছে বলেও মন্তব্য করেন জি এম কাদের। তার ভাষ্যে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তাদের বাদ দেওয়া সম্ভব না।
জয়ন্ত সাহা/মাহফুজ