ঢাকা ১১ আষাঢ় ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
স্বর্ণের দাম আবারও কমল, ভরিতে কত? বাংলাদেশ ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত ও প্রস্তুত: চীনা ব্যবসায়ীদের প্রতি প্রধানমন্ত্রী বিএনপি ও চীনের কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রীর সাক্ষাৎ কুমিল্লায় বোন-ভাগিনাদের পিটুনিতে প্রাণ গেল ভাইয়ের নগরকান্দায় আওয়ামী লীগ নেতার জানাজা পড়ালেন ১১ দলীয় সংসদ সদস্য প্রার্থী শিবচরে জমি নিয়ে বিরোধে ভাইয়ের ঘুষিতে ভাইয়ের মৃত্যু মেহেরপুরে সহড়াতলা সীমান্তে ৭ জনকে পুশইনের চেষ্টা গাজীপুরে বাকপ্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণচেষ্টা শেরপুরে অটোরিকশা-মাইক্রোবাস সংঘর্ষে গাড়ি খাদে, ৮ পুলিশ সদস্য আহত এবার ৬.৯ মাত্রার ভূমিকম্পে কাঁপল জাপান সারাদেশে বৃষ্টির পূর্বাভাস ২০৩০ বিশ্বকাপেও কি খেলবেন মেসি? শুনুন তার মুখেই সিরাজগঞ্জে ডা. বাকি হত্যা মামলায় ২ জনের যাবজ্জীবন কেন রাখবেন আশুরার রোজা? ঢাকার বাতাস আজ সহনীয়, দূষণের শীর্ষে কঙ্গো দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হেরে ব্যাকফুটে দক্ষিণ কোরিয়া ভেনেজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্প: প্রাণহানির সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়াতে পারে ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষা জানুয়ারিতে: শিক্ষামন্ত্রী ডিজিটাল মার্কেটিং অ্যাওয়ার্ডে এশিয়াটিকের ২১ পুরস্কার গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েও জার্মানি ‘শাস্তি’ পাচ্ছে: হুলিয়ান নাগেলসম্যান তারা এখন এনসিপির সমালোচক উরুগুয়ের বিপক্ষে লড়াইয়ে প্রস্তুত স্পেন: লাপোর্তে নওগাঁ সীমান্তে পুশইন বাক্তিদের সরিয়ে নিয়েছে বিএসএফ গ্লোবাল হেলথ অ্যাওয়ার্ড ২০২৬ পেলেন ডা. আশীষ কুমার চক্রবর্তী টিইউভি সনদ পেলো প্রপার্টি লিফটস নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে ফের মাইন বিস্ফোরণে যুবকের মৃত্যু ময়মনসিংহে লাইনচ্যুত ৩ বগি রেখেই ছেড়ে গেল ট্রেন বাংলাদেশ-ভারত লড়াই আজ শুধু ভালো খেলা নয়, আমাদের লক্ষ্য জেতা: আনচেলত্তি

আ. লীগকে ক্ষমার সুযোগ নেই: মাহমুদুর রহমান মান্না

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৫, ০৩:৪৪ পিএম
আপডেট: ২৮ জুন ২০২৫, ০৩:৫১ পিএম
আ. লীগকে ক্ষমার সুযোগ নেই: মাহমুদুর রহমান মান্না
ছবি: খবরের কাগজ

নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না  বলেছেন, ‘বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবে না। গত পনেরো বছর তারা যে নৃশংস অত্যাচার, নির্যাতন ও হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে তা ক্ষমার কোনো সুযোগ নেই।’ 

শনিবার  (২৮ জুন) ঢাকার এফডিসিতে ক্ষমতার পালাবদলে তরুণ ভোটারদের ভূমিকা নিয়ে অয়োজিত ছায়া সংসদে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনা ছিল একজন কুৎসিত স্বৈরাচার, যে হিটলারকেও হার মানিয়েছিল। প্রকাশ্যে অপ্রকাশ্যে কেউ আওয়ামী লীগের পৃষ্ঠপোষকতা করতে চাইলে তাদের গ্রেপ্তার করে শাস্তির আওতায় আনতে হবে। আওয়ামী লীগ আর কখনও সুস্থ ন্যারেটিভ নিয়ে মানুষের সামনে ফিরে আসতে পারবে না।’ 

নাগরিক ঐক্যের সভাপতি বলেন, ‘জুলাইয়ের চেতনা আমাদের হৃদয়ে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে, যা আরও বহুদিন মশালের মতো জ্বলবে। অভ্যুত্থানে নেতৃত্বদানকারী তরুণরাও দল করেছে, কিন্তু তারা এখনও সবার কাছে যেতে পারেনি। এনসিপির মধ্যে অসংলগ্নতা দেখা যাচ্ছে। তাদের কথায় ও কাজে আরও ঐক্যবদ্ধ ও পরিণত হতে হবে। কিছুদিন আগেও মানুষ সন্দেহ করত ভোট হবে কিনা, কিন্তু এখন মানুষ বিশ্বাস করে ভোট হবে। সংস্কার বিষয়ে জাতীয় ঐক্যমত্যে প্রথমে সব দল একতাবদ্ধ না থাকলেও এখন দেখা যাচ্ছে সবাই ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে। আগামীতে যারাই সরকার গঠন করবে তাদের জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা ধারণ করেই দেশ পরিচালনা করতে হবে।’

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ। প্রতিযোগিতাটি আয়োজন করেছে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি। 

সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী পলিয়ে যাওয়ার পর তাদের প্রায় সব নেতাই পালিয়ে গেছেন। আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ভোটে অংশগ্রহণ করা থাক দূরের কথা, নেতৃত্ব দেওয়ার মতো কাউকেই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। জুলাই হত্যাকাণ্ডসহ গত ১৫ বছরে গুম, খুন, আয়নাঘর সৃষ্টি, অর্থপাচার, ব্যাংক লুট, দুর্নীতি, অনিয়মসহ নির্বাচন ব্যবস্থাকে কলুষিত করার অপরাধে অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণে গ্রহণযোগ্যতা হারাবে বলে মনে হয়। কারণ শেখ হাসিনাসহ তার অনুসারীরা বিচারে শাস্তি হলে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার অযোগ্য বলে বিবেচিত হবে।’

তিনি বলেন, ‘পতিত আওয়ামী সরকার বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে যেসব মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলা দিয়েছিল, তা আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়েছে। আগামী জাতীয় নির্বাচনে জাতি এখন তার অংশগ্রহণ দেখতে চায়। আমরা আশা করি খালেদা জিয়া যে কয়টি আসন থেকেই নির্বাচনে প্রার্থী হোন না কেন প্রত্যেকটি আসনেই পূর্বের মতো বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করবেন। বিগত আওয়ামী সরকারের আমলে তিনটি জাতীয় নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম, কারচুপি, ভোট ডাকাতির মাধ্যমে প্রহসনের নির্বাচন করে মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার অভিযোগে সাবেক তিন প্রধান প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ ২৪ জনের নামে মামলা হয়েছে।’ 

এ সময় আগামী জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করার লক্ষ্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ ১০ দফা সুপারিশ করেন।

১) জাতীয় নির্বাচন বিলম্বিত হলে পতিত সরকার দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার শঙ্কা রয়েছে তাই প্রধান উপদেষ্টা সম্মত সম্ভাব্য সময় ফেব্রুয়ারির মধ্যে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের ব্যবস্থা করা ২) শুধু নির্বাচন কমিশনারদের শাস্তির আওতায় আনা নয়, বিগত নির্বাচনগুলোকে পুলিশ, প্রশাসন, এসপি- ডিসিরা যারা জাল- জালিয়াতির ভোটের সঙ্গে জড়িত তাদেরকেও বিচারের আওতায় আনা ৩) শুধু ভোটের দিন নয়, আরপিও সংশোধনের মাধ্যমে তফশিল ঘোষণার পর নির্বাচনি পরিবেশ না থাকলে ইসিকে যেকোনো সময় ভোট বন্ধ কারার এখতিয়ার ফিরিয়ে আনা ৪) নির্বাচন আয়োজনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির লক্ষ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি নাগরিক সংগঠনগুলোর সাথে নির্বাচন কমিশনকে অ্যাজেন্ডা ভিত্তিক সংলাপের অ্যাজেন্ডা করা ৫) নির্বাচনকালীন সন্ত্রাস, ভীতি সঞ্চার, বা অন্য কোনো ধরনের নির্বাচনি অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের কঠোর শাস্তির তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া ৬) দুর্নীতিবাজ, টাকা পাচারকারী, ব্যাংক লুটেরাসহ ঋণ খেলাপিরা কোনোভাবেই যাতে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে না পারে সেজন্য কঠিন আইনের বিধান রাখা ৭) আন্তর্জাতিকভাবে খ্যাতিসম্পন্ন নির্বাচন পর্যবেক্ষণ সংস্থাকে আগামী নির্বাচন পর্যবেক্ষণের সুযোগ দেওয়া ৮) যেসব আইনের কারণে নির্বাচনকালীন গণমাধ্যম সংবাদ পরিবেশনে বাঁধার সম্মুখীন হতে পারে সেসব আইন বাতিল করা ৯) নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কারের লক্ষ্যে সদ্য ঘোষিত কমিশনকে অ্যাজেন্ডা ভিত্তিক রাজনৈতিক দলসহ নাগরিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে সংলাপের আয়োজন করা। ১০) নির্বাচন পরবর্তীতে জাতীয় সরকার গঠনের লক্ষ্যে সব রাজনৈতিক দলকে ঐকমত্য হতে হবে। 

ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির আয়োজনে ‘তরুণ ভোটাররাই আগামী জাতীয় নির্বাচনে ক্ষমতার পালাবদলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে’ শীর্ষক ছায়া সংসদে ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির বিতার্কিকদের পরাজিত করে ইডেন মহিলা কলেজের বিতার্কিকরা বিজয়ী হয়। 

প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন অধ্যাপক আবু মুহাম্মদ রইস, অধ্যাপক ড. তাজুল ইসলাম চৌধুরী তুহিন, সাংবাদিক কাজী জেবেল, সাংবাদিক জাকির হোসেন লিটন ও সাংবাদিক সাইদুর রহমান। প্রতিযোগিতা শেষে অংশগ্রহণকারী দলকে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র দেওয়া হয়। 

সুমন/

তারা এখন এনসিপির সমালোচক

প্রকাশ: ২৫ জুন ২০২৬, ০৯:২৫ এএম
তারা এখন এনসিপির সমালোচক
তাসনিম জারা, সামান্তা শারমিন, মুশফিক উস সালেহীন। ছবি: সংগৃহীত

পুরোনো রাজনৈতিক ধারায় পরিচালিত হচ্ছে: সামান্তা শারমিন 

ভিজ্যুয়াল রিপ্রেজেন্টেশন অব ফার্স্ট ক্লাস অ্যান্ড সেকেন্ড ক্লাস সিটিজেনস অব এনসিপি (এনসিপির প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিকদের দৃশ্যমান উপস্থাপন)। ‘ব্যাটাগিরি মুর্দাবাদ’। ১১ দলীয় জোটের একটি ছবি শেয়ার করে ফেসবুকে তিনি লেখেন: এনসিপি এখন সেই পুরোনো রাজনৈতিক ধারায় পরিচালিত হচ্ছে। যদিও দলের শুরুর দিকে যে আদর্শিক অবস্থান ও প্রতিশ্রুতির কথা বলা হয়েছিল, বাস্তবে পরিস্থিতি সেদিকে পুরোপুরি এগোয়নি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক বাস্তবতা ও চাপের কারণে দলের ভেতরেও পরিবর্তন এসেছে। রাজনৈতিক দল সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে, কিন্তু সেই পরিবর্তন যেন বাহ্যিক চাপের কারণে না হয়ে নিজস্ব আদর্শ ও চিন্তার ভিত্তিতে হয়–এটাই আমাদের প্রত্যাশা ছিল।

নারীদের বিষয়ে জোটের ভেতরে একটি বিরূপ মনোভাব রয়েছে। এ বিষয়টি নিয়ে এনসিপির নেতারা জোটের সংশ্লিষ্টদের কাছে নিজেদের অবস্থানও জানিয়েছেন। তারা স্পষ্ট করেছেন যে, এনসিপির নারী নেত্রীরা রাজনৈতিক কর্মসূচি ও সমাবেশে অংশ নেবেন। যদিও জোটের কর্মকাণ্ডে তার পরিবর্তন আসেনি।

কারণ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জামায়াতের সঙ্গে মৃদু ভাষায় আপত্তি জানালে হবে না। প্রয়োজন হলে আরও দৃঢ় ও স্পষ্ট অবস্থান নেওয়া দরকার। আবার কড়া ভাষায় বলতে গেলেও নানা বিষয় এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে যাচ্ছে। 
জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক, এনসিপি 


একটি আসনের বিনিময়ে নীতি বিকিয়ে দিলেন: ডা. তাসনিম জারা

সামনের সারির একটি আসনের বিনিময়ে সেই সব নীতি বিকিয়ে দিলেন, যা একসময় আমাদের বিশ্বাস করতে বলেছিলেন। 
একটি আসন যেমন একদিনে দেওয়া যায়, তেমনই একদিনে কেড়েও নেওয়া যায়। কিন্তু আদর্শই একমাত্র জিনিস, যা কেউ দিতে পারে না আর কেউ কেড়েও নিতে পারে না; যদি না নিজেই তা হাতছাড়া করেন। 
সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব, এনসিপি


এনসিপিকে সমর্থন করা কঠিন: মুশফিক উস সালেহীন

বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিভিন্ন আদর্শ ও চিন্তাধারার দল রয়েছে। সাধারণত রাজনৈতিক দলগুলো তাদের আদর্শ, মূল্যবোধ ও রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ দলগুলোর সঙ্গেই জোট গড়ে তোলে। এনসিপি বর্তমানে যে দলগুলোর সঙ্গে জোটে রয়েছে, তাদের অধিকাংশই ডানপন্থি রাজনৈতিক ধারার। এটিও এনসিপির রাজনৈতিক অবস্থান সম্পর্কে একটি বার্তা দেয়।

১১ দলীয় জোটের প্রধান শক্তি জামায়াতে ইসলামী। কোন অনুষ্ঠান কীভাবে পরিচালনা হবে–তা জামায়াতই ডিজাইন করে দেয়, যেমনটা বিএনপি জোটে বিএনপি করে। নারীদের ভূমিকা ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণ নিয়ে জামায়াতের বা ইসলামী দলগুলোর দৃষ্টিভঙ্গি নতুন কিছু নয়। তাই গত মঙ্গলবার জোটের সমাবেশে নারী অংশগ্রহণকারীদের বসার ব্যবস্থা অনেকের কাছেই অপ্রত্যাশিত ছিল না। এসবের মাধ্যমে জোটের ভেতরে নারীদের গুরুত্ব কতটা সে সম্পর্কে স্পষ্ট বার্তা দেয়। এর আগেও নির্বাচনকেন্দ্রিক একটি সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির এক নারী নেত্রীর উপস্থিতি নিয়ে নানা ধরনের কটাক্ষ ও বিতর্ক দেখা দিয়েছিল।

এনসিপি এখনো সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী হয়ে ওঠেনি। ফলে দলটিকে জোটনির্ভর রাজনীতির পথেই এগোতে হচ্ছে। তবে নিজেদের মধ্যমপন্থি ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে যে পরিচয় দলটি তুলে ধরতে চায়, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো সেই দাবির সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। বর্তমানে এনসিপিকে সমর্থন করা কঠিন, কারণ যে ধারণা থেকে আমরা পদত্যাগ করেছি, তা এখন স্পষ্ট হচ্ছে।

মধ্যমপন্থি ও গণতন্ত্র এবং সমঅধিকার রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রত্যাশা থেকে এনসিপির সঙ্গে যুক্ত হওয়া অনেকেই ইতোমধ্যে দল ছেড়েছেন। যারা এখনো দলে থেকে এনসিপির স্বাধীন রাজনৈতিক অবস্থান এবং মধ্যমপন্থি হওয়ার প্রত্যাশা করছেন–তাদের জন্যও গত মঙ্গলবারের সমাবেশ বার্তা দিচ্ছে।
প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, সাবেক যুগ্ম সদস্যসচিব ও সাবেক মিডিয়া সেল সম্পাদক, এনসিপি

রাজধানীতে আওয়ামী লীগের ২৬ নেতা-কর্মী গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ২৫ জুন ২০২৬, ১২:১৩ এএম
রাজধানীতে আওয়ামী লীগের ২৬ নেতা-কর্মী গ্রেপ্তার
প্রতীকী ছবি

রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ২৬ নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার থেকে গতকাল বুধবার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

বুধবার (২৪ জুন) ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গণমাধ্যম শাখার অতিরিক্তি উপকমিশনার (এডিসি) নিয়াজ মেহেদী জানান, জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আগামীতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে মিরপুর মডেল থানায় ৩, দারুসসালাম থানায় ৩, রমনায় ২, ভাটারায় ২, তেজগাঁওয়ে ২, শিল্পাঞ্চল থানায় ২ এবং শাহবাগ, ধানমন্ডি, হাজারীবাগ, বংশাল, সূত্রাপুর, সবুজবাগ, কদমতলী, পল্লবী, কাফরুল, উত্তরা পশ্চিম, বিমানবন্দর ও তুরাগ থানায় একজন রয়েছেন।

‘আওয়ামী লীগ পালাতে পেরেছে, বিএনপি-জামায়াত যাবে কই’

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৬, ০৯:৫৮ পিএম
আপডেট: ২৪ জুন ২০২৬, ১০:০৫ পিএম
‘আওয়ামী লীগ পালাতে পেরেছে, বিএনপি-জামায়াত যাবে কই’
সাতক্ষীরা-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. ইজ্জত উল্লাহ/ ছবি: সংগৃহীত

জামায়াতের ইসলামীর সাতক্ষীরা-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. ইজ্জত উল্লাহ বলেছেন, জনগণ গণঅভ্যুত্থান করে আওয়ামী লীগকে দেশ ছাড়া করেছে। তাই বিএনপি ও জামায়াতকে সুশাসন নিশ্চিত করার বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। তিনি বলেন, “তাদের( আওয়ামী লীগ) তো যাওয়ার জায়গা আছে, বিএনপি-জামাতের কিন্তু যাওয়ার জায়গা নেই।”

বুধবার (২৪ জুন) জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি অভিযোগ করেন, চাঁদাবাজি, ধান্দাবাজি ও টেন্ডারবাজির মাধ্যমে দেশ পরিচালনার চেষ্টা করলে রাজনৈতিক দলগুলোকেও জনগণের কঠোর প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়তে হবে।

ইজ্জত উল্লাহ বলেন, ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। তবে অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, সরকার নির্ধারিত রাজস্ব আদায়ে ব্যর্থ হচ্ছে। ফলে প্রকৃত বাজেট ঘাটতি আরও বাড়তে পারে।

তিনি জানান, বর্তমানে দেশের মোট ঋণের পরিমাণ প্রায় ৩০ লাখ কোটি টাকায় পৌঁছেছে এবং শুধু সুদ পরিশোধেই বছরে ব্যয় হচ্ছে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা। একই সঙ্গে খেলাপি ঋণ বেড়ে যাওয়ায় ব্যাংক খাত সংকটে পড়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বিরোধী দলের মতামতকে গণতন্ত্রের অংশ উল্লেখ করে তিনি সবাইকে মিলেই কার্যকর বাজেট বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।

এলিস/এএফ

নির্বাচিত সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চলছে: যুবদল নেতা জিয়া

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৬, ০৯:০১ পিএম
আপডেট: ২৪ জুন ২০২৬, ০৯:০৪ পিএম
নির্বাচিত সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চলছে: যুবদল নেতা জিয়া
ছবি: খবরের কাগজ

“নির্বাচিত সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্র করে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে। ৭১ ও ২৪ এর পরাজিত শক্তি এক হয়ে সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে। জনগণ এসব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করবে।” – বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহসভাপতি জিয়াউর রহমান জিয়া।

‎বুধবার (২৪ জুন) বিকেলে অপপ্রচার ও শিষ্টাচারবহির্ভূত রাজনীতির প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাঙামাটিতে জেলা যুবদলের উদ্যোগে প্রতিবাদ মিছিল ও সমাবেশ তিনি একথা বলেন।

কেন্দ্রীয় যুবদলের সহসভাপতি জিয়াউর রহমান জিয়ার নেতৃত্বে মিছিলটি জেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয় থেকে বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে কর্মসূচি শেষ হয়।

রাঙামাটি জেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নুর নবীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় যুবদলের সহসভাপতি মাহফুজুর রহমান মাহফুজ ও ফেরদৌস মুন্না।

‎এসময় বক্তারা বলেন, নির্বাচনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে এবং দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির কথা তুলে ধরে তারা দাবি করেন, উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে সকল ষড়যন্ত্র প্রতিহত করা হবে। এসময় তারা খুন, গুম ও নির্যাতনের সাথে জড়িত নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনসহ জড়িত সকলের সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানান তারা।

‎প্রধান অতিথি জিয়া উদ্দিন তার বক্তব্য বলেন, গত ১৭ বছর ধরে আমরা ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছি। আমরা নির্যাতন সহ্য করেছি এবং অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছি। নানা ধরনের গুম, খুন এবং অপহরণের মধ্য দিয়ে আন্দোলন করে ২৪ এর আন্দোলনের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদকে বিদায় করেছি।

‎কিন্তু নির্বাচনের পরপরই ৭১ এর পরাজিত শক্তি এবং ২৪ এর পরাজিত শক্তি এই দুইদল মিলে সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করছে এবং বিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত আছে। যে ফ্যাসিবাদী দল ফিরে আসতে চাচ্ছে তাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই আপনার ইলিয়াস আলী সহ যেসকল নেতাকর্মীদের খুন ও গুম করেছেন তাদের জীবন যদি ফিরিয়ে দিতে পারেন তাহলে বাংলাদেশের মানুষ আপনাদের রাজনীতি করার সুযোগ দিবে।

‎প্রতিবাদ সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন, রাঙামাটি জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রশিদ মামুন, রাঙামাটি জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ইউসুফ চৌধুরী, সহ-সভাপতি ওয়াদুদ মামুন, সি: যুগ্ম সম্পাদক নাজিম উদ্দীন, পৌর যুবদল দলের আহ্বায়ক সিরাজুল মোস্তফা, সদর থানা যুবদলের আহবায়ক আনোয়ার হোসেনসহ আরও অনেকেই।

জিয়াউর রহমান/আমান

চট্টগ্রামে গ্রেপ্তারের এক দিন পর যুবলীগ নেতার মৃত্যু

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৬, ০৩:৫১ পিএম
আপডেট: ২৪ জুন ২০২৬, ০৪:৪০ পিএম
চট্টগ্রামে গ্রেপ্তারের এক দিন পর যুবলীগ নেতার মৃত্যু
ছবি: খবরের কাগজ

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে গ্রেপ্তারের এক দিন পর কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের সাতকানিয়া উপজেলার ঢেমশা ইউনিয়ন শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল আলমের (৩৫) মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (২৪ জুন) সকালে কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নুরুল আলম উপজেলা উত্তর ঢেমশা গ্রামের এবার হোসেনের ছেলে।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তাকে গ্রেপ্তার করে সাতকানিয়া থানায় হস্তান্তর করেন। এর পর পুলিশ তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়।

নুরুল আলমের বড় ভাই নূর মোহাম্মদ অভিযোগ করে বলেন, ‘স্থানীয় কিছু ব্যক্তির সঙ্গে আমাদের জায়গা সংক্রান্ত বিরোধ ছিল। মঙ্গলবার আমার ভাই সাতকানিয়া ভূমি অফিসে গিয়েছিল। সেখান থেকে ডিবি তাকে আটক করে সাতকানিয়া থানায় হস্তান্তর করে। তার নামে আগে কোনো মামলা ছিল না।’

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. ইকবাল হোসেন খবরের কাগজকে বলেন, মঙ্গলবার বিকেলে নুরুল আলমকে কারাগারে আনা হয়েছিল। বুধবার সকালে হঠাৎ বুকে ব্যথার পাশাপাশি শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত সমস্যা অনুভব করেন তিনি। এরপর দ্রুত তাকে কারা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘জেলা গোয়েন্দা শাখার একটি টিম নুরুল আলমকে গ্রেপ্তার করে থানায় হস্তান্তর করে। এরপর তাকে আদালতের সোপর্দ করা হয়। একইদিন বিকালে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তিনি থানায় থাকাকালীন সম্পূর্ণ সুস্থ ছিলেন।

পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহেদুল ইসলাম খবরের কাগজকে বলেন, ’বর্তমানে মরদেহ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে রয়েছে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে হাসপাতালের সামনে অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে।

আরিফুল ইসলাম/খাদিজা রুমি/