ঢাকা ৫ আষাঢ় ১৪৩৩, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
পুলিসিচকে ঘিরে উদ্বেগ লাল কার্ডের পর বসনিয়ার জালে সুইজারল্যান্ডের গোল উৎসব অসুস্থ মেসির বাবা, গুজব ছড়ানোয় ক্ষুব্ধ পরিবার গোলশূন্য সমতায় বিরতিতে সুইজারল্যান্ড-বসনিয়া অবশেষে কাটল ভিসা জটিলতা, কানাডায় খেলতে পারবেন ওয়াহি বিশ্বকাপে সহজ ম্যাচ বলে কিছু নেই: ডগলাস সান্তোস বিশ্বকাপে সৌদি আরবের জন্য ভিন্ন নিয়ম পেনাল্টি গোলে চেক প্রজাতন্ত্রকে রুখে দিল দক্ষিণ আফ্রিকা অপ্সরার আন্তর্জাতিক অভিষেক আদালতে আত্মসমর্পণ করতে গিয়ে কারাগারে আওয়ামী লীগ নেতা বাদশা গণপিটুনির শিকার তিন ডিবি সদস্য, উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি মেনে নাও, মেসি সেরা: রোনালদো নাজারিও কেইনের প্রেরণা এমবাপ্পে-হালান্ড কুমিল্লায় ধর্ষণকাণ্ড: গ্রেপ্তার শিবির নেতার পক্ষে দাঁড়ানো দুই এপিপির নিয়োগ বাতিল টাঙ্গাইলে প্রতিমন্ত্রী টুকুর নামে প্রতারণা, গ্রেপ্তার ১ দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথমার্ধে এগিয়ে চেক প্রজাতন্ত্র টাকার অভাবে রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি অনিশ্চিত, সহায়তার আবেদন রাজবাড়ীতে ৭ বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ নেইমার ভক্তদের জন্য দুঃসংবাদ সাবেক মন্ত্রী হারুণ অর রশীদ অর নেই কুমিল্লায় মাদক মামলায় কারাবন্দি যুবদলকর্মীর মৃত্যু চুয়াডাঙ্গায় বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু হাইতির বিপক্ষে নামার আগে ব্রাজিলকে সুখবর দিল ফিফা ওয়ালটন পিসিবিএ'র রপ্তানি উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি উপদেষ্টা ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে অনুষ্ঠিত হলো গ্লোবাল ইয়ুথ লিডারশিপ কনফারেন্স ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ, গণপিটুনির শিকার তিন পুলিশ বিশ্বকাপে ৩ ম্যাচ নিষিদ্ধ দক্ষিণ আফ্রিকার মিডফিল্ডার সময় টিভির সাবেক এমডি জোবায়ের কারাগারে কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের সুরক্ষায় ইইউর ১.৪ কোটি ইউরো অনুদান বিশ্বকাপে বড় ধাক্কা খেল আইভরি কোস্ট, কানাডার ভিসা পেলেন না ওয়াহি

তরুণদের প্রাধান্য থাকছে বিএনপির ইশতেহারে

প্রকাশ: ২৭ নভেম্বর ২০২৫, ১০:১০ এএম
তরুণদের প্রাধান্য থাকছে বিএনপির ইশতেহারে
খবরের কাগজ গ্রাফিকস

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচনি ইশতেহার চূড়ান্ত করার কাজে হাত দিয়েছে বিএনপি। দলটির নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানিয়েছে, এবারের ইশতেহারে তরুণ প্রজন্মকে প্রধান্য দিয়ে শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ভিশন-২০৩০, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৩১ দফা এবং জুলাই সনদ ও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক দিকনির্দেশনার সমন্বয়ে তৈরি করা হচ্ছে। ইশতেহার চূড়ান্ত করার শেষ মুহূর্তের কাজ চলছে। এই চার দফার আলোকে সমন্বিত ইশতেহার নির্বাচনি প্রচারে নতুন গতি এনে দেবে বলে মনে করছে বিএনপির হাইকমান্ড। 

সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়, এবারের নির্বাচনি ইশতেহারে বর্তমান জেন জি অর্থাৎ তরুণ প্রজন্মকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে তাদের কর্মসংস্থানের ব্যাপার। ইশতেহারে তরুণ প্রজন্মের জন্য যে অংশটি রয়েছে, সেখানে ‘তারুণ্যের রূপরেখা’ শব্দটি গুরুত্বের সঙ্গে ব্যবহার করছে বিএনপি। সারা দেশে তারুণ্যের সেমিনার থেকে উঠে আসা মতামতকে ইশতেহারে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এই অংশে তরুণদের কর্মসংস্থানসহ তাদের নিয়ে বিএনপির ভবিষ্যৎ সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা লিপিবদ্ধ থাকবে। এ ছাড়া ইশতেহারে আলেম-ওলামা, সংখ্যালঘু, যুবক, কৃষক ও নারীদের জন্য থাকবে বিশেষ প্রতিশ্রুতি। এ ছাড়া দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর প্রতিশ্রুতিও থাকবে। কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষাসহ প্রতিটি সেক্টরের ওপর পৃথকভাবে ইশতেহার তৈরি করার জন্য বিশেষজ্ঞ টিম কাজ করছে। সবার মতামতের ভিত্তিতে ইশতেহারে শেষ মূহূর্তের সংযোজন ও বিয়োজনের কাজ চলছে। সব সেক্টরের প্রতিবেদন একত্র করেই চূড়ান্ত ইশতেহার তৈরি করে পুস্তক আকারে প্রকাশ করা হবে। 

সূত্র আরও জানায়, ইশতেহার ও লিফলেটের বিষয়বস্তু সম্পর্কে জনগণের মাঝে বিশদ আকারে তুলে ধরার জন্য শিগগিরই কর্মশালার আয়োজন করতে যাচ্ছে বিএনপি। এই কর্মশালায় কেন্দ্রীয় নেতাদের পাশাপাশি সব অঙ্গ ও সংযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনা শেয়ার করা হবে। তাদের মাধ্যমে বিএনপির পরিকল্পনা সাধারণ মানুষের কাছে ব্যাপকভাবে তুলে ধরা হবে। 

বিএনপির স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় খবরের কাগজকে বলেন, ‘নির্বাচনি ইশতেহার তৈরির কাজ চলমান আছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা কাজ করছেন। দেশবাসীর সামনে এটা পার্টির আগামীর দিনের প্রতিশ্রুতি। ইশতেহার তৈরির কাজ শেষ হলে স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আলোচনা করে চূড়ান্ত করা হবে।’

সূত্র আরও জানায়, বিএনপি মনে করে- বড় আকারের নির্বাচনি ইশতেহার সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছায় না। জনগণের মধ্যেও এ ধরনের ইশতেহারের তেমন প্রভাব পড়ে না। এ জন্য ইশতেহারের মূল বিষয়বস্তু সারসংক্ষেপ আগেভাগে লিফলেট আকারে দেশবাসীর সামনে তুলে ধরা হবে। পাশাপাশি ইশতেহার পুস্তক ছাপানো হবে। ইশতেহারের আলোকে নারী, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্য, কৃষি ও খাদ্য, শিল্প খাত, প্রশাসনসহ সব সেক্টরের ওপর পৃথক লিফলেট নিয়ে তফসিল ঘোষণার আগেই আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারে নামবে বিএনপি। সারা দেশের মানুষের হাতে হাতে লিফলেট পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য দলটির। 

বিএনপির একাধিক নীতিনির্ধারক জানান, ইশতেহার এবং নির্বাচনি প্রচারে কী কী বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে, তা নিয়ে নেতারা মতামত দিয়েছেন। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের একজন উপদেষ্টা খবরের কাগজকে বলেন, ‘এবার ইশতেহারে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের পরামর্শে তরুণ প্রজন্মকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সবার মতামতের ভিত্তিতে সংযোজন-বিয়োজন করছি।’ 

দলীয় সূত্র জানায়, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতিশ্রুতি ও দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য ইশতেহারে চূড়ান্তভাবে প্রতিফলিত হবে। তফসিলের পর একটি বড় অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ইশতেহার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে। 

সূত্র জানায়, এবারের ইশতেহারে তারেক রহমানের ৩১ দফার আলোকে নির্বাচনি শাসনব্যবস্থা পুনর্গঠন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, প্রশাসনের বিকেন্দ্রীকরণ, মানবাধিকার রক্ষা ও দুর্নীতিবিরোধী কাঠামো শক্তিশালীকরণ ইত্যাদি কেন্দ্রীয় বিষয় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। ৩১ দফা থেকে ইশতেহারে যুক্ত হচ্ছে- প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধের রাজনীতির বিপরীতে সব মত ও পথের সমন্বয়ে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, বৈষম্যহীন ও সম্প্রীতিমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা; বিশিষ্ট নাগরিক ও অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের সমন্বয়ে সংসদে ‘উচ্চকক্ষবিশিষ্ট আইন সভা’ প্রবর্তন; স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রতীক বাতিল; ইভিএম নয়, পেপার-ব্যালটের মাধ্যমে ভোট প্রদান নিশ্চিত; বর্তমান বিচারব্যবস্থার সংস্কারের জন্য একটি ‘জুডিশিয়াল কমিশন’ গঠন এবং বিচারপতিদের অভিশংসন প্রশ্নে ‘সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল’ ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তন; বিগত ১৫ বছরের অর্থ পাচার ও দুর্নীতির অনুসন্ধান করে শ্বেতপত্র প্রকাশ এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ; পাচারকৃত অর্থ দেশে ফেরত আনতে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা; আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও গুম-খুন-বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডসহ নির্যাতনের অবসান ঘটানো; ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’ এই মূলনীতির ভিত্তিতে সব ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং কূটনীতিক সম্পর্কের সর্বক্ষেত্রে দেশের স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া। 

এ ছাড়া জুলাই জাতীয় সনদের আলোকে নির্বাচন কমিশন, মানবাধিকার কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশনসহ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে পূর্ণ স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা দেওয়ার পরিকল্পনাও ইশতেহারে গুরুত্ব পাবে।
বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে আলেম-ওলামা, হিন্দু ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, যুবক, কৃষক, নারী ও প্রবীণ নাগরিকদের জন্য আলাদা প্রতিশ্রুতি থাকছে। কওমি মাদ্রাসার উন্নয়ন, ইসলামিক গবেষণার জন্য তহবিল গঠন, ধর্মীয় শিক্ষার আধুনিকায়ন ও ধর্মচর্চার বাধাহীন পরিবেশ নিশ্চিত করার অঙ্গীকার থাকবে। ইশতেহারে সংখ্যালঘুদের সম্পত্তি দখল রোধে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল, নিরাপত্তা সেল, উৎসবে রাষ্ট্রীয় সহায়তা এবং সাম্প্রদায়িক হামলা প্রতিরোধে কঠোর কার্যক্রম চালুর প্রতিশ্রুতি যুক্ত হবে। 

যুবসমাজকে টার্গেট করে ইশতেহারে বিএনপি বড় পরিসরে কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি যুক্ত করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ১৮ মাসের মধ্যে এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রতিটি জেলায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প স্থাপনে অর্থনৈতিক সহায়তা প্রদান, স্টার্টআপ ফান্ড স্থাপন, আইটি বিষয়ে প্রশিক্ষণ, বিদেশে নতুন শ্রমবাজার সৃষ্টি ও মাদকবিরোধী টাস্কফোর্স গঠন। আলিবাবা, আমাজনসহ বিশ্বে ই-কমার্সে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানি, আউটসোর্সিং ফ্রিল্যান্সারদের লেনদেন নিরাপদ করতে পেপাল ও ওয়াইল্ড চালু করার প্রতিশ্রুতি যুক্ত হচ্ছে ইশতেহারে। 
নারীর নিরাপত্তা, কর্মক্ষেত্রে সমান সুযোগ, নারী উদ্যোক্তাদের জন্য তহবিল গঠন, মাতৃত্বকালীন ভাতা বৃদ্ধি এবং সহিংসতা প্রতিরোধে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল গঠন- এগুলোও ইশতেহারে যুক্ত হচ্ছে। ৫০ লাখ ফ্যামিলি কার্ড, বয়স্ক ভাতা বৃদ্ধি, গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ ও সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি শক্তিশালী করার অঙ্গীকারও ইশতেহারে যুক্ত হবে। 

ইশতেহারে পরিবেশ রক্ষায় শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের খাল ও নদী খননের কর্মসূচি পুনরায় চালু ও পাঁচ বছরে পাঁচ কোটি গাছ লাগানোর প্রতিশ্রুতি থাকছে। 

কৃষি ও কৃষককে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে এবার ইশতেহার তৈরি করছে বিএনপি। কৃষকদের ডিজিটাল পরিচয়পত্র; কৃষি উপকরণের দাম কমানো, উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা, কৃষিঋণ সহজ করা, ধান-চাল কেনার স্বচ্ছ ব্যবস্থা করা; ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল পুনরুদ্ধার; সম্প্রদায়ভিত্তিক সেচব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তন এবং আধুনিক তিস্তা ও গঙ্গা ব্যারাজ নির্মাণ; ‘অল্টারনেট ওয়েটিং অ্যান্ড ড্রাইং’ ধান চাষ পদ্ধতি সম্প্রসারণ; প্রতিটি জেলায় কোল্ডস্টোরেজের সংখ্যা বাড়ানো; জাতীয় ‘সার্কুলার ইকোনমি’ মডেলে রিসাইক্লিং হাব, বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদন কেন্দ্র ও প্লাস্টিক, ই-বর্জ্য ও কৃষি বর্জ্য পুনর্ব্যবহার করে উৎপাদনে রূপান্তর করা; উন্নত মানের বীজ, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি সরাসরি কৃষকের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ইশতেহারে যুক্ত হচ্ছে। 

ইশতেহারে শিক্ষা খাতে আমূল পরিবর্তন আনার লক্ষ্য বাজেট বাড়ানো; স্কুল থেকেই ব্যবহারিক ও কারিগরি শিক্ষা চালু যেমন- স্কুল পর্যায়ে আইটি, খেলাধুলা, আর্ট কালচার, ডেন্টাল হাইজিন, মেডিকেল টেকনিশিয়ান; প্রাইমারি থেকে বাংলা ও ইংরেজি ভাষার পাশাপাশি আরবি, জার্মান, ফরাসি, জাপানি ও চীনা ভাষার ওপর প্রশিক্ষণ; বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা; হলের আবাসন সংকট নিরসন, লাইব্রেরি আধুনিকায়নসহ ইশতেহারে নানা প্রতিশ্রুতি থাকছে।

ইশতেহারে স্বাস্থ্য খাত নিয়ে যুক্তরাজ্যের (ইউকে) ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের (এনএইচসি) আদলে ‘সর্বজনীন স্বাস্থ্যব্যবস্থা’; প্রতিটি নাগরিকের জন্য বিনামূল্যে প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা; স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির ৫ শতাংশের বেশি বরাদ্দ; প্রতিটি গ্রামে একাধিক পল্লিচিকিৎসক নিয়োগ; চিকিৎসা গবেষণা সুবিধা নিশ্চিত; ২৪ ঘণ্টা হেল্পলাইন; জেলা পর্যায়ের হাসপাতাল ও বিশেষায়িত স্তরের স্বাস্থ্যসেবা শক্তিশালীকরণ; চিকিৎসাসেবা আরও উন্নত করার লক্ষ্যে স্বল্পমেয়াদি (এক থেকে তিন বছর), মধ্যমেয়াদি (এক থেকে পাঁচ বছর) এবং দীর্ঘমেয়াদি (১০ বছর পর্যন্ত) প্রতিশ্রুতি থাকছে।

প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের নির্বাচনে গণতন্ত্র ও আইনের শাসন, বিচার বিভাগ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ, মুক্তিযোদ্ধাসহ ১৯টি দফায় নানা প্রতিশ্রুতি তুলে ধরে ইশতেহার ঘোষণা করেছিল বিএনপি।

আদালতে আত্মসমর্পণ করতে গিয়ে কারাগারে আওয়ামী লীগ নেতা বাদশা

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ১১:৫২ পিএম
আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬, ১১:৫৬ পিএম
আদালতে আত্মসমর্পণ করতে গিয়ে কারাগারে আওয়ামী লীগ নেতা বাদশা
খন্দকার জামাল উদ্দিন বাদশা। ছবি: সংগৃহীত

ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার দাওগাঁও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও চেয়ারম্যান খন্দকার জামাল উদ্দিন বাদশাকে কারাগারে পাঠিয়ে আদালত।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে ময়মনসিংহ জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এর আগেও তিনি একাধিক মামলায় দীর্ঘদিন কারা ভোগ করেছিলেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, রাজনৈতিক মামলার আসামি খন্দকার জামাল উদ্দিন বাদশা। মে মাসে তিনি উচ্চ আদালত থেকে জামিন পান।

বৃহস্পতিবার দুপুরে নিম্ন আদালতে (ময়মনসিংহ দায়রা ও জজ আদালত) আত্মসমর্পণ করেন। এসময় বিচারকের নির্দেশে পুলিশ তাকে কারাগারে পাঠায়।

আসামিকে কারাগারে পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ময়মনসিংহের আদালত পরিদর্শক মোস্তাছিনুর রহমান।

কামরুজ্জামান মিন্টু/এসএন

সাবেক মন্ত্রী হারুণ অর রশীদ অর নেই

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ১০:৪৫ পিএম
সাবেক মন্ত্রী হারুণ অর রশীদ অর নেই
হারুণ অর রশীদ। ছবি: সংগৃহীত

কেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী হারুণ অর রশীদ আর নেই। 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন বর্ষীয়ান এ রাজনীতিক।

মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম সিরাজ হারুণ অর রশীদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

হারুণ অর রশীদ ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের চারবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য ছিলেন। পাশাপাশি তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সভাপতিও ছিলেন। তার মৃত্যুতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মৃত্যুকালে তিনি দুই ছেলে, এক মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

রাজনীতির পাশাপাশি আইন পেশায়ও নিয়োজিত ছিলেন হারুন অর রশীদ। তার গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার নাটাই ইউনিয়নে।

রাষ্ট্র পরিচালনায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন হারুণ অর রশীদ। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

আজিজুল সঞ্চয়/এসএন

সংসদে মামুনুল হক প্রসঙ্গে দেওয়া বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করলেন স্পিকার

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৮:১৯ পিএম
সংসদে মামুনুল হক প্রসঙ্গে দেওয়া বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করলেন স্পিকার
ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় সংসদে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের আমির মাওলানা মামুনুল হকের পরকীয়া ও মুতা বিয়ে ঘটনা প্রসঙ্গে বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য খোন্দকার আবু আশফাকের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

পরে সরকারি ও বিরোধী দলের অনুরোধে বক্তব্যের একটি অংশ কার্যবিবরণী থেকে এক্সপাঞ্জ করার নির্দেশ দেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। একই সঙ্গে তিনি বলেন, “কোন রাজনৈতিক নেতার জীবনের অন্ধকার দিক সংসদে আলোচনার বিষয় নয়।”

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের দশম দিনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে খোন্দকার আবু আশফাক বিষয়টি উত্থাপন করেন।

ইসলামী ব্যাংক নিয়ে সংসদে দীর্ঘ আলোচনা প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “মাওলানা মামুনুল হক অনেক বড় বড় কথা বলেন। বাজেট নিয়ে সরকারের পতন ঘটানোর কথাও বলেন। কিন্তু গাজীপুরে নারীসহ ধরা পড়ার ঘটনাটি আসলে কী ছিল, সেটি নিয়েও প্রশ্ন আছে।” বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি ‘মুতা বিয়ে’ প্রসঙ্গ টেনে আনেন এবং বলেন, “মুতা বিয়ে কী জিনিস আমি জানতে চাই।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছিল এবং বিএনপিকে আন্দোলনের ভয় দেখিয়ে লাভ হবে না।

তার বক্তব্যের পরপরই স্পিকার হস্তক্ষেপ করে বলেন, “অপ্রাসঙ্গিক কোনো বিষয় সংসদে না আনাই ভালো। যার এখানে এসে জবাব দেওয়ার সুযোগ নেই, তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা সমীচীন নয়।” মুতা বিয়ে প্রসঙ্গে স্পিকার বলেন, “আমাকে এসব বিষয়ে বিশেষজ্ঞ মনে হয়? এগুলো নিয়ে সংসদে আলোচনা না করাই ভালো।”

পরে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের বলেন, মামুনুল হককে নিয়ে দেওয়া তথ্য সঠিক নয়। তিনি দাবি করেন, “উনি কোনো মুতা বিয়ে করেননি। তাকে হ্যারাস করা হয়েছিল।” বক্তব্যটি কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলামও বক্তব্যটিকে অসংসদীয় আখ্যা দিয়ে এক্সপাঞ্জ করার অনুরোধ জানান। পরে স্পিকার বলেন, “মাওলানা মামুনুল হকের এ বিষয়টি সংসদের কার্যবিবরণীতে আসার কোনো প্রয়োজন নেই। একজন রাজনৈতিক নেতার জীবনের অন্ধকার অংশ এখানে আলোচিত হোক, তা চাই না।”

এ সময় জামায়াতের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমানও প্রসঙ্গটি থামানোর জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, “মুতা বিয়ে একসময় ছিল, এখন তা নিষিদ্ধ ও হারাম।” শেষ পর্যন্ত স্পিকার বিতর্কিত অংশ কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেন।

এলিস/আমান

প্রয়াত বিএনপি নেতা আবদুল্লাহ আল নোমানের নামে আমন্ত্রণপত্র

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৭:০২ পিএম
প্রয়াত বিএনপি নেতা আবদুল্লাহ আল নোমানের নামে আমন্ত্রণপত্র
ছবি: খবরের কাগজ

বিএনপির সিনিয়র নেতা ও সাবেক মন্ত্রী আবদুল্লাহ আল নোমান এর নামে একটি রাষ্ট্রীয় টুর্নামেন্টের চূড়ান্ত পর্বের আমন্ত্রণপত্র পাঠানোকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার সময় তিনি প্রায় দেড় বছর আগে মৃত্যুবরণ করলেও তার নাম ব্যবহার করে আমন্ত্রণ পাঠানো হয়।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আগামী ২০ জুন ঢাকার আর্মি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য একটি রাষ্ট্রীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত আসরের জন্য এই আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হয়। ১৭ জুন জাতীয় সংসদের অধিবেশন চলাকালে চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমানের ডেস্কে চিঠিটি পৌঁছালে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।

ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করে আবেগঘন প্রতিক্রিয়া জানান ছেলে সাঈদ আল নোমান। তিনি লেখেন, সংসদ এখনো তার প্রয়াত পিতার নামকে সম্মান ও স্মৃতিতে ধারণ করছে—এমন অনুভূতি তার মনে গভীর আবেগ সৃষ্টি করেছে।

তিনি লিখেন, আজ ১৭ই জুন ২০২৬ আমার জীবনের বিশাল এক বিমূর্ত প্রাপ্তির দিন। অধিবেশন চলাকালীন এ মুহূর্তটি আমার আবেগের জগতকে দারুণভাবে আন্দোলিত করেছে। আমার ডেস্ক-এ একটি দাওয়াতপত্র পৌঁছলো, যেখানে “আবদুল্লাহ আল নোমান” নামটি লেখা।

হয়তো এটি কেবল একটি প্রশাসনিক ভুল। কিন্তু অনুভূতির জগতে এর অর্থ একেবারেই অন্যরকম। আমার মনে হলো, জাতীয় সংসদ এখনও বিশ্বাস করে—“আবদুল্লাহ আল নোমান” সংসদে উপস্থিত আছেন; তিনি এখনও বেঁচে আছেন মানুষের অনুভূতিতে, তাঁদের শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায়। তাই প্রশ্ন জাগে মনে — “মৃত নোমান কি জীবিত নোমানের চেয়েও শক্তিশালী?” উত্তর নিঃসন্দেহে ‘হ্যাঁ’!

এসএন/

পুশ-ইন সমস্যা সমাধানের দাবিতে সমাবেশ ও স্মারকলিপি প্রদান

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৬:২৭ পিএম
পুশ-ইন সমস্যা সমাধানের দাবিতে সমাবেশ ও স্মারকলিপি প্রদান
ছবি: সংগৃহীত

সীমান্ত হত্যা ও পুশ-ইন সমস্যা সমাধানের দাবিতে সমাবেশ ও স্মারকলিপি প্রদান করেছে নতুনধারা বাংলাদেশ এনডিবি।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকাল সাড়ে ১০ টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন নতুনধারা বাংলাদেশ এনডিবির চেয়ারম্যান মোমিন মেহেদী। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, নির্মমতার মধ্য দিয়ে পুশ ইনের মুখোমুখি হয়েছে ছাত্র নামধারী রাজাকারদের সমর্থকগোষ্ঠীর উল্টা-পাল্টা কথা আর আচরণের কারণে।

একথাও সত্য প্রমাণিত হয়েছে- বাংলাদেশের মানুষের সাথে প্রতারণা করে যে জুলাইয়ের জন্ম দিয়েছে ছাত্র নামধারী যুদ্ধাপরাধীদের সমর্থকগোষ্ঠী, সেই জুলাইয়ের কারণে আজ যুদ্ধাপরাধীরা সংসদ সদস্য হতে পেরেছে, জাতীয় সংসদ সদস্য হয়েছে ছাত্র নামধারী বিশ্ববাটপার গোষ্ঠীর সমন্বয়করা। যারা ৫ আগস্টের আগে যারা স্লোগান দিয়েছে ‘বঙ্গবন্ধুর বাংলায় বৈষম্যেও ঠাঁই নাই; তারাই পরে স্লোগান দিলো ‘দিল্লি না ঢাকা; এখন আর আবার সেই দিল্লিতেই চিকিৎসার জন্য বাপ-দাদা চৌদ্দ গোষ্ঠীকে নিয়ে যায়।

সমাবেশে প্রেসিডিয়াম মেম্বার কাজী মুন্নি আলম, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান শান্তা ফারজানা, যুগ্ম মহাসচিব মনির জামান, সাংগঠনিক সম্পাদক হরি দাস সরকারসহ সাংগঠনিক সম্পাদক আফতাব মন্ডল, হাশেম মোল্লা, নতুনধারার মিডিয়া সেল সদস্য সোনিয়া দেওয়ান প্রীতি, জাতীয় শ্রমিকধারার আহ্বায়ক বাবুল মিয়া, যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ আহমেদ ফারুক, গীতিকার রুবেল, রাব্বি হোসেন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

সংহতি প্রকাশ করেন সংবাদযোদ্ধা গাজী তুষার আহমেদ ও মানবাধিকারকর্মী নূরে আলম আকন্দ। সমাবেশ শেষে পররাষ্ট্র মন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন নতুনধারার নেতৃবৃন্দ।

স্মারকলিপিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে লেখা হয়- নতুনধারা বাংলাদেশ এনডিবি গত ১৩ বছর ধরে অন্যায়-অপরাধ, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, দুর্নীতি, খুন, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সোচ্চার থেকে রাজপথে কথা বলার পাশাপাশি সীমান্ত হত্যা বন্ধ, মাদকদ্রব্যসহ সব চোরা চালান বন্ধের দাবিতে সোচ্চার ছিলো, এখানো আছে, আগামীতেও থাকার প্রত্যয়ে ঐক্যবদ্ধ আছে। সেই পথচলায় আজকের এই স্মারকলিপি প্রদান করছি। যাতে করে সীমান্তে বিএসএফ সদস্য ও ভারতীয় নাগরিকদের দ্বারা প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার পরিহার করা হয়, কঠোর নজরদারির মাধ্যমে মাদকদ্রব্যসহ কোনো প্রকার চোরাচালান যেন না করতে পারে সে জন্য নিরবিচ্ছিন্ন তদারকি দুই দেশের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।

সীমান্ত হত্যা শূন্যে নামিয়ে আনতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি সীমান্তে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও স্বাভাবিক অবস্থা নিশ্চিত করতে জবাবদিহিতা বৃদ্ধিরও দাবি জানাচ্ছি ছাত্র-যুব-জনতার রাজনৈতিক মেলবন্ধন নতুনধারা বাংলাদেশ এনডিবির পক্ষ থেকে। পরিশেষে আশা করবো যে, আন্তরিক, সৎ ও সমন্বিত প্রচেষ্টা, প্রচলিত আইন অনুসরণ এবং মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে মানুষের জীবনের কথা ভেবে সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার, যৌথ টহল বৃদ্ধি, নজরদারি বাড়ানো এবং অবৈধভাবে আন্তর্জাতিক সীমান্ত অতিক্রম প্রতিরোধে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম গ্রহণের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য নিবেদিত থাকবেন ও রাখবেন।

 চলমান পুশ-ইনের শিকার ব্যক্তিদের অনেকেই চরম দুর্দশার মধ্যে রয়েছেন। তাদের মধ্যে ক্ষুধা ও রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি যেমন রয়েছেন, তেমনি রয়েছেন নারী, শিশু ও জরুরি চিকিৎসাসেবার প্রয়োজন এমন প্রবীণ মানুষও। কোনো ব্যক্তি বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে যাচাই করা হলে প্রচলিত দ্বিপাক্ষিক প্রত্যাবাসন ব্যবস্থার মাধ্যমে তাকে দ্রুত গ্রহণ করা আর বাংলাদেশি না হলে সসম্মানে ভারতে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করত চলমান সমস্যা সমাধানেরও বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি।’ এর দুপুর দেড়টায় বাংলাদেশস্থ ভারতীয় হাই কমিশনে হাই কমিশনার দিনেশ ত্রিবেদীর বরাবর পুশ ইন সমস্যা সমাধানের দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান করতে গেলে কমিশন থেকে জানানো হয়- আপাতত পুশ ইন সংক্রান্ত কোনো স্মারকলিপি গ্রহণ করা হবে না। এ বিষয়ে নতুনধারার চেয়ারম্যান মোমিন মেহেদী বলেন, ইমেইলে স্মারকলিপি পাঠানো হবে, তাদের উত্তরের পর আমরা গণমাধ্যমের সাথে এ বিষয়ে কথা বলবো।

এসএন/