কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনের রাজনৈতিক আঙিনা এখন উত্তপ্ত। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপির দুর্গখ্যাত এই আসনে কঠিন চ্যালেঞ্জ নিয়ে মাঠে নেমেছে জামায়াত। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ ভোটের লড়াইয়ে যেখানে একচ্ছত্র প্রভাব বজায় রেখেছেন, সেই নিরাপদ আসনেই এবার প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে নেমেছেন জামায়াতে ইসলামীর উদীয়মান নেতা আবদুল্লাহ আল ফারুক। ফলে আসনটিকে ঘিরে ভোটের মাঠে তৈরি হয়েছে নতুন সমীকরণ। জনগণের মনে জেগেছে কৌতূহল।
জাতীয় রাজনীতিতে সালাহউদ্দিন আহমদের পরিচিতি শুধু দলের কেন্দ্রীয় ভূমিকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এলাকার উন্নয়নেও তার ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। ১৯৯১ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি চকরিয়া-পেকুয়ায় অবকাঠামো ও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনেন। পরে ১৯৯৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে মামলার কারণে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে না পারলেও তার স্ত্রী হাসিনা আহমদ বিএনপির প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হন। ফলে এ পরিবারটির প্রতি দলের আস্থা এবং জনসমর্থন অটুট থাকে।
চকরিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি এনামুল হক বলেন, ‘সালাহউদ্দিন আহমদের ওপর কক্সবাজারের মানুষের ভালোবাসা ও বিশ্বাস দীর্ঘদিনের। এই জেলার উন্নয়নে পরীক্ষিত এক নাম সালাহউদ্দিন। নির্বাচনে তিনি বিপুল ভোটে জিতবেন বলে আমরা আশাবাদী।’
এদিকে অভিজ্ঞ সালাহউদ্দিনের বিপরীতে মাঠে নেমেছেন কক্সবাজার শহর জামায়াতের আমির আবদুল্লাহ আল ফারুক। তরুণ, সংগঠক ও গতিশীল হওয়ার কারণে তার আগমনকে ‘নতুন সমীকরণ’ হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। ফারুকের প্রার্থিতার মধ্য দিয়েই স্থানীয় জামায়াতের এতদিন ধরে অপ্রকাশ্য থাকা শক্তিশালী সাংগঠনিক ক্ষমতা দৃশ্যমান হয়েছে।
আবদুল্লাহ আল ফারুক বলেন, ‘পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় চকরিয়া–পেকুয়ায় মানুষের আস্থা জামায়াতে ইসলামীকে ঘিরে তৈরি হয়েছে। এই আস্থার প্রতিফলন ভোটে দেখা যাবে, আমরা সে প্রস্তুতি নিয়েই মাঠে আছি।’
ভোটের মাঠে এখন আলোচনা— অভিজ্ঞতার বলয়ে দাঁড়ানো সালাহউদ্দিন কি ধরে রাখতে পারবেন ‘অজেয় দুর্গ’? নাকি তরুণ চ্যালেঞ্জার ফারুক ভাঙবেন বহু বছরের সমীকরণ? উত্তর মিলবে ভোটের দিনেই— এমনটা বলছেন চকরিয়া-পেকয়ার জনসাধারণ।
কক্সবাজার জেলা নির্বাচন অফিস থেকে পাওয়া তথ্যমতে, কক্সবাজার-১ (চকরিয়া–পেকুয়া) আসনে মোট ১৭৬টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। ভোটার রয়েছেন ৫ লাখ ৩৩ হাজার ৮৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৮৪ হাজার ৪৬৯ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৪৮ হাজার ৬২০ জন।