ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ও দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, “মানুষ তারেক রহমানের মধ্যেই নতুন আশার আলো দেখছে। যেখানে তিনি যাচ্ছেন, সেখানেই মানুষের ঢল নামছে। কারণ মানুষ তার মধ্যে একজন নতুন নেতৃত্বের সম্ভাবনা খুঁজে পাচ্ছে।”
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বিকেলে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের মলানী বাজারে আয়োজিত এক নির্বাচনি পথসভায় এসব কথা বলেন তিনি।
মির্জা ফখরুল বলেন, “তারেক রহমান জনগণের জন্য ফ্যামিলি কার্ডের কথা বলছেন। এই কার্ডের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ স্বল্পমূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে পারবে। চিকিৎসা ও শিক্ষাসহ মৌলিক সুবিধাগুলো সহজ হবে। কৃষকদের জন্য আলাদা কার্ডের ব্যবস্থা করা হবে, যাতে তারা ন্যায্যমূল্যে সার ও বীজ কিনতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা শিশুদের জন্য ভালো স্কুল, আর সাধারণ মানুষের জন্য মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে চাই। হাসপাতালে যেন মানুষ ভালো চিকিৎসা পায় এবং ওষুধ যেন সাশ্রয়ী মূল্যে পাওয়া যায়—সেই ব্যবস্থাই করব।”
নিজের রাজনৈতিক জীবনের প্রসঙ্গ টেনে বিএনপির মহাসচিব বলেন, “আমি দীর্ঘদিন ধরে আপনাদের সঙ্গে রাজনীতি করছি—১৯৯১ সাল থেকে। আমি কখনো কারো কাছ থেকে জোর করে এক টাকাও নিইনি। রাজনীতি করে আমি কোনো বাড়িঘর বানাইনি, বরং বাবার সম্পত্তি বিক্রি করতে হয়েছে। এমনকি ঠাকুরগাঁও শহরের আমার বসতবাড়ির অর্ধেক বিক্রি করেছি।”
তিনি বলেন, “এটাই সম্ভবত আমার শেষ নির্বাচন। বয়স ও শারীরিক অবস্থার কারণে সামনে আর নির্বাচন করা কঠিন হতে পারে। তাই শেষবারের মতো আপনাদের সমর্থন চাই।”
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, “গত ১৫ বছর ধরে ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছে। পুলিশ ও প্রশাসনের কারণে মানুষ ভোট দিতে পারেনি। আমরা মিথ্যা মামলায় হয়রানির শিকার হয়েছি, ভয়াবহ নির্যাতন সহ্য করেছি।”
তিনি আরও বলেন, “এখন অন্তত একটু শান্তিতে ঘুমাতে পারছি। আর ধানক্ষেতে রাত কাটাতে হচ্ছে না, মিথ্যা মামলার আতঙ্কও অনেকটা কমেছে।”
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ইঙ্গিত করে মির্জা ফখরুল বলেন, “তিনি এমন রাজনীতি করেছেন যে নিজ দেশেই থাকতে পারেননি। তার সমর্থকদের অসহায় অবস্থায় রেখে তিনি ভারতে চলে গেছেন।”
এসএন/