ঢাকা ৮ আষাঢ় ১৪৩৩, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সে মিলল প্রায় ১৮ লাখ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার ঈশ্বরদীতে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা আলিয়ার শুটিংয়ে একজনের মৃত্যু ফুলবাড়ীতে বাংলা মদের কারখানায় পুলিশের অভিযান সমুদ্রে জ্বালানিসম্পদ নিশ্চিত, উত্তোলনে উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার: নৌপরিবহনমন্ত্রী আরমান-মুক্তির মনোনয়নপত্র জমা দিলেন বাপ্পারাজ ডিভোর্স হতে পারে স্বামী-স্ত্রীর, প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে নয়: এমপি সিরাজ জেন্ডার বাজেট বাড়লেও নারীর নিরাপত্তা-ক্ষমতায়ন নিয়ে প্রশ্ন অধিকারকর্মীদের সংসদ ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল, সংসদে নোটিশ উত্থাপন জ্ঞানভিত্তিক সমাজ ও দুর্নীতির মূলোৎপাটন অপরিহার্য: সংস্কৃতিমন্ত্রী সিরাজগঞ্জে আ. লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল শিশুর বিকাশে প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ প্রয়োজন: শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী রাজশাহীতে ছেলের লাঠির আঘাতে বাবার মৃত্যু আসন্ন আলিম পরীক্ষা নিয়ে মাদরাসা বোর্ডের নির্দেশনা নওগাঁয় চীনা পর্যটককে হেনস্তার অভিযোগে টিকটকার গ্রেপ্তার কুমিল্লা বোর্ডের ৮ কলেজে নেই এইচএসসি পরীক্ষার্থী! Two Friends and a Bear বিষয়ক Story Writing নিয়ে আলোচনা,  ১ম পর্ব, এইচএসসির ইংরেজি ১ম পত্র বিরোধীদলীয় নেতার ১০ কেজি উপহার, পেলেন এমপি থেকে পিয়ন সবাই আ.লীগের অপতৎপরতা রুখতেই সেনা মোতায়েন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফেনীতে বিশ্ব ক্লাবফুট দিবস উপলক্ষে র‌্যালি ও সচেতনতামূলক সভা দেম্বেলে রহস্য! ঘানাকে উড়িয়ে দেওয়ার হুঙ্কার রাশফোর্ডের নাটোরে এক গ্রামেই ৪ শতাধিক ঘরজামাই! ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে তিন শিশুর মৃত্যু নয়নের খাল খননে নয়ন কি জুড়াবে এবার? বিশ্বকাপে মিশরকে প্রথম ম্যাচ জয় উপহার দিয়ে উচ্ছ্বসিত সালাহ ঘরছাড়া মানুষের বাস্তবতা ও বৈশ্বিক দায়িত্ব আর্জেন্টিনার পতাকার রঙে ভাইরাল ভেড়া অপরাধ নির্মূলে কার্যকর ভূমিকার বিকল্প নেই চুয়েট হলে চলন্ত ফ্যান ছিঁড়ে পড়ায় আতঙ্কিত শিক্ষার্থীরা

বারইয়ারহাটে সাবপোস্ট অফিস চাই

প্রকাশ: ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৫৮ পিএম
বারইয়ারহাটে সাবপোস্ট অফিস চাই

চট্টগ্রাম জেলার মিরসরাই উপজেলার জোরারগঞ্জ থানার প্রাণকেন্দ্র ‘বারইয়ারহাট পৌরসভা’ সদর। বর্তমানে এখানে ডাকঘর (পোস্ট অফিস) নেই!  না পাঠক ভুল পাঠ করেননি, একটি প্রথমশ্রেণির পৌরসভা হওয়ার পরও ডাকঘরের অস্তিত্ব এখন খুঁজে পাবেন না এখানে। অথচ সমগ্র মিরসরাইবাসীর সার্বক্ষণিক মিলনমেলা বারইয়ারহাট সর্বাগ্রে সর্বোচ্চ মানের ডাকঘর প্রতিষ্ঠার দাবিদার। অবশ্য মহাজনহাট (৪৩২৬) সাবপোস্ট অফিসের হিঙ্গুলী শাখাটি প্রয়োজনের তুলনায় একেবারে অপ্রতুল সেবা যে ছোট্ট কুঁড়েঘরটিতে বসে এতদিন দিয়ে আসছিল, তা ভেঙে পৌরসভার উন্নয়নযজ্ঞ চলাকালীন ডাকঘরটি বর্তমানে অস্থায়ীভাবে কোনো এক ভবনের দ্বিতীয় তলায় অবস্থান  নিলেও, তা বারইয়ারহাট পোস্ট অফিসের অস্তিত্ব বিলীনের শঙ্কাই জাগাচ্ছে নাগরিকদের মনে।

সরকারের ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের চরম উদাসীনতা ও নির্লিপ্ততায় চমৎকার উপযোগিতা থাকার পরও এখানে সাবপোস্ট অফিস আদৌ হয়ে ওঠেনি। অথচ বারইয়ারহাট কলেজ ডাকঘর নামকরণের সহজশর্তে প্রয়োজনীয় ভূমি বরাদ্দে একপায়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। এমতাবস্থায় বারইয়ারহাটে সাবপোস্ট অফিস স্থাপনে ডাকবিভাগ গড়িমসি না করলেই হয়।

মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলীলুল্লাহ 
বারইয়ারহাট, মিরসরাই, চট্টগ্রাম-৪৩২৬
[email protected]

নয়নের খাল খননে নয়ন কি জুড়াবে এবার?

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৫:১৮ পিএম
নয়নের খাল খননে নয়ন কি জুড়াবে এবার?

একটি খাল খননের জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এলজিইডি প্রতিমন্ত্রী মুন্সীগঞ্জে ছুটে এসেছেন। তাতেই নয়নের খালে পানির স্রোতধারা বইতে শুরু করেছে। দীর্ঘদিন ধরে নয়নের খালটি দখল ও দূষণের কবলে পড়ে তিলে তিলে মানচিত্র থেকে হারিয়ে যেতে বসেছিল। কিন্তু একটি সংবাদ দেখে প্রধানমন্ত্রী এলজিইডি প্রতিমন্ত্রীকে খালটি খননের নির্দেশনা দেন। এমনকি দখলদারদের প্রতিও তিনি কঠোরতা প্রদর্শন করেছেন। তবে প্রধানমন্ত্রীর কঠোর হস্তক্ষেপেও কি খালে পানি প্রবাহিত ধারা অব্যাহত থাকবে? খাল খননে দেখা যায়, যেখানে খাল রয়েছে ৪০ ফুট, সেখান থেকে মাত্র একটি নালাসদৃশ্য খনন কার্যক্রম করা হচ্ছে দেশজুড়ে। লোক দেখানো এ খাল খনন কর্মসূচি কি প্রধানমন্ত্রী চেয়েছেন? দেখা যায়, খননের কয়েক দিনের মধ্যে তা আবার ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়। তাতে জনগণের করের পয়সা এক শ্রেণির লুটেরাদের পকেটে ঢুকে থাকে। মুন্সিগঞ্জের বিনোদপুর এলাকা দিয়ে প্রবাহিত হওয়া নয়নের খাল খননে এসে এলজিইডি প্রতিমন্ত্রী স্থানীয় এমপিকে জিজ্ঞেস করলেন, আপনি আবার দখলদারদের জন্য তদবির করবেন কি না? প্রতিত্তোরে স্থানীয় এমপি বললেন, আমি তদবির করব, তবে দখলদারদের রক্ষার জন্য নয়, দখল উচ্ছেদের জন্য। এ কথাটি অনেক ছোট একটি কথা কিন্তু এর ভেতরে লুকিয়ে আছে বড় ধরনের মর্মবাণী। তার কারণ যখনই স্থানীয় প্রশাসন কোনো উচ্ছেদ অভিযানে যায় তার আগেই তদবিরবাজরা এমপিকে ধরে তা ভাঙা বন্ধ করে দেয়। যে খালগুলো ছিল এক সময় প্রাণ-প্রকৃতির জন্য আশীর্বাদস্বরূপ তা এখন ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়ে মানুষের জন্য দুর্ভোগের সৃষ্টি করছে। নয়নের খালের খনন কাজ শেষে পানির স্রোতধারা বয়ে সব জঞ্জাল দূরীভূত হোক, সে প্রত্যাশাই করছি রাষ্ট্রের কাছে।

হাজি মো. রাসেল ভূঁইয়া
খলিফাবাড়ি, সিপাহিপাড়া, মুন্সীগঞ্জ
[email protected]

ঘরছাড়া মানুষের বাস্তবতা ও বৈশ্বিক দায়িত্ব

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৫:১৫ পিএম
ঘরছাড়া মানুষের বাস্তবতা ও বৈশ্বিক দায়িত্ব

যুদ্ধ, সংঘাত, নিপীড়ন, জাতিগত বৈষম্য, ধর্মীয় উগ্রতা, রাজনৈতিক দমনপীড়ন এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের কারণে নিজ দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হওয়া কোটি কোটি মানুষের প্রতি মানবিক শ্রদ্ধা ও সংহতি প্রকাশের দিন এটি। ২০২৬ সালের প্রতিপাদ্য ‘শরণার্থীদের প্রতি সংহতি’ বিশ্ববাসীকে কেবল সহানুভূতি নয়, বরং কার্যকর ও টেকসই মানবিক পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানায়।

শরণার্থী কারা? শরণার্থী বা উদ্বাস্তু হলো এমন ব্যক্তি, যিনি জাতিগত নিপীড়নের শিকার হয়ে দেশ ত্যাগ করেন, ধর্মীয় স্বাধীনতা হারিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় পড়েন, রাজনৈতিক মতপ্রকাশের কারণে হুমকির মুখে থাকেন, যুদ্ধ বা সশস্ত্র সংঘাত থেকে জীবন বাঁচাতে পালিয়ে যান, নির্দিষ্ট সামাজিক গোষ্ঠীর কারণে নির্যাতনের শিকার হন। ১৯৫১ সালের জেনেভা শরণার্থী কনভেনশন শরণার্থীদের সংজ্ঞা, অধিকার ও সুরক্ষার আন্তর্জাতিক ভিত্তি নির্ধারণ করেছে।

বিশ্ব শরণার্থী দিবস ২০২৬ আমাদের মনে করিয়ে দেয়, শরণার্থীসংকট কোনো সীমান্তে সীমাবদ্ধ নয়, এটি মানবতার সংকট। ‘শরণার্থীদের প্রতি সংহতি’ তখনই অর্থবহ হবে, যখন তা বাস্তব পদক্ষেপে রূপ নেবে। বাংলাদেশের রোহিঙ্গা অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে মানবতা এখনো বেঁচে আছে, কিন্তু স্থায়ী সমাধানের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও দায়িত্বশীল, সমন্বিত ও কার্যকর উদ্যোগ অপরিহার্য। শরণার্থীদের মর্যাদা, নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করাই একটি ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক বিশ্বের মূল ভিত্তি।

ডা. মু. মাহতাব হোসাইন মাজেদ

হাইড্রোলিক হর্নের অত্যাচার ও বিপন্ন জনস্বাস্থ্য

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ০৫:৩৫ পিএম
হাইড্রোলিক হর্নের অত্যাচার ও বিপন্ন জনস্বাস্থ্য

বর্তমান সময়ে আমাদের নাগরিক জীবনের অন্যতম বড় এক অভিশাপের নাম শব্দদূষণ, যার প্রধান উৎস যানবাহনের অনিয়ন্ত্রিত হাইড্রোলিক হর্ন। উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও ঢাকা শহরসহ দেশের প্রায় প্রতিটি জেলা ও উপজেলা শহরে এই হর্নের ব্যবহার দিন দিন জ্যামিতিক হারে বাড়ছে। বিশেষ করে বাস, ট্রাক এবং মোটরসাইকেল চালকদের মধ্যে বিনা প্রয়োজনে তীব্র শব্দে হর্ন বাজানোর এক প্রতিযোগিতা লক্ষ্য করা যায়। মোড়ে মোড়ে যানজটে আটকে থেকেও চালকরা অবিরত হর্ন বাজিয়ে চলেন, যা কোনো বিবেকবান মানুষের কাজ হতে পারে না।

এই মাত্রাতিরিক্ত শব্দের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কোমলমতি শিশু, গর্ভবতী নারী এবং রোগীরা। প্রতিনিয়ত কানের পর্দা ফাটানো এই শব্দের মধ্যে বসবাস করায় সাধারণ মানুষের মধ্যে শ্রবণশক্তি হ্রাস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, অনিদ্রা এবং চরম মানসিক অবসাদের মতো মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালের সামনে ‘হর্ন বাজানো নিষেধ’ সাইনবোর্ড থাকলেও কেউ তা তোয়াক্কা করছে না। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার শিথিলতা এবং চালকদের অসচেতনতাই এ সংকটের জন্য দায়ী। এই নীরব ঘাতকের হাত থেকে নাগরিকদের বাঁচাতে হলে শুধু আইন করলেই হবে না, তার কঠোর বাস্তবায়ন প্রয়োজন। নিষিদ্ধ হাইড্রোলিক হর্ন আমদানি ও বিক্রি সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে এবং আইন অমান্যকারী চালকদের ভারী জরিমানাসহ লাইসেন্স বাতিলের মতো শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে ট্রাফিক বিভাগের পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা জরুরি। আমরা একটি শব্দদূষণমুক্ত, শান্ত ও সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

ওসমান গনি 
সাংবাদিক ও কলামিস্ট, কুমিল্লা 
[email protected]

একটি ব্রিজের অভাবে থমকে আছে জনজীবন

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ০৫:৩২ পিএম
একটি ব্রিজের অভাবে থমকে আছে জনজীবন

যে গ্রামে কখনো চার চাকার গাড়ি প্রবেশ করতে পারে না, কখনো যদি আগুন লাগে ফায়ার সার্ভিস পৌঁছার আগেই পুরো গ্রাম পুড়ে ছাড়খার হয়ে যাবে। বলছি শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতীর নলকুড়া গ্রামের কথা। অথচ নলকুড়ার সঙ্গে উপজেলা সদরের দূরত্ব মাত্র এক কিলোমিটার। মাঝখানে মহারশি নদী। এ নদীর নলকুড়া ইউনিয়ন অংশে কোনো ব্রিজ না থাকায় প্রায় চার থেকে পাঁচ কিলোমিটার ঘুরে উল্লিখিত ছয় গ্রামের লক্ষাধিক মানুষকে উপজেলা সদরে যেতে হয়। বর্ষাকালে এ যাতায়াত আরও দূর্বিষহ হয়ে পড়ে। উপরন্তু, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো উপজেলা সদরকেন্দ্রিক হওয়ায় ওই ছয় গ্রামের হাজারো শিক্ষার্থীকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে প্রত্যন্ত অঞ্চলের ছাত্রীদের অনেকটা ঘরবন্দি থাকতে হয়। এ কারণে শিক্ষাজীবন ব্যাহত হয় এবং অনেকের শিক্ষাজীবন মাঝপথে ঝরে পড়ে। এ ছাড়া মুমূর্ষু রোগী বিশেষ করে গর্ববতী ও প্রসূতি মায়েদের উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিতে অবর্ণনীয় দুর্ভোগে পড়তে হয়। মৃত্যুঝুঁকিতে পড়ে মা ও নবজাতক। অত্র এলাকার মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে মহারশি নদীর ডাকাবর অংশে একটি ব্রিজ নির্মাণের দাবি বহুদিনের। সুতরাং, মহারশি নদীর ডাকাবর অংশে একটি ব্রিজ নির্মাণে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। 

মনিরুজ্জামান মনির
নলকুড়া, ঝিনাইগাতী, শেরপুর

প্রাথমিক পরীক্ষায় শিশুদের থেকে ফি আদায় প্রসঙ্গে

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৫:৪২ পিএম
প্রাথমিক পরীক্ষায় শিশুদের থেকে ফি আদায় প্রসঙ্গে

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অরাজকতা দীর্ঘদিনের। সরকার প্রাথমিক শিক্ষাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে নানামুখী পদক্ষেপ নিচ্ছে, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব অর্থসংকট দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে পরীক্ষার ফি আদায় করার কথা বলেছেন। এমন কথা শুনে আমি অবাক না হয়ে পারিনি। এটা কি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিবের একার সিদ্ধান্ত নাকি রাষ্ট্রের তাতে মত রয়েছে, তা আমার বোধগম্য হচ্ছে না। তবে রাষ্ট্র বিষয়টি জানতে পেরে ইতস্তত বোধ করছে। রাষ্ট্র যদি প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফি আদায়ের সিদ্ধান্ত নিত তাহলে তারা এ বিষয় নিয়ে অবাক হতো না। প্রাথমিকে অনেক অবহেলিত জনগোষ্ঠীর শিশু পড়ে। অনেক মা আছেন যারা বাচ্চাদের স্কুলে যাওয়ার সময় হাতে পাঁচ টাকা বিস্কুট খেতে পর্যন্ত দিতে পারেন না। বাচ্চাদের যেখানে স্কুলমুখী করার জন্য মিড ডে মিল চালু করা হচ্ছে, সেখানে পরীক্ষার ফি বসানোটা কতটা যৌক্তিক।

মাঝেমাঝে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে কিছু অনৈতিক চিত্র প্রকাশ হতে দেখি। এখনো অনেক বিদ্যালয় রয়েছে যেখানে শিক্ষার্থী ভর্তি করাতে গেলে টাকা নেওয়া হয়। প্রাথমিক স্তরে শিক্ষার মান যদি ফলপ্রসূ করা না যায়, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম অন্ধকারের অতল গহ্বরে তলিয়ে যাবে। তখন তারা বেকারত্বের শিকার হয়ে রাষ্ট্রের বোঝা হবে। তাই শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সামান্য পরীক্ষার ফি নিয়ে প্রাথমিক শিক্ষাকে কলুষিত করার কোনো যৌক্তিকতা থাকতে পারে বলে আমি মনে করি না।

হাজি মো. রাসেল ভূঁইয়া
খলিফাবাড়ী, সিপাহিপাড়া, মুন্সিগঞ্জ
[email protected]