ইতিহাস থেকে জানা যায়, প্যালেস্টাইন বিন সাম বিন আরম বিন সাম বিন নুহের নামানুসারে ফিলিস্তিনের নামকরণ করা হয়। ফিলিস্তিন পবিত্র ভূমি। আল্লাহতায়ালা এ ভূমিতে অসংখ্য নবী ও রাসুল পাঠিয়েছেন এবং একাধিক নবী-রাসুল এই ভূমিতে আশ্রয়ও নিয়েছেন। পবিত্র ও পুণ্যভূমি ফিলিস্তিনের মাটির বুকে শুয়ে আছেন হজরত ইবরাহিম (আ.), হজরত ইসহাক (আ.), হজরত ইয়াকুব (আ.), হজরত ইউসুফ (আ.), হজরত মুসা (আ.), হজরত দাউদ (আ.) ও হজরত সুলাইমান (আ.)-সহ আরও অনেক নবী-রাসুল।
অধিকৃত ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরের দক্ষিণাংশে অবস্থিত হেবরন শহর। জেরুজালেম থেকে ৩০ কিলোমিটার দক্ষিণে এর অবস্থান। এটি পশ্চিম তীরের সর্ববৃহৎ শহর এবং গাজার পর ফিলিস্তিনের দ্বিতীয় বৃহত্তম প্রদেশ। এখানে শায়িত আছেন খলিলুল্লাহ হজরত ইবরাহিম (আ.)। (আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া: ১/২১২; কাসাসুল আম্বিয়া, আব্দুল ওয়াহহাব নাজ্জার, পৃষ্ঠা: ১৫২; ইবনে কাসির, পৃষ্ঠা: ২৩৮-২৩৯)
হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর বড় ছেলে ইসহাক। কেনানেই তিনি বসবাস করতেন। কেনানের বাইরে তিনি কোথাও যাননি। ১৮০ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন। ওল্ড সিটির প্যাট্রিয়ার্কস গুহায় পিতা ইবরাহিম (আ.)-এর পাশেই তাকে সমাহিত করা হয়। (আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া: ১/২১২; প্রাগুক্ত)
হজরত ইয়াকুব (আ.) তার পূর্বপুরুষদের সঙ্গে হেবরনে পরিবারের কয়েকজন সদস্যসহ সমাহিত। (আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া: ১/ ২১২; প্রাগুক্ত)
হজরত ইউসুফ (আ.) মিসরে মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর পূর্বে তিনি অসিয়ত করে যান, যখন তারা মিসর ত্যাগ করবে তখন তাদের সঙ্গে তাকেও যেন নিয়ে যাওয়া হয়। মৃত্যুর পর তার মরদেহ মিসরে একটি কফিনে সংরক্ষণ করা হয় এবং তার অসিয়ত মোতাবেক ফিলিস্তিনের পুণ্যভূমিতে তাকে সমাহিত করা হয়। বর্তমান ফিলিস্তিনের হেবরনে তার সমাধি রয়েছে। (কাসাসুল আম্বিয়া, আব্দুল ওয়াহহাব নাজ্জার, পৃষ্ঠা: ১৫৩, প্রাগুক্ত)।
কিছু ঐতিহাসিকের ভাষ্যমতে, তার কবর ফিলিস্তিনের নাবলুস শহরে অবস্থিত। (ইসলামি বিশ্বকোষ, খণ্ড: ২২, পৃষ্ঠা: ১২০-১২১)
ফিলিস্তিনের জেরুজালেম থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে হজরত মুসা (আ.)-এর সমাধি অবস্থিত। বুখারি শরিফের এক দীর্ঘ হাদিসে এসেছে, মৃত্যুর আগে হজরত মুসা (আ.) একটি পাথর নিক্ষেপ করে যতদূর যায় বায়তুল মুকাদ্দাসের ততটুকু নিকটবর্তী স্থানে তাকে পৌঁছে দেওয়ার জন্য আল্লাহতায়ালার কাছে আরজ করেন। এরপর রাসুল (সা.) বলেন, ‘এখন আমি সেখানে থাকলে অবশ্যই পাথরের পাশে লাল বালুর টিলার নিকটে তার কবর তোমাদের দেখিয়ে দিতাম।’ এই হাদিসে ‘কাসিবুল আহমার’ নামক স্থানের কথা বলা হয়েছে, আর এর ব্যাখ্যায়ও ফিলিস্তিন ভূমির উল্লেখ করা হয়। (বুখারি, হাদিস: ১৩৩৯; মুসলিম, হাদিস: ২৩৭৫)
ভিন্ন এক বর্ণনায় পাওয়া যায়, হজরত মুসা (আ.) সিনাই পর্বতের কাছে ইন্তেকাল করেন। মুফাসসিরগণের ব্যাখ্যা অনুযায়ী সিনাই পর্বতও প্রাচীন ফিলিস্তিনেরই অন্তর্ভুক্ত। (ইসলামি বিশ্বকোষ, খণ্ড: ২১, পৃষ্ঠা: ২৪৪)
জেরুজালেমের ওল্ড সিটির বাইরে হজরত দাউদ (আ.)-এর সমাধি রয়েছে বলে জানা যায়। খ্রিস্টীয় অষ্টম শতাব্দী পর্যন্ত খ্রিস্টানদের মতো মুসলমানরাও বেথলহেমে দাউদ (আ.)-এর সমাধি আছে বলে ধারণা করতেন। ক্রুসেড যুদ্ধের সময় জেরুজালেমের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণস্থ পাহাড়ে যে সমাধি পাওয়া গেছে তাকে হজরত দাউদ (আ.)-এর সমাধি বলে অভিহিত করা হয়। (ইসলামি বিশ্বকোষ, খণ্ড: ১৩, পৃষ্ঠা: ৫৯)
হজরত সুলাইমান (আ.)-এর সমাধি সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। তবে যতটুকু ধারণা করা হয়, তার সমাধিও হারাম শরিফ তথা আকসা মসজিদের আশপাশেই হবে। তবে এতটুকু নিশ্চিত, এই পুণ্যভূমির কোনো এক স্থানেই শায়িত আছেন হজরত সুলাইমান (আ.)। (উইকিপিডিয়া)
নাবলুসের পার্শ্ববর্তী শহর সেবাসতিয়ার ফিলিস্তিনি একটি গ্রামে হজরত ইয়াহইয়া (আ.)-এর মসজিদ ও সমাধি অবস্থিত।
লেখক: শিক্ষার্থী, জামিয়া ইসলামিয়া দারুল উলূম মাদানিয়া, যাত্রাবাড়ী