মদিনা ‘হারাম’ বা অতি মর্যাদাবান স্থান হিসেবে স্বীকৃত। মহান আল্লাহ মদিনাকে পবিত্র বলে উল্লেখ করেছেন। (মুসলিম, ১৩৮৫)
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তিনটি মসজিদ ছাড়া (ইবাদতের উদ্দেশ্যে) অন্য কোনো কিছুর জন্য সফর করা যাবে না—১. মসজিদুল হারাম, ২. আমার এই মসজিদ (মসজিদে নববি) এবং ৩. মসজিদুল আকসা।’ (বুখারি, ১৮৬৪)
রাসুলুল্লাহ (সা.) মদিনায় হিজরতের পর মদিনায় বরকতের দোয়া করেন। (মুসলিম, ১৩৭৩)
ইসলাম বিকাশ ও পূর্ণতা পেয়েছে পবিত্র মদিনায়। শেষ যুগে পুনরায় মদিনার দিকেই ঈমান ফিরে যাবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘অবশ্যই ঈমান মদিনাতে প্রত্যাবর্তিত হবে, যেমন সাপ প্রত্যাবর্তিত হয় তার গর্তে।’ (সহিহুল জামে, ১৫৮৯)
আরেক হাদিসে আছে, ‘মদিনা তাদের জন্য কল্যাণকর, যদি তারা জানত। যে আগ্রহ হারিয়ে মদিনা ত্যাগ করবে, আল্লাহতায়ালা তার পরিবর্তে তার চেয়ে উত্তম ব্যক্তিকে মদিনাতে নিয়ে আসবেন। আর যে প্রতিকূলতা ও কষ্ট সহ্য করে মদিনাতে অবস্থান করবে, আমি কেয়ামতের দিন তার সুপারিশকারী বা সাক্ষী হব।’ (মুসলিম, ১৩৬৩)
মদিনায় দাজ্জাল প্রবেশ করতে পারবে না। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মদিনার প্রবেশপথে ফেরেশতা নিযুক্ত রয়েছে। তাতে মহামারি ও দাজ্জাল প্রবেশ করতে পারবে না।’ (বুখারি, ৭১৩৩)
মদিনার শ্রেষ্ঠত্ব ও গুরুত্ব অনুধাবন করা। মদিনায় অবস্থানকালে যথাসাধ্য ফরজ ও সুন্নাহর বিধানসমূহ পালনে সচেষ্ট থাকা। গুনাহ থেকে দূরে থাকা। মসজিদে নববিতে ফরজ নামাজের বাইরেও বেশি বেশি নফল নামাজ আদায়ের চেষ্টা করা। মদিনায় যথাসম্ভব ভালো কথা, কাজ ও কর্মে আদর্শ ও সুন্দর নমুনা রাখার চেষ্টা করা। মদিনার কোনো গাছ কাটা অথবা কোনো প্রাণীকে হত্যা বা শিকার না করা। মদিনায় অবস্থানকাল কোনো বিপদ, মসিবত ও কষ্ট এলে যথাসাধ্য ধৈর্যধারণ করা। মদিনাবাসীদের কষ্ট না দেওয়া। মদিনাতে অবস্থানকালে ইলম অর্জনের ব্যাপারে আগ্রহী হওয়া।
মসজিদে নববিতে নামাজ আদায় করুন। এখানে এক রাকাতে এক হাজার রাকাতের সওয়াব হয়। নামাজ ছাড়া অন্য সময়ও মসজিদে নববিতে হাজির থেকে ইবাদত ও তেলাওয়াতে সময় কাটাতে পারেন। দিনে যতবার সম্ভব রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কবরে উপস্থিত হয়ে সালাম পেশ করুন। ইতিকাফের নিয়তে মসজিদে নববিতে অবস্থান করুন। বেশি বেশি কোরআন তেলাওয়াত করুন। অথবা দ্রুত সময়ে শিখে নিন। বিকালের মজলিসগুলোতে বসুন। হাদিস, সিরাত ও শামায়েল পাঠে সময় ব্যয় করুন। মদিনায় অযথা সময় নষ্ট করবেন না। ঘুমিয়ে কিংবা আড্ডায় সুন্দর মুহূর্তগুলো ব্যয় করবেন না।
মসজিদে নববি থেকে প্রায় ৪ কি.মি. দক্ষিণ-পশ্চিমে মসজিদে কুবা অবস্থিত। এটি ইসলামের ইতিহাসে প্রথম মসজিদ। রাসুলুল্লাহ (সা.) মদিনায় গিয়ে সর্বপ্রথম এ মসজিদ নির্মাণ করেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) কুবায় আসতেন। এখানে এসে দুই রাকাত নামাজ পড়তেন। (মুসলিম, ১৩৯৯) তাই মদিনা সফরে এ মসজিদে দু রাকাত নামাজ আদায় করুন।
লেখক: হজ ও উমরা মুয়াল্লিম, মদিনা