কোরআন-হাদিসে ব্যবসা-বাণিজ্যের গুরুত্বের কথা বর্ণনা করা হয়েছে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে উৎসাহিত করা হয়েছে। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘আর তোমরা দেখতে পাও, নদী-সমুদ্রে নৌকা-জাহাজ পানির বক্ষ দীর্ণ করে চলাচল করছে, যেন তোমরা তার অনুগ্রহ (রিজিক) সন্ধান করতে পারো।’ (সুরা ফাতির, আয়াত: ১২)
আল্লাহ আরও বলেন, ‘এমন বহু লোক রয়েছে, ব্যবসায় ও কেনাবেচা যাদের আল্লাহর স্মরণ, নামাজ কায়েম ও জাকাত আদায় থেকে বিরত রাখতে পারে না।’ (সুরা নুর, আয়াত: ৩৭)
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘রিজিকের ১০ অংশের ৯ অংশই ব্যবসায়-বাণিজ্যের মধ্যে এবং এক অংশ গবাদিপশুর কাজে নিহিত।’ (আল-জামিউস সাগির, হাদিস : ৩২৮১)
দেখা যায়, অনেকে পণ্য কেনার পর কারণবশত তা ফেরত দিতে চান। অনেক সময় হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীরা সুস্থ হওয়ার পর বা অন্য কারণে ফার্মেসিতে ওষুধ ফেরত দিতে চান। সেক্ষেত্রে কিছু কিছু ফার্মেসি তাদের কাছ থেকে বিক্রীত মূল্যের চেয়ে কম দামে ওষুধ ফেরত নেন বলে জানা গেছে। এখানে যেহেতু ওষুধ মূলত ফেরত দিতে আসেন; বিক্রি করতে নয়, তাই তাদের সঙ্গে নতুন ক্রয়-বিক্রয় চুক্তি না করে পূর্বের মূল্যে সেগুলো ফেরত নেওয়াই নৈতিক কর্তব্য। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘ক্রয়-বিক্রয় চুক্তিতে অনুতপ্ত ব্যক্তির সঙ্গে যে চুক্তি প্রত্যাহার করল আল্লাহতায়ালা কিয়ামতের দিন তার ত্রুটি ক্ষমা করে দেবেন।’ (আবু দাউদ, হাদিস: ৩৪৬০; ইবনে হিব্বান, হাদিস: ৫০৩৬)
পণ্য ফেরত নেওয়ার ক্ষেত্রে মূল্য কম দিতে পারবে না। অবশ্য এক্ষেত্রে পণ্যগুলো পুনরায় কিনে নেওয়া জায়েজ আছে। তখন পূর্বের বিক্রীত মূল্যের চেয়ে কম মূল্যে ক্রয় করাও বৈধ হবে। (ফাতহুল কাদির, খণ্ড: ৬, পৃষ্ঠা: ৬৮; আলবাহরুর রায়েক, খণ্ড: ৬, পৃষ্ঠা: ৮২)
লেখক: আলেম ও সাংবাদিক