দোয়া একটি স্বতন্ত্র ইবাদত। হাদিসে দোয়াকে ইবাদতের মগজ বলা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহতায়ালার কাছে যে চায় না, আল্লাহ তার ওপর রাগান্বিত হন।’ (তিরমিজি, ৩৩৭৩)
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তিন ব্যক্তির দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না। ১. রোজাদারের দোয়া ইফতার করা পর্যন্ত। ২. ন্যায়পরায়ণ বাদশার দোয়া ও ৩. মজলুমের দোয়া।’ (বাইহাকি, ৩/৩৪৫)
রোজাদারের জন্য ইফতারের আগ মুহূর্ত পর্যন্ত যেকোনো সময় দোয়া কবুল হওয়ার গুরুত্বপূর্ণ সময়। বিশেষ করে ইফতারের পূর্ব মুহূর্তে মানুষ ক্ষুধা-পিপাসায় কাতর ও ক্লান্ত-শ্রান্ত থাকে। তাই সে সময় দোয়া কবুলের সম্ভাবনা আরও বেশি। হাদিসে এসেছে, ‘ইফতারের সময় রোজাদারের জন্য এমন একটি দোয়া রয়েছে; যা ফিরিয়ে দেওয়া হয় না।’ (ইবনে মাজাহ, ১৭৫৩)
ইফতারের সময়ও খুবই গুরুত্বসহকারে দোয়া করা উচিত। এটি দোয়া কবুলের সময়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘অবশ্যই আল্লাহ রমজান মাসে প্রতি ইফতারের সময় অসংখ্য ব্যক্তিকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দান করেন। প্রতি রাতেই তা হয়ে থাকে।’ (ইবনে মাজাহ, ১৬৪৩)
রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও বলেছেন, ‘অবশ্যই আল্লাহ রমজান মাসের প্রতি দিবস ও রাতে অসংখ্য ব্যক্তিকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দান করেন এবং প্রত্যেক মুমিন বান্দার একটি করে দোয়া কবুল করেন।’ (মুসনাদে আহমদ, ৭৪৫০)
আল্লাহর দরবারে বছরের যেকোনো দিন, যেকোনো সময়েই দোয়া করা যায়। তবে রোজা অবস্থার দোয়া আল্লাহর দরবারে কবুল হয় বলে হাদিসে এসেছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘সিয়াম পালনকারীর দোয়া ফেরত দেওয়া হয় না।’ (মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বা, ৩/৭)
দোয়ার মধ্যে মানুষের ইহকালীন ও পরকালীন সফলতা নিহিত। বান্দা যখন বিপদ-আপদে ধৈর্যধারণ করে এবং সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ করে কায়মনোবাক্যে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করে, তাঁর কাছে মাগফিরাত ও নাজাত কামনা করে; সেই সময়টি আল্লাহতায়ালা অনেক বেশি পছন্দ করেন।
রাসুলুল্লাহ (সা.) রমজান মাসে দোয়া ও ক্ষমা প্রার্থনা সম্পর্কে আরও বলেছেন, ‘এ মাসে তোমরা চারটি কাজ অধিক পরিমাণে করো—তার মধ্যে দুটি কাজ এমন, যা দ্বারা আল্লাহকে সন্তুষ্ট করা যাবে। আর অপর দুটি এমন যা থেকে তোমরা মুখাপেক্ষিহীন হতে পারবে না। প্রথম দুটি হলো—১. বেশি বেশি ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু’ জিকির করা। ২. আল্লাহর কাছে মাগফিরাত তথা ক্ষমা প্রার্থনা করা। আর যে দুটি কাজ না করে আমাদের কোনো উপায় নেই তা হলো—১. জান্নাত চাওয়া। ২. জাহান্নাম থেকে মুক্তি চাওয়া। (ইবনে খুজাইমা, ১৮৮৭)
ইফতারের পূর্ব মুহূর্তে দোয়ার বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই ইফতারের সময় সিয়াম পালনকারীর দোয়া কবুল হয়।’ (তিরমিজি, ২৫২৬)
তবে দোয়া করার ক্ষেত্রে একটি বিষয় মনে রাখতে হবে, তা হলো, পূর্ণ মনোযোগ ও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দোয়া করার আহ্বান জানিয়েছেন রাসুলুল্লাহ (সা.)। তিনি ঘোষণা করেছেন, ‘উদাসীন ও অমনোযোগীদের দোয়া কবুল করা হয় না এবং রোজাদার ব্যক্তির দোয়া আল্লাহ কখনো ফিরিয়ে দেন না।’ (শুয়াবুল ঈমান, বাইহাকি:৩৬২১)
লেখক: আলেম ও সাংবাদিক