ঢাকা ৫ আষাঢ় ১৪৩৩, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
জনগণের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে সরকার : মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী দক্ষতা অর্জনের বিকল্প নেই বাংলাদেশকে ১৯৭ রানের লক্ষ্য দিল অস্ট্রেলিয়া সমালোচনার জবাব দিতে হয় পারফরম্যান্সে: রদ্রিগো ফ্লোরা সিস্টেমসের সঙ্গে কমিউনিটি ব্যাংকের চুক্তি সম্পন্ন মাঠে নেইমারের প্রভাব ব্যাখ্যা করলেন দানিলো টাঙ্গাইলে পানিতে ডুবে চাচা-ভাতিজার মৃত্যু মৎস্য বিভাগের নজরদারির অভাবে বাড়ছে পাঙ্গাশের পোনা বিক্রি শেরপুরে ৩৩ টন সরকারি চাল জব্দ, ব্যবসায়ী আটক আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে সতর্ক অবস্থানে ডিএমপি সাগরিকায় দর্শকদের উপচে পড়া ভিড়, অস্ট্রেলিয়া ম্যাচে গ্যালারি কানায় কানায় পূর্ণ নিয়োগ দেবে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়, যোগ্যতা এইচএসসি পাস লোডশেডিং বন্ধ হোক ‘বাংলাদেশ থেকেও বিশ্বমানের উমরা সেবা দেওয়া সম্ভব’ মন্ত্রীদের আচরণ যা হওয়া উচিত সিলেটে গত ২৪ ঘণ্টায় হামে ২ শিশুর মৃত্যু মুন্সীগঞ্জে দখল-দূষণে হারিয়ে যাওয়া শতবর্ষী নয়নের খাল পরিদর্শনে এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী মেধা পাচার: উন্নয়নের আড়ালে নীরব বিপর্যয় রাজস্ব আদায় সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ জিডিপির প্রবৃদ্ধি অর্জনের স্বপ্ন বহুদূর চকরিয়ায় বাক প্রতিবন্ধী যুবককে ধাক্কা দিয়ে পালালো গাড়ি আগুন সন্ত্রাসীর তান্ডবে নির্ঘুম কৃষক, পাচ্ছেন দয়াও বিশ্বকাপের পরই আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় বলবেন নয়্যার নোয়াখালীতে ১৭ বেডের হাম ওয়ার্ডে রোগী ৮৭ কৌশলগত সম্পর্কের পথে ঢাকা-বেইজিং নিত্যপণ্যের বাজারে নেই মূল্যতালিকা মধুখালীতে দুইদিনে দুই মন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুর কমল দাদার পাঠশালা এমপি আসলে আগে পায়ে একটা মেরে দিব: এমপির পিএ ও যুবদল কর্মীর অডিও ভাইরাল লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় নিহত ১৬

মুসাফাহা ও মুয়ানাকা করবেন যেভাবে

প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৪, ০৭:০০ পিএম
আপডেট: ২৫ মে ২০২৪, ১২:০৬ পিএম
মুসাফাহা ও মুয়ানাকা করবেন যেভাবে
মুসাফাহা ও মুয়ানাকা করার ছবি

মুসাফাহা আরবি শব্দ। এর অর্থ হলো করমর্দন বা হাতে হাত মেলানো। কারও সঙ্গে সাক্ষাৎকালের প্রথম কাজ হলো সালাম আদান-প্রদান করা। এরপর দুই হাত মিলিয়ে মুসাফাহা করার মাধ্যমে সালামকে পরিপূর্ণ করা। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘সালামের পরিপূর্ণতা হলো মুসাফাহা।’ (তিরমিজি, ২৭৩০) আতা ইবনে আবি মুসলিম (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)  বলেছেন, ‘তোমরা পরস্পরে (একে অপরের সাথে) মুসাফাহা করো, এর দ্বারা তোমাদের প্রতিহিংসা দূর হয়ে যাবে।’ (মুয়াত্তা মালেক, ১৬১৭) 

মুসাফাহা করার দ্বারা গুনাহ মাফ হয়। বারা ইবনে আজিব (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)  বলেছেন, ‘পরস্পর সাক্ষাতে দুই মুসলমান যখন মুসাফাহা করে, পৃথক হওয়ার আগেই তাদের গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়।’ (তিরমিজি, ২৭২৭)

মুসাফাহা করার সুন্নাহ পদ্ধতি: উভয় হাত দিয়ে মুসাফাহা করা। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘(মুসাফাহার সময়) আমার হাতটি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর দুই হাতের মধ্যে ছিল।’ (বুখারি, ৫/২৩১১)

অপর ব্যক্তি হাত না ছাড়া পর্যন্ত হাত না ছাড়া: ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.)  যখন কাউকে বিদায় দিতেন, তখন তার হাত ধরে মুসাফাহা করতেন এবং ওই ব্যক্তি হাত সরিয়ে না নেওয়া পর্যন্ত তিনি (নবিজি) নিজের হাত সরিয়ে নিতেন না।’ (তিরমিজি, ৩৪৪২)

আল্লাহর প্রশংসা ও দরুদসহ মাগফিরাতের দোয়া পাঠ করা: বারা ইবনে আজিব (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)  বলেছেন, ‘যখন দুইজন মুসলিমের সাক্ষাৎ হয় এবং তারা একে অপরের সঙ্গে মুসাফাহা করার সময় আল্লাহতায়ালার প্রশংসা করে এবং আল্লাহর কাছে মাগফিরাত কামনা করে—আল্লাহতায়ালা উভয়কে মাগফিরাত দান করেন।’ (আবু দাউদ, ৫১৬৯) সুতরাং মুসাফাহা করার সময় প্রশংসা ও দরুদ পাঠের পাশাপাশি ক্ষমা দোয়া কামনা করা উচিত। এই দোয়াটি পাঠ করা যেতে পারে—বাংলা উচ্চারণ: ইয়াগফিরুল্লাহু লানা ওয়া লাকুম। বাংলা অর্থ: আল্লাহতায়ালা আমাদের সকলকে ক্ষমা করুন।

মুসাফাহার সময় ক্ষমার দোয়া করার বিষয়টি হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। উল্লিখিত যে দোয়াটি পাঠের প্রচলন রয়েছে, হুবহু সেটা রাসুলুল্লাহ (সা.)  পাঠ করতেন—এমনটা প্রমাণিত নয়। তবে এই দোয়াটি যেহেতু হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী ক্ষমা কামনায় প্রতিনিধিত্ব করে, সুতরাং এই দোয়াটি মুসাফাহা করার সময় পাঠ করায় কোনো অসুবিধা নেই। তবে মুসাফাহা করার সময় হাতে ঝাঁকি দেওয়া এবং মুসাফাহা শেষে বুকের সঙ্গে হাত মেলানোর প্রয়োজন নেই।

নারীদের সঙ্গে মুসাফাহা না করা: আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হাত কখনো কোনো নারীর হাত স্পর্শ করেনি। তবে তিনি কথার মাধ্যমে নারীদের বাইয়াত গ্রহণ করতেন।’ (বুখারি, ৬৭৮৮; মুসলিম, ১৮৬৬)

আনাজা গোত্রের এক ব্যক্তি আবু জর (রা.)-এর কাছে জানতে চাইলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সঙ্গে আপনাদের দেখা হলে তিনি কি আপনাদের সঙ্গে মুসাফাহা করতেন? তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, যখনই রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সঙ্গে আমার দেখা হতো; তিনি আমার সঙ্গে মুসাফাহা করতেন। একদিন তিনি আমার কাছে লোক পাঠালেন। আমি তখন বাড়িতে ছিলাম না। আমি ফিরে এলে জানানো হলো, রাসুলুল্লাহ (সা.)  আমার কাছে লোক পাঠিয়েছেন। এরপর আমি যখন তাঁর কাছে হাজির হলাম। তখন তিনি গদির ওপর ছিলেন। তিনি আমাকে বুকে জড়িয়ে ধরলেন। তা ছিল খুবই উত্তম ও মনোরম।’ (আবু দাউদ, ৫২১৪) 
মুয়ানাকাও আরবি শব্দ। এর অর্থ হলো কোলাকুলি করা। অপরের গর্দানের সঙ্গে গর্দান লাগিয়ে জড়িয়ে ধরা। গর্দানের সঙ্গে গর্দান লাগিয়ে বুকে জড়িয়ে ধরাকে ইসলামি পরিভাষায় মুয়ানাকা বলা হয়। (লিসানুল আরাব, ১০/২৭২)
দীর্ঘদিন পর একে অন্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ হলে পরস্পরে মুয়ানাকা বা কোলাকুলি করা সুন্নত। দীর্ঘদিন পর কেউ সফর থেকে এলে দেখা-সাক্ষাতে সাহাবারা মুয়ানাকা বা কোলাকুলি করতেন। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, জায়েদ ইবনে হারিসা (রা.) যখন মদিনায় এলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)  তখন আমার ঘরে ছিলেন। জায়েদ তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আমার ঘরে এলেন এবং দরজায় টোকা দিলেন। রাসুলুল্লাহ (সা.)  তার পরিধেয় কাপড় ঠিক করতে করতে উঠে গিয়ে জায়েদের সঙ্গে কোলাকুলি করলেন এবং আদর করে চুমু খেলেন। (তিরমিজি, ২৭৩২)

মুয়ানাকা করার সুন্নাহ পদ্ধতি: একবার মুয়ানাকা করা; তিনবার নয়। মুয়ানাকা বা কোলাকুলি করার সুন্নত পদ্ধতি হলো, একে অপরের ডান দিকের ঘাড়ের সঙ্গে ঘাড় মেলানো এবং বুকের সঙ্গে বুক মিলানো। মুয়ানাকা শুধু একবার করতে হয়। তিনবার করার কোনো বর্ণনা হাদিস বা ফিকহের কোনো কিতাবে উল্লেখ নেই। (আহসানুল ফাতাওয়া, ৯/৭৭) 

মুয়ানাকার দোয়া পড়া: মুয়ানাকা করার সময় নিচের দোয়াটি পড়া সুন্নত। বাংলা উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা জিদ মুহাব্বাতি লিল্লাহি ওয়া রাসুলিহি।  বাংলা অর্থ: হে আল্লাহ, আল্লাহ এবং রাসুলের খাতিরে আমাদের পারস্পরিক ভালোবাসা বৃদ্ধি করে দিন। (জামেউস সুনান, ১৫৯)
মুয়ানাকা বা কোলাকুলি শেষে আদর বা স্নেহ করে চুমু খাওয়া: কপালে চুমু খাওয়ার কথা এসেছে। যেমনটা জায়েদ ইবনে হারিসা (রা.) কথা আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেছেন। তবে  এক্ষেত্রে লক্ষণীয় হলো, কপালে বা গালে অথবা হাতে চুমু খাওয়া ওই ব্যক্তির জন্য জায়েজ, যিনি মনের কামনা-বাসনার আশঙ্কা থেকে পবিত্র। যাকে চুমু খাবেন বা আদর করবেন, তিনিও এমন আশঙ্কা না থাকবেন। (রদ্দুল মুহতার, ৯/৫৪৬; মাবসুত, ১০/ ১৪৯)

লেখক: আলেম, গবেষক ও সাংবাদিক

‘বাংলাদেশ থেকেও বিশ্বমানের উমরা সেবা দেওয়া সম্ভব’

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ০৩:০০ পিএম
‘বাংলাদেশ থেকেও বিশ্বমানের উমরা সেবা দেওয়া সম্ভব’
ছবি: খবরের কাগজ

প্রতি বছর লাখ লাখ বাংলাদেশি উমরা পালনের জন্য সৌদি আরব যান। কিন্তু সেবার মান, এজেন্সির স্বচ্ছতা ও যাত্রীদের ভোগান্তি নিয়ে অভিযোগের শেষ নেই। বাংলাদেশ থেকে কি বিশ্বমানের উমরা সেবা দেওয়া সম্ভব নাকি অসম্ভব, প্রতিবন্ধকতা কী কী—এসব নিয়েই ট্রাভেল সেবা লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, উমরা সেবা ও মনির গ্রুপ অব কোম্পানিজের চেয়ারম্যান মো. মনিরুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলেছেন মুফতি উমর ফারুক আশিকী

অন্যান্য মুসলিম দেশের তুলনায় বাংলাদেশের উমরা সেবা নিয়ে এত সমালোচনা কেন?
মো. মনিরুল ইসলাম: সততার সঙ্গে স্বীকার করছি, সমালোচনার কিছু ভিত্তি আছে। আমাদের দেশে দীর্ঘদিন ধরে এ সেক্টরে ‘যত কম খরচে যত বেশি যাত্রী নেওয়া যায়’ এমন একটা মানসিকতা কাজ করেছে। আর যখন কম খরচে বেশি যাত্রী নেওয়ার মানসিকতা কাজ করবে, তখন সেবার মান গৌণ হয়ে পড়বে এটাই স্বাভাবিক। মালয়েশিয়া বা ইন্দোনেশিয়াসহ বিভিন্ন মুসলিম দেশ প্রশিক্ষিত গাইড, নির্দিষ্ট মানের হোটেল এবং প্যাকেজের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে সুনাম কুড়িয়েছে। আমরা সে জায়গায় পিছিয়ে। আমাদের উমরা প্যাকেজ বিভিন্ন অস্বচ্ছতায় মোড়ানো থাকে। তবে এগুলো অযোগ্যতার সমস্যা নয়, ব্যবস্থাপনার সমস্যা, যা খুব সহজেই ঠিক করা সম্ভব।

বিমান টিকিট ও ফ্লাইট নিয়ে অভিযোগ আসে, এ ব্যাপারে আপনাদের অবস্থান কী?
মো. মনিরুল ইসলাম: বড় অভিযোগ হলো শেষ মুহূর্তে ফ্লাইট পরিবর্তন করা বা দীর্ঘ ট্রানজিট চাপিয়ে দেওয়া। অনেক যাত্রী জানেনই না তিনি কোন বিমানে যাচ্ছেন, কত ঘণ্টার ট্রানজিট বিরতিতে যাচ্ছেন। আমরা চুক্তির সময়ই বিমানের নাম, রুট ও ট্রানজিটের সময়সহ সব আলোচনা লিখিতভাবে জানিয়ে দিই। বয়স্ক যাত্রীদের জন্য যথাসম্ভব সরাসরি বা স্বল্প-ট্রানজিট ফ্লাইট রাখি, কারণ দীর্ঘ যাত্রা তাদের শরীরে মারাত্মক চাপ ফেলে।

হোটেল ও আবাসন নিয়ে সবচেয়ে পুরোনো অভিযোগ হলো—যে মানের হোটেল দেওয়ার কথা ছিল তার চেয়ে নিম্নমানের হোটেল দিয়েছে। এর সমাধান কী?
মো. মনিরুল ইসলাম: উমরা সফরের সবচেয়ে বড় ফাঁকি হলো এটি। অনেকে হারামের কাছে বলে বাস্তবে কয়েক কিলোমিটার দূরে রাখেন। এখন নুসুকের নিয়মে কেবল মন্ত্রণালয় অনুমোদিত হোটেলই ব্যবহার করতে হয়, আর বুকিং ডিজিটালি নথিভুক্ত হয়–ফলে মিথ্যা বলার সুযোগ কমেছে। আমরা হোটেলের নাম, হারাম থেকে দূরত্ব ও গুগল ম্যাপের লিংক যাত্রীকে আগেই দিই, যেন নিজে যাচাই করতে পারেন।

খাবার নিয়ে যাত্রীদের, বিশেষত বয়স্কদের অভিযোগ থাকে। এ বিষয়ে কী করছেন?
মো. মনিরুল ইসলাম: ভিনদেশি খাবারে অনেকেরই, বিশেষ করে বয়স্ক যাত্রীদের কষ্ট হয়। আমরা পরিচ্ছন্ন পরিবেশে বাংলা ঘরানার খাবার–ভাত, ডাল, মাছ-মাংস দেওয়ার ব্যবস্থা রাখি এবং খাবারের মান নিয়মিত তদারকি করি। ইবাদতের পূর্ণ শক্তি ধরে রাখতে সুস্থ শরীর জরুরি, তার ভিত্তিই হলো ভালো খাবার।

ধর্মীয় দিকনির্দেশনা ও গাইড বা মুয়াল্লিম সেবা কতটা গুরুত্বপূর্ণ?
মো. মনিরুল ইসলাম: এটিই উমরার প্রাণ। অনেকে জীবনে প্রথমবার যান, ইহরাম-তাওয়াফ-সাঈর নিয়ম ঠিকমতো জানেন না। আমরা যাত্রার আগে দেশে প্রশিক্ষণ করাই এবং সঙ্গে প্রশিক্ষিত মুয়াল্লিম দিই, যিনি প্রতিটি ধাপে কোরআন-সুন্নাহ অনুযায়ী সঠিক নিয়ম শেখান। নারী যাত্রীদের জন্য আলাদা সহায়িকা ও নিরাপদ ব্যবস্থা রাখা হয়।

প্যাকেজের দাম ও লুকানো খরচ নিয়ে বড় অভিযোগ। স্বচ্ছতা কীভাবে আসবে?
মো. মনিরুল ইসলাম: লুকানো খরচই আমাদের এ খাতের সবচেয়ে বড় আস্থার সংকট। এ থেকে বেরিয়ে আশা আবশ্যক। কারণ, উমরা সাধারণ কোনো সফর না, এটি ইবাদতের সফর। সুতরাং এ সফরে কোনো কিছু লুকানো থাকা উচিত না। 

আমরা চুক্তিপত্রে ভিসা, বিমান, হোটেল, খাবার, পরিবহন, জিয়ারত–প্রতিটি খাত আলাদা করে লিখে দিই; পরে কোনো বাড়তি টাকা নেওয়া হয় না। যাত্রী আগেই জানেন তিনি কী পাচ্ছেন, কত টাকায়। স্বচ্ছতাই দীর্ঘমেয়াদে আস্থা তৈরি করে, আর আস্থাই এ ব্যবসার মূলধন।

আপনার দৃষ্টিতে বাংলাদেশ থেকে বিশ্বমানের উমরা সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রধান বাধা কী কী?
মো. মনিরুল ইসলাম: বাংলাদেশ থেকে বিশ্বমানের উমরা সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রধানতম সমস্যা হলো যথেষ্ট প্রশিক্ষণের অভাব। বিশ্বের বিভিন্ন মুসলিম দেশ, যারা ভালো মানের উমরা সেবা দেন বলে বিশ্বে স্বীকৃত তারা যাত্রীদের উন্নতমানের ও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দিয়ে সফরে পাঠান। আমাদের দেশে এ প্রশিক্ষণের প্রচণ্ড অভাব। যারা কিছু প্রশিক্ষণ দেন, তাও যথেষ্ট নয়। 

এছাড়া আরেকটি সমস্যা হলো, উমরা সেবাকে নিছক বাণিজ্যিকীকরণ মানসিকতা। ব্যবসা করা তো হলাল, তবে উমরা সেবাকে নিছক ব্যবসা হিসেবে গ্রহণ করার কারণে মানসিকতাগত ঘাটতি ঘটে এবং এর ফলে যাত্রীরা প্রতারিত হন। 

বাংলাদেশ কি বিশ্বমানের উমরা সেবা দিতে পারবে?
মো. মনিরুল ইসলাম: অবশ্যই পারবে, এ ব্যাপারে আমি শতভাগ আশাবাদী। আমাদের যাত্রীর সংখ্যা বিশাল, চাহিদাও প্রবল। দরকার শুধু জবাবদিহি, প্রশিক্ষণ আর সততা। সরকার ও হাব যদি কেবল লাইসেন্সধারী, যাচাই করা এজেন্সিকে কাজের সুযোগ দেয়, অসাধুদের কঠোরভাবে দমন করে, আর আমরা মালিকরা মুনাফার আগে যাত্রীর মর্যাদাকে অগ্রাধিকার দিই; তাহলে মালয়েশিয়া কেন, যেকোনো দেশের সম সেবা বাংলাদেশ দিতে পারবে। মনে রাখতে হবে, আমরা শুধু পর্যটক পাঠাচ্ছি না, আল্লাহর মেহমান পাঠাচ্ছি। এই দায়িত্ববোধটুকু জাগলেই বাংলাদেশের উমরা সেবা বিশ্বসেরা হবে, ইনশাআল্লাহ।

আল্লাহর মাস মুহাররমে করণীয়-বর্জনীয়

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ১০:০০ এএম
আল্লাহর মাস মুহাররমে করণীয়-বর্জনীয়
ছবি: সংগৃহীত

বছর শেষ হয়। নতুন বছর আসে। কিন্তু আরবি নববর্ষের আগমন শুধু ক্যালেন্ডারের পাতা উল্টানো নয়। এটি একটি ডাক, আল্লাহর পক্ষ থেকে তার বান্দার দিকে ডাক। নতুন করে শুরু করার, পুরোনো গুনাহ ঝেড়ে ফেলার, আর তার দিকে ফিরে আসার ডাক। কেননা আরবি ১২ মাসের প্রথম মাস, মুহাররম, কোনো সাধারণ মাস নয়। এটি স্বয়ং আল্লাহর মাস। মুহাররম শব্দটি আরবি হারাম ধাতু থেকে এসেছে, অর্থ নিষিদ্ধ বা পবিত্র। নামের মধ্যেই এই মাসের মর্যাদার ইঙ্গিত।

ইসলামপূর্ব আরবেও এই মাসকে সম্মান করা হতো। যুদ্ধ-বিগ্রহ বন্ধ থাকত, রক্তপাত নিষিদ্ধ ছিল। ইসলাম এসে সেই মর্যাদাকে আরও সুদৃঢ় করেছে। দ্বিতীয় খলিফা হজরত উমর (রা.) ৬৩৯ খ্রিষ্টাব্দে আনুষ্ঠানিকভাবে হিজরি সনের গণনা শুরু করেন। তিনি মুহাররমকেই এই নতুন সনের প্রথম মাস নির্ধারণ করেন।

আল্লাহতায়ালা এরশাদ করেছেন, নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে মাসের সংখ্যা ১২টি, আল্লাহর কিতাবে, যেদিন থেকে তিনি আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন। এর মধ্যে চারটি মাস সম্মানিত। এটাই সুপ্রতিষ্ঠিত দ্বীন। সুতরাং এই মাসগুলোয় তোমরা নিজেদের প্রতি জুলুম করো না। (সুরা তাওবা: ৩৬)। এই চারটি সম্মানিত মাস হলো, মুহাররম, রজব, জিলকদ ও জিলহজ। ইমাম ইবনে কাসির এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেছেন, এ মাসগুলোয় গুনাহের ভার বহুগুণ বেশি, তেমনি নেক আমলের প্রতিদানও বহুগুণ বেশি। মানুষ যেন সারা বছর পাপ করে এই মাসে এসে নিজেকে নতুন করে গড়ে তোলার সুযোগ পায়।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, রমজানের পর সর্বোত্তম রোজা হলো আল্লাহর মাস মুহাররমের রোজা। আর ফরজ নামাজের পর সর্বোত্তম নামাজ হলো রাতের নামাজ। (মুসলিম: ১১৬৩) ইবনে রজব (রহ.) এই হাদিসের ব্যাখ্যায় বলেছেন অত্যন্ত চমৎকার কথা–আল্লাহতায়ালা শুধু সেই সত্তা বা বস্তুকেই নিজের দিকে সম্বন্ধিত করেন, যা তার কাছে সর্বোচ্চ মর্যাদার, যেভাবে তিনি তার নবিদের আবদুল্লাহ বলেছেন, কাবাকে বায়তুল্লাহ বলেছেন, আর উষ্ট্রীকে নাকাতুল্লাহ বলেছেন। সেই একই সম্মানে মুহাররমকে বলা হয়েছে শাহরুল্লাহ, আল্লাহর মাস। আর যেহেতু রোজাকে আল্লাহ নিজেই বলেছেন এটি আমার জন্য, আমি নিজেই এর প্রতিদান দেব, তাই এই মাসে রোজা রাখার মর্যাদা আরও বহুগুণ বেড়ে যায়।

মুহাররমের দশম দিন, আশুরা। আরবি আশারা থেকে এই নাম, অর্থ দশ। এই একটি দিনে আল্লাহতায়ালা একাধিকবার তার অসীম রহমতের দরজা খুলে দিয়েছেন। সবচেয়ে বড় ঘটনা, এই দিনে হজরত মুসা (আ.) ও বনি ইসরাইলকে ফেরাউনের অত্যাচার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। সমুদ্র দুই ভাগ হয়েছিল। লাখ লাখ মানুষ পার হয়েছিল। আর পেছনে ফেরাউন তার বাহিনীসহ সেই পানিতেই ডুবে গিয়েছিল। ইতিহাসের সেই বিস্ময়কর দৃশ্যের কথা কল্পনা করুন, একটি অসহায় জাতির মুক্তি, একটি অহংকারী জালিমের পতন। এই দিনেই! হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) মদিনায় এসে দেখলেন ইহুদিরা আশুরার দিন রোজা রাখছে। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, এটা কেন? তারা বলল, এটা মহান দিন। এই দিনে আল্লাহ মুসা ও তার সম্প্রদায়কে রক্ষা করেছেন, ফেরাউনকে ডুবিয়ে দিয়েছেন। তাই মুসা (আ.) কৃতজ্ঞতাস্বরূপ রোজা রেখেছিলেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, আমরা মুসার অধিক হকদার। তখন তিনি নিজে রোজা রাখলেন এবং সাহাবিদেরও রোজা রাখতে বললেন। (বুখারি: ২০০৪)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আশুরার রোজার ব্যাপারে আমি আল্লাহর কাছে আশা রাখি, তিনি বিগত এক বছরের গুনাহ মাফ করে দেবেন। (মুসলিম: ১১৬২), এক বছরের ছোট গুনাহ! শুধু একটি রোজার বিনিময়ে। এই সুযোগ কি হাতছাড়া করতে পারে?

তবে শুধু দশম তারিখে রোজা রাখলে ইহুদিদের সঙ্গে মিল হয়ে যায়। তাই রাসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেছেন, পরের বছর বেঁচে থাকলে আমি নবম তারিখেও রোজা রাখব। (মুসলিম: ১১৩৪), পরের বছর আসার আগেই তিনি ইন্তেকাল করেছেন। 

মুহাররমে করণীয় আমল

অধিক নফল রোজা রাখা। গোটা মুহাররম মাসই নফল রোজার জন্য বিশেষ। ইবনে রজব (রহ.) বলেছেন, যে ব্যক্তি জিলহজ মাসে রোজা রেখে বছর শেষ করল এবং মুহাররমে রোজা রেখে বছর শুরু করল, তার পুরো বছরটি ইবাদতের মধ্যে ধরা যায়।

তওবা ও ইস্তেগফার বাড়ানো। নতুন বছরের প্রথম দিন থেকেই পুরোনো গুনাহের বোঝা ঝেড়ে ফেলুন। মাসটি আল্লাহর মাস, তাই তার কাছে বেশি বেশি ফিরে আসুন। প্রতিটি সন্ধ্যায় একটু সময় রাখুন হিসাব-নিকাশের, গত বছর কী হারিয়েছি, এই বছর কী পাওয়ার চেষ্টা করব।

নেক আমলে মনোযোগী হওয়া। সম্মানিত মাসে নেক আমলের প্রতিদান বহুগুণ বেশি। কোরআন তেলাওয়াত, নামাজ, সদকা–সবকিছুতে মনোযোগ বাড়ান। ইমাম ইবনে কাসির বলেছেন, আল্লাহ যাকে সম্মান দিয়েছেন, জ্ঞানীরা সেটাকে সম্মান করে।

পরিবারের জন্য খরচ বাড়ানো। একটি বর্ণনায় এসেছে, যে ব্যক্তি আশুরার দিন পরিবারের জন্য প্রশস্ত খরচ করে, আল্লাহ সারা বছর তার রিজিকে প্রশস্ততা দেন। তবে এই হাদিসটি মুহাদ্দিসদের দৃষ্টিতে দুর্বল। তাই এটি ফজিলতের আমল হিসেবে বিবেচনা করা গেলেও একে মজবুত ভিত্তিতে প্রচার করা ঠিক নয়।

মুহাররমে বর্জনীয় বিষয়

নিজেদের ওপর জুলুম করা। আল্লাহ নিজেই সুরা তাওবায় সতর্ক করেছেন, এই মাসে নিজেদের প্রতি অন্যায় করো না। পাপাচারে জড়ানো, হক নষ্ট করা, এগুলো অন্য মাসেও হারাম, কিন্তু এই মাসে আরও বেশি গুরুতর।

মাতম ও বুকে বাড়ি মারা। হজরত হুসাইন (রা.)-এর স্মরণে বুকে বাড়ি মারা, শোকমিছিল বের করা, নিজেকে আঘাত করা, এগুলো ইসলামের নির্দেশ নয়, বরং জাহেলি প্রথা। রাসুলুল্লাহ (সা.) স্পষ্ট বলেছেন, সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয় যে গালে থাপ্পড় দেয়, কাপড় ছেঁড়ে এবং জাহেলি যুগের মতো বিলাপ করে। (বুখারি: ১২৯৪; মুসলিম: ১০৩) হজরত ইয়াকুব (আ.) প্রিয় পুত্র ইউসুফকে হারিয়ে কাঁদতেন, তার চোখ সাদা হয়ে গিয়েছিল, কিন্তু তিনি বুকে বাড়ি মারেননি, জামা ছেঁড়েননি। বেদনা প্রকাশের ইসলামসম্মত পথ হলো ধৈর্য আর দোয়া।

আশুরাকে বিশেষ উৎসব বানানো। কেউ কেউ এই দিন বিশেষ খাবার রান্না করে, উৎসব পালন করে, এরও কোনো শরয়ি ভিত্তি নেই। ইমাম ইবনে তাইমিয়া বলেছেন, এই দিনকে কেউ শোকের দিন বানায়, কেউ উৎসবের দিন বানায়, দুটোই বিদআত।

মুহাররমকে অশুভ মাস মনে করা। অনেকে মনে করেন এই মাসে বিয়ে-শাদি বা শুভ কাজ করা যায় না। এটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন কুসংস্কার, ইসলামে এর কোনো প্রমাণ নেই।

৬১ হিজরির মুহাররমের দশম তারিখ। ইরাকের কারবালার মাঠ। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রিয় দৌহিত্র, ফাতেমা (রা.)-এর কলিজার টুকরা, হজরত হুসাইন (রা.) সেদিন ইয়াজিদ বাহিনীর হাতে শহিদ হয়েছিলেন। সেই ত্যাগ মুসলিম উম্মাহর জন্য চিরকালের অনুপ্রেরণা। তাকে ভালোবাসা ঈমানের দাবি, কিন্তু সেই ভালোবাসা প্রকাশ পাবে তার পথে চলার মধ্যে, মাতম আর শোকমিছিলে নয়। মুহাররম আমাদের দরজায় এসে দাঁড়ায় প্রতি বছর, একটাই বার্তা নিয়ে; নতুন করে শুরু করো। গুনাহ ছেড়ে আল্লাহর দিকে ফিরে আসো। আশুরার রোজা এই যাত্রার সবচেয়ে মূল্যবান পাথেয়। রমজান আসতে এখনো অনেক বাকি, কিন্তু এখনই একটি রোজা রাখলে এক বছরের গুনাহ মাফ হয়ে যেতে পারে।

 

লেখক: আলেম, গবেষক ও সাংবাদিক

১৯ জুন ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ০৭:০০ এএম
১৯ জুন ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি
জুন, ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচির ছবি

প্রতিদিন সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ। নামাজ (সালাত) ইসলাজুনর পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি এবং ইসলাজুনর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত।

আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, (হে আল্লাহর রাসুল!) আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয় আমল কোনটি? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘নামাজ (বুখারি ও মুসলিম)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সেভাবে নামাজ আদায় করো, যেভাবে আমাকে নামাজ আদায় করতে দেখেছ।’ (বুখারি, ৬৩১)

 

আজ ১৯ জুন ২০২৬, শুক্রবার। ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজ সময়সূচি তুলে ধরা হলো— 

জোহর

১২.০৩ মিনিট

আসর

৪.৩৯ মিনিট

 

মাগরিব

৬.৫১ মিনিট

 

এশা

৮.১৮ মিনিট

ফজর (২০ জুন)

.৪৪ মিনিট

 

বিভাগীয় শহরের জন্য উল্লিখিত সময়ের সঙ্গে যেসব বিভাগে সময় যোগ-বিয়োগকরতে হবে।

বিয়োগ

চট্টগ্রাম: ৫ মিনিট

সিলেট: ৬ মিনিট

যোগ

খুলনা: ৩ মিনিট

রাজশাহী: ৭ মিনিট

রংপুর: ৮ মিনিট

বরিশাল: ১ মিনিট

 

সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আধ্যাত্মিক ধনী হওয়ার সহজ সমীকরণ

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৭:০০ পিএম
আধ্যাত্মিক ধনী হওয়ার সহজ সমীকরণ
ছবি: সংগৃহীত

ভাবুন তো, মাত্র এক মিনিটে যদি আপনার ব্যাংক ব্যালান্সে এক হাজার ডলার জমা হয়, তবে কেমন লাগবে? দুনিয়ার বুকে এমন কোনো বৈধ ব্যবসা নেই যা আপনাকে মাত্র ৬০ সেকেন্ডে এত বড় মুনাফা দিতে পারে। অথচ আখেরাতের বাজারে প্রতিদিন মাত্র এক মিনিটে এক হাজার নেকি অর্জন করা এবং একই সঙ্গে এক হাজার গুনাহ মাফ করিয়ে নেওয়া সম্ভব! রাসুল (সা.) আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের এমন কিছু অবিশ্বাস্য আধ্যাত্মিক সমীকরণ শিখিয়েছেন, যা আধুনিক মানুষকে এক নিমেষেই পরকালের শ্রেষ্ঠ ধনীতে পরিণত করতে পারে।

আমরা অনেকেই মনে করি, অনেক বড় ইবাদত বা কঠিন পরিশ্রম ছাড়া বড় সওয়াব পাওয়া অসম্ভব। কিন্তু আল্লাহর রাসুল (সা.) এই ধারণাটি সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছেন।
হযরত সা’দ ইবনে আবু অক্কাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। তিনি বললেন, তোমাদের কোনো ব্যক্তি প্রত্যহ এক হাজার নেকি অর্জন করতে অপারগ হবে কি?  উপস্থিত একজন জিজ্ঞেস করলেন, ‘কীভাবে এক হাজার নেকি অর্জন করবে?’ তিনি বললেন, একশ’বার তাসবীহ (সুবহানাল্লাহ) পড়বে। ফলে তার জন্য এক হাজার নেকি লেখা হবে এবং এক হাজার গুনাহ মিটিয়ে দেওয়া হবে। (মুসলিম, ২৬৯৮; তিরমিজি, ৩৪৬৩)

নতুন দৃষ্টিকোণ: মুহাদ্দিসগণের সুক্ষ্ম ভাষ্য ও বর্ণনার পাঠভেদ (যেমন- শু’বাহ ও ইয়াহয়্যা আলক্বাত্তানের বর্ণনা) অনুযায়ী, এখানে ‘অথবা’ নয়, বরং ‘এবং’ শব্দটির ব্যবহারই অগ্রগণ্য। অর্থাৎ, মাত্র ১০০ বার ‘সুবহানাল্লাহ’ বললে ১০০০ নেকি পাওয়ার পাশাপাশি একই সঙ্গে ১০০০ গুনাহও খাতা থেকে মুছে যায়। বিজ্ঞান বলে মানুষের শরীরে শত শত হাড়ের জোড় বা জয়েন্ট রয়েছে। ইসলাম এই প্রতিটি সুস্থ জয়েন্টের জন্য প্রতিদিন সকালে একটি ‘সদকা’ বা ট্যাক্স ধার্য করেছে। কিন্তু সেই ট্যাক্স পরিশোধের উপায়টি কত চমৎকার!

হযরত আবু যার (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, তোমাদের প্রত্যেকের প্রতিটি (হাড়ের) জোড়ের পক্ষ থেকে প্রতিদিন সদকা দেওয়া আবশ্যক। প্রতিটি ‘সুবহানাল্লাহ’ সদকা, ‘আলহামদু লিল্লাহ’ সদকা, ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ সদকা এবং ‘আল্লাহু আকবার’ বলাও সদকা। সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ করাও সদকা। আর এসব কিছুর পরিবর্তে চাশতের (পূর্বাহ্নের) দুই রাকাআত নামাজ পড়াই যথেষ্ট। (মুসলিম, ৭২০; সুনানে আবু দাউদ, ১২৮৫)

মহাবিশ্বের পরম সত্তা আল্লাহতায়ালা বান্দার সঙ্গে কেমন আচরণ করবেন, তার পুরো নিয়ন্ত্রণ কিন্তু বান্দার নিজের চিন্তাভাবনার ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আল্লাহতায়ালা বলেন: আমি আমার বান্দার ধারণার পাশে থাকি (সে যেমন ধারণা করে, আমি তেমনই করি)। সে যখন আমাকে মনে মনে স্মরণ করে, আমি তাকে আমার মনে স্মরণ করি। আর সে যদি কোনো সভায় আমাকে স্মরণ করে, তবে আমি তাকে তাদের চেয়েও উত্তম (ফেরেশতাদের) সভায় স্মরণ করি। (বুখারি, ৭৪০৫; মুসলিম, ২৬৭৫)

মুখের কোণে একটু ‘সুবহানাল্লাহ’র গুঞ্জন আর দিনের শুরুতে দুই রাকাআত চাশতের নামাজ–এই সামান্য অভ্যাসগুলোই আমাদের পুরো দিনটিকে আল্লাহর সুরক্ষায় মুড়িয়ে দেয়। সবচেয়ে বড় কথা, আমরা যখন নির্জনে বা জনসম্মুখে আল্লাহকে ডাকি, তখন স্বয়ং স্রষ্টা আমাদের নাম নিয়ে ফেরেশতাদের সামনে গর্ব করেন। 

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

সততার মাপকাঠি কেমন হওয়া উচিত?

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৩:০১ পিএম
সততার মাপকাঠি কেমন হওয়া উচিত?
ছবি: সংগৃহীত

গভীর রাতে দুহাত তুলে কাঁদছেন, দূর-দূরান্তের ক্লান্তিকর সফর শেষে ধূলিমলিন শরীরে স্রষ্টাকে আকুল হয়ে ডাকছেন, তবুও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত সাড়া। আধুনিক জীবনে আমাদের চারপাশের বহু মানুষ আজ এই বিষণ্ণতায় ভোগেন কিন্তু অনুভূতির এই কান্নার আড়ালে আমরা কি কখনো আমাদের খাবারের প্লেট কিংবা উপার্জনের খতিয়ান খতিয়ে দেখেছি?

হযরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত এক যুগান্তকারী হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ পবিত্র, তিনি পবিত্র বা হালাল ছাড়া কিছুই গ্রহণ করেন না রাসুল (সা.) এমন এক মুসাফিরের উদাহরণ দেন, যার চুল এলোমেলো, শরীর ধূলিধূসরিত সে আকাশের দিকে হাত তুলেহে প্রভু! হে প্রভু!’ বলে কাঁদছে; অথচ তার খাদ্য, পানীয়, পোশাক এবং জীবিকা নির্বাহের পুরো মাধ্যমটিই হারাম রাসুল (সা.) প্রশ্ন ছুড়ে দেন, এমন ব্যক্তির দোয়া কীভাবে কবুল হতে পারে? (মুসলিম, ২৭৬০)

নৈতিকতার চাদরে সাদা আর কালোর বাইরে একটি ধূসর এলাকা বাগ্রে জোনথাকে, যাকে আমরা সন্দেহজনক বিষয় বলি হযরত নুমান ইবনু বাশীর (রা.) বর্ণিত হাদিস অনুযায়ী, হালাল হারাম একদম স্পষ্ট, কিন্তু এর মাঝে রয়েছে কিছু সন্দেহজনক বস্তু যে ব্যক্তি এই সন্দেহ পরিহার করে, তার দ্বীন সম্মান সুরক্ষিত থাকে আর যে এর ধারেকাছে যায়, সে নিষিদ্ধ চারণভূমিতে ঢুকে পড়া পশুর মতো যেকোনো সময় হারামে লিপ্ত হতে পারে রাসুল (সা.) সতর্ক করেন, মানুষের শরীরের ভেতরে একটি গোশতের টুকরো বা অন্তর আছে; সেটি যদি সঠিক পবিত্র থাকে, তবে পুরো দেহই সঠিক থাকে আর সেটি কলুষিত হলে পুরো জীবনটাই বিকৃত হয়ে যায় (মুসলিম, ২৭৬২)

আজকের করপোরেট বা অনলাইন ব্যবসার যুগে এসে অনেক উপার্জনকে আমরা সাধারণ মনে করি অথচ হযরত আবু হুজায়ফা (রা.) বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেছেন রক্ত বিক্রির অর্থ, কুকুরের মূল্য এবং ব্যভিচারের বিনিময় একই সাথে তিনি লানত বা অভিশাপ দিয়েছেন সুদ গ্রহীতা, সুদদাতা, শরীরে উল্কি (ট্যাটু) অঙ্কনকারী এবং ছবি অঙ্কনকারীর ওপর (মিশকাত, ২৭৬৫)

সততার মাপকাঠি কেমন হওয়া উচিত, তা প্রথম মুসলিম খলিফার জীবন থেকে শেখার আছে হযরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, আবুবকর সিদ্দিক (রা.)-এর এক গোলামের উপার্জিত খাবার থেকে তিনি না জেনে এক লোকমা খেয়ে ফেলেছিলেন পরে যখন জানতে পারলেন যে, সেই অর্থ গোলামটি জাহেলি যুগে মানুষকে ধোঁকা দিয়ে গণকী (জ্যোতিষী) করে কামিয়েছিল, তখন আবুবকর (রা.) সাথে সাথে মুখের ভেতর আঙুল ঢুকিয়ে পেটের সমস্ত খাদ্য বমন করে বের করে দেন (মিশকাত, ২৭৮৬)

সাফল্যের সব দুয়ার খোলার প্রধান শর্ত হলো শরীরের রক্তে হারামের ছোঁয়া না লাগা আজই আমাদের উচিত নিজের উপার্জনের উৎসটি পুনর্মূল্যায়ন করা, যেন আমাদের প্রার্থনাগুলো স্রষ্টার দরবারে পৌঁছানোর আগেই হারিয়ে না যায়

 লেখক: আলেম ও সাংবাদিক