ঢাকা ৫ আষাঢ় ১৪৩৩, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
বিশ্বকাপে সৌদি আরবের জন্য ভিন্ন নিয়ম পেনাল্টি গোলে চেক প্রজাতন্ত্রকে রুখে দিল দক্ষিণ আফ্রিকা অপ্সরার আন্তর্জাতিক অভিষেক আদালতে আত্মসমর্পণ করতে গিয়ে কারাগারে আওয়ামী লীগ নেতা বাদশা গণপিটুনির শিকার তিন ডিবি সদস্য, উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি মেনে নাও, মেসি সেরা: রোনালদো নাজারিও কেইনের প্রেরণা এমবাপ্পে-হালান্ড কুমিল্লায় ধর্ষণকাণ্ড: গ্রেপ্তার শিবির নেতার পক্ষে দাঁড়ানো দুই এপিপির নিয়োগ বাতিল টাঙ্গাইলে প্রতিমন্ত্রী টুকুর নামে প্রতারণা, গ্রেপ্তার ১ দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথমার্ধে এগিয়ে চেক প্রজাতন্ত্র টাকার অভাবে রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি অনিশ্চিত, সহায়তার আবেদন রাজবাড়ীতে ৭ বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ নেইমার ভক্তদের জন্য দুঃসংবাদ সাবেক মন্ত্রী হারুণ অর রশীদ অর নেই কুমিল্লায় মাদক মামলায় কারাবন্দি যুবদলকর্মীর মৃত্যু চুয়াডাঙ্গায় বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু হাইতির বিপক্ষে নামার আগে ব্রাজিলকে সুখবর দিল ফিফা ওয়ালটন পিসিবিএ'র রপ্তানি উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি উপদেষ্টা ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে অনুষ্ঠিত হলো গ্লোবাল ইয়ুথ লিডারশিপ কনফারেন্স ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ, গণপিটুনির শিকার তিন পুলিশ বিশ্বকাপে ৩ ম্যাচ নিষিদ্ধ দক্ষিণ আফ্রিকার মিডফিল্ডার সময় টিভির সাবেক এমডি জোবায়ের কারাগারে কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের সুরক্ষায় ইইউর ১.৪ কোটি ইউরো অনুদান বিশ্বকাপে বড় ধাক্কা খেল আইভরি কোস্ট, কানাডার ভিসা পেলেন না ওয়াহি মাগুরায় নবজাতককে বিক্রি করলেন বাবা পরীমনির প্রেমে জড়িয়ে চাকরি গেল সাকলায়েনের এসএসসি ফল ঘোষণা ২০ জুলাই, জানালেন শিক্ষামন্ত্রী কুড়িগ্রামে ১২ ঘণ্টা পর রেলযোগাযোগ স্বাভাবিক চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে জাবির কর্মচারীদের অবস্থান মানিকগঞ্জে ট্রাক-পিকআপ সংঘর্ষ, নিহত ২

রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে সঠিকভাবে জানা ছাড়া পরিপূর্ণরূপে ইসলাম অনুসরণ সম্ভব নয়

প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৮:২০ এএম
আপডেট: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৮:৩০ এএম
রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে সঠিকভাবে জানা ছাড়া পরিপূর্ণরূপে ইসলাম অনুসরণ সম্ভব নয়
বহু গ্রন্থ প্রণেতা সাব্যসাচী লেখক মুহাম্মদ যাইনুল আবিদীন

মুহাম্মদ যাইনুল আবিদীন—সুপ্রসিদ্ধ আলেম, গবেষক, লেখক ও কথাসাহিত্যিক। আশিটির বেশি মৌলিক ও অনূদিত বইয়ের কারিগর তিনি। যুক্ত রয়েছেন মাদরাসার পরিচালক ও মসজিদের খতিব হিসেবেও। রবিউল আউয়াল মাস উপলক্ষে সিরাতে রাসুল (সা.) পাঠ করার প্রয়োজনীয়তা, কোন কোন গ্রন্থ পাঠ করার মাধ্যমে সঠিকভাবে রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জানা যাবে এবং পাঠের ক্ষেত্রে কি কি সতর্কতা বা নিয়ম অনুসরণ করা উচিত ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কথা হয়েছে তার সঙ্গে। আলোচনার চুম্বকাংশ তুলে ধরা হলো। 

প্রশ্ন: মুসলমানের জন্য রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবনী পাঠ করা জরুরি কেন?
মুহাম্মদ যাইনুল আবিদীন: ইসলামকে পৃথিবীর অন্যান্য ধর্মের সঙ্গে তুলনা করে বুঝতে চাইলে, একটি প্রতিষ্ঠিত ও সুরক্ষিত সৌন্দর্য সামনে চলে আসবে, তা হলো—ইসলাম বলতে আমরা যে জীবনদর্শনকে বলি বা বুঝি, তার একটা বাস্তব আদর্শ রয়েছে এবং সেটি হলেন আমাদের প্রিয়নবি মুহাম্মাদ (সা.)। কোনো দর্শন যতক্ষণ পর্যন্ত বাস্তবে চিত্রিত না হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত সর্বসাধারণের জন্য সেটা অনুসরণযোগ্য হয়ে ওঠে না। 
কোনো জীবনদর্শন বা চিন্তা মানুষের জীবনে সফলতা বয়ে আনার জন্য সেখানে যেমন সহজ বিষয় থাকবে, কঠিন বিষয় থাকবে এবং দৃশ্যত এমন কিছু বিষয় সামনে আসবে—মনে হবে যেন এ কাজগুলো করা ঠিক সম্ভব নয়। একাধারে ত্রিশ দিন রোজা রাখা—নির্দিষ্ট ঘড়ির কাঁটায় কাঁটায় নিয়ম মেনে ইফতার করাকে যে কেউ অসম্ভব মনে করতে পারেন। কিন্তু ইসলামের পক্ষ থেকে যিনি এ দাওয়াতটা দিচ্ছেন, তিনি রমজানসহ সারা বছর এভাবে রোজা রেখে, ইফতার করে যখন দেখিয়েছেন—তখন আর কারও এ প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় না, ভাবতে হয় না বা শয়তান তাকে প্ররোচিত করতে পারে না যে, এটা অসম্ভব। 
এটা সম্ভব, তার কারণ যিনি এ দাওয়াতটা দিয়েছেন, তিনি আমাদের কাছে যা চেয়েছেন, এর চেয়ে বেশি কিছু করে দেখিয়েছেন। ইসলাম ধর্মের শ্রেষ্ঠত্ব এটি।
মুসলমানদের জাকাত দিতে বলেছেন রাসুলুল্লাহ (সা.)। আর দান করার ক্ষেত্রে তিনি নিজেকে এমন এক উচ্চতায় প্রতিষ্ঠিত করেছেন—তাঁর ওপর জীবনে কখনো জাকাত ফরজ হওয়ার সুযোগই হয়নি। রাসুলুল্লাহ (সা.) সবটা বিলিয়ে দিয়ে অন্যদের বলেছেন, তোমরা ৪০ ভাগের এক ভাগ দাও। ফলে সবার কাছে সহজ মনে হয়েছে। 
মুহাম্মাদ (সা.)-এর জীবনী জানা, তাঁর জীবনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত চোখের সামনে রাখা প্রত্যেক মুমিনের জন্য জরুরি। কারণ এটাকে বাদ দিয়ে ইসলামকে যথাযথভাবে বোঝা এবং সেটাকে জীবনে প্রয়োগ করা, চর্চা করা, অনুসরণ করা কোনো ব্যক্তির পক্ষে যথাযথভাবে সম্ভব নয়। মুহাম্মাদ (সা.)-কে পাঠ করা ছাড়া এবং তাঁকে সঠিকভাবে জানা ছাড়া পরিপূর্ণরূপে ইসলাম অনুসরণ করা সম্ভব নয়। 

প্রশ্ন: রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবনী পাঠ করার ক্ষেত্রে কোন কোন বইগুলো পড়া যেতে পারে? 
মুহাম্মদ যাইনুল আবিদীন: কোনো শিক্ষিত মুসলিম পরিবার এমন হওয়া উচিত নয়, যে ঘরে পবিত্র কোরআন, কোরআনের সরল অনুবাদ এবং সহজ কোনো ব্যাখ্যাগ্রন্থ থাকবে না এবং যেখানে প্রিয়তম নবি মুহাম্মাদ (সা.)-এর কোনো জীবনীগ্রন্থ থাকবে না। মুহাম্মাদ (সা.)-কে জানার মাধ্যম দুটি—এক. শুনে জানা। দুই. পড়ে জানা। দুই জানার মধ্যে বিস্তর ব্যবধান রয়েছে। পড়ে জানার মাধ্যমটি তুলনামূলক নিরাপদ ও উত্তম। 
প্রত্যেক মানুষের অবশ্যই রাসুলুল্লাহ (সা.) সম্পর্কে লিখিত গ্রন্থাবলি পাঠ করা কর্তব্য। মুসলমান হিসেবে আমাদের জন্য এটা অনেক বড় আনন্দের বিষয়, মুহাম্মাদ (সা.) যেহেতু ইসলামের সচিত্র রূপ, তাই ইসলামের সূচনাকাল থেকে মুহাম্মাদ (সা.)-এর জীবনচিত্রকে সনদসহকারে সংরক্ষণ করা হয়েছে। তাঁকে জানার ক্ষেত্রে সমাজে একটা অসম্পূর্ণ ধারণা প্রচলিত রয়েছে। মনে করা হয়—জীবনীমূলক গ্রন্থ থেকেই তাঁকে জানতে হবে। অথচ তাঁকে জানার প্রথম এবং সবচেয়ে শক্তিমান মাধ্যম হলো পবিত্র কোরআন। দ্বিতীয় মাধ্যম হাদিস। তৃতীয় মাধ্যম হলো তাঁকে নিয়ে লিখিত জীবনীগ্রন্থ। 
এই জায়গাতেও আমাদের জন্য একটা সম্মানের অবস্থা হলো, বাংলা ভাষাটা চর্চার দিক থেকে যতটা পুরোনো, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সিরাত চর্চা বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে ততটাই পুরোনো। পুঁথি সাহিত্য যখন থেকে শুরু, তখন থেকে রাসুলুল্লাহ (সা.) পুঁথি সাহিত্যে আলোচিত। এটা আমাদের জন্য গৌরবের বিষয়—আমরা আমাদের বিশ্বাসটাকে চর্চায় নিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছি। 
বাংলা ভাষায় মুসলমানদের মধ্যে প্রথম শেখ আব্দুর রহিম (রহ.) রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে নিয়ে লিখেছেন। এর আগে অন্য ধর্মের তিনজন লিখেছেন তাঁকে নিয়ে। সম্ভবত ১৮৮৬ বা ৮৭ সালে শেখ আব্দুর রহিমের বই প্রকাশিত হয়েছে। 
সিরাত বিষয়ে খুব আলোচিত গ্রন্থ কবি গোলাম মোস্তফার ‘বিশ্বনবী’। তিনি ছিলেন মাদরাসাপড়ুয়া মানুষ। মৌলবি কবি গোলাম মোস্তফা। আরও একটি সিরাতগ্রন্থ খুব বেশি আলোচিত হয়েছে, সেটা হলো মওলানা আকরম খাঁর মোস্তফাচরিত। তবে আকরম খাঁ তার বইয়ে বিজ্ঞানকে মাপকাঠি নির্ধারণ করেছেন। ফলে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর মুজেঝার মতো গুরুত্বপূর্ণ অনেক বিষয় ছেড়ে দিয়েছেন। যা একজন ধর্মপরায়ণ পাঠক আশা করে না। সে জায়গায় কবি গোলাম মোস্তফা এমন একটা গ্রন্থ রচনা করলেন—বিশেষ করে সাহিত্য ও ভক্তিপূর্ণ উপস্থাপনায়, সেটা কালোত্তীর্ণ। পরবর্তী সময়ে ঢাকার বড় কাটারা মাদরাসার শায়খুল হাদিস মাওলানা তফাজ্জুল হোসাইনের ‘হযরত মুহাম্মাদ (সা.) সমকালীন পরিবেশ ও জীবন’; মাওলানা মুহিউদ্দীন খানের ‘স্বপ্নযোগে রাসুলুল্লাহ (সা.)’ ও ‘রওজা শরীফের ইতিহাস’—এগুলো অনন্য কাজ হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে। 
এ ছাড়া আরবি ও উর্দু ভাষা থেকে বাংলায় অনূদিত সিরাতগ্রন্থের মধ্যে সামগ্রিক বিবেচনায় যে কাজগুলো অনন্য সেগুলো হলো—ইবনে হিশাম (রহ.) রচিত ‘সিরাতে ইবনে হিশাম’; ইবনে কাসির (রহ.) রচিত ‘আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া’; হাফেজ জাহাবি (রহ.) রচিত সিয়ারের প্রথম তিন খণ্ড; ইবনে কাসির (রহ.) রচিত ‘আলফুসুল ফি ইখতিসারি সিরাতে রাসুল’; সাইয়েদ আবুল হাসান আলি নদভি (রহ.) রচিত ‘আস-সিরাতুন নববিইয়া’ ও ‘রহমতে আলম’; মাওলানা ইদ্রিস কান্ধলভি (রহ.) রচিত ‘সিরাতুল মোস্তফা’; সাইয়েদ সুলায়মান নদভি (রহ.) রচিত ‘খুতুবাতে মাদরাজ’; মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ রাহমানি (রহ.) রচিত ‘পয়গাম্বরে ইনসানিইয়াত’ এবং জালালুদ্দিন সুয়ুতি (রহ.) রচিত ‘খাসায়েসে কুবরা’ উল্লেখযোগ্য। 

প্রশ্ন: সিরাত পাঠের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের সতর্কতা বা নিয়ম মানা আবশ্যকীয় কি না?
মুহাম্মদ যাইনুল আবিদীন: রাসুলুল্লাহ (সা.) সম্পর্কে জানার ক্ষেত্রে প্রথমে সতর্কতার সঙ্গে বুঝতে হয়, কাদের লেখা পড়ব? কারণ, তাঁর জীবনী পড়া মানে ইসলাম পড়া। তিনিই ইসলাম। এ জায়গায় এসে আমাদের মানতেই হয়— যেহেতু বিষয়টি ইসলাম, এ চর্চার জায়গায় মূলধারাটা হলো আলেমসমাজ। তারাই শেকড় থেকে ইসলাম পড়েন, শেকড় থেকে জানেন, বোঝেন, সত্যিকার বুঝটা বিচার করার ক্ষমতা রাখেন এবং সত্যিকারের বুঝটার প্রচার করেন। এ জন্য আলেমদের লেখা সিরাতগ্রন্থগেুলো বেছে বেছে পাঠ করতে হবে। যার লেখা পড়ছি, তার সম্পর্কেও জানতে হবে—তিনি কতটা নির্ভরযোগ্য। 
আর অনুবাদগ্রন্থ পড়ার ক্ষেত্রে আরও সতর্কতা জরুরি। কারণ অনুবাদে সামান্য ভুল করার কারণে ইতিহাস পাল্টে যায়! অনেক সময় বড় রকমের বিতর্কের জন্ম হয়। সর্বোপরি কথা হলো, ইসলাম সম্পর্কে যিনি বিশেষজ্ঞ অর্থাৎ যিনি কোরআনকে উৎস থেকে বোঝেন, হাদিসকে উৎস থেকে বোঝেন এবং ফিকাহ বোঝেন—এমন তিনটি গুণ বা শক্তি যার মধ্যে রয়েছে; এমন ব্যক্তি যদি নবিজীবনী লেখেন, তার বই যে কেউ চোখ বন্ধ করে পড়লে, তার হাত ধরে মুহাম্মাদ (সা.) পর্যন্ত পৌঁছানো সম্ভব। অন্যথা বিপথগামী হওয়ার আশঙ্কা প্রকট।

 

আধ্যাত্মিক ধনী হওয়ার সহজ সমীকরণ

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৭:০০ পিএম
আধ্যাত্মিক ধনী হওয়ার সহজ সমীকরণ
ছবি: সংগৃহীত

ভাবুন তো, মাত্র এক মিনিটে যদি আপনার ব্যাংক ব্যালান্সে এক হাজার ডলার জমা হয়, তবে কেমন লাগবে? দুনিয়ার বুকে এমন কোনো বৈধ ব্যবসা নেই যা আপনাকে মাত্র ৬০ সেকেন্ডে এত বড় মুনাফা দিতে পারে। অথচ আখেরাতের বাজারে প্রতিদিন মাত্র এক মিনিটে এক হাজার নেকি অর্জন করা এবং একই সঙ্গে এক হাজার গুনাহ মাফ করিয়ে নেওয়া সম্ভব! রাসুল (সা.) আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের এমন কিছু অবিশ্বাস্য আধ্যাত্মিক সমীকরণ শিখিয়েছেন, যা আধুনিক মানুষকে এক নিমেষেই পরকালের শ্রেষ্ঠ ধনীতে পরিণত করতে পারে।

আমরা অনেকেই মনে করি, অনেক বড় ইবাদত বা কঠিন পরিশ্রম ছাড়া বড় সওয়াব পাওয়া অসম্ভব। কিন্তু আল্লাহর রাসুল (সা.) এই ধারণাটি সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছেন।
হযরত সা’দ ইবনে আবু অক্কাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। তিনি বললেন, তোমাদের কোনো ব্যক্তি প্রত্যহ এক হাজার নেকি অর্জন করতে অপারগ হবে কি?  উপস্থিত একজন জিজ্ঞেস করলেন, ‘কীভাবে এক হাজার নেকি অর্জন করবে?’ তিনি বললেন, একশ’বার তাসবীহ (সুবহানাল্লাহ) পড়বে। ফলে তার জন্য এক হাজার নেকি লেখা হবে এবং এক হাজার গুনাহ মিটিয়ে দেওয়া হবে। (মুসলিম, ২৬৯৮; তিরমিজি, ৩৪৬৩)

নতুন দৃষ্টিকোণ: মুহাদ্দিসগণের সুক্ষ্ম ভাষ্য ও বর্ণনার পাঠভেদ (যেমন- শু’বাহ ও ইয়াহয়্যা আলক্বাত্তানের বর্ণনা) অনুযায়ী, এখানে ‘অথবা’ নয়, বরং ‘এবং’ শব্দটির ব্যবহারই অগ্রগণ্য। অর্থাৎ, মাত্র ১০০ বার ‘সুবহানাল্লাহ’ বললে ১০০০ নেকি পাওয়ার পাশাপাশি একই সঙ্গে ১০০০ গুনাহও খাতা থেকে মুছে যায়। বিজ্ঞান বলে মানুষের শরীরে শত শত হাড়ের জোড় বা জয়েন্ট রয়েছে। ইসলাম এই প্রতিটি সুস্থ জয়েন্টের জন্য প্রতিদিন সকালে একটি ‘সদকা’ বা ট্যাক্স ধার্য করেছে। কিন্তু সেই ট্যাক্স পরিশোধের উপায়টি কত চমৎকার!

হযরত আবু যার (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, তোমাদের প্রত্যেকের প্রতিটি (হাড়ের) জোড়ের পক্ষ থেকে প্রতিদিন সদকা দেওয়া আবশ্যক। প্রতিটি ‘সুবহানাল্লাহ’ সদকা, ‘আলহামদু লিল্লাহ’ সদকা, ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ সদকা এবং ‘আল্লাহু আকবার’ বলাও সদকা। সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ করাও সদকা। আর এসব কিছুর পরিবর্তে চাশতের (পূর্বাহ্নের) দুই রাকাআত নামাজ পড়াই যথেষ্ট। (মুসলিম, ৭২০; সুনানে আবু দাউদ, ১২৮৫)

মহাবিশ্বের পরম সত্তা আল্লাহতায়ালা বান্দার সঙ্গে কেমন আচরণ করবেন, তার পুরো নিয়ন্ত্রণ কিন্তু বান্দার নিজের চিন্তাভাবনার ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আল্লাহতায়ালা বলেন: আমি আমার বান্দার ধারণার পাশে থাকি (সে যেমন ধারণা করে, আমি তেমনই করি)। সে যখন আমাকে মনে মনে স্মরণ করে, আমি তাকে আমার মনে স্মরণ করি। আর সে যদি কোনো সভায় আমাকে স্মরণ করে, তবে আমি তাকে তাদের চেয়েও উত্তম (ফেরেশতাদের) সভায় স্মরণ করি। (বুখারি, ৭৪০৫; মুসলিম, ২৬৭৫)

মুখের কোণে একটু ‘সুবহানাল্লাহ’র গুঞ্জন আর দিনের শুরুতে দুই রাকাআত চাশতের নামাজ–এই সামান্য অভ্যাসগুলোই আমাদের পুরো দিনটিকে আল্লাহর সুরক্ষায় মুড়িয়ে দেয়। সবচেয়ে বড় কথা, আমরা যখন নির্জনে বা জনসম্মুখে আল্লাহকে ডাকি, তখন স্বয়ং স্রষ্টা আমাদের নাম নিয়ে ফেরেশতাদের সামনে গর্ব করেন। 

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

সততার মাপকাঠি কেমন হওয়া উচিত?

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৩:০১ পিএম
সততার মাপকাঠি কেমন হওয়া উচিত?
ছবি: সংগৃহীত

গভীর রাতে দুহাত তুলে কাঁদছেন, দূর-দূরান্তের ক্লান্তিকর সফর শেষে ধূলিমলিন শরীরে স্রষ্টাকে আকুল হয়ে ডাকছেন, তবুও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত সাড়া। আধুনিক জীবনে আমাদের চারপাশের বহু মানুষ আজ এই বিষণ্ণতায় ভোগেন কিন্তু অনুভূতির এই কান্নার আড়ালে আমরা কি কখনো আমাদের খাবারের প্লেট কিংবা উপার্জনের খতিয়ান খতিয়ে দেখেছি?

হযরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত এক যুগান্তকারী হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ পবিত্র, তিনি পবিত্র বা হালাল ছাড়া কিছুই গ্রহণ করেন না রাসুল (সা.) এমন এক মুসাফিরের উদাহরণ দেন, যার চুল এলোমেলো, শরীর ধূলিধূসরিত সে আকাশের দিকে হাত তুলেহে প্রভু! হে প্রভু!’ বলে কাঁদছে; অথচ তার খাদ্য, পানীয়, পোশাক এবং জীবিকা নির্বাহের পুরো মাধ্যমটিই হারাম রাসুল (সা.) প্রশ্ন ছুড়ে দেন, এমন ব্যক্তির দোয়া কীভাবে কবুল হতে পারে? (মুসলিম, ২৭৬০)

নৈতিকতার চাদরে সাদা আর কালোর বাইরে একটি ধূসর এলাকা বাগ্রে জোনথাকে, যাকে আমরা সন্দেহজনক বিষয় বলি হযরত নুমান ইবনু বাশীর (রা.) বর্ণিত হাদিস অনুযায়ী, হালাল হারাম একদম স্পষ্ট, কিন্তু এর মাঝে রয়েছে কিছু সন্দেহজনক বস্তু যে ব্যক্তি এই সন্দেহ পরিহার করে, তার দ্বীন সম্মান সুরক্ষিত থাকে আর যে এর ধারেকাছে যায়, সে নিষিদ্ধ চারণভূমিতে ঢুকে পড়া পশুর মতো যেকোনো সময় হারামে লিপ্ত হতে পারে রাসুল (সা.) সতর্ক করেন, মানুষের শরীরের ভেতরে একটি গোশতের টুকরো বা অন্তর আছে; সেটি যদি সঠিক পবিত্র থাকে, তবে পুরো দেহই সঠিক থাকে আর সেটি কলুষিত হলে পুরো জীবনটাই বিকৃত হয়ে যায় (মুসলিম, ২৭৬২)

আজকের করপোরেট বা অনলাইন ব্যবসার যুগে এসে অনেক উপার্জনকে আমরা সাধারণ মনে করি অথচ হযরত আবু হুজায়ফা (রা.) বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেছেন রক্ত বিক্রির অর্থ, কুকুরের মূল্য এবং ব্যভিচারের বিনিময় একই সাথে তিনি লানত বা অভিশাপ দিয়েছেন সুদ গ্রহীতা, সুদদাতা, শরীরে উল্কি (ট্যাটু) অঙ্কনকারী এবং ছবি অঙ্কনকারীর ওপর (মিশকাত, ২৭৬৫)

সততার মাপকাঠি কেমন হওয়া উচিত, তা প্রথম মুসলিম খলিফার জীবন থেকে শেখার আছে হযরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, আবুবকর সিদ্দিক (রা.)-এর এক গোলামের উপার্জিত খাবার থেকে তিনি না জেনে এক লোকমা খেয়ে ফেলেছিলেন পরে যখন জানতে পারলেন যে, সেই অর্থ গোলামটি জাহেলি যুগে মানুষকে ধোঁকা দিয়ে গণকী (জ্যোতিষী) করে কামিয়েছিল, তখন আবুবকর (রা.) সাথে সাথে মুখের ভেতর আঙুল ঢুকিয়ে পেটের সমস্ত খাদ্য বমন করে বের করে দেন (মিশকাত, ২৭৮৬)

সাফল্যের সব দুয়ার খোলার প্রধান শর্ত হলো শরীরের রক্তে হারামের ছোঁয়া না লাগা আজই আমাদের উচিত নিজের উপার্জনের উৎসটি পুনর্মূল্যায়ন করা, যেন আমাদের প্রার্থনাগুলো স্রষ্টার দরবারে পৌঁছানোর আগেই হারিয়ে না যায়

 লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

রাসুল (সা.)-এর রাতের অভ্যাস কি ছিল?

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ১০:০০ এএম
রাসুল (সা.)-এর রাতের অভ্যাস কি ছিল?
ছবি: সংগৃহীত

আধুনিক যুগের চিকিৎসকরা ঘুমানোর আগে চোখের নানা যত্নের কথা বলেন। কিন্তু আপনি কি জানেন, আজ থেকে চৌদ্দ শত বছর আগে প্রিয় রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রতি রাতে ঘুমানোর আগে চোখের সুরক্ষায় চমৎকার একটি নিয়ম মেনে চলতেন? চলুন জেনে নিই নবিজির সেই রাতের অভ্যাস–

ইসলামে বাহ্যিক সৌন্দর্য ও সুস্থতার সুষম সমন্বয় দেখা যায় প্রিয় নবি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতিটি অভ্যাসে। তিনি কেবল দিনের বেলাতেই নিজেকে পরিপাটি রাখতেন না, বরং রাতে ঘুমানোর আগেও শরীরের যত্ন নিতেন। এর মধ্যে অন্যতম একটি সুন্দর ও উপকারী সুন্নাহ হলো চোখে সুরমা লাগানো।

নবিজির (সা.) প্রিয় সুরমা ও তাঁর ব্যবহারের নিয়ম সব সুরমা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে এক রকম ছিল না। তিনি ‘ইছমিদ’ নামক একটি বিশেষ পাথর থেকে তৈরি সুরমা ব্যবহারের তাগিদ দিয়েছেন এবং একে সর্বোৎকৃষ্ট বলেছেন। নবিজি (সা.)-এর নিজস্ব একটি সুরমাদানি ছিল। প্রতি রাতে বিছানায় যাওয়ার আগে তিনি সুনির্দিষ্ট নিয়মে চোখে সুরমা মাখতেন।

ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন, ‘রাসুল (সা.)-এর একটি সুরমাদানি ছিল। প্রতি রাতে (ঘুমানোর পূর্বে) ডান চোখে তিনবার এবং বাম চোখে তিনবার সুরমা লাগাতেন।’ (সুনানুল কুবরা লিল ইমাম বাইহাকি, ৮৫১৬)
দৃষ্টিশক্তি ও সৌন্দর্যের যুগলবন্দি আল্লাহর রাসুল (সা.) সুরমা ব্যবহারের চমৎকার কিছু শারীরিক উপকারিতার কথা স্পষ্ট করে গেছেন, যা আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের গবেষণায় হুবহু প্রমাণিত হয়েছে। ‘ইছমিদ’ সুরমা মূলত চোখের দৃষ্টিকে তীক্ষ্ণ করে এবং চোখের পাতার লোম বা ভ্রূ দ্রুত ও ঘনভাবে গজাতে সাহায্য করে।

জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছে: ‘তোমরা শোয়ার সময় অবশ্যই ‘ইছমিদ’ সুরমা ব্যবহার করবে। কারণ, তা চোখের জ্যোতি বৃদ্ধি করে এবং এর ফলে অধিক ভ্রূ জন্মায়।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, ৩৪৯৬; মুসনাদে আবু ইয়ালা, ২০৫৮)
ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের জন্য ইছমিদ সুরমা সর্বোৎকৃষ্ট। কারণ, তা দৃষ্টি বাড়ায় এবং এর ফলে অধিক ভ্রূ জন্মায়।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, ৩৪৯৭; মুস্তাদরাকে হাকেম, ৮২৪৮)

সুরমার বৈজ্ঞানিক ও স্বাস্থ্যগত উপকারিতা মুহাদ্দিস ও গবেষকদের মতে, সওয়াবের নিয়তে নারী-পুরুষ উভয়ের জন্যই সুরমা লাগানো মুস্তাহাব। বিজ্ঞান বলছে, ইছমিদ সুরমা অত্যন্ত কার্যকরী জীবাণুনাশক হিসেবে কাজ করে, যা চোখের যেকোনো ছোঁয়াচে রোগ বা জীবাণুকে ধ্বংস করে। এ ছাড়া এটি বাতাসে থাকা ধুলাবালি চোখ থেকে বের করে দিতে সাহায্য করে এবং চোখ জ্বালাপোড়া করা কমায়। প্রতি রাতে সুরমা লাগানো কেবল চোখের জ্যোতিই বাড়ায় না, বরং এটি অনুসরণের মাধ্যমে একজন মুমিন খুব সহজেই সুন্নাহর সওয়াব লাভ করতে পারেন।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

১৮ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৭:০০ এএম
১৮ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি
জুন, ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচির ছবি

প্রতিদিন সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ। নামাজ (সালাত) ইসলাজুনর পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি এবং ইসলাজুনর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, (হে আল্লাহর রাসুল!) আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয় আমল কোনটি? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘নামাজ (বুখারি ও মুসলিম)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সেভাবে নামাজ আদায় করো, যেভাবে আমাকে নামাজ আদায় করতে দেখেছ।’ (বুখারি, ৬৩১)

সঠিকভাবে নামাজ আদায় করতে হলে, নামাজের সময় জানতে হবে।

 

আজ ১৮ জুন ২০২৬, বৃহস্পতিবার। ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো— 

জোহর

১২.০৩ মিনিট

আসর

৪.৩৯ মিনিট

 

মাগরিব

৬.৫১ মিনিট

 

এশা

৮.১৮ মিনিট

ফজর (১৯ জুন)

.৪৪ মিনিট

 

 

বিভাগীয় শহরের জন্য উল্লিখিত সময়ের সঙ্গে যেসব বিভাগে সময় যোগ- বিয়োগ করতে হবে।

বিয়োগ

চট্টগ্রাম: ৫ মিনিট

সিলেট: ৬ মিনিট

যোগ

খুলনা: ৩ মিনিট

রাজশাহী: ৭ মিনিট

রংপুর: ৮ মিনিট

বরিশাল: ১ মিনিট

 

সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যে জগৎ মানুষের অপেক্ষায় আছে

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৭:০০ পিএম
যে জগৎ মানুষের অপেক্ষায় আছে
ছবি: সংগৃহীত

বিজ্ঞান যেখানে আজও মহাবিশ্বের রহস্যের কূল-কিনারা করতে পারছে না, সেখানে সৃষ্টির অন্তরালে কী এমন চমক লুকিয়ে রেখেছেন মহান স্রষ্টা?
দুনিয়ার জীবনটা মানুষের জন্য এক পরীক্ষাগার। এই পরীক্ষায় যারা উত্তীর্ণ হবে, তাদের জন্য কী পুরস্কার অপেক্ষা করছে, তা মানুষের সীমিত বুদ্ধিমত্তা দিয়ে পরিমাপ করা অসম্ভব। মানবজাতির এই কৌতূহল ও আকাঙ্ক্ষাকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন রাসুলুল্লাহ (সা.)। তিনি এক হাদিসে কুদসিতে স্বয়ং আল্লাহর বাণী আমাদের শুনিয়েছেন, যা জান্নাতের প্রকৃত স্বরূপকে আমাদের সামনে উন্মোচিত করে।

মহান আল্লাহ বলেন, তিনি তাঁর পুণ্যবান ও অনুগত বান্দাদের জন্য পরকালে এমন এক রাজত্ব বা পুরস্কার তৈরি করে রেখেছেন, যা দুনিয়ার কোনো চোখ কখনো দেখেনি। আমাজন বনের অপার সৌন্দর্য, সুইজারল্যান্ডের মনোরম দৃশ্য কিংবা মানুষের তৈরি কোনো আধুনিক বিস্ময়–কোনো কিছুই তার ধারেকাছে নয়। শুধু তাই নয়, সেই জগতের সুর, আনন্দ বা কোলাহলের মাধুর্য কোনো কান কখনো শোনেনি। এমনকি মানুষের উর্বর মস্তিষ্ক বা কল্পনাশক্তিও কখনো সেই সুখের সামান্যতম অনুমান করতে সক্ষম হয়নি।

রাসুলুল্লাহ (সা.) এই অকল্পনীয় পুরস্কারের সত্যতা নিশ্চিত করতে পবিত্র কোরআনের সুরা সাজদাহর ১৭ নম্বর আয়াতটি তিলওয়াত করতেন। যেখানে স্পষ্ট বলা হয়েছে, কেউই জানে না তার জন্য তার কৃতকর্মের বিনিময়স্বরূপ নয়ন-প্রীতিকর কী পুরস্কার লুকিয়ে রাখা হয়েছে।

এ হাদিসটি আমাদের জাগতিক চিন্তার বৃত্তকে ভেঙে দেয়। আমরা সাধারণত কোনো ভালো কাজের বিনিময়ে চেনা কোনো পুরস্কারের আশা করি। কিন্তু আল্লাহ আমাদের শেখাচ্ছেন, জান্নাত কোনো চেনা উপাদানের উন্নত সংস্করণ নয়। এটি সম্পূর্ণ এক নতুন মাত্রা বা ‘ডাইমেনশন’, যা কেবল বিশ্বাসের চোখেই দেখা সম্ভব। দুনিয়ার সব কষ্ট আর ত্যাগের ক্লান্তি এক নিমেষেই মুছে যাবে, যখন বান্দা সেই ‘চোখে না দেখা’ আর ‘কল্পনা না করা’ পরম প্রাপ্তির মুখোমুখি হবে।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক