উমর (রা.) স্বপ্নে দেখলেন, তাকে বলা হচ্ছিল, তুমি ‘সামাগ’ নামক স্থানের জায়গা আল্লাহর পথে দান করো। স্বপ্নে এটা বলা হলো তিনবার। তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে এসে স্বপ্নের ঘটনা বর্ণনা করে বললেন, আল্লাহর রাসুল, যে পরিচয় আমাকে দেওয়া হয়েছে, এই ধরনের কোনো সম্পদ আমার নেই। রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, শর্তের সঙ্গে তা তুমি দান করো (অর্থাৎ কখনো মালিক হলে)।
শায়খ আবু সাদ (রহ.) বলেন, সম্পদের জাকাত শর্ত অনুযায়ী পুরোপুরি আদায় করতে দেখলে স্বপ্নদ্রষ্টা পর্যাপ্ত ধনসম্পদ পাবে। কেননা মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘আল্লাহতায়ালার সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে তোমরা যা কিছু জাকাত দিয়ে থাক, তাদেরকে দ্বিগুণ সাওয়াব দেওয়া হবে।’ (সুরা রুম, আয়াত: ৩৯)
স্বপ্নে দান করতে দেখার ফলাফল স্বপ্নদ্রষ্টার ব্যক্তিত্বের কারণে বিভিন্ন রকম হতে পারে। কোনো আলেম স্বপ্নে দান করতে দেখার ব্যাখ্যা হলো, তিনি তার ইলম মানুষের উপকারের জন্য দান করবেন। শাসক দান করতে দেখার ব্যাখ্যা হলো, তিনি বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রশাসক নিযুক্ত হবেন। ব্যবসায়ী দান করতে দেখলে, তার ব্যবসার দ্বারা বহু লোকের উপকারের অর্থ বোঝাবে। পেশাজীবী দান করতে দেখলে বুঝতে হবে, এমন বিদ্যাই সে শিক্ষা দেবে, যার ফলে তার পেশা টিকে থাকবে।
মিসকিনকে আহার করাতে দেখলে স্বপ্নদ্রষ্টা যাবতীয় চিন্তামুক্ত হবে এবং ভয়ভীতি থাকলে নিরাপত্তা পাবে। কাফেরকে আহার করাতে দেখলে, স্বপ্নদ্রষ্টা দুশমনকে শক্তিশালী করবে। ফিতরা আদায় করতে দেখলে, স্বপ্নদ্রষ্টা অধিক নামাজ পড়বে। তাসবিহ পাঠ করবে। পবিত্র কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয় যারা জাকাত দিয়েছে বা পরিশুদ্ধ হয়েছে এবং আল্লাহতায়ালাকে স্মরণ করেছে ও নামাজ পড়েছে, তারা সফলকাম হয়েছে।’ (সুরা আলা, আয়াত: ১৪-১৫)
যদি তার ওপর ঋণ থেকে থাকে, তা হলে তা পরিশোধ করবে। ওই বছর কোনো রোগ দেখা দেবে না স্বপ্নদ্রষ্টার।
(স্বপ্নের ব্যাখ্যাবিদ মুহাম্মাদ ইবনে সিরিনের বিখ্যাত বই তাফসিরুল আহলাম বা স্বপ্নের ব্যাখ্যা থেকে সংক্ষেপিত)
লেখক: আলেম ও সাংবাদিক