ঢাকা ৮ আষাঢ় ১৪৩৩, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
জন্মবার্ষিকীতে স্মরণানুষ্ঠান: সুফিয়া কামালের ব্যক্তিত্ব সবাইকে আলোকিত করে বাড়ছে নদ-নদীর পানি, বন্যার শঙ্কা সৌদিকে উড়িয়ে দিল স্পেন যুদ্ধবিরতি প্রচেষ্টায় প্রথম দফার বৈঠক শেষ, মুখোমুখি যুক্তরাষ্ট্র–ইরান ডোকুর ‘বিশ্বকাপ ছাড়ার’ সিদ্ধান্তে সমালোচনার ঝড় মালয়েশিয়ায় কারাবন্দি বাংলাদেশিদের মুক্তিতে উদ্যোগের আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর প্রথমার্ধে সৌদি আরবের জালে ৩ গোল স্পেনের তীব্র গরমের পর স্বস্তির বৃষ্টি প্রথম গোলেই ইতিহাস গড়লেন ইয়ামাল সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মোশাররফ হোসেনের দাফন সম্পন্ন সিংগাইরে বজ্রপাতে দুই কৃষকের মৃত্যু সুরের মূর্ছনায় বিশ্ব সংগীত দিবস: ঢাকার দুই প্রান্তে সুরের বিভা কুড়িগ্রামে এক বাঘা আইড় ৮৫০০০ অজু করার সময় বজ্রপাতে প্রাণ গেল ৩ মাদরাসাছাত্রের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মামলায় দণ্ডিত ৫৯ জন: আইনমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ‘অসত্য’ বক্তব্য, উত্তপ্ত সংসদ স্পেনের শুরুর একাদশে ইয়ামাল সুফিয়া কামাল ও আবু হেনা মোস্তফা কামালের স্মরণে জবিতে দুই দিনব্যাপী সেমিনার শুরু মানিকগঞ্জে ঝোপে মিলল স্কুলছাত্রীর ঝুলন্ত খণ্ড-বিখণ্ড মরদেহ মালয়েশিয়ায় তারেক রহমান, বাণিজ্য–বিনিয়োগে নতুন সম্ভাবনার প্রত্যাশা দিনাজপুরে কোল্ডস্টোরেজে আলু সংরক্ষণ ফি ৫ টাকা নির্ধারণের দাবিতে মানববন্ধন চট্টগ্রামে গণপিটুনিতে যুবকের মৃত্যু, তদন্তে পুলিশ শরীয়তপুরে শিশু যৌন নিপীড়নের অভিযোগে মাদরাসা শিক্ষক আটক স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থীর রাজনৈতিক পরিচয় মুখ্য নয়: ইসি সচিব বোয়ালমারীতে শতবর্ষী কালী মন্দিরে ভাঙচুর চাঁদাবাজির অভিযোগে সোনারগাঁওয়ের এমপি পুত্র সজীব আটক প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়ায় পৌঁছেছেন তারেক রহমান মাদারগঞ্জে বজ্রপাতে এক বৃদ্ধের মৃত্যু ‘কাতারে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত বাংলাদেশিদের মরদেহ দেশে আনার উদ্যোগ নিচ্ছেন’ আধ্যাত্মিক ধনী হওয়ার সহজ সমীকরণ

বিশেষ প্রতিবেদন ইসলামি প্রকাশনাশিল্প : সমস্যা-সম্ভাবনা

প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৪, ০৮:৩০ এএম
ইসলামি প্রকাশনাশিল্প : সমস্যা-সম্ভাবনা
মতামত প্রদানকারী ছয়জন প্রকাশকের ছবি ও নাম। খবরের কাগজ

প্রতি বছর ইসলামিক ফাউন্ডেশন বইমেলা ও অমর একুশে বইমেলায় ইসলামি প্রকাশকদের স্টল পেতে বেশ বেগ পোহাতে হয়। অনেকে পানও না। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মেলা নিয়ে এবার আন্দোলনও হয়েছে জোরেশোরে। প্রকাশকদেরও নেই সম্মিলিত কোনো অ্যাসোসিয়েশন। ইসলামি প্রকাশনীগুলো ব্যক্তিগত উদ্যোগে গত কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন জায়গায় ছোট পরিসরে মেলা করছেন। ইসলামি প্রকাশনাশিল্পের সমস্যা-সম্ভাবনা, অমর একুশে বইমেলা ও ইসলামিক ফাউন্ডেশন মেলা, প্রকাশনী ও লেখকদের মাঝে সম্পর্ক কেমন হওয়া উচিত এবং দেশি লেখকদের মৌলিক বই প্রকাশে প্রকাশকদের আগ্রহ কেমন—এমন নানা বিষয়ে ছয়জন প্রকাশক কথা বলেছেন খবরের কাগজের সঙ্গে। 

ইসলামি প্রকাশনীগুলোর অংশগ্রহণে মেলা হোক
— ওবায়দুল্লাহ আযহারী 
স্বত্বাধিকারী, মাকতাবাতুল আযহার 

প্রতিটি জাতীয় বইমেলায় অংশগ্রহণ করতে ইচ্ছুক আমরা। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ইসলামি বইমেলা ও একুশের বইমেলা—দুটোতেই আমরা সব শর্ত মেনেই নিয়মিত আবেদন করেছি। কখনো পেতাম, কখনো পেতাম না।
আমাদের দাবি হলো, ইসলামি বইমেলা যেন সব ইসলামি প্রকাশনীর অংশগ্রহণমূলক হয়। যারা নিয়ম মেনে আবেদন করবে, তারা যেন স্টল বরাদ্দ পায়। অমর একুশে বইমেলাতেও যেসব ইসলামি প্রকাশনী নিয়ম-কানুন মেনে আবেদন করবে, তাদেরও যেন স্টল দেওয়া হয়। মেলা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এমন কোনো নিয়ম যেন না আসে, যা ইসলামের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। যা ইসলামি ভাবধারার প্রকাশনীর চেতনাবিরোধী। প্রসঙ্গত জানিয়ে রাখতে চাই, ইসলামি বইয়ের প্রকাশকদের দুটি ভিন্ন সমিতি রয়েছে। একটি হলো, বাংলাদেশ সৃজনশীল ইসলামী পুস্তক প্রকাশক সমিতি, অন্যটি হলো বাংলাদেশ ইসলামী প্রকাশক ফোরাম।
আমাদের দাবি হলো—এই দুটো সমিতির সব সদস্য যেন স্টল পায়। রাষ্ট্রীয় আনুকূল্য ও মিডিয়ার যথাযথ প্রচার পায়, এমন বৃহৎ পরিসরে মেলা আয়োজন করা। সেটা বাইতুল মুকাররমসংলগ্ন কোনো চত্বরে হোক, বা অন্য কোনো বড় জায়গায় হোক, আমরা সাধুবাদ জানাই। 

প্রকাশকদের দাবি মানলে ইফা গৌরব ফিরে পাবে
— দেওয়ান মো. মাহমুদুল ইসলাম
স্বত্বাধিকারী, রাহনুমা প্রকাশনী

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বইমেলা মারাত্মকভাবে অবহেলিত হয়ে আছে। কোনো নীতিমালা নেই, কর্তৃপক্ষের স্বদিচ্ছা নেই এবং মানসম্মত সৃজনশীল প্রকাশকদের অংশগ্রহণেরও তেমন সুযোগ নেই। বিগত কয়েক বছরে সৃজনশীল প্রকাশকদের পক্ষ থেকে একটি অংশগ্রহণমূলক ভালো ও আন্তর্জাতিক মানের মেলা করার জন্য ফাউন্ডেশন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমরা অনেকবার বসেছি, অনুরোধ করেছি, সর্বাত্মক সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছি, কিন্তু কর্তৃপক্ষের কোনো সহযোগিতা আমরা পাইনি; উল্টো আমরা নানারকম অবিচার ও নিগ্রহের শিকার হয়েছি।
দেশের সামগ্রিক অবস্থার পরিবর্তনের প্রেক্ষিতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মেলা নিয়ে বাংলাবাজারসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলার প্রকাশকদের পক্ষ থেকে ধর্ম উপদেষ্টা, ইফার ডিজি ও মেলা কমিটিকে (বর্তমানে মেলা কমিটি নেই) কিছু অধিকারের কথা জানানো হয়। এই অধিকারগুলোর সঠিকভাবে প্রয়োগ হলে একটি সুশৃঙ্খল, দৃষ্টিনন্দন, পাঠকপ্রিয় ও গ্রহণযোগ্য আলোচিত বইমেলার আয়োজন করা সম্ভব।  প্রকাশকদের দাবিগুলোর প্রতিফলন ঘটলে ইফা তার পুরোনো গৌরব ফিরে পাবে। বাংলাদেশের আপামর ধর্মপরায়ণ মানুষ একটি ধর্মীয় সংস্কৃতি উপহার পাবে। ইসলামি প্রকাশক ও লেখকরা ইসলামি সাহিত্যের বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চাকে আরও উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারবেন। 

ইসলামি পুস্তক প্রকাশকদের ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্ম প্রয়োজন
— আহমাদ গালিব
স্বত্বাধিকারী, মাকতাবাতুল ইসলাম

ইসলামি বই প্রকাশ করেন এমন প্রকাশকের সংখ্যা তিন শতাধিক। তাদের মধ্য থেকে শ-খানেক প্রকাশক দুটি সমিতিতে বিভক্ত। একটি বাংলাদেশ সৃজনশীল ইসলামী পুস্তক প্রকাশক সমিতি, অপরটি বাংলাদেশ ইসলামী প্রকাশক ফোরাম। একটি ব্যবসায়িক অ্যাসোসিয়েশন যেসব বৈশিষ্ট্য ও নিয়ম-কানুন ধারণ করে সক্রিয় থাকে, এই দুটি সমিতি তেমন নয়। তাই বলা যায়, ইসলামি পুস্তক প্রকাশকদের শক্তিশালী কোনো ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্ম নেই। যদি বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য সব ইসলামি পুস্তক প্রকাশক ঐক্যবদ্ধভাবে একটি অ্যাসোসিয়েশন গড়ে তুলে সক্রিয় থাকেন, তা হলে তা তুলনামূলক অধিক কার্যকর ও শক্তিশালী রূপ লাভ করবে। সরকারের কাছ থেকে বিভিন্ন দাবি-দাওয়া আদায়ে সহায়ক হবে। 
এদিকে ইসলামি পুস্তক প্রকাশকদের মাঝে যোগাযোগের ঘাটতি এবং মাজহাবকেন্দ্রিক নানা মতপার্থক্যের কারণে সম্প্রীতির বন্ধন কিছুটা দুর্বল। ফলে শক্তিশালী অ্যাসোসিয়েশন তাদের মাঝে গড়ে উঠবে কি না এ বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা যায় না। তবে আশা রাখি, সবাই শক্তিশালী ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্ম গড়তে এগিয়ে আসবে। 

একুশে বইমেলাতে স্টল বরাদ্দে বৈষম্য দূর হোক
— নূর মোহাম্মাদ আবু তাহের 
ব্যবস্থাপনা পরিচালক, গার্ডিয়ান পাবলিকেশন্স

স্টল না পাওয়ার দায় একাডেমি কর্তৃপক্ষ ও প্রকাশনা সংস্থা দুই পক্ষেরই। বাংলা একাডেমি নির্ধারিত শর্তাবলি না মেনে ছলচাতুরী করে বইমেলায় স্টল নেওয়ার আকাঙ্ক্ষার দায় কিছু প্রকাশনাকে নিতে হবে। বিপরীতে সব শর্তপূরণ করার পরও শুধু চিন্তাকাঠামোর ভিন্নতায় পরিকল্পিতভাবে কোনো কোনো প্রকাশনীকে স্টল বরাদ্দ না দেওয়ার সম্পূর্ণ দায় একাডেমির কর্তাব্যক্তিদের। বুদ্ধিবৃত্তি নিয়ে কাজ করা মানুষগুলোও যখন কেবল রাজনৈতিক বিবেচনাকে সামনে রেখে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন, তখন প্রচণ্ড হতাশা এসে ভর করে। 
রাজনৈতিক বিবেচনা পরিহার করে পেশাদার ও নৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে স্টল বরাদ্দ দিলে কারও আপত্তিই গ্রহণযোগ্য হবে না। স্টলবঞ্চিত প্রকাশনীগুলো বাংলা একাডেমি বর্ণিত শর্তাবলি পূরণ করে শুধু ইনসাফের দরজার দিকে তাকিয়ে থাকতে পারে। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের বৈষম্যবিরোধী স্পিরিট দেশের সর্বত্র যেমন আকাঙ্ক্ষিত, বাংলা একাডেমির বইমেলাতেও সেই স্পিরিট অনেক বেশি প্রত্যাশিত। বাংলা একাডেমির অমর একুশে বইমেলাতে স্টল বরাদ্দের ক্ষেত্রে বৈষম্য দূর হোক। যথাযথ প্রক্রিয়ায় আবেদন করা প্রকাশনাকে স্টল দেওয়া হোক। 

মৌলিক বই আরও প্রকাশ করা প্রয়োজন
— শাহাদাৎ হুসাইন
প্রকাশক, মাকতাবাতুত তাকওয়া

ইসলামি প্রকাশনীগুলো বাংলাদেশি লেখকদের মৌলিক বই প্রকাশ করতে চান না; অভিযোগটি অবান্তর নয়। এর বাস্তবতা আছে। তবে এখন অনেক প্রকাশনী মৌলিক বই প্রকাশ করছেন। তারা সফলও হচ্ছেন। আমাদের দেশের অনেক লেখক যোগ্যতার বাইরে গিয়ে ভিন্ন বিষয়ে লেখেন। তখন বইটি প্রকাশ করা হলে মার্কেটে কদর থাকে না। পাঠকরা আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। দেশের যোগ্যতাসম্পন্ন যেসব ব্যক্তি মৌলিক বই লিখেছেন, তাদের বইগুলো বেশ পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছে। যারা অগাধ জ্ঞানের অধিকারী ও যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তি, তারা যদি মৌলিক বিষয়ে কাজ করেন, তা হলে খুব ভালো চলে। প্রকাশকরাও ছাপতে আগ্রহী হন। পাঠকও আগ্রহভরে কেনেন। 
আমাদের কওমি জগৎটা আকাবির, আসলাফ ও মুরব্বিকেন্দ্রিক। সবাই তাদের বই পড়ার চেষ্টা করে। ভিনদেশি ইসলামি স্কলারদের বই প্রকাশ করলে পাঠকরাও নিতে আগ্রহ দেখান বেশি, প্রকাশকরাও প্রকাশ করে লাভবান হন। তবে দেশি লেখকদের মৌলিক বই আরও বেশি প্রকাশ করা প্রয়োজন। মৌলিক বই লেখার ক্ষেত্রে লেখকদেরও যথেষ্ট জ্ঞান ও গবেষণা করে লেখা উচিত। 

লেখক-প্রকাশকদের সম্পর্কের উন্নতি ঘটুক
— আহমেদ ইয়াসিন
ব্যবস্থাপনা পরিচালক, সমকালীন প্রকাশন 

লেখকদের বইয়ের সম্মানী দেওয়া নিয়ে আগে নানা ধরনের আলাপ ছিল। বিশেষ করে ২০১৫ সালের আগে অনেক প্রকাশনী সম্মানী দিতেন না। এর পর প্রকাশনা অঙ্গনে বড় পরিবর্তন এসেছে। শুধু প্রকাশকরাই নন; লেখকরাও এ ব্যাপারে বেশ সচেতন। প্রকাশক ও লেখকদের মধ্যকার সম্পর্কও আগের তুলনায় এখন ভালো ও স্বচ্ছ। আমার মনে হয়, সম্মানী নিয়ে লেখকরা অভিযোগ করেন না এখন। যদি থেকেও থাকে, আমার জানা নেই। 
যেসব লেখককে আমরা চিনি, জানি বা যাদের সঙ্গে আমার কথাবার্তা হয়, ওঠাবসা আছে—তাদের কাছ থেকে আমরা এ রকম কোনো অভিযোগ শুনিনি। এটা এখন মীমাংসিত বিষয়। 
একটা সময় লেখক এবং অনুবাদকরা কাজের বিনিময়ে যে পারিশ্রমিক বা সম্মানী পাওয়ার কথা, সেটা থেকে বঞ্চিত হতেন। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে এই অবস্থা আর বিরাজমান নেই। আমরা চাই এ অবস্থার আরও উন্নতি ঘটুক। প্রকাশনাশিল্প আরও সমৃদ্ধ হোক। লেখক-প্রকাশকদের চাওয়া-পাওয়াগুলো আরও সুন্দর ও সুগম হোক।

 

আধ্যাত্মিক ধনী হওয়ার সহজ সমীকরণ

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ০৭:০০ পিএম
আধ্যাত্মিক ধনী হওয়ার সহজ সমীকরণ
ছবি: সংগৃহীত

ভাবুন তো, মাত্র এক মিনিটে যদি আপনার ব্যাংক ব্যালান্সে এক হাজার ডলার জমা হয়, তবে কেমন লাগবে? দুনিয়ার বুকে এমন কোনো বৈধ ব্যবসা নেই যা আপনাকে মাত্র ৬০ সেকেন্ডে এত বড় মুনাফা দিতে পারে। অথচ আখেরাতের বাজারে প্রতিদিন মাত্র এক মিনিটে এক হাজার নেকি অর্জন করা এবং একই সঙ্গে এক হাজার গুনাহ মাফ করিয়ে নেওয়া সম্ভব! রাসুল (সা.) আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের এমন কিছু অবিশ্বাস্য আধ্যাত্মিক সমীকরণ শিখিয়েছেন, যা আধুনিক মানুষকে এক নিমেষেই পরকালের শ্রেষ্ঠ ধনীতে পরিণত করতে পারে।

আমরা অনেকেই মনে করি, অনেক বড় ইবাদত বা কঠিন পরিশ্রম ছাড়া বড় সওয়াব পাওয়া অসম্ভব। কিন্তু আল্লাহর রাসুল (সা.) এই ধারণাটি সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছেন।
হযরত সা’দ ইবনে আবু অক্কাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। তিনি বললেন, তোমাদের কোনো ব্যক্তি প্রত্যহ এক হাজার নেকি অর্জন করতে অপারগ হবে কি?  উপস্থিত একজন জিজ্ঞেস করলেন, ‘কীভাবে এক হাজার নেকি অর্জন করবে?’ তিনি বললেন, একশ’বার তাসবীহ (সুবহানাল্লাহ) পড়বে। ফলে তার জন্য এক হাজার নেকি লেখা হবে এবং এক হাজার গুনাহ মিটিয়ে দেওয়া হবে। (মুসলিম, ২৬৯৮; তিরমিজি, ৩৪৬৩)

নতুন দৃষ্টিকোণ: মুহাদ্দিসগণের সুক্ষ্ম ভাষ্য ও বর্ণনার পাঠভেদ (যেমন- শু’বাহ ও ইয়াহয়্যা আলক্বাত্তানের বর্ণনা) অনুযায়ী, এখানে ‘অথবা’ নয়, বরং ‘এবং’ শব্দটির ব্যবহারই অগ্রগণ্য। অর্থাৎ, মাত্র ১০০ বার ‘সুবহানাল্লাহ’ বললে ১০০০ নেকি পাওয়ার পাশাপাশি একই সঙ্গে ১০০০ গুনাহও খাতা থেকে মুছে যায়।
বিজ্ঞান বলে মানুষের শরীরে শত শত হাড়ের জোড় বা জয়েন্ট রয়েছে। ইসলাম এই প্রতিটি সুস্থ জয়েন্টের জন্য প্রতিদিন সকালে একটি ‘সদকা’ বা ট্যাক্স ধার্য করেছে। কিন্তু সেই ট্যাক্স পরিশোধের উপায়টি কত চমৎকার!

হযরত আবু যার (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, তোমাদের প্রত্যেকের প্রতিটি (হাড়ের) জোড়ের পক্ষ থেকে প্রতিদিন সদকা দেওয়া আবশ্যক। প্রতিটি ‘সুবহানাল্লাহ’ সদকা, ‘আলহামদু লিল্লাহ’ সদকা, ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ সদকা এবং ‘আল্লাহু আকবার’ বলাও সদকা। সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ করাও সদকা। আর এসব কিছুর পরিবর্তে চাশতের (পূর্বাহ্নের) দুই রাকাআত নামাজ পড়াই যথেষ্ট। (মুসলিম, ৭২০; সুনানে আবু দাউদ, ১২৮৫)

মহাবিশ্বের পরম সত্তা আল্লাহতায়ালা বান্দার সঙ্গে কেমন আচরণ করবেন, তার পুরো নিয়ন্ত্রণ কিন্তু বান্দার নিজের চিন্তাভাবনার ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আল্লাহতায়ালা বলেন: আমি আমার বান্দার ধারণার পাশে থাকি (সে যেমন ধারণা করে, আমি তেমনই করি)। সে যখন আমাকে মনে মনে স্মরণ করে, আমি তাকে আমার মনে স্মরণ করি। আর সে যদি কোনো সভায় আমাকে স্মরণ করে, তবে আমি তাকে তাদের চেয়েও উত্তম (ফেরেশতাদের) সভায় স্মরণ করি। (বুখারি, ৭৪০৫; মুসলিম, ২৬৭৫)

মুখের কোণে একটু ‘সুবহানাল্লাহ’র গুঞ্জন আর দিনের শুরুতে দুই রাকাআত চাশতের নামাজ–এই সামান্য অভ্যাসগুলোই আমাদের পুরো দিনটিকে আল্লাহর সুরক্ষায় মুড়িয়ে দেয়। সবচেয়ে বড় কথা, আমরা যখন নির্জনে বা জনসম্মুখে আল্লাহকে ডাকি, তখন স্বয়ং স্রষ্টা আমাদের নাম নিয়ে ফেরেশতাদের সামনে গর্ব করেন। 

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

কোরআন সুন্নাহ মাল্টিমিডিয়ার তিন হাফেজের সৌদি আরব যাত্রা

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ০২:২৩ পিএম
আপডেট: ২১ জুন ২০২৬, ০২:২৯ পিএম
কোরআন সুন্নাহ মাল্টিমিডিয়ার তিন হাফেজের সৌদি আরব যাত্রা
ছবি: সংগৃহীত

পবিত্র কোরআনের আলোয় বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে সৌদি আরব যাচ্ছেন কোরআন সুন্নাহ (কিউএস) মাল্টিমিডিয়ার তিন মেধাবী হাফেজে কোরআন। সৌদি আরব আন্তর্জাতিক হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতা-২০২৬-এ বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে অংশগ্রহণের গৌরবময় সুযোগ অর্জন করেছেন তারা।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বিশ্বমঞ্চে এই তিন হাফেজের অংশগ্রহণ দেশের জন্য এক অনন্য গৌরব ও মর্যাদার মুহূর্ত বয়ে আনবে।

আন্তর্জাতিক এই আসরে সুযোগ পাওয়ার আগে এই তিন হাফেজ দেশের শীর্ষস্থানীয় তিনটি জাতীয় হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছেন। তারা কিউএস মাল্টিমিডিয়া আয়োজিত— আরটিভির (Rtv) 'আলোকিত কোরআন', চ্যানেল ২৪-এর (Channel 24) 'সময়ের সেরা হাফেজ' এবং জিটিভির (Gtv) 'কুরআনের ছোঁয়া' প্রতিযোগিতায় যথাক্রমে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জন করে দেশব্যাপী কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখেন। জাতীয় পর্যায়ের সেই গৌরবময় বিজয়ই এবার তাদের বিশ্বমঞ্চের টিকিট এনে দিয়েছে।

AvjvwKZ KviAvb (AviwUwf)Õi 2019-Gi P¨vw¤úqb| †kL gvngy`yj nvmvb AvkÖvwd

 

KziAv‡bi †Qvuqv (wRwUwf)Õi 2021-Gi P¨vw¤úqb| nv‡dR byiæwÏb RvKvwiqv

 

mg‡qi †miv nv‡dR (P¨v‡bj 24)Õi 2026-Gi 3q ¯’vb AR©bKvwibx| iv‡eZv web‡Z igRvb

 

এই অসামান্য অর্জনে কোরআন সুন্নাহ মাল্টিমিডিয়ার চেয়ারম্যান হাফেজ মাওলানা লুৎফর রহমান উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। তিনি তিন হাফেজের সাফল্য কামনা করে দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়ে বলেন, এই তিন হাফেজ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আমাদের দেশের সম্মান ও মর্যাদাকে বিশ্ব দরবারে আরও উজ্জ্বল করবে ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ তায়ালা তাদের এই যাত্রাকে সফল করুন, কোরআনের খেদমতে কবুল করুন এবং বাংলাদেশের জন্য আরও সম্মান ও গৌরব বয়ে আনার তাওফিক দান করুন। আমিন।

 

কিউএস মাল্টিমিডিয়া কর্তৃপক্ষ জানায়, জাতীয় গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করতে এই তিন কৃতি হাফেজ সম্পূর্ণ প্রস্তুত। দেশের মানুষের ভালোবাসা ও দোয়া সঙ্গে নিয়ে তারা সৌদি আরবের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

মা-বাবাকে অবহেলা করো না, জাহান্নাম নেমে আসবে পৃথিবীতে!

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ১০:১৩ এএম
মা-বাবাকে অবহেলা করো না, জাহান্নাম নেমে আসবে পৃথিবীতে!
ছবি: সংগৃহীত

খলিফা উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর শাসনামল। ইয়েমেন থেকে প্রতিবার হজযাত্রী বা সাহায্যকারী দল মদিনায় এলে উমর (রা.) ভিড়ের ভেতর একজন মানুষকে খুঁজতেন। নাম তার উওয়াইস আল-কারনি। অপরিচিত, গরিব, সাধারণ এক রাখাল। তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জীবনে একবারও দেখতে পাননি–কারণ ইয়েমেনে তার এক অসুস্থ বৃদ্ধা মা ছিলেন, যাকে ছেড়ে তিনি হিজরত করতে পারেননি। মায়ের সেবাই ছিল তার সবচেয়ে বড় ইবাদত।

অথচ এই অপরিচিত মানুষটি সম্পর্কেই রাসুলুল্লাহ (সা.) আগেই বলে গিয়েছিলেন–ইয়েমেন থেকে উওয়াইস নামে এক ব্যক্তি আসবে, যে তার মায়ের প্রতি অত্যন্ত অনুগত; সে যদি আল্লাহর নামে কসম করে, আল্লাহ তার কসম পূর্ণ করে দেন। নবিজি (সা.) বলেছিলেন, সম্ভব হলে তার কাছে নিজেদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনার দোয়া চেয়ে নিও। সেই নির্দেশ অনুযায়ী, মুসলিম জাহানের খলিফা উমর (রা.) নিজে এই অখ্যাত যুবকের কাছে গিয়ে বলেছিলেন, আমার জন্য আল্লাহর কাছে মাগফিরাত চেয়ো। (মুসলিম, ২৫৪২)

মানুষের জীবনে মায়ের অবদান অপরিসীম, অপরিশোধ্য। আল্লাহতায়ালা এরশাদ করেছেন, ‘আর আমি মানুষকে তার মা-বাবার ব্যাপারে নির্দেশ দিয়েছি; তার মা তাকে কষ্টের পর কষ্ট সয়ে গর্ভে ধারণ করেছে, আর তার দুধ ছাড়ানো হয় দুই বছরে। (নির্দেশ এই যে) তুমি আমার প্রতি ও তোমার মা-বাবার প্রতি কৃতজ্ঞ হও।’ (সুরা লুকমান, ১৪)
লক্ষ করুন, আল্লাহ এখানে নিজের শুকরিয়ার পাশেই মা-বাবার শুকরিয়াকে যুক্ত করেছেন এবং মা সন্তানকে কষ্ট সয়ে গর্ভে ধারণ করেছে, কষ্ট সয়েই জন্ম দিয়েছে। এই কষ্টের কারণেই মায়ের অধিকার বাবার চেয়েও বহুগুণ বেশি।

একবার এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে এসে জিজ্ঞেস করলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! আমার উত্তম সঙ্গ পাওয়ার সবচেয়ে বেশি হকদার কে?’ তিনি বললেন, ‘তোমার মা।’ লোকটি বলল, ‘তারপর কে?’ তিনি বললেন, ‘তোমার মা।’ আবার জিজ্ঞেস করলে আবারও বললেন, ‘তোমার মা।’ চতুর্থবার বললেন, ‘এরপর তোমার বাবা।’ (বুখারি, ৫৯৭১; মুসলিম, ২৫৪৮)। তিনবার ‘মা’ আর একবার ‘বাবা’–এ যেন স্রষ্টার নির্ধারিত মর্যাদার নিক্তি।

মাকে অবহেলা করার পরিণাম খুবই ভয়াবহ। যে সন্তান এই নিয়ামতকে অবহেলা করে, তার পরিণতি ভয়াবহ। রাসুলুল্লাহ (সা.) তিনবার বললেন, ‘তার নাক ধুলায় মলিন হোক! তার নাক ধুলায় মলিন হোক! তার নাক ধুলায় মলিন হোক!’ সাহাবিরা জিজ্ঞেস করলেন, ‘কে সে, হে আল্লাহর রাসুল?’ তিনি বললেন, ‘যে ব্যক্তি তার পিতা-মাতা অথবা তাদের একজনকে বার্ধক্যে পেল, অথচ (তাদের সেবা করে) জান্নাতে প্রবেশ করতে পারল না।’ (মুসলিম, ২৫৫১)

বৃদ্ধ মা যখন সবচেয়ে অসহায়, ঠিক তখনই যদি সন্তান মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে খোলা জান্নাতের দরজাও তার জন্য বন্ধ হয়ে যায়। পিতা-মাতার অবাধ্যতাকে রাসুলুল্লাহ (সা.) শিরকের পরই সবচেয়ে বড় কবিরা গুনাহের মধ্যে গণ্য করেছেন (বুখারি)। আর সবচেয়ে ভীতিকর বার্তা এই যে, এর শাস্তি কেবল আখিরাতে নয়–দুনিয়াতেই নেমে আসে। 
আবু বাকরা (রা.) বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘সব গুনাহের শাস্তি আল্লাহ যতটা ইচ্ছা কিয়ামত পর্যন্ত পিছিয়ে দেন, কিন্তু পিতা-মাতার অবাধ্যতার শাস্তি তিনি বান্দার জন্য মৃত্যুর আগে, এ দুনিয়াতেই ত্বরান্বিত করে দেন।’ (মুস্তাদরাকে হাকিম, ৪/১৫৬)

লেখিকা: আলেমা ও গৃহিণী

 

২১ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ০৭:০০ এএম
২১ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি
জুন, ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচির ছবি

প্রতিদিন সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ। নামাজ (সালাত) ইসলাজুনর পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি এবং ইসলাজুনর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত।

আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, (হে আল্লাহর রাসুল!) আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয় আমল কোনটি? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘নামাজ (বুখারি ও মুসলিম)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সেভাবে নামাজ আদায় করো, যেভাবে আমাকে নামাজ আদায় করতে দেখেছ।’ (বুখারি, ৬৩১)

সঠিকভাবে নামাজ আদায় করতে হলে, নামাজের সময় জানতে হবে।

 

আজ ২১ জুন ২০২৬, রবিবার। ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো— 

জোহর

১২.০৩ মিনিট

আসর

৪.৩৯ মিনিট

 

মাগরিব

৬.৫১ মিনিট

এশা

৮.০৮ মিনিট

 

ফজর (২২ জুন)

.৪৪ মিনিট

 

 বিভাগীয় শহরের জন্য উল্লিখিত সময়ের সঙ্গে যেসব বিভাগে সময় যোগ-বিয়োগকরতে হবে।

বিয়োগ

চট্টগ্রাম: ৫ মিনিট

সিলেট: ৬ মিনিট

যোগ

খুলনা: ৩ মিনিট

রাজশাহী: ৭ মিনিট

রংপুর: ৮ মিনিট

বরিশাল: ১ মিনিট

 

সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তীব্র তাপপ্রবাহে করণীয়

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৫:০০ পিএম
তীব্র তাপপ্রবাহে করণীয়
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের আকাশ এখন আগুনঝরা। বিভিন্ন জেলার ওপর দিয়ে বইছে তাপপ্রবাহ; কোথাও কোথাও তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি ছুঁইছুঁই। রাস্তায় বের হওয়া দিনমজুর, রিকশাচালক, কৃষক ও খেটে খাওয়া মানুষ এই তাপপ্রবাহে সবচেয়ে কষ্টে আছেন। এমন সময়ে একজন মুমিনের কর্তব্য কেবল গরমে হাঁসফাঁস করা নয়; বরং ঈমান, সবর ও সতর্কতা মিলিয়ে নিরাপদভাবে জীবনযাপনের চেষ্টা করা উচিত।

ইসলাম তাপকে নিছক প্রাকৃতিক বিড়ম্বনা হিসেবে দেখে না, দেখে এক গভীর স্মারক হিসেবে। আল্লাহতায়ালা এরশাদ করেছেন, ‘বলো, জাহান্নামের আগুন এর চেয়েও কঠিন উত্তপ্ত, যদি তারা বুঝত!’ (সুরা তাওবা, ৮১)। দুনিয়ার সামান্য রোদের এই অসহনীয় তাপ আমাদের মনে করিয়ে দেয়; আখিরাতের কঠিন উত্তাপের কথা। তাই গরম যেন আমাদের গুনাহ থেকে বিরত থাকার এবং বেশি বেশি ইস্তিগফারের তাগিদ দেয়।

আবার পানির অপরিহার্যতা স্মরণ করিয়ে আল্লাহ এরশাদ করেছেন, ‘আমি পানি থেকেই প্রতিটি জীবন্ত বস্তু সৃষ্টি করেছি।’ (সুরা আম্বিয়া, ৩০)। গরমে শরীরের পানিশূন্যতাই সবচেয়ে বড় বিপদ, তাই পানির এই নিয়ামতের কদর করা ঈমানি দায়িত্ব। পানাহারে আল্লাহর নির্দেশ হলো সংযম, তিনি এরশাদ করেছেন, ‘খাও ও পান করো, কিন্তু অপচয় করো না।’ (সুরা আরাফ, ৩১)।

তীব্র গরমে নামাজ নিয়েও রাসুলুল্লাহ (সা.) দিয়েছেন স্বস্তির নির্দেশনা। তিনি বলেছেন, ‘গরম যখন প্রচণ্ড হয়, তখন (জোহরের) নামাজ ঠাণ্ডার সময়ে আদায় করো; কেননা প্রচণ্ড গরম জাহান্নামের উত্তাপের নিশ্বাস থেকে।’ (বুখারি, ৫৩৩-৫৩৪; মুসলিম, ৬১৫)। অর্থাৎ দুপুরের তীব্র রোদে কষ্ট করে নয়, একটু দেরিতে; যখন তাপ কমে আসে, তখন জোহর পড়ার অনুমতি দিয়েছেন তিনি। এ যেন গরমকালে মুসল্লির জন্য রহমতস্বরূপ ব্যবস্থা।


তাপপ্রবাহে নিরাপদ থাকতে সুন্নাহ ও বিজ্ঞান মিলিয়ে পরামর্শগুলো মেনে চলা যায়–

প্রথমত, পর্যাপ্ত পানি পান করুন। তৃষ্ণা পাওয়ার অপেক্ষায় না থেকে নিয়মিত পানি, ডাবের পানি বা খাবার-স্যালাইন পান করুন। অতিরিক্ত ঘামে শরীর থেকে লবণ বেরিয়ে যায়, তাই স্যালাইন বিশেষ উপকারী। আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে সবচেয়ে প্রিয় পানীয় ছিল মিষ্টি ও ঠাণ্ডা পানীয় (তিরমিজি, ১৮৯৫)।

তীব্র গরমে ডাবের পানি, লেবু-পানি বা ঠাণ্ডা পানি যে শরীর ও মনকে স্বস্তি দেয়, নবিজি (সা.)-এর এই পছন্দে তারই ইঙ্গিত আছে। আর পানি পানের পদ্ধতিও তিনি শিখিয়েছেন–এক নিশ্বাসে ঢকঢক করে নয়, বরং কয়েক নিশ্বাসে ধীরে ধীরে পান করতেন (মুসলিম, ২০২৮)। গরমে হঠাৎ অতিরিক্ত ঠাণ্ডা পানি একসঙ্গে গলায় ঢালার চেয়ে এ পদ্ধতি অনেক বেশি নিরাপদ।

দ্বিতীয়ত, রোদ এড়িয়ে চলুন। বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৩-৪টা পর্যন্ত সূর্য সবচেয়ে প্রখর থাকে। এ সময় খুব প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়াই ভালো; বের হলে ছাতা, টুপি বা ভেজা কাপড় ব্যবহার করুন। রাসুলুল্লাহ (সা.) দীর্ঘক্ষণ এমনভাবে বসতে নিষেধ করেছেন, যাতে শরীরের একাংশ রোদে আর একাংশ ছায়ায় থাকে; তিনি একে শয়তানের বসার স্থান বলেছেন (আবু দাউদ, ৪৭৮৮)। আলেমরা ব্যাখ্যা করেছেন, এর একটি হিকমত হলো রোদের তাপে কষ্ট পাওয়া এড়ানো। অর্থাৎ দুপুরের প্রখর রোদকে নবিজি (সা.) নিজেই এড়িয়ে চলার শিক্ষা দিয়েছেন।

তৃতীয়ত, হালকা ও ঢিলেঢালা পোশাক পরুন। ইসলাম পর্দা ও শালীনতা বজায় রেখে আরামদায়ক পোশাকের অনুমতি দেয়। সুতির, হালকা রঙের ঢিলেঢালা কাপড় তাপ শোষণ কম করে এবং বাতাস চলাচলে সাহায্য করে। আনাস ও উম্মে সালামা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে সবচেয়ে প্রিয় পোশাক ছিল ‘কামিস’ (লম্বা, ঢিলেঢালা জামা) (আবু দাউদ, ৪০২৫; তিরমিজি, ১৭৬২) 
উষ্ণ আবহাওয়ায় তার পরিধেয় ছিল মূলত ঢিলেঢালা ও আবৃত পোশাক, যা শরীরকে রোদ থেকে রক্ষা করত আর বাতাস চলাচলেও বাধা দিত না। 

চতুর্থত, হালকা খাবার খান। ভারী, অতিরিক্ত মসলাযুক্ত ও বেশি ভাজাপোড়া খাবার গরমে শরীরের ওপর চাপ বাড়ায়। মৌসুমি ফল, শসা, লেবু-পানি শরীরকে ঠাণ্ডা রাখে।
মিকদাম ইবনে মাদিকারিব (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আদম-সন্তান পেটের চেয়ে খারাপ কোনো পাত্র পূর্ণ করে না। মেরুদণ্ড সোজা রাখার মতো কয়েক লোকমাই তার জন্য যথেষ্ট। তবু যদি বেশি খেতেই হয়, তাহলে এক-তৃতীয়াংশ খাবারের জন্য, এক-তৃতীয়াংশ পানীয়ের জন্য এবং এক-তৃতীয়াংশ নিশ্বাসের জন্য রাখুক।’ (তিরমিজি, ২৩৮০; ইবনে মাজাহ, ৩৩৪৯) । ভারী ও অতিরিক্ত খাবার গরমে হজমে চাপ ফেলে শরীরকে আরও ক্লান্ত করে–এই পরিমিতির সুন্নাহই তখন সবচেয়ে উপকারী।

পঞ্চমত, হিটস্ট্রোকের লক্ষণ চিনুন। মাথা ঘোরা, প্রচণ্ড দুর্বলতা, ঘাম বন্ধ হয়ে যাওয়া, বমিভাব বা অজ্ঞান হওয়া–এসব দেখা দিলে দ্রুত ছায়াযুক্ত শীতল স্থানে নিয়ে শরীরে পানি দিন এবং চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘জ্বর জাহান্নামের উত্তাপ থেকে, তাই তা পানি দিয়ে ঠাণ্ডা করো।’ (বুখারি, ৩২৬৩; সহিহ মুসলিম, ২২০৯) শরীর অতিরিক্ত উত্তপ্ত হয়ে গেলে পানি দিয়ে শীতল করার এই নির্দেশনা সরাসরি হিটস্ট্রোক মোকাবিলার সঙ্গে মিলে যায়–আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানও মাথা ঘোরা, প্রচণ্ড দুর্বলতা বা অজ্ঞানভাব দেখা দিলে দ্রুত শরীর ঠাণ্ডা করার পরামর্শ দেয়।

তীব্র গরমে শুধু নিজে বাঁচলেই হবে না, অন্যকে বাঁচানোও ঈমানের দাবি। সাহাবি সাদ ইবনু উবাদা (রা.) যখন তার প্রয়াত মায়ের পক্ষ থেকে সদকা করতে চাইলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞেস করলেন কোন সদকা সর্বোত্তম। তিনি উত্তর দিলেন, ‘পানি পান করানো।’ (ইবনে মাজাহ, ৩৬৮৪; আবু দাউদ, ১৬৭৯) 
এরপর সাদ (রা.) মদিনায় একটি কূপ খনন করে দিয়েছিলেন। আজকের প্রেক্ষাপটে রাস্তার পাশে তৃষ্ণার্ত পথিক, রিকশাচালক বা শ্রমিকদের জন্য একটু ঠাণ্ডা পানি বা স্যালাইনের ব্যবস্থা করা–এ এক মহৎ সদকা।

এমনকি অবলা প্রাণীর তৃষ্ণা মেটানোও আল্লাহর কাছে অতি প্রিয়। নবিজি (সা.) সেই ব্যক্তির কথা বলেছেন, যে তৃষ্ণার্ত এক কুকুরকে কূপ থেকে পানি তুলে পান করিয়েছিল, আর তাতেই আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিলেন। তিনি বলেছেন, ‘প্রতিটি জীবন্ত প্রাণের সেবায় সওয়াব রয়েছে।’ (বুখারি, ২৩৬৩; মুসলিম, ২২৪৪)। তাই বাড়ির ছাদে বা উঠানে পাখি ও প্রাণীর জন্য এক পাত্র পানি রেখে দেওয়াও এক নীরব ইবাদত। এই তাপপ্রবাহ আমাদের জন্য দ্বিমুখী পরীক্ষা–সবরের পরীক্ষা এবং প্রজ্ঞার পরীক্ষা। গরমকে গালি না দিয়ে বরং একে আখিরাতের স্মারক হিসেবে নিয়ে বেশি বেশি ইস্তিগফার করি, সুন্নাহ ও বিজ্ঞানের নির্দেশনা মেনে নিজেকে নিরাপদ রাখি, আর তৃষ্ণার্ত মানুষ ও প্রাণীর পাশে দাঁড়াই। 

লেখক: খতিব, বঙ্গভবন জামে মসজিদ