ঢাকা ৪ আষাঢ় ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
কুমিল্লায় ধর্ষণকাণ্ড: গ্রেপ্তার শিবির নেতার পক্ষে দাঁড়ানো দুই এপিপির নিয়োগ বাতিল টাঙ্গাইলে প্রতিমন্ত্রী টুকুর নামে প্রতারণা, গ্রেপ্তার ১ দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথমার্ধে এগিয়ে চেক প্রজাতন্ত্র টাকার অভাবে রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি অনিশ্চিত, সহায়তার আবেদন রাজবাড়ীতে ৭ বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ নেইমার ভক্তদের জন্য দুঃসংবাদ সাবেক মন্ত্রী হারুণ অর রশীদ অর নেই কুমিল্লায় মাদক মামলায় কারাবন্দি যুবদলকর্মীর মৃত্যু চুয়াডাঙ্গায় বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু হাইতির বিপক্ষে নামার আগে ব্রাজিলকে সুখবর দিল ফিফা ওয়ালটন পিসিবিএ'র রপ্তানি উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি উপদেষ্টা ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে অনুষ্ঠিত হলো গ্লোবাল ইয়ুথ লিডারশিপ কনফারেন্স ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ, গণপিটুনির শিকার তিন পুলিশ বিশ্বকাপে ৩ ম্যাচ নিষিদ্ধ দক্ষিণ আফ্রিকার মিডফিল্ডার সময় টিভির সাবেক এমডি জোবায়ের কারাগারে কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের সুরক্ষায় ইইউর ১.৪ কোটি ইউরো অনুদান বিশ্বকাপে বড় ধাক্কা খেল আইভরি কোস্ট, কানাডার ভিসা পেলেন না ওয়াহি মাগুরায় নবজাতককে বিক্রি করলেন বাবা পরীমনিকাণ্ডে এডিসি সাকলায়েনকে বাধ্যতামূলক অবসর এসএসসি ফল ঘোষণা ২০ জুলাই, জানালেন শিক্ষামন্ত্রী কুড়িগ্রামে ১২ ঘণ্টা পর রেলযোগাযোগ স্বাভাবিক চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে জাবির কর্মচারীদের অবস্থান মানিকগঞ্জে ট্রাক-পিকআপ সংঘর্ষ, নিহত ২ সিলেটে ৩৬ ঘণ্টায় ১২২.৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড সংসদে মামুনুল হক প্রসঙ্গে দেওয়া বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করলেন স্পিকার টঙ্গীতে ‘হানি ট্র্যাপ’ চক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার নেপালের সঙ্গে দ্রুত বাণিজ্য চুক্তি চায় বাংলাদেশ চুয়াডাঙ্গায় ট্রেন-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে নিহত ২ সামরিক জীবনে ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার আহ্বান সেনাপ্রধানের উখিয়ায় আইওএমের গাড়ির চাপায় অজ্ঞাত শিশুর মৃত্যু

কী বলে ইসলাম পণ্যের বিক্রি বাড়াতে ও বিনিয়োগে আকৃষ্ট করতে পুরস্কার হিসেবে উমরার অফার

প্রকাশ: ২২ নভেম্বর ২০২৪, ০৮:৩০ এএম
আপডেট: ২২ নভেম্বর ২০২৪, ০৯:০৮ এএম
পণ্যের বিক্রি বাড়াতে ও বিনিয়োগে আকৃষ্ট করতে পুরস্কার হিসেবে উমরার অফার
মতামত প্রদান করা দেশবরেণ্য ৪ জন মুফতির ছবি। খবরের কাগজ

সম্প্রতি অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পণ্যের বিক্রি বাড়াতে বিজ্ঞাপন বা ভিডিও বার্তায় ঘোষণা দেন যে, ‘এত তারিখ থেকে এত তারিখের মধ্যে যারা আমাদের প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত পণ্য ক্রয় করবেন বা আমাদের প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করবেন—তাদের থেকে লটারির মাধ্যমে নির্বাচন করে ৩ বা ৫ জনকে বিনামূল্যে উমরা পালনের জন্য পাঠানো হবে।’ ক্রেতারা উমরা পালনের সুযোগ লাভের আশায় পণ্য ক্রয় করেন বা বিনিয়োগে আগ্রহী হন। এটা মূলত কোম্পানির পণ্য বেশি বিক্রি হওয়ার এবং সহজে বিনিয়োগ লাভ করার একটি মার্কেটিং কৌশল। পণ্যের বিক্রি বাড়ানোর বা বিনিয়োগে আকৃষ্ট করার মার্কেটিং কৌশল হিসেবে পবিত্র উমরা পালনের মতো ইবাদতকে পুরস্কার হিসেবে অফার দেওয়া ইসলামে বৈধ কি না—এ ব্যাপারে দেশের প্রথিতযশা মুফতিরা কথা বলেছেন খবরের কাগজের সঙ্গে। 

ব্যবসার কৌশল হিসেবে উমরার অফার শর্ত সাপেক্ষে বৈধ 
মুফতি মিজানুর রহমান সাঈদ
সদস্য, ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ফিকহ একাডেমি, ওআইসি

পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা এরশাদ করেছেন, ‘আল্লাহ ব্যবসা হালাল করেছেন আর সুদ হারাম করেছেন।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ২৭৫)। শররি দৃষ্টিতে ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে বিক্রি বাড়ানো ও ক্রেতাদের উৎসাহিত করার লক্ষ্যে পণ্য ক্রয়ে বিশেষ হাদিয়া/গিফট/উপঢৌকনের অফার দেওয়া বৈধ। এক্ষেত্রে গিফট পাওয়ার জন্য নির্দিষ্ট মেয়াদে বা নির্ধারিত সংখ্যক পণ্য ক্রয়ের শর্ত করাও শরিয়ত অনুমোদিত। তবে অফারের কারণে পণ্যের দাম স্বাভাবিক মূল্য থেকে বাড়ানো যাবে না এবং গুণগত মান কমানো যাবে না। পণ্য ক্রয়ই ক্রেতার মূল উদ্দেশ্য হতে হবে; শুধু লটারি বা পুরস্কার জেতার উদ্দেশ্যে প্রয়োজন না থাকা সত্ত্বেও পণ্য ক্রয় করা যাবে না। 
উল্লেখ্য, ক্রয়-বিক্রয়ের মূল চুক্তি বাধাগ্রস্ত না করে এবং ধোঁকা-প্রতারণার পথ না খোলে, ক্রেতা-বিক্রেতার এমন শর্ত সামাজিকভাবে ব্যাপক প্রচলিত হলে সম্পূর্ণ বৈধ। তবে যে শর্ত দ্বিপাক্ষিক দ্বন্দ্বের কারণ হয়, তা বৈধ নয়।
সুতরাং হজ-উমরার অফার দিয়ে পণ্য বিক্রি করা সম্পূর্ণ বৈধ। তবে অফারের কারণে পণ্যের মূল্য স্বাভাবিকের তুলনায় বাড়ানো বা গুণগত মান হ্রাস করা বৈধ হবে না। আর নিছক দ্বিপাক্ষিক লেনদেনে মালিকানা সন্দেহে ফেলে তথা জুয়া সংশ্লিষ্ট লটারি অবৈধ হলেও যা দ্বারা শুধু ব্যক্তি বা বস্তু নির্ধারণ করা হয়; এমন লটারি অবৈধ নয়। তা ছাড়া স্বেচ্ছায় প্রদত্ত একপক্ষীয় হিবা বা গিফট বিতরণে লটারি সর্বসম্মতিক্রমে জায়েজ। তাই শর্ত পাওয়া গেলে ব্যবসায়ীর জন্য ক্রেতাকে অবশ্যই উমরা করাতে হবে। আয়েশা (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) সফরের ইচ্ছা করলে স্ত্রীদের মাঝে লটারি প্রক্রিয়া গ্রহণ করতেন। যার নাম আসত তিনি তাকে নিয়েই সফরে বের হতেন…।’ (বুখারি, হাদিস: ২৫৯৩)  
পণ্যের বিক্রি বাড়ানোর মার্কেটিং কৌশল হিসেবে পবিত্র উমরা পালনের মতো ইবাদতকে পুরস্কার বা অফার হিসেবে ঘোষণা করা ইসলামি শরিয়তে কোনো অসুবিধে নেই। (আসসুনানুল কুবরা লিল বায়হাকি, হাদিস: ১৪৮২১; হেদায়া শরহে বেদায়াতুল মুবতাদি ৩/৮৬; ফাতাওয়ায়ে উসমানি, ৩/২৫৭) 

অনিশ্চিত পুরস্কারের লোভ ও জুয়ার সাদৃশ্য হলে নাজায়েজ
মুফতি শাহেদ রাহমানী
চেয়ারম্যান, সেন্টার ফর ইসলামিক ইকোনমিক্স বাংলাদেশ

পণ্যের বিক্রি বাড়ানো এবং বিনিয়োগে আকৃষ্ট করার মার্কেটিং কৌশল হিসেবে পবিত্র উমরা পালনের মতো ইবাদতকে পুরস্কার বা অফার হিসেবে ঘোষণা করা—নিচের শর্ত পাওয়া গেলে বৈধ হবে, অন্যথায় অবৈধ। শর্তগুলো হলো—
১. কোম্পানি তাদের পণ্যের এমন মূল্য নির্ধারণ করবে, যা বাজারে প্রচলিত এই জাতীয় পণ্যের বাজারমূল্যের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। কোম্পানি পুরস্কারের কারণে সাধারণ বাজারমূল্যের চেয়ে বেশি মূল্য নির্ধারণ করতে পারবে না। যদি কোম্পানি বাজারমূল্যের চেয়ে বেশি মূল্যে পণ্য বিক্রি করে, তা হলে ধরে নিতে হবে, গ্রাহক পুরস্কারের আশায় অধিক মূল্যে এই কোম্পানির পণ্য কিনেছে। যেহেতু উমরা প্যাকেজ পাওয়া নিশ্চিত নয়; তাই জুয়ার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ হওয়ার কারণে নাজায়েজ বিবেচিত হবে।
২. কোম্পানি পুরস্কার স্কিমকে নিজের ত্রুটিপূর্ণ পণ্য বিক্রির মাধ্যম বানাবে না। অর্থাৎ উমরা প্যাকেজের লোভ দেখিয়ে গ্রাহককে ত্রুটিপূর্ণ পণ্য ক্রয় করতে উদ্বুদ্ধ করবে না। নতুবা এই অবস্থাতেও জুয়ার সাদৃশ্য তৈরি হবে।
৩. গ্রাহকের মূল উদ্দেশ্য হবে কোম্পানির পণ্য কিনে উপকৃত হওয়া; অনিশ্চিত পুরস্কার লাভ নয়। পুরস্কার একটি আনুষঙ্গিক ও অতিরিক্ত বিষয় হবে। যদি কোম্পানি বিনামূল্যে তা দেয়, তা হলে ভালো, নতুবা তা কোনো বিষয় নয়। প্রকৃতপক্ষে গ্রাহকের এই পণ্যের প্রয়োজন না থাকার পরও যদি শুধু অনিশ্চিত এই পুরস্কারের আশায় পণ্য ক্রয় করে, তা হলে এই অবস্থাতেও জুয়ার সঙ্গে সাদৃশ্য হওয়ার ফলে নাজায়েজ হবে। 
যদি উল্লিখিত শর্ত রক্ষা করে কোম্পানির পক্ষ থেকে লটারির মাধ্যমে পুরস্কার দেওয়া হয়, তা হলে তা দান ও অনুগ্রহ হিসেবে গণ্য হবে। গ্রাহকের জন্য এ অবস্থায় পুরস্কার নেওয়া জায়েজ হবে। যদি জায়েজ পদ্ধতিতে করা লটারিতে কারও নাম আসে, তবে তা সংগ্রহ করার পর ব্যক্তি তার মালিক হবে। পুরস্কারটি নিজের ইচ্ছা অনুসারে ব্যবহার করার অধিকারী হবে। চাইলে উমরা পালনে যেতে পারবে। অথবা অন্য কাজে ব্যবহারের অধিকার পাবে। 

ইবাদতকে মার্কেটিং কৌশল হিসেবে ব্যবহার করা অনুচিত
মুফতি শাহ ওয়ালী উল্লাহ
খতিব, সোবহানবাগ জামে মসজিদ, ঢাকা

মার্কেটিংয়ের কৌশল হিসেবে কোনো ইবাদত বা উমরার মতো ইবাদতকে মাধ্যম করা কি আসলে উচিত? ইসলামের ইতিহাসে বা পূর্ববর্তী বিজ্ঞ আলেম-ফকিহদের যুগে কোনো ইবাদত বা উমরার মতো গুরুত্বপূর্ণ স্বতন্ত্র ইবাদতকে মার্কেটিং বা পণ্য বিক্রির কৌশল হিসেবে ব্যবহার করার নজির নেই। সময়ের পালাবদলে আমরা যাদের থেকে জ্ঞান আহরণ করেছি, যাদের বই পড়েছি—তাদের সময়ে এমন কোনো ইবাদতকে মার্কেটিংয়ের কৌশল হিসেবে ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায় না। অতীতে পাওয়া যায়নি, নিঃসন্দেহে এটি নতুন বিষয়। বর্তমান পৃথিবীর আয়েম্মা-মুজতাহিদিনদের কাছে ব্যাপারটি তুলে ধরা প্রয়োজন। পৃথিবীর কোনো দেশেই হয়তো মার্কেটিংয়ের কৌশল হিসেবে পণ্য বিক্রির জন্য কোনো ইবাদতকে অফার দেওয়া হয় না। আলাদাভাবে হতে পারে, কেউ ইবাদত সম্পূর্ণ করেছে, তাকে পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। কেউ চল্লিশ দিন জামাতের সঙ্গে নামাজ সম্পূর্ণ করেছে, তাকে উৎসাহ দেওয়ার জন্য পুরস্কার দেওয়া যেতেই পারে। কিন্তু পণ্যের বিক্রি বাড়ানো এবং বিনিয়োগে আকৃষ্ট করার মার্কেটিং কৌশল হিসেবে ইবাদতকে ব্যবহার করার বিষয়টি নতুন। যার দৃষ্টান্ত অতীতে নেই। আমার মনে হয়, ব্যাপারটি নিয়ে বিশ্লেষণ করা ও আলোচনা-পর্যালোচনা হওয়া উচিত। 
আমার বিবেচনায় ইবাদতকে মার্কেটিংয়ের কৌশল হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ দেওয়াটা বন্ধ করা ভালো। তবে এটাকে মার্কেটিংয়ের কৌশল হিসেবে না করে দান বা উপহার হিসেবে দেওয়া যেতে পারে। ব্যবসায়ীর লাভ হলে ক্রেতাদের মধ্য থেকে লটারি করে কয়েকজনকে দিতে পারে। যারা এমন কাজ করেন, তারা ধর্মকে দুনিয়া অর্জনের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করতে চান। দুনিয়া অর্জন করা দোষনীয় নয়; তবে সেটা ইবাদতকে মার্কেটিং করে নয়। ইবাদতকে মার্কেটিং কৌশল হিসেবে ব্যবহার করা অনুচিত। 

ভালো উদ্যোগ, তবে পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি ও গ্রাহক যেন প্রতারিত না হয়
ড. মুফতি ইউসুফ সুলতান
চেয়ারম্যান, আদল অ্যাডভাইজরি, মালয়েশিয়া

পুরস্কার হিসেবে উমরার ঘোষণা দেওয়া শরিয়তে মৌলিকভাবে কোনো অসুবিধে নেই। কিন্তু পণ্যের প্রচার বা বিক্রির জন্য উমরা পালনের পুরস্কার ঘোষণা করার ক্ষেত্রে যে সমস্যার আশঙ্কা থাকে, তা হলো—পণ্যের স্বাভাবিক মূল্যের চেয়ে বাড়িয়ে পণ্য বিক্রি করা এবং গ্রাহক পণ্যের মূল্য বিবেচনায় না নিয়ে বরং উমরা পালনের সুযোগ বড়ো করে দেখা, এর ফলে স্বাভাবিকভাবে প্রতারিত হওয়ার একটা আশঙ্কা থাকে। পাশাপাশি যদি এটার কারণে মূল্য বাড়ানো হয়, তা হলে এটা মূল্য পরিশোধের মাধ্যমে লটারিতে অংশগ্রহণের মতো; যা শরিয়তে জুয়ার সাদৃশ্য বলে বিবেচিত হয়। 
সর্বোপরি, অনেক সময় আমরা দেখি—বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও এ ধরনের অফার দেওয়া হয়। অর্থাৎ আপনি যদি বিনিয়োগ করেন, তা হলে পুরস্কার হিসেবে উমরার অফার দেওয়া হয়। এখানে একটা প্রশ্ন থাকে, উমরার যে অফার বা এই যে বড় পুরস্কার—আমরা জানি, সাধারণ পুরস্কারের তুলনায় উমরা করানোর পুরস্কার বেশ ব্যয়বহুল। এ ধরনের ব্যয়বহুল পুরস্কার কোথায় থেকে বহন করা হবে। এটা যদি বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ থেকে বহন করা হয়, তা হলে এটা বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে অনুমোদন নেওয়া আবশ্যক। যদি সেটা বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ থেকে বহন করা না হয়, শুধু উদ্যোক্তার অংশ থেকে বহন করা হয়, তা হলে মৌলিকভাবে সেটাতে সমস্যা নেই।  নানা রকম অপপুরস্কারের এই সময়ে উমরার পুরস্কারটি ভালো উদ্যোগ। তবে বাজারমূল্যের চেয়ে পণ্যের মূল্য যেন বৃদ্ধি না পায়, সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে এবং এটি নিশ্চিত করতে হবে। গ্রাহকও যেন প্রতারিত না হয়। গ্রাহক স্বাভাবিকভাবে পণ্যের গুণগত মান বিচারে পণ্য ক্রয়ের যে হিতাহিত জ্ঞান, সেটা যেন না হারায়। এই বিষয়টি বিবেচনায় রাখলে আশা করি অসুবিধে হবে না।

লেখক : আলেম, গবেষক ও সাংবাদিক

 

আধ্যাত্মিক ধনী হওয়ার সহজ সমীকরণ

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৭:০০ পিএম
আধ্যাত্মিক ধনী হওয়ার সহজ সমীকরণ
ছবি: সংগৃহীত

ভাবুন তো, মাত্র এক মিনিটে যদি আপনার ব্যাংক ব্যালান্সে এক হাজার ডলার জমা হয়, তবে কেমন লাগবে? দুনিয়ার বুকে এমন কোনো বৈধ ব্যবসা নেই যা আপনাকে মাত্র ৬০ সেকেন্ডে এত বড় মুনাফা দিতে পারে। অথচ আখেরাতের বাজারে প্রতিদিন মাত্র এক মিনিটে এক হাজার নেকি অর্জন করা এবং একই সঙ্গে এক হাজার গুনাহ মাফ করিয়ে নেওয়া সম্ভব! রাসুল (সা.) আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের এমন কিছু অবিশ্বাস্য আধ্যাত্মিক সমীকরণ শিখিয়েছেন, যা আধুনিক মানুষকে এক নিমেষেই পরকালের শ্রেষ্ঠ ধনীতে পরিণত করতে পারে।

আমরা অনেকেই মনে করি, অনেক বড় ইবাদত বা কঠিন পরিশ্রম ছাড়া বড় সওয়াব পাওয়া অসম্ভব। কিন্তু আল্লাহর রাসুল (সা.) এই ধারণাটি সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছেন।
হযরত সা’দ ইবনে আবু অক্কাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। তিনি বললেন, তোমাদের কোনো ব্যক্তি প্রত্যহ এক হাজার নেকি অর্জন করতে অপারগ হবে কি?  উপস্থিত একজন জিজ্ঞেস করলেন, ‘কীভাবে এক হাজার নেকি অর্জন করবে?’ তিনি বললেন, একশ’বার তাসবীহ (সুবহানাল্লাহ) পড়বে। ফলে তার জন্য এক হাজার নেকি লেখা হবে এবং এক হাজার গুনাহ মিটিয়ে দেওয়া হবে। (মুসলিম, ২৬৯৮; তিরমিজি, ৩৪৬৩)

নতুন দৃষ্টিকোণ: মুহাদ্দিসগণের সুক্ষ্ম ভাষ্য ও বর্ণনার পাঠভেদ (যেমন- শু’বাহ ও ইয়াহয়্যা আলক্বাত্তানের বর্ণনা) অনুযায়ী, এখানে ‘অথবা’ নয়, বরং ‘এবং’ শব্দটির ব্যবহারই অগ্রগণ্য। অর্থাৎ, মাত্র ১০০ বার ‘সুবহানাল্লাহ’ বললে ১০০০ নেকি পাওয়ার পাশাপাশি একই সঙ্গে ১০০০ গুনাহও খাতা থেকে মুছে যায়। বিজ্ঞান বলে মানুষের শরীরে শত শত হাড়ের জোড় বা জয়েন্ট রয়েছে। ইসলাম এই প্রতিটি সুস্থ জয়েন্টের জন্য প্রতিদিন সকালে একটি ‘সদকা’ বা ট্যাক্স ধার্য করেছে। কিন্তু সেই ট্যাক্স পরিশোধের উপায়টি কত চমৎকার!

হযরত আবু যার (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, তোমাদের প্রত্যেকের প্রতিটি (হাড়ের) জোড়ের পক্ষ থেকে প্রতিদিন সদকা দেওয়া আবশ্যক। প্রতিটি ‘সুবহানাল্লাহ’ সদকা, ‘আলহামদু লিল্লাহ’ সদকা, ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ সদকা এবং ‘আল্লাহু আকবার’ বলাও সদকা। সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ করাও সদকা। আর এসব কিছুর পরিবর্তে চাশতের (পূর্বাহ্নের) দুই রাকাআত নামাজ পড়াই যথেষ্ট। (মুসলিম, ৭২০; সুনানে আবু দাউদ, ১২৮৫)

মহাবিশ্বের পরম সত্তা আল্লাহতায়ালা বান্দার সঙ্গে কেমন আচরণ করবেন, তার পুরো নিয়ন্ত্রণ কিন্তু বান্দার নিজের চিন্তাভাবনার ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আল্লাহতায়ালা বলেন: আমি আমার বান্দার ধারণার পাশে থাকি (সে যেমন ধারণা করে, আমি তেমনই করি)। সে যখন আমাকে মনে মনে স্মরণ করে, আমি তাকে আমার মনে স্মরণ করি। আর সে যদি কোনো সভায় আমাকে স্মরণ করে, তবে আমি তাকে তাদের চেয়েও উত্তম (ফেরেশতাদের) সভায় স্মরণ করি। (বুখারি, ৭৪০৫; মুসলিম, ২৬৭৫)

মুখের কোণে একটু ‘সুবহানাল্লাহ’র গুঞ্জন আর দিনের শুরুতে দুই রাকাআত চাশতের নামাজ–এই সামান্য অভ্যাসগুলোই আমাদের পুরো দিনটিকে আল্লাহর সুরক্ষায় মুড়িয়ে দেয়। সবচেয়ে বড় কথা, আমরা যখন নির্জনে বা জনসম্মুখে আল্লাহকে ডাকি, তখন স্বয়ং স্রষ্টা আমাদের নাম নিয়ে ফেরেশতাদের সামনে গর্ব করেন। 

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

সততার মাপকাঠি কেমন হওয়া উচিত?

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৩:০১ পিএম
সততার মাপকাঠি কেমন হওয়া উচিত?
ছবি: সংগৃহীত

গভীর রাতে দুহাত তুলে কাঁদছেন, দূর-দূরান্তের ক্লান্তিকর সফর শেষে ধূলিমলিন শরীরে স্রষ্টাকে আকুল হয়ে ডাকছেন, তবুও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত সাড়া। আধুনিক জীবনে আমাদের চারপাশের বহু মানুষ আজ এই বিষণ্ণতায় ভোগেন কিন্তু অনুভূতির এই কান্নার আড়ালে আমরা কি কখনো আমাদের খাবারের প্লেট কিংবা উপার্জনের খতিয়ান খতিয়ে দেখেছি?

হযরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত এক যুগান্তকারী হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ পবিত্র, তিনি পবিত্র বা হালাল ছাড়া কিছুই গ্রহণ করেন না রাসুল (সা.) এমন এক মুসাফিরের উদাহরণ দেন, যার চুল এলোমেলো, শরীর ধূলিধূসরিত সে আকাশের দিকে হাত তুলেহে প্রভু! হে প্রভু!’ বলে কাঁদছে; অথচ তার খাদ্য, পানীয়, পোশাক এবং জীবিকা নির্বাহের পুরো মাধ্যমটিই হারাম রাসুল (সা.) প্রশ্ন ছুড়ে দেন, এমন ব্যক্তির দোয়া কীভাবে কবুল হতে পারে? (মুসলিম, ২৭৬০)

নৈতিকতার চাদরে সাদা আর কালোর বাইরে একটি ধূসর এলাকা বাগ্রে জোনথাকে, যাকে আমরা সন্দেহজনক বিষয় বলি হযরত নুমান ইবনু বাশীর (রা.) বর্ণিত হাদিস অনুযায়ী, হালাল হারাম একদম স্পষ্ট, কিন্তু এর মাঝে রয়েছে কিছু সন্দেহজনক বস্তু যে ব্যক্তি এই সন্দেহ পরিহার করে, তার দ্বীন সম্মান সুরক্ষিত থাকে আর যে এর ধারেকাছে যায়, সে নিষিদ্ধ চারণভূমিতে ঢুকে পড়া পশুর মতো যেকোনো সময় হারামে লিপ্ত হতে পারে রাসুল (সা.) সতর্ক করেন, মানুষের শরীরের ভেতরে একটি গোশতের টুকরো বা অন্তর আছে; সেটি যদি সঠিক পবিত্র থাকে, তবে পুরো দেহই সঠিক থাকে আর সেটি কলুষিত হলে পুরো জীবনটাই বিকৃত হয়ে যায় (মুসলিম, ২৭৬২)

আজকের করপোরেট বা অনলাইন ব্যবসার যুগে এসে অনেক উপার্জনকে আমরা সাধারণ মনে করি অথচ হযরত আবু হুজায়ফা (রা.) বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেছেন রক্ত বিক্রির অর্থ, কুকুরের মূল্য এবং ব্যভিচারের বিনিময় একই সাথে তিনি লানত বা অভিশাপ দিয়েছেন সুদ গ্রহীতা, সুদদাতা, শরীরে উল্কি (ট্যাটু) অঙ্কনকারী এবং ছবি অঙ্কনকারীর ওপর (মিশকাত, ২৭৬৫)

সততার মাপকাঠি কেমন হওয়া উচিত, তা প্রথম মুসলিম খলিফার জীবন থেকে শেখার আছে হযরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, আবুবকর সিদ্দিক (রা.)-এর এক গোলামের উপার্জিত খাবার থেকে তিনি না জেনে এক লোকমা খেয়ে ফেলেছিলেন পরে যখন জানতে পারলেন যে, সেই অর্থ গোলামটি জাহেলি যুগে মানুষকে ধোঁকা দিয়ে গণকী (জ্যোতিষী) করে কামিয়েছিল, তখন আবুবকর (রা.) সাথে সাথে মুখের ভেতর আঙুল ঢুকিয়ে পেটের সমস্ত খাদ্য বমন করে বের করে দেন (মিশকাত, ২৭৮৬)

সাফল্যের সব দুয়ার খোলার প্রধান শর্ত হলো শরীরের রক্তে হারামের ছোঁয়া না লাগা আজই আমাদের উচিত নিজের উপার্জনের উৎসটি পুনর্মূল্যায়ন করা, যেন আমাদের প্রার্থনাগুলো স্রষ্টার দরবারে পৌঁছানোর আগেই হারিয়ে না যায়

 লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

রাসুল (সা.)-এর রাতের অভ্যাস কি ছিল?

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ১০:০০ এএম
রাসুল (সা.)-এর রাতের অভ্যাস কি ছিল?
ছবি: সংগৃহীত

আধুনিক যুগের চিকিৎসকরা ঘুমানোর আগে চোখের নানা যত্নের কথা বলেন। কিন্তু আপনি কি জানেন, আজ থেকে চৌদ্দ শত বছর আগে প্রিয় রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রতি রাতে ঘুমানোর আগে চোখের সুরক্ষায় চমৎকার একটি নিয়ম মেনে চলতেন? চলুন জেনে নিই নবিজির সেই রাতের অভ্যাস–

ইসলামে বাহ্যিক সৌন্দর্য ও সুস্থতার সুষম সমন্বয় দেখা যায় প্রিয় নবি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতিটি অভ্যাসে। তিনি কেবল দিনের বেলাতেই নিজেকে পরিপাটি রাখতেন না, বরং রাতে ঘুমানোর আগেও শরীরের যত্ন নিতেন। এর মধ্যে অন্যতম একটি সুন্দর ও উপকারী সুন্নাহ হলো চোখে সুরমা লাগানো।

নবিজির (সা.) প্রিয় সুরমা ও তাঁর ব্যবহারের নিয়ম সব সুরমা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে এক রকম ছিল না। তিনি ‘ইছমিদ’ নামক একটি বিশেষ পাথর থেকে তৈরি সুরমা ব্যবহারের তাগিদ দিয়েছেন এবং একে সর্বোৎকৃষ্ট বলেছেন। নবিজি (সা.)-এর নিজস্ব একটি সুরমাদানি ছিল। প্রতি রাতে বিছানায় যাওয়ার আগে তিনি সুনির্দিষ্ট নিয়মে চোখে সুরমা মাখতেন।

ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন, ‘রাসুল (সা.)-এর একটি সুরমাদানি ছিল। প্রতি রাতে (ঘুমানোর পূর্বে) ডান চোখে তিনবার এবং বাম চোখে তিনবার সুরমা লাগাতেন।’ (সুনানুল কুবরা লিল ইমাম বাইহাকি, ৮৫১৬)
দৃষ্টিশক্তি ও সৌন্দর্যের যুগলবন্দি আল্লাহর রাসুল (সা.) সুরমা ব্যবহারের চমৎকার কিছু শারীরিক উপকারিতার কথা স্পষ্ট করে গেছেন, যা আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের গবেষণায় হুবহু প্রমাণিত হয়েছে। ‘ইছমিদ’ সুরমা মূলত চোখের দৃষ্টিকে তীক্ষ্ণ করে এবং চোখের পাতার লোম বা ভ্রূ দ্রুত ও ঘনভাবে গজাতে সাহায্য করে।

জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছে: ‘তোমরা শোয়ার সময় অবশ্যই ‘ইছমিদ’ সুরমা ব্যবহার করবে। কারণ, তা চোখের জ্যোতি বৃদ্ধি করে এবং এর ফলে অধিক ভ্রূ জন্মায়।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, ৩৪৯৬; মুসনাদে আবু ইয়ালা, ২০৫৮)
ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের জন্য ইছমিদ সুরমা সর্বোৎকৃষ্ট। কারণ, তা দৃষ্টি বাড়ায় এবং এর ফলে অধিক ভ্রূ জন্মায়।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, ৩৪৯৭; মুস্তাদরাকে হাকেম, ৮২৪৮)

সুরমার বৈজ্ঞানিক ও স্বাস্থ্যগত উপকারিতা মুহাদ্দিস ও গবেষকদের মতে, সওয়াবের নিয়তে নারী-পুরুষ উভয়ের জন্যই সুরমা লাগানো মুস্তাহাব। বিজ্ঞান বলছে, ইছমিদ সুরমা অত্যন্ত কার্যকরী জীবাণুনাশক হিসেবে কাজ করে, যা চোখের যেকোনো ছোঁয়াচে রোগ বা জীবাণুকে ধ্বংস করে। এ ছাড়া এটি বাতাসে থাকা ধুলাবালি চোখ থেকে বের করে দিতে সাহায্য করে এবং চোখ জ্বালাপোড়া করা কমায়। প্রতি রাতে সুরমা লাগানো কেবল চোখের জ্যোতিই বাড়ায় না, বরং এটি অনুসরণের মাধ্যমে একজন মুমিন খুব সহজেই সুন্নাহর সওয়াব লাভ করতে পারেন।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

১৮ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৭:০০ এএম
১৮ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি
জুন, ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচির ছবি

প্রতিদিন সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ। নামাজ (সালাত) ইসলাজুনর পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি এবং ইসলাজুনর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, (হে আল্লাহর রাসুল!) আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয় আমল কোনটি? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘নামাজ (বুখারি ও মুসলিম)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সেভাবে নামাজ আদায় করো, যেভাবে আমাকে নামাজ আদায় করতে দেখেছ।’ (বুখারি, ৬৩১)

সঠিকভাবে নামাজ আদায় করতে হলে, নামাজের সময় জানতে হবে।

 

আজ ১৮ জুন ২০২৬, বৃহস্পতিবার। ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো— 

জোহর

১২.০৩ মিনিট

আসর

৪.৩৯ মিনিট

 

মাগরিব

৬.৫১ মিনিট

 

এশা

৮.১৮ মিনিট

ফজর (১৯ জুন)

.৪৪ মিনিট

 

 

বিভাগীয় শহরের জন্য উল্লিখিত সময়ের সঙ্গে যেসব বিভাগে সময় যোগ- বিয়োগ করতে হবে।

বিয়োগ

চট্টগ্রাম: ৫ মিনিট

সিলেট: ৬ মিনিট

যোগ

খুলনা: ৩ মিনিট

রাজশাহী: ৭ মিনিট

রংপুর: ৮ মিনিট

বরিশাল: ১ মিনিট

 

সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যে জগৎ মানুষের অপেক্ষায় আছে

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৭:০০ পিএম
যে জগৎ মানুষের অপেক্ষায় আছে
ছবি: সংগৃহীত

বিজ্ঞান যেখানে আজও মহাবিশ্বের রহস্যের কূল-কিনারা করতে পারছে না, সেখানে সৃষ্টির অন্তরালে কী এমন চমক লুকিয়ে রেখেছেন মহান স্রষ্টা?
দুনিয়ার জীবনটা মানুষের জন্য এক পরীক্ষাগার। এই পরীক্ষায় যারা উত্তীর্ণ হবে, তাদের জন্য কী পুরস্কার অপেক্ষা করছে, তা মানুষের সীমিত বুদ্ধিমত্তা দিয়ে পরিমাপ করা অসম্ভব। মানবজাতির এই কৌতূহল ও আকাঙ্ক্ষাকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন রাসুলুল্লাহ (সা.)। তিনি এক হাদিসে কুদসিতে স্বয়ং আল্লাহর বাণী আমাদের শুনিয়েছেন, যা জান্নাতের প্রকৃত স্বরূপকে আমাদের সামনে উন্মোচিত করে।

মহান আল্লাহ বলেন, তিনি তাঁর পুণ্যবান ও অনুগত বান্দাদের জন্য পরকালে এমন এক রাজত্ব বা পুরস্কার তৈরি করে রেখেছেন, যা দুনিয়ার কোনো চোখ কখনো দেখেনি। আমাজন বনের অপার সৌন্দর্য, সুইজারল্যান্ডের মনোরম দৃশ্য কিংবা মানুষের তৈরি কোনো আধুনিক বিস্ময়–কোনো কিছুই তার ধারেকাছে নয়। শুধু তাই নয়, সেই জগতের সুর, আনন্দ বা কোলাহলের মাধুর্য কোনো কান কখনো শোনেনি। এমনকি মানুষের উর্বর মস্তিষ্ক বা কল্পনাশক্তিও কখনো সেই সুখের সামান্যতম অনুমান করতে সক্ষম হয়নি।

রাসুলুল্লাহ (সা.) এই অকল্পনীয় পুরস্কারের সত্যতা নিশ্চিত করতে পবিত্র কোরআনের সুরা সাজদাহর ১৭ নম্বর আয়াতটি তিলওয়াত করতেন। যেখানে স্পষ্ট বলা হয়েছে, কেউই জানে না তার জন্য তার কৃতকর্মের বিনিময়স্বরূপ নয়ন-প্রীতিকর কী পুরস্কার লুকিয়ে রাখা হয়েছে।

এ হাদিসটি আমাদের জাগতিক চিন্তার বৃত্তকে ভেঙে দেয়। আমরা সাধারণত কোনো ভালো কাজের বিনিময়ে চেনা কোনো পুরস্কারের আশা করি। কিন্তু আল্লাহ আমাদের শেখাচ্ছেন, জান্নাত কোনো চেনা উপাদানের উন্নত সংস্করণ নয়। এটি সম্পূর্ণ এক নতুন মাত্রা বা ‘ডাইমেনশন’, যা কেবল বিশ্বাসের চোখেই দেখা সম্ভব। দুনিয়ার সব কষ্ট আর ত্যাগের ক্লান্তি এক নিমেষেই মুছে যাবে, যখন বান্দা সেই ‘চোখে না দেখা’ আর ‘কল্পনা না করা’ পরম প্রাপ্তির মুখোমুখি হবে।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক