হাদিস পড়া বা অধ্যয়নের অসংখ্য ফজিলত বা বৈশিষ্ট্য রয়েছে। যে পড়ে বা অধ্যয়ন করে, সে আলেম বা জ্ঞানী। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে আলেমরাই তাঁকে ভয় করে।’ (সুরা ফাতির, আয়াত: ৮)। এ কথা নিশ্চিত, কোরআন ও হাদিস পাঠ ও অধ্যয়নের মাধ্যমেই একজন মানুষ প্রকৃত আলেম হতে পারে।
হাদিস পড়ার মাধ্যমে একজন মানুষ জানতে পারে, কীভাবে রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর দৈনন্দিন জীবনে আল্লাহর নির্দেশগুলো অনুসরণ করেছেন। আমাদের ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক এবং রাষ্ট্রীয় জীবনে আমরা কীভাবে ইসলামের বিধান মেনে চলব। এখানে হাদিসের কয়েকটি ফজিলত তুলে ধরা হলো–
হাদিস প্রচার করা
হাদিস সম্পর্কে জ্ঞানার্জন ও তা প্রচারকাজে সহযোগী হওয়া সওয়াবের কাজ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আমার পক্ষ থেকে (মানুষের কাছে) একটি বাক্য হলেও পৌঁছে দাও। বনি ইসরাইলদের থেকে শোনা কথাও বলতে পারো, এতে কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার প্রতি মিথ্যারোপ করবে, সে যেন তার বাসস্থান জাহান্নামে প্রস্তুত করে নেয়।’ (বুখারি, হাদিস: ৩৪৬১)
কল্যাণ লাভ করা
দীন বা ইসলামের জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে কল্যাণ লাভ করা যায়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহতায়ালা যার কল্যাণ চান, তাকে দীনের সঠিক জ্ঞান দান করেন। আমি শুধু বণ্টনকারী, আল্লাহতায়ালা আমাকে দান করেন।’ (বুখারি, হাদিস: ৭১)
আরও পড়ুন: তাশাহুদের গুরুত্ব ও ফজিলত
শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করা
হাদিস পাঠের মাধ্যমে উত্তম গুণ বা শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করা যায়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘সোনা-রুপার খনির ন্যায় মানবজাতিও খনিবিশেষ। যারা অন্ধকারের যুগে উত্তম ছিল, দীনের জ্ঞান লাভ করার কারণে তারা ইসলামের যুগেও উত্তম।’ (বুখারি, হাদিস: ৩৩৮৩)
প্রজ্ঞা লাভ করা
হাদিস অধ্যয়নের মাধ্যমে প্রজ্ঞা অর্জন করে তা প্রচার-প্রসার করা যায়। দ্বীন প্রচারে সহযোগী হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করা যায়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘দুই ব্যক্তি ছাড়া আর কারও ব্যাপারে ঈর্ষা করা যায় না। এক. যাকে আল্লাহ ধন-সম্পদ দান করেছেন এবং তা যথার্থ ক্ষেত্রে ব্যয় করার তাওফিক দিয়েছেন। দুই. যাকে আল্লাহ্ হিকমাত দান করেছেন, সেই ব্যক্তি তদানুযায়ী কাজ করে এবং অন্যকে তা শিক্ষা দেয়।’ (বুখারি)
মূর্খতার ক্ষতি থেকে বাঁচা যায়
হাদিস পড়ার মাধ্যমে মূর্খতা ও অজ্ঞতার ক্ষতি থেকে বেঁচে থাকা এবং সঠিক ইলম পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ লাভ করা যায়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘(শেষ যুগে) আল্লাহতায়ালা ইলম বা জ্ঞানকে তাঁর বান্দাদের অন্তর থেকে টেনে বের করে উঠিয়ে নেবেন না; বরং (জ্ঞানের অধিকারী) আলেমদের দুনিয়া থেকে উঠিয়ে নিয়ে যাবার মাধ্যমে ইলম বা জ্ঞানকে উঠিয়ে নেবেন।’ (বুখারি, হাদিস: ১০১)
নবিদের উত্তরাধিকার
হাদিস পাঠের মাধ্যমে নবিদের ওয়ারিশ বা উত্তরাধিকার হওয়া যায়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘…আলেমরা নবিদের ওয়ারিশ। আর নিশ্চয়ই নবিরা দিনার ও দিরহাম তথা অর্থকড়ির উত্তরাধিকারী বানিয়ে যান না; বরং তাঁরা ইলম ও জ্ঞানের উত্তরাধিকারী রেখে যান...।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৩৬৪১)
মর্যাদার অধিকারী
ইলম অর্জনের মাধ্যমে সাধারণ ইবাদতকারী অপেক্ষা আলেম হিসেবে বেশি মর্যাদা লাভ করা যায়। আবু উমামা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে দুই ব্যক্তি সম্পর্কে আলোচনা করা হলো। এদের একজন ছিলেন আবিদ বা ইবাদাতকারী, আর দ্বিতীয়জন ছিলেন আলিম বা জ্ঞানী। তিনি বললেন, আবিদের ওপর আলিমের মর্যাদা হলো যেমন আমার মর্যাদা তোমাদের একজন সাধারণ ব্যক্তির ওপর।’ (তিরমিজি, হাদিস: ২৬৭৫)
লেখক: খতিব, ভবানীপুর মাইজপাড়া হক্কানি জামে মসজিদ, গাজীপুর