ঢাকা ৫ আষাঢ় ১৪৩৩, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
পেনাল্টি গোলে চেক প্রজাতন্ত্রকে রুখে দিল দক্ষিণ আফ্রিকা অপ্সরার আন্তর্জাতিক অভিষেক আদালতে আত্মসমর্পণ করতে গিয়ে কারাগারে আওয়ামী লীগ নেতা বাদশা গণপিটুনির শিকার তিন ডিবি সদস্য, উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি মেনে নাও, মেসি সেরা: রোনালদো নাজারিও কেইনের প্রেরণা এমবাপ্পে-হালান্ড কুমিল্লায় ধর্ষণকাণ্ড: গ্রেপ্তার শিবির নেতার পক্ষে দাঁড়ানো দুই এপিপির নিয়োগ বাতিল টাঙ্গাইলে প্রতিমন্ত্রী টুকুর নামে প্রতারণা, গ্রেপ্তার ১ দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথমার্ধে এগিয়ে চেক প্রজাতন্ত্র টাকার অভাবে রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি অনিশ্চিত, সহায়তার আবেদন রাজবাড়ীতে ৭ বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ নেইমার ভক্তদের জন্য দুঃসংবাদ সাবেক মন্ত্রী হারুণ অর রশীদ অর নেই কুমিল্লায় মাদক মামলায় কারাবন্দি যুবদলকর্মীর মৃত্যু চুয়াডাঙ্গায় বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু হাইতির বিপক্ষে নামার আগে ব্রাজিলকে সুখবর দিল ফিফা ওয়ালটন পিসিবিএ'র রপ্তানি উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি উপদেষ্টা ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে অনুষ্ঠিত হলো গ্লোবাল ইয়ুথ লিডারশিপ কনফারেন্স ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ, গণপিটুনির শিকার তিন পুলিশ বিশ্বকাপে ৩ ম্যাচ নিষিদ্ধ দক্ষিণ আফ্রিকার মিডফিল্ডার সময় টিভির সাবেক এমডি জোবায়ের কারাগারে কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের সুরক্ষায় ইইউর ১.৪ কোটি ইউরো অনুদান বিশ্বকাপে বড় ধাক্কা খেল আইভরি কোস্ট, কানাডার ভিসা পেলেন না ওয়াহি মাগুরায় নবজাতককে বিক্রি করলেন বাবা পরীমনির প্রেমে জড়িয়ে চাকরি গেল সাকলায়েনের এসএসসি ফল ঘোষণা ২০ জুলাই, জানালেন শিক্ষামন্ত্রী কুড়িগ্রামে ১২ ঘণ্টা পর রেলযোগাযোগ স্বাভাবিক চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে জাবির কর্মচারীদের অবস্থান মানিকগঞ্জে ট্রাক-পিকআপ সংঘর্ষ, নিহত ২ সিলেটে ৩৬ ঘণ্টায় ১২২.৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড

ধারাবাহিক ও সুপরিকল্পিত উদ্যোগের মাধ্যমে ইসলামি বইয়ের জাগরণ সম্ভব

প্রকাশ: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৬:৩০ পিএম
আপডেট: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৬:৪৩ পিএম
ধারাবাহিক ও সুপরিকল্পিত উদ্যোগের মাধ্যমে ইসলামি বইয়ের জাগরণ সম্ভব
রাহনুমা প্রকাশনীর প্রকাশক দেওয়ান মো. মাহমুদুল ইসলামের ছবি। সংগৃহীত

দেওয়ান মো. মাহমুদুল ইসলাম—রাহনুমা প্রকাশনীর প্রকাশক। মানসম্মত বই প্রকাশ ও ইসলামি বইয়ের জাগরণের ক্ষেত্রে নানামুখী কাজ করছেন তিনি। কেন প্রকাশক হলেন তিনি, কোন ধরনের বই প্রকাশে তিনি আগ্রহী, ইসলামি বইয়ের জাগরণের ক্ষেত্রে করণীয়, তরুণ প্রকাশক ও লেখকদের জন্য দিকনির্দেশনা এবং লেখক-প্রকাশকের সম্পর্ক কেমন হওয়া উচিত—এসব বিষয়ে কথা বলেছেন খবরের কাগজের সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন রায়হান রাশেদ

খবরের কাগজ: আপনি প্রকাশক হলেন কেন?

দেওয়ান মো. মাহমুদুল ইসলাম: আমরা যারা কওমি মাদরাসায় পড়েছি, আমাদের অন্যতম একটি বৈশিষ্ট্য হলো, আমরা আমাদের শিক্ষকদের প্রতি অনেক বেশি শ্রদ্ধাশীল। আমার সম্মানিত শিক্ষকদের মাঝে মাওলানা মাসউদুর রহমান (রহ.) ছিলেন একজন উচুঁমানের লেখক, অনুবাদক ও সম্পাদক। তার বইগুলো বিশেষ করে তারবিয়াতুস সালিক এবং তাবেঈদের ঈমানদীপ্ত জীবন বই দুটি জীবন্ত করা বা মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে আমার প্রকাশক হওয়া। 

খবরের কাগজ: আপনার প্রকাশনী সম্পর্কে কিছু বলুন। কী ধরনের বই প্রকাশে আপনারা আগ্রহী?

দেওয়ান মো. মাহমুদুল ইসলাম: রাহনুমা প্রকাশনী কওমি ঘরানার প্রকাশনী। শুরু থেকেই আমাদের আকাবির-আসলাফের বইগুলো বেশি গুরুত্ব দিয়ে আসছি আমরা। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জীবনযাপনে অত্যধিক গুরুত্ব রাখে, এমন সব বই সাধারণত আমরা প্রকাশ করি। তরুণ এবং ছাত্রদের প্রয়োজনের কথাও আমরা বরাবর মনে রেখেছি। এ ছাড়া শিশু-কিশোরদের জন্যও আমাদের বিভিন্ন আয়োজন রয়েছে। আমাদের প্রকাশিত বইয়ের বিষয়বস্তুর মধ্যে রয়েছে, আকিদা ও তাওহিদ, ফিকহ ও মাসয়ালা, সিরাত ও ইতিহাস, আত্মশুদ্ধি ও আখলাক, আধুনিক সমাজ ও ইসলাম, তরুণদের প্রয়োজনীয় বইপুস্তক, আধুনিক ও মোটিভেশনাল বই, ইসলামি সাহিত্যের গল্প-কবিতা-উপন্যাস এবং শিশু-কিশোরদের চরিত্র গঠনমূলক বিভিন্ন বই।

খবরের কাগজ: মানসম্মত বই প্রকাশে আপনাদের ভূমিকা কেমন?

দেওয়ান মো. মাহমুদুল ইসলাম: মানসম্মত বই প্রকাশে আমরা শতভাগ অঙ্গীকারবদ্ধ। সংক্ষেপে যদি বলি—

  • বিশুদ্ধ ও প্রামাণ্য বিষয়বস্তু নিশ্চিত করা।
  • যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে মানসম্পন্ন লেখা নির্বাচন।
  • স্পষ্ট ও সহজবোধ্য ভাষায় বই প্রকাশ।
  • শরয়ি ও প্রয়োজনীয় সম্পাদনা ও ভাষাগত নির্ভুলতা নিশ্চিত করা।
  • সাম্প্রতিক চাহিদার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ বই প্রকাশ।
  • নৈতিকতা ও দায়িত্বশীলতার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া।
  • ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও বিপণন ব্যবস্থার উন্নয়ন।
  • পাঠকদের প্রশ্ন ও পরামর্শ গ্রহণ করা।

খবরের কাগজ: ইসলামি বইয়ের জাগরণের ক্ষেত্রে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে?

দেওয়ান মো. মাহমুদুল ইসলাম: ইসলামিক বইয়ের জাগরণ একক প্রচেষ্টায় সম্ভব নয়; বরং এটি একটি ধারাবাহিক ও সুপরিকল্পিত উদ্যোগের মাধ্যমে হবে। আমরা বাংলাবাজারের অনেক প্রতিষ্ঠানে এর মধ্যে সম্মিলিতভাবে ইসলামি বইয়ের জাগরণের জন্য নানামুখী কার্যক্রম শুরু করেছি। যেমন—

  • পাঠকের মধ্যে আগ্রহ তৈরি এবং নতুন নতুন পাঠককে ইসলামি বই পড়ায় উদ্বুদ্ধ করতে গত ছয়-সাত বছর যাবৎ আমরা সারা বাংলাদেশে ইসলামি বইমেলার আয়োজন করছি। সেখানে জ্ঞানগর্ভ কুইজের পাশাপাশি প্রচুর ফ্রি বই উপহার দিচ্ছি।
  •  ইসলামিক প্রকাশকদের মানোন্নয়ন ও বিভিন্ন বিষয়ে সম্মিলিতভাবে সহযোগিতার চেষ্টা করছি। আমাদের সম্মিলিত চেষ্টায় এবার কম-বেশি ৩০টি প্রতিষ্ঠান ঢাকার একুশে বইমেলায় এবং অনন্ত দশটি প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম একুশে বইমেলায় অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছে। আলহামদুলিল্লাহ।
  • আমরা প্রতিনিয়ত নতুন নতুন লেখক তৈরিতে ভূমিকা রাখছি। সবাই মিলে চেষ্টা করছি, আন্তর্জাতিক বইগুলোর পাশাপাশি মৌলিক বইও আগের থেকে বেশি পরিমাণ প্রকাশ করার। শিশু-কিশোর সাহিত্যের যে শূন্যতা রয়েছে, সেটা পূরণে আমরা সবাই মিলে ব্যাপকভাবে কাজ শুরু করেছি এবং আমরা মানসম্মত মুদ্রণ ও ডিজাইনের প্রতি যথেষ্ট পরিমাণ গুরুত্ব দিয়ে আসছি।
  • বইমেলা ছাড়াও সাধারণ মানুষের কাছে বই পৌঁছে দিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রচার চালাতে আমরা অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান বিভিন্নভাবে বুক রিভিউ, ইসলামিক স্কলারদের মাধ্যমে ভালো বই পড়ার গুরুত্ব ও আলোচনার ব্যবস্থা প্রতিনিয়ত আগের থেকে বাড়িয়েছি। 

আরও পড়ুন: ইসলামি বইয়ের জাগরণে দরকার প্রতিটি শহরে সম্মিলিত বিক্রয়কেন্দ্র ও পাঠাগার

খবরের কাগজ: তরুণ লেখক-প্রকাশকদের জন্য আপনার অভিজ্ঞতালব্ধ পরামর্শ প্রত্যাশা করছি।

দেওয়ান মো. মাহমুদুল ইসলাম: ইসলামি সাহিত্য ও জ্ঞানচর্চার জগতে নতুন লেখক ও প্রকাশকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমি মনে করি, সঠিক পরিকল্পনা, ধৈর্য ও গুণগত মানের প্রতি দায়বদ্ধতা থাকার পাশাপাশি পাঠকদের মনোযোগ আকর্ষণ এবং সঠিক প্রচারের মাধ্যমে ইসলামিক বই ও জ্ঞানচর্চার জাগরণ ঘটানো সম্ভব।
 
তরুণ লেখকদের জন্য পরামর্শ হলো,

  • জ্ঞানের গভীরতা অর্জনে গভীর পড়াশোনা ও বিশুদ্ধ সূত্র অনুসরণ করুন।
  • লেখার দক্ষতা বাড়াতে নিয়মিত লেখালিখি, সহজ ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার এবং সম্পাদনার প্রতি গুরুত্ব দিন।
  • সময়োপযোগী বিষয়বস্তু বাছাই করে তরুণদের জন্য উপযোগী লেখা তৈরি করুন: বর্তমান প্রজন্মের চিন্তাধারা, সমস্যা ও চাহিদা মাথায় রেখে বই বা প্রবন্ধ লিখুন।
  • পাঠকদের মতামত নিন ও বড়দের পরামর্শ গ্রহণ করুন।

তরুণ প্রকাশকদের জন্য পরামর্শ হলো—

  • গুণগত মান বজায় রাখতে সঠিক পাণ্ডুলিপি নির্বাচন করুন। ভালো সম্পাদকের কদর করুন। সুন্দর প্রচ্ছদ ও বইয়ের ভেতরের কাজে আন্তর্জাতিক ট্রেন্ড ফলো করুন।
  • ইসলামি প্রকাশনা নীতিমালা মেনে চলুন।
  • প্রচার ও বিপণনে নতুনত্ব আনতে অফলাইন ও অনলাইন দুই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করুন। দেশব্যাপী সারা বছর বিভিন্ন বইমেলায় অংশগ্রহণ করুন।
  • বইয়ের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতে ডিজিটাল ভার্সন বা বইয়ের পিডিএফ, ইপাব ও অডিওবুক সংস্করণ তৈরি করুন। ইসলামি প্রচার-প্রচারণার উদ্দেশ্যে বিনামূল্যে কিছু বই বিতরণ করুন।

খবরের কাগজ: লেখক প্রকাশকের সম্পর্ক কেমন হওয়া উচিত?

দেওয়ান মো. মাহমুদুল ইসলাম: লেখক ও প্রকাশকের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একজন অপরজনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, নির্ভরশীল ও সহযোগিতামূলক হওয়া উচিত। একজন লেখক যেমন তার সৃজনশীলতা ও গবেষণার মাধ্যমে মূল্যবান কনটেন্ট তৈরি করেন, তেমনি একজন প্রকাশক সেই লেখাকে পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সম্পাদনা, রুচিশীল উপস্থাপনা ও বিপণনের দায়িত্ব নেন। সুতরাং এই সম্পর্ক যত সুদৃঢ় ও পেশাদার হবে, ততই মানসম্পন্ন বই প্রকাশ সম্ভব হবে। এ বিষয়ে যা করা যেতে পারে-

  • উভয়ের ভেতর সম্মানজনক ও বিশ্বাসের সম্পর্ক মজবুত করা জরুরি। পাশাপাশি কৃতিত্বের বিষয়টিতে একে অপরের প্রচেষ্টা বড় করে দেখার অভ্যাস তৈরি করতে হবে।
  • পেশাদারিত্ব ও চুক্তির স্বচ্ছতায় লেখক-প্রকাশক লিখিত চুক্তি করা এবং তা রক্ষা করা।
  • বিপণন ও প্রচারণায় সমন্বয় সাধনে লেখক-প্রকাশক সমান্তরালভাবে পারস্পরিক সহায়তায় ভূমিকা রাখা।

 

আধ্যাত্মিক ধনী হওয়ার সহজ সমীকরণ

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৭:০০ পিএম
আধ্যাত্মিক ধনী হওয়ার সহজ সমীকরণ
ছবি: সংগৃহীত

ভাবুন তো, মাত্র এক মিনিটে যদি আপনার ব্যাংক ব্যালান্সে এক হাজার ডলার জমা হয়, তবে কেমন লাগবে? দুনিয়ার বুকে এমন কোনো বৈধ ব্যবসা নেই যা আপনাকে মাত্র ৬০ সেকেন্ডে এত বড় মুনাফা দিতে পারে। অথচ আখেরাতের বাজারে প্রতিদিন মাত্র এক মিনিটে এক হাজার নেকি অর্জন করা এবং একই সঙ্গে এক হাজার গুনাহ মাফ করিয়ে নেওয়া সম্ভব! রাসুল (সা.) আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের এমন কিছু অবিশ্বাস্য আধ্যাত্মিক সমীকরণ শিখিয়েছেন, যা আধুনিক মানুষকে এক নিমেষেই পরকালের শ্রেষ্ঠ ধনীতে পরিণত করতে পারে।

আমরা অনেকেই মনে করি, অনেক বড় ইবাদত বা কঠিন পরিশ্রম ছাড়া বড় সওয়াব পাওয়া অসম্ভব। কিন্তু আল্লাহর রাসুল (সা.) এই ধারণাটি সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছেন।
হযরত সা’দ ইবনে আবু অক্কাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। তিনি বললেন, তোমাদের কোনো ব্যক্তি প্রত্যহ এক হাজার নেকি অর্জন করতে অপারগ হবে কি?  উপস্থিত একজন জিজ্ঞেস করলেন, ‘কীভাবে এক হাজার নেকি অর্জন করবে?’ তিনি বললেন, একশ’বার তাসবীহ (সুবহানাল্লাহ) পড়বে। ফলে তার জন্য এক হাজার নেকি লেখা হবে এবং এক হাজার গুনাহ মিটিয়ে দেওয়া হবে। (মুসলিম, ২৬৯৮; তিরমিজি, ৩৪৬৩)

নতুন দৃষ্টিকোণ: মুহাদ্দিসগণের সুক্ষ্ম ভাষ্য ও বর্ণনার পাঠভেদ (যেমন- শু’বাহ ও ইয়াহয়্যা আলক্বাত্তানের বর্ণনা) অনুযায়ী, এখানে ‘অথবা’ নয়, বরং ‘এবং’ শব্দটির ব্যবহারই অগ্রগণ্য। অর্থাৎ, মাত্র ১০০ বার ‘সুবহানাল্লাহ’ বললে ১০০০ নেকি পাওয়ার পাশাপাশি একই সঙ্গে ১০০০ গুনাহও খাতা থেকে মুছে যায়। বিজ্ঞান বলে মানুষের শরীরে শত শত হাড়ের জোড় বা জয়েন্ট রয়েছে। ইসলাম এই প্রতিটি সুস্থ জয়েন্টের জন্য প্রতিদিন সকালে একটি ‘সদকা’ বা ট্যাক্স ধার্য করেছে। কিন্তু সেই ট্যাক্স পরিশোধের উপায়টি কত চমৎকার!

হযরত আবু যার (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, তোমাদের প্রত্যেকের প্রতিটি (হাড়ের) জোড়ের পক্ষ থেকে প্রতিদিন সদকা দেওয়া আবশ্যক। প্রতিটি ‘সুবহানাল্লাহ’ সদকা, ‘আলহামদু লিল্লাহ’ সদকা, ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ সদকা এবং ‘আল্লাহু আকবার’ বলাও সদকা। সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ করাও সদকা। আর এসব কিছুর পরিবর্তে চাশতের (পূর্বাহ্নের) দুই রাকাআত নামাজ পড়াই যথেষ্ট। (মুসলিম, ৭২০; সুনানে আবু দাউদ, ১২৮৫)

মহাবিশ্বের পরম সত্তা আল্লাহতায়ালা বান্দার সঙ্গে কেমন আচরণ করবেন, তার পুরো নিয়ন্ত্রণ কিন্তু বান্দার নিজের চিন্তাভাবনার ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আল্লাহতায়ালা বলেন: আমি আমার বান্দার ধারণার পাশে থাকি (সে যেমন ধারণা করে, আমি তেমনই করি)। সে যখন আমাকে মনে মনে স্মরণ করে, আমি তাকে আমার মনে স্মরণ করি। আর সে যদি কোনো সভায় আমাকে স্মরণ করে, তবে আমি তাকে তাদের চেয়েও উত্তম (ফেরেশতাদের) সভায় স্মরণ করি। (বুখারি, ৭৪০৫; মুসলিম, ২৬৭৫)

মুখের কোণে একটু ‘সুবহানাল্লাহ’র গুঞ্জন আর দিনের শুরুতে দুই রাকাআত চাশতের নামাজ–এই সামান্য অভ্যাসগুলোই আমাদের পুরো দিনটিকে আল্লাহর সুরক্ষায় মুড়িয়ে দেয়। সবচেয়ে বড় কথা, আমরা যখন নির্জনে বা জনসম্মুখে আল্লাহকে ডাকি, তখন স্বয়ং স্রষ্টা আমাদের নাম নিয়ে ফেরেশতাদের সামনে গর্ব করেন। 

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

সততার মাপকাঠি কেমন হওয়া উচিত?

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৩:০১ পিএম
সততার মাপকাঠি কেমন হওয়া উচিত?
ছবি: সংগৃহীত

গভীর রাতে দুহাত তুলে কাঁদছেন, দূর-দূরান্তের ক্লান্তিকর সফর শেষে ধূলিমলিন শরীরে স্রষ্টাকে আকুল হয়ে ডাকছেন, তবুও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত সাড়া। আধুনিক জীবনে আমাদের চারপাশের বহু মানুষ আজ এই বিষণ্ণতায় ভোগেন কিন্তু অনুভূতির এই কান্নার আড়ালে আমরা কি কখনো আমাদের খাবারের প্লেট কিংবা উপার্জনের খতিয়ান খতিয়ে দেখেছি?

হযরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত এক যুগান্তকারী হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ পবিত্র, তিনি পবিত্র বা হালাল ছাড়া কিছুই গ্রহণ করেন না রাসুল (সা.) এমন এক মুসাফিরের উদাহরণ দেন, যার চুল এলোমেলো, শরীর ধূলিধূসরিত সে আকাশের দিকে হাত তুলেহে প্রভু! হে প্রভু!’ বলে কাঁদছে; অথচ তার খাদ্য, পানীয়, পোশাক এবং জীবিকা নির্বাহের পুরো মাধ্যমটিই হারাম রাসুল (সা.) প্রশ্ন ছুড়ে দেন, এমন ব্যক্তির দোয়া কীভাবে কবুল হতে পারে? (মুসলিম, ২৭৬০)

নৈতিকতার চাদরে সাদা আর কালোর বাইরে একটি ধূসর এলাকা বাগ্রে জোনথাকে, যাকে আমরা সন্দেহজনক বিষয় বলি হযরত নুমান ইবনু বাশীর (রা.) বর্ণিত হাদিস অনুযায়ী, হালাল হারাম একদম স্পষ্ট, কিন্তু এর মাঝে রয়েছে কিছু সন্দেহজনক বস্তু যে ব্যক্তি এই সন্দেহ পরিহার করে, তার দ্বীন সম্মান সুরক্ষিত থাকে আর যে এর ধারেকাছে যায়, সে নিষিদ্ধ চারণভূমিতে ঢুকে পড়া পশুর মতো যেকোনো সময় হারামে লিপ্ত হতে পারে রাসুল (সা.) সতর্ক করেন, মানুষের শরীরের ভেতরে একটি গোশতের টুকরো বা অন্তর আছে; সেটি যদি সঠিক পবিত্র থাকে, তবে পুরো দেহই সঠিক থাকে আর সেটি কলুষিত হলে পুরো জীবনটাই বিকৃত হয়ে যায় (মুসলিম, ২৭৬২)

আজকের করপোরেট বা অনলাইন ব্যবসার যুগে এসে অনেক উপার্জনকে আমরা সাধারণ মনে করি অথচ হযরত আবু হুজায়ফা (রা.) বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেছেন রক্ত বিক্রির অর্থ, কুকুরের মূল্য এবং ব্যভিচারের বিনিময় একই সাথে তিনি লানত বা অভিশাপ দিয়েছেন সুদ গ্রহীতা, সুদদাতা, শরীরে উল্কি (ট্যাটু) অঙ্কনকারী এবং ছবি অঙ্কনকারীর ওপর (মিশকাত, ২৭৬৫)

সততার মাপকাঠি কেমন হওয়া উচিত, তা প্রথম মুসলিম খলিফার জীবন থেকে শেখার আছে হযরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, আবুবকর সিদ্দিক (রা.)-এর এক গোলামের উপার্জিত খাবার থেকে তিনি না জেনে এক লোকমা খেয়ে ফেলেছিলেন পরে যখন জানতে পারলেন যে, সেই অর্থ গোলামটি জাহেলি যুগে মানুষকে ধোঁকা দিয়ে গণকী (জ্যোতিষী) করে কামিয়েছিল, তখন আবুবকর (রা.) সাথে সাথে মুখের ভেতর আঙুল ঢুকিয়ে পেটের সমস্ত খাদ্য বমন করে বের করে দেন (মিশকাত, ২৭৮৬)

সাফল্যের সব দুয়ার খোলার প্রধান শর্ত হলো শরীরের রক্তে হারামের ছোঁয়া না লাগা আজই আমাদের উচিত নিজের উপার্জনের উৎসটি পুনর্মূল্যায়ন করা, যেন আমাদের প্রার্থনাগুলো স্রষ্টার দরবারে পৌঁছানোর আগেই হারিয়ে না যায়

 লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

রাসুল (সা.)-এর রাতের অভ্যাস কি ছিল?

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ১০:০০ এএম
রাসুল (সা.)-এর রাতের অভ্যাস কি ছিল?
ছবি: সংগৃহীত

আধুনিক যুগের চিকিৎসকরা ঘুমানোর আগে চোখের নানা যত্নের কথা বলেন। কিন্তু আপনি কি জানেন, আজ থেকে চৌদ্দ শত বছর আগে প্রিয় রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রতি রাতে ঘুমানোর আগে চোখের সুরক্ষায় চমৎকার একটি নিয়ম মেনে চলতেন? চলুন জেনে নিই নবিজির সেই রাতের অভ্যাস–

ইসলামে বাহ্যিক সৌন্দর্য ও সুস্থতার সুষম সমন্বয় দেখা যায় প্রিয় নবি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতিটি অভ্যাসে। তিনি কেবল দিনের বেলাতেই নিজেকে পরিপাটি রাখতেন না, বরং রাতে ঘুমানোর আগেও শরীরের যত্ন নিতেন। এর মধ্যে অন্যতম একটি সুন্দর ও উপকারী সুন্নাহ হলো চোখে সুরমা লাগানো।

নবিজির (সা.) প্রিয় সুরমা ও তাঁর ব্যবহারের নিয়ম সব সুরমা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে এক রকম ছিল না। তিনি ‘ইছমিদ’ নামক একটি বিশেষ পাথর থেকে তৈরি সুরমা ব্যবহারের তাগিদ দিয়েছেন এবং একে সর্বোৎকৃষ্ট বলেছেন। নবিজি (সা.)-এর নিজস্ব একটি সুরমাদানি ছিল। প্রতি রাতে বিছানায় যাওয়ার আগে তিনি সুনির্দিষ্ট নিয়মে চোখে সুরমা মাখতেন।

ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন, ‘রাসুল (সা.)-এর একটি সুরমাদানি ছিল। প্রতি রাতে (ঘুমানোর পূর্বে) ডান চোখে তিনবার এবং বাম চোখে তিনবার সুরমা লাগাতেন।’ (সুনানুল কুবরা লিল ইমাম বাইহাকি, ৮৫১৬)
দৃষ্টিশক্তি ও সৌন্দর্যের যুগলবন্দি আল্লাহর রাসুল (সা.) সুরমা ব্যবহারের চমৎকার কিছু শারীরিক উপকারিতার কথা স্পষ্ট করে গেছেন, যা আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের গবেষণায় হুবহু প্রমাণিত হয়েছে। ‘ইছমিদ’ সুরমা মূলত চোখের দৃষ্টিকে তীক্ষ্ণ করে এবং চোখের পাতার লোম বা ভ্রূ দ্রুত ও ঘনভাবে গজাতে সাহায্য করে।

জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছে: ‘তোমরা শোয়ার সময় অবশ্যই ‘ইছমিদ’ সুরমা ব্যবহার করবে। কারণ, তা চোখের জ্যোতি বৃদ্ধি করে এবং এর ফলে অধিক ভ্রূ জন্মায়।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, ৩৪৯৬; মুসনাদে আবু ইয়ালা, ২০৫৮)
ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের জন্য ইছমিদ সুরমা সর্বোৎকৃষ্ট। কারণ, তা দৃষ্টি বাড়ায় এবং এর ফলে অধিক ভ্রূ জন্মায়।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, ৩৪৯৭; মুস্তাদরাকে হাকেম, ৮২৪৮)

সুরমার বৈজ্ঞানিক ও স্বাস্থ্যগত উপকারিতা মুহাদ্দিস ও গবেষকদের মতে, সওয়াবের নিয়তে নারী-পুরুষ উভয়ের জন্যই সুরমা লাগানো মুস্তাহাব। বিজ্ঞান বলছে, ইছমিদ সুরমা অত্যন্ত কার্যকরী জীবাণুনাশক হিসেবে কাজ করে, যা চোখের যেকোনো ছোঁয়াচে রোগ বা জীবাণুকে ধ্বংস করে। এ ছাড়া এটি বাতাসে থাকা ধুলাবালি চোখ থেকে বের করে দিতে সাহায্য করে এবং চোখ জ্বালাপোড়া করা কমায়। প্রতি রাতে সুরমা লাগানো কেবল চোখের জ্যোতিই বাড়ায় না, বরং এটি অনুসরণের মাধ্যমে একজন মুমিন খুব সহজেই সুন্নাহর সওয়াব লাভ করতে পারেন।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

১৮ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৭:০০ এএম
১৮ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি
জুন, ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচির ছবি

প্রতিদিন সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ। নামাজ (সালাত) ইসলাজুনর পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি এবং ইসলাজুনর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, (হে আল্লাহর রাসুল!) আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয় আমল কোনটি? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘নামাজ (বুখারি ও মুসলিম)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সেভাবে নামাজ আদায় করো, যেভাবে আমাকে নামাজ আদায় করতে দেখেছ।’ (বুখারি, ৬৩১)

সঠিকভাবে নামাজ আদায় করতে হলে, নামাজের সময় জানতে হবে।

 

আজ ১৮ জুন ২০২৬, বৃহস্পতিবার। ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো— 

জোহর

১২.০৩ মিনিট

আসর

৪.৩৯ মিনিট

 

মাগরিব

৬.৫১ মিনিট

 

এশা

৮.১৮ মিনিট

ফজর (১৯ জুন)

.৪৪ মিনিট

 

 

বিভাগীয় শহরের জন্য উল্লিখিত সময়ের সঙ্গে যেসব বিভাগে সময় যোগ- বিয়োগ করতে হবে।

বিয়োগ

চট্টগ্রাম: ৫ মিনিট

সিলেট: ৬ মিনিট

যোগ

খুলনা: ৩ মিনিট

রাজশাহী: ৭ মিনিট

রংপুর: ৮ মিনিট

বরিশাল: ১ মিনিট

 

সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যে জগৎ মানুষের অপেক্ষায় আছে

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৭:০০ পিএম
যে জগৎ মানুষের অপেক্ষায় আছে
ছবি: সংগৃহীত

বিজ্ঞান যেখানে আজও মহাবিশ্বের রহস্যের কূল-কিনারা করতে পারছে না, সেখানে সৃষ্টির অন্তরালে কী এমন চমক লুকিয়ে রেখেছেন মহান স্রষ্টা?
দুনিয়ার জীবনটা মানুষের জন্য এক পরীক্ষাগার। এই পরীক্ষায় যারা উত্তীর্ণ হবে, তাদের জন্য কী পুরস্কার অপেক্ষা করছে, তা মানুষের সীমিত বুদ্ধিমত্তা দিয়ে পরিমাপ করা অসম্ভব। মানবজাতির এই কৌতূহল ও আকাঙ্ক্ষাকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন রাসুলুল্লাহ (সা.)। তিনি এক হাদিসে কুদসিতে স্বয়ং আল্লাহর বাণী আমাদের শুনিয়েছেন, যা জান্নাতের প্রকৃত স্বরূপকে আমাদের সামনে উন্মোচিত করে।

মহান আল্লাহ বলেন, তিনি তাঁর পুণ্যবান ও অনুগত বান্দাদের জন্য পরকালে এমন এক রাজত্ব বা পুরস্কার তৈরি করে রেখেছেন, যা দুনিয়ার কোনো চোখ কখনো দেখেনি। আমাজন বনের অপার সৌন্দর্য, সুইজারল্যান্ডের মনোরম দৃশ্য কিংবা মানুষের তৈরি কোনো আধুনিক বিস্ময়–কোনো কিছুই তার ধারেকাছে নয়। শুধু তাই নয়, সেই জগতের সুর, আনন্দ বা কোলাহলের মাধুর্য কোনো কান কখনো শোনেনি। এমনকি মানুষের উর্বর মস্তিষ্ক বা কল্পনাশক্তিও কখনো সেই সুখের সামান্যতম অনুমান করতে সক্ষম হয়নি।

রাসুলুল্লাহ (সা.) এই অকল্পনীয় পুরস্কারের সত্যতা নিশ্চিত করতে পবিত্র কোরআনের সুরা সাজদাহর ১৭ নম্বর আয়াতটি তিলওয়াত করতেন। যেখানে স্পষ্ট বলা হয়েছে, কেউই জানে না তার জন্য তার কৃতকর্মের বিনিময়স্বরূপ নয়ন-প্রীতিকর কী পুরস্কার লুকিয়ে রাখা হয়েছে।

এ হাদিসটি আমাদের জাগতিক চিন্তার বৃত্তকে ভেঙে দেয়। আমরা সাধারণত কোনো ভালো কাজের বিনিময়ে চেনা কোনো পুরস্কারের আশা করি। কিন্তু আল্লাহ আমাদের শেখাচ্ছেন, জান্নাত কোনো চেনা উপাদানের উন্নত সংস্করণ নয়। এটি সম্পূর্ণ এক নতুন মাত্রা বা ‘ডাইমেনশন’, যা কেবল বিশ্বাসের চোখেই দেখা সম্ভব। দুনিয়ার সব কষ্ট আর ত্যাগের ক্লান্তি এক নিমেষেই মুছে যাবে, যখন বান্দা সেই ‘চোখে না দেখা’ আর ‘কল্পনা না করা’ পরম প্রাপ্তির মুখোমুখি হবে।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক