ঢাকা ৪ আষাঢ় ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
৬ গোলের ম্যাচে ক্রোয়েশিয়াকে হারাল ইংল্যান্ড দুবার পিছিয়ে পড়েও সমতায় ফিরল ক্রোয়েশিয়া ফুটবল তার শক্তি দেখাল, মাঠে আসছেন ভোজিনহার মা বিশ্বমঞ্চে নিস্তেজ রোনালদো রোনালদোর পর্তুগালকে আটকে দিয়ে বিশ্বকাপে ডিআর কঙ্গোর ইতিহাস অনুশীলনে ফিরলেন নেইমার যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির খসড়া ফাঁস বিশ্বকাপে প্রথম গোলে পর্তুগালের বিপক্ষে সমতায় কঙ্গো ভারত বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার করেছে: জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল মেসির পর রোনালদোর কীর্তি পর্তুগালের একাদশে রোনালদো ইরান ও লেবাননে মানবিক সহায়তা দেবে চীন লায়লা বাউলের পাশে দাঁড়াল সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় ফের উত্তপ্ত লেবানন, নতুন হামলা ইসরায়েলের চুক্তি না মানলে ইরানে ফের হামলার হুমকি ট্রাম্পের ‘নজরুল বর্ষ’ উদযাপন অনুষ্ঠান হবে জুনের শেষ সপ্তাহে ঝিনাইদহে মোটরসাইকেল চোরচক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার জোরপূর্বক মানুষকে বাংলাদেশে পাঠাচ্ছে ভারত—হিউম্যান রাইটস ওয়াচের দাবি মায়ানমার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া হবে, ভারত সীমান্তেও পরিকল্পনা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যারা বলে ‘সরকারকে সময় দেওয়া যাবে না’ তাদের থেকে সতর্ক থাকুন: প্রধানমন্ত্রী রংপুরের ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় ৬৬৫ নারী নাসার আর্টেমিস থ্রি মিশনের নভোচারীদের নাম চূড়ান্ত নির্মাণাধীন ভবন থেকে পড়ে দুই শ্রমিক নিহত শেষ যাত্রা জানাজায়, মাঝপথেই থেমে গেল জীবন সাজেকে বিজিবির বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও ঔষধ বিতরণ পিটারসেন অটোমোটিভ মিউজিয়াম অটোমোবাইল ডেস্ক সময় টিভির এমডি জোবায়েরসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ZEEHO Bangladesh ও Riding School BD-এর মধ্যে কৌশলগত সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর যুক্তরাষ্ট্রে ৫ হাজার ৮০৭ প্রবাসীর হাতে যাচ্ছে এনআইডি হেরোইনসহ মা-বাবা ও ছেলে আটক, বাড়িতে আগুন
Nagad desktop

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ঈদ

প্রকাশ: ২৮ মার্চ ২০২৫, ০৯:০০ এএম
আপডেট: ২৮ মার্চ ২০২৫, ০৩:০৬ পিএম
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ঈদ
প্রতীকী ছবি

আরবি বর্ষপঞ্জির দশম মাস শাওয়াল। এ মাসে মুসলিম উম্মাহর আনন্দের ঈদুল ফিতর রয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) কীভাবে ঈদ পালন করতেন, সে বিষয়ে হাদিসের আলোকে বিবরণ তুলে ধরা হলো-

প্রথম বিষয় হচ্ছে, আনন্দের এ দিনে রাসুলুল্লাহ (সা.) গরিব, দুঃখী ও অসহায় মানুষের কথা ভুলে যাননি। ঈদের আনন্দ ও খুশি সবাই মিলে সমভাবে উপভোগ করার উদ্দেশ্যে তিনি এদিনে সদকাতুল ফিতরের বিধান প্রবর্তন করেছেন। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) সদকাতুল ফিতর ফরজ করেছেন, যেন রোজা পালনকারী অহেতুক কথা ও অশ্লীল কাজ থেকে পবিত্রতা লাভ করে এবং দরিদ্র মানুষ যেন খাদ্য লাভ করে।’ (আবু দাউদ: হাদিস নম্বর-১৬০৯; ইবনে মাজাহ: হাদিস নম্বর-১৮২৭)  

ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘প্রত্যেক গোলাম, স্বাধীন, পুরুষ, নারী, প্রাপ্ত ও অপ্রাপ্ত বয়স্ক মুসলমানের ওপর রাসুলুল্লাহ (সা.) খেজুর কিংবা জব- এক সা (৩ কেজি ৩০০ গ্রাম) পরিমাণ সদকাতুল ফিতর ফরজ করেছেন এবং ঈদের নামাজে বের হওয়ার আগে তা আদায় করার নির্দেশ দিয়েছেন।’ (বুখারি: হাদিস নম্বর-১৫০৩)


কোন খাদ্য দ্বারা কতটুকু সদকাতুল ফিতর আদায় করতে হবে, তা এ হাদিস দ্বারা স্পষ্টভাবে জানা যায়। তবে গ্রহীতার অবস্থা বিবেচনা করে খাদ্য না দিয়ে খাদ্যের মূল্য দিয়েও সদকাতুল ফিতর আদায় করা যেতে পারে। কারণ রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘(দানের ক্ষেত্রে) দাতার কাছে যা সর্বোৎকৃষ্ট এবং যার মূল্যমান সবচেয়ে বেশি (তা অধিক গ্রহণযোগ্য)।’ (বুখারি-৩/১৮৮; মুসলিম-১/৬৯।)


আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) ঈদগাহে যাওয়ার আগে সদকাতুল ফিতর আদায় করার নির্দেশ দিয়েছেন।’ (বুখারি: হাদিস নম্বর-১৫০৯।)
আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘যে ঈদের নামাজের আগে তা (সদকাতুল ফিতর) আদায় করল, তা কবুলকৃত সদকা হিসেবে গণ্য হলো। আর যে ঈদের নামাজের আগে তা (সদকাতুল ফিতর) আদায় করল না, তা সাধারণ সদকা হিসেবে গণ্য হলো।’ (আবু দাউদ: হাদিস নম্বর-১৬০৯; ইবনে মাজাহ: হাদিস নম্বর-১৮২৭।) 


সুতরাং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর খাঁটি অনুসারী হিসেবে আর্ত-মানবতার সেবার বিষয়টি মাথায় রেখে ঈদের দিনে সর্বপ্রথম সদকাতুল ফিতর আদায় করতে হবে। তবে রমজানের শেষ ১০ দিনের যেকোনো দিনও সদকাতুল ফিতর আদায় করা যাবে।  


এদিনের দ্বিতীয় আমল হচ্ছে, ঈদগাহে গিয়ে ঈদের নামাজ আদায় করা। রাসুলুল্লাহ (সা.) গুরুত্বসহকারে দুই ঈদের নামাজ আদায় করতেন। তবে এ নামাজের জন্য আজান দিতেন না। জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার নামাজের জন্য আজান দিতেন না।’ (মুসলিম: হাদিস নম্বর-৮৮৭।) 


ঈদগাহে ঈদের নামাজ ছাড়া অন্য কোনো নামাজ না পড়া। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) বেলাল (রা.)-কে নিয়ে ঈদগাহে গেলেন। তার পর ঈদের দুই রাকাত নামাজ আদায় করলেন। তিনি (রাসুলুল্লাহ সা.) ঈদগাহে ঈদের নামাজের আগে ও পরে আর কোনো নামাজ আদায় করেননি।’ (মুসলিম: হাদিস নম্বর-৮৮৪।) 


আবু হুরায়রা (রা.)-এর সঙ্গী আবু আয়েশা (রহ.) সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘সাঈদ ইবনুল আস (রা.) একবার আবু মুসা আশয়ারি এবং হুজাইফা বিন ইয়ামেন (রা.)-কে জিজ্ঞেস করলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) ঈদুল আজহা ও ঈদুল ফিতরের নামাজে কীভাবে তাকবির বলতেন? আবু মুসা আশয়ারি (রা.) বললেন, তিনি জানাজার নামাজের তাকবিরের মতো প্রতি রাকাতে চার তাকবির বলতেন। (অর্থাৎ প্রথম রাকাতে তাকবিরে তাহরিমাসহ অতিরিক্ত তিন তাকবির এবং দ্বিতীয় রাকাতে অতিরিক্ত তিন তাকবির ও রুকুর তাকবির)। এটা শুনে হুজায়ফা বিন ইয়ামেন (রা.) বললেন, আবু মুসা আশয়ারি (রা.) সত্য বলেছেন।’ (আবু দাউদ: হাদিস নম্বর-১১৫৩, ১১৫৫; মুসনাদে আহমাদ: হাদিস নম্বর-১৯৭৩৪)। ঈদের নামাজের ক্ষেত্রে বিশুদ্ধ হাদিসে অতিরিক্ত ৬ তাকবির, ৯ তাকবির এবং ১২ তাকবিরের বর্ণনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে নামাজের মতো যেকোনো একটি মাজহাবের মতামত অনুসরণ করে ঈদের নামাজ আদায় করতে হবে।


হাদিসের বিভিন্ন বর্ণনা থেকে জানা যায়, রাসুলুল্লাহ (সা.) ঈদের দিন বিশেষ ডোরাকাটা পোশাক পরতেন। জাফর ইবনে মুহাম্মাদ তার পিতা থেকে, তার পিতা তার দাদা থেকে বর্ণনা করে বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রতি ঈদে ডোরাকাটা পোশাক পরিধান করতেন।’ (বাইহাকি: হাদিস নম্বর-৬৩৬৩)। তবে পুরুষরা নারীদের মতো এবং নারীরা পুরুষের মতো পোশাক পরিধান করতে নিষেধ করেছেন রাসুলুল্লাহ (সা.)। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘যে পুরুষ নারীর মতো এবং যে নারী পুরুষের মতো পোশাক পরে, রাসুলুল্লাহ (সা.) তাদের উভয়কে অভিসম্পাত করেছেন।’ (আবু দাউদ: হাদিস নম্বর-৪০৯৮)
ঈদুল ফিতরের দিনকে আনন্দ-ফুর্তির দিন হিসেবে রাসুলুল্লাহ (সা.) স্বীকৃতি দিয়েছেন এবং এসব দিনে শরিয়তের সীমারেখায় বৈধ আনন্দ-ফুর্তি ও বিনোদন করার অনুমতি দিয়েছেন।


আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) আমার ঘরে এলেন, তখন আমার কাছে দুটি মেয়ে বুআস যুদ্ধসংক্রান্ত কবিতা আবৃত্তি করছিল। তিনি বিছানায় শুয়ে পড়লেন এবং চেহারা অন্যদিকে ফিরিয়ে রাখলেন। এ সময় আবু বকর (রা.) এলেন, তিনি আমাকে ধমক দিয়ে বললেন, শয়তানি বাদ্যযন্ত্র (দফ) বাজানো হচ্ছে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে। তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) তার দিকে মুখ ফিরিয়ে বললেন, তাদের ছেড়ে দাও। তারপর তিনি যখন অন্যদিকে ফিরলেন, তখন আমি তাদের ইঙ্গিত করলাম এবং তারা বের হয়ে গেল।’ অন্য বর্ণনায় এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, আবু বকর! প্রত্যেক জাতির আনন্দের দিন রয়েছে। আর আজ আমাদের আনন্দের দিন। (বুখারি: হাদিস নম্বর-৯৪৯।)


আয়েশা (রা.) থেকে আরও বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘ঈদের দিন আবিসিনিয়ার কিছু লোকজন লাঠিসোটা নিয়ে (আয়েশার কক্ষের পাশে) খেলাধুলা করছিল। রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাকে ডেকে বললেন, আয়েশা! তুমি কী দেখতে চাও? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি আমাকে তাঁর পেছনে দাঁড় করিয়ে দিলেন। আয়েশা (রা.) বলেন, আমি আমার গাল তাঁর গালের ওপর রাখলাম। তিনি তাদের উৎসাহ দিয়ে বললেন, হে বনি আরফেদা! তোমরা শক্ত করে ধরো। এরপর আমি যখন ক্লান্ত হয়ে গেলাম, তখন তিনি বললেন, তোমার দেখা হয়েছে তো? আমি বললাম, হ্যাঁ। তখন তিনি বললেন, তাহলে এবার যাও।’ (বুখারি: হাদিস নম্বর-৯৫০।)


আনাস ইবনে মালেক (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) মদিনায় আগমন করে দেখলেন ইহুদিরা দুটি দিন খেলাধুলা ও আনন্দ-ফুর্তি করে। তখন তিনি বললেন, আল্লাহতায়ালা তোমাদের জন্য (খেলাধুলা ও আনন্দ-ফুর্তি করার জন্য) এর চেয়েও উত্তম দুটি দিন নির্ধারণ করেছেন, তা হলো- ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার দিন। (নাসায়ি: হাদিস নম্বর-১৫৫৭।)


এ ছাড়া ঈদের দিন ও রাতে রাসুলুল্লাহ (সা.) বেশ কিছু আমল করতেন। 

 

লেখক: বিভাগীয় প্রধান, ইসলাম, খবরের কাগজ

যে জগৎ মানুষের অপেক্ষায় আছে

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৭:০০ পিএম
যে জগৎ মানুষের অপেক্ষায় আছে
ছবি: সংগৃহীত

বিজ্ঞান যেখানে আজও মহাবিশ্বের রহস্যের কূল-কিনারা করতে পারছে না, সেখানে সৃষ্টির অন্তরালে কী এমন চমক লুকিয়ে রেখেছেন মহান স্রষ্টা?
দুনিয়ার জীবনটা মানুষের জন্য এক পরীক্ষাগার। এই পরীক্ষায় যারা উত্তীর্ণ হবে, তাদের জন্য কী পুরস্কার অপেক্ষা করছে, তা মানুষের সীমিত বুদ্ধিমত্তা দিয়ে পরিমাপ করা অসম্ভব। মানবজাতির এই কৌতূহল ও আকাঙ্ক্ষাকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন রাসুলুল্লাহ (সা.)। তিনি এক হাদিসে কুদসিতে স্বয়ং আল্লাহর বাণী আমাদের শুনিয়েছেন, যা জান্নাতের প্রকৃত স্বরূপকে আমাদের সামনে উন্মোচিত করে।

মহান আল্লাহ বলেন, তিনি তাঁর পুণ্যবান ও অনুগত বান্দাদের জন্য পরকালে এমন এক রাজত্ব বা পুরস্কার তৈরি করে রেখেছেন, যা দুনিয়ার কোনো চোখ কখনো দেখেনি। আমাজন বনের অপার সৌন্দর্য, সুইজারল্যান্ডের মনোরম দৃশ্য কিংবা মানুষের তৈরি কোনো আধুনিক বিস্ময়–কোনো কিছুই তার ধারেকাছে নয়। শুধু তাই নয়, সেই জগতের সুর, আনন্দ বা কোলাহলের মাধুর্য কোনো কান কখনো শোনেনি। এমনকি মানুষের উর্বর মস্তিষ্ক বা কল্পনাশক্তিও কখনো সেই সুখের সামান্যতম অনুমান করতে সক্ষম হয়নি।

রাসুলুল্লাহ (সা.) এই অকল্পনীয় পুরস্কারের সত্যতা নিশ্চিত করতে পবিত্র কোরআনের সুরা সাজদাহর ১৭ নম্বর আয়াতটি তিলওয়াত করতেন। যেখানে স্পষ্ট বলা হয়েছে, কেউই জানে না তার জন্য তার কৃতকর্মের বিনিময়স্বরূপ নয়ন-প্রীতিকর কী পুরস্কার লুকিয়ে রাখা হয়েছে।

এ হাদিসটি আমাদের জাগতিক চিন্তার বৃত্তকে ভেঙে দেয়। আমরা সাধারণত কোনো ভালো কাজের বিনিময়ে চেনা কোনো পুরস্কারের আশা করি। কিন্তু আল্লাহ আমাদের শেখাচ্ছেন, জান্নাত কোনো চেনা উপাদানের উন্নত সংস্করণ নয়। এটি সম্পূর্ণ এক নতুন মাত্রা বা ‘ডাইমেনশন’, যা কেবল বিশ্বাসের চোখেই দেখা সম্ভব। দুনিয়ার সব কষ্ট আর ত্যাগের ক্লান্তি এক নিমেষেই মুছে যাবে, যখন বান্দা সেই ‘চোখে না দেখা’ আর ‘কল্পনা না করা’ পরম প্রাপ্তির মুখোমুখি হবে।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

আমাদের ঘরগুলো কি রহমত শূন্য হচ্ছে?

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৩:৩৪ পিএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ০৩:৪১ পিএম
আমাদের ঘরগুলো কি রহমত শূন্য হচ্ছে?
ছবি: সংদগৃহীত

বসার ঘরের দেয়ালে ঝুলছে চমৎকার সব পেইন্টিং, সোফার কুশনে নান্দনিক ছবির কারুকাজ, আর ড্রয়িংরুমে খেলছে আদুরে পোষা প্রাণী–আধুনিক শহুরে জীবনে ঘর সাজানোর চেনা এক খণ্ডচিত্র এটি। বাহ্যিক দৃষ্টিতে একে আভিজাত্য বা রুচিবোধ মনে হলেও, এর পেছনে কি কোনো আধ্যাত্মিক সংকট লুকিয়ে আছে? ইসলামের চিরন্তন দর্শন বলে, আমাদের ঘরের সাজসজ্জা ও পরিবেশের ওপরই নির্ভর করে সেখানে পরম শান্তি ও মহাজাগতিক রহমতের ফেরেশতারা প্রবেশ করবেন কি না।

আজ থেকে চৌদ্দ শত বছর আগে অন্দরমহলের সজ্জা নিয়ে তৈরি হয়েছিল এক তীব্র মনস্তাত্ত্বিক মুহূর্ত। উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা (রা.) রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বিশ্রামের জন্য ছবি আঁকা একটি ছোট বালিশ কিনেছিলেন। কিন্তু ঘরে প্রবেশের সময় দরজায় থমকে দাঁড়ালেন রাসুল (সা.)। আয়েশা (রা.) তার মুখের অবয়ব দেখে শঙ্কিত হয়ে তওবা করলেন। তখন আল্লাহর রাসুল (সা.) এক অমোঘ সত্য উন্মোচন করে বললেন, যে ঘরে ছবি থাকে সে ঘরে (রহমত ও বরকতের) ফেরেশতা প্রবেশ করে না। (বুখারি, ৫৯৬১)। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, নুহ (আ.) থেকে শুরু করে ইব্রাহীম (আ.) পর্যন্ত সব নবিই সমাজ ও জীবন থেকে এই ছবি-মূর্তি সংস্কৃতির বিলোপ ঘটিয়েছেন।

একবার এক গভীর রাতে ওহি নিয়ে আসার কথা ছিল জিবরাঈল (আ.)-এর। কিন্তু তিনি এলেন না। রাসুলুল্লাহ (সা.) ভোরবেলা চিন্তিত হয়ে পড়লেন। পরে দেখা গেল, তাঁর খাটের নিচে একটি ছোট্ট কুকুর ছানা ছিল। হযরত মায়মুনা (রা.) বর্ণিত হাদিসে জানা যায়, জিবরাঈল (আ.) পরে এসে স্পষ্ট জানান, আমরা এমন ঘরে প্রবেশ করি না, যে ঘরে কুকুর বা ছবি থাকে। (মুসলিম, ২১০৫)। তবে ইসলাম এই বিধানে এক ভারসাম্যপূর্ণ সমাধান দিয়েছে; শিকার বা বাগানের নিরাপত্তার মতো বাস্তব প্রয়োজনের কুকুরকে এর বাইরে রাখা হয়েছে।

ছবি বা মূর্তির এই নিষেধাজ্ঞা কি সর্বজনীন? আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত এক সহিহ হাদিসে জিবরাঈল (আ.) একটি পর্দা ও ঘরের ছবি দেখে তার মাথা কেটে ফেলার বা আকৃতি বদলে গাছের মতো করার পরামর্শ দেন। পর্দাটি কেটে নিচে বসার গদি বানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়, যেন ছবির প্রতি কোনো ভক্তি বা আভিজাত্যের প্রকাশ না থাকে (তিরমিজি, ২৮০৬)। তবে আধুনিক ইসলামি গবেষকদের মতে, যে ছবির প্রকৃত উপকারিতা রয়েছে, যেমন চিকিৎসা বিজ্ঞান, জরুরি আইডেন্টিটি বা ভূগোলচর্চা, তা তৈরি ও ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বৈধ।

বিয়ের ঘর সাজানো বা আভিজাত্য প্রদর্শনে আমরা অনেক সময় সীমা লঙ্ঘন করে ফেলি। সাহাবি সালিম ইবনু আব্দুল্লাহর বিয়ের দিন ঘরটিকে সবুজ দামি কাপড় আর পর্দা দিয়ে মুড়ে ফেলা হয়েছিল। আমন্ত্রিত অতিথি প্রখ্যাত সাহাবি আবু আইয়ুব আনসারী এসে যখন দেখলেন দেয়ালে এভাবে বিলাসিতার পর্দা ঝোলানো হয়েছে, তখন তিনি অত্যন্ত ব্যথিত হয়ে বললেন, আমি তোমাদের খাদ্য খাব না, তোমাদের ঘরেও প্রবেশ করব না। (ত্বাবারাণী)।

ঘর কেবল দেয়াল বা দামি আসবাবের সমষ্টি নয়; এটি আমাদের আত্মিক প্রশান্তির কেন্দ্র। আসুন, আমাদের অন্দরমহল থেকে এমন সব উপাদান সরিয়ে ফেলি যা রহমতের ফেরেশতাদের দূরে ঠেলে দেয়, যেন আমাদের ঘরগুলো প্রকৃত অর্থেই বরকতময় হয়ে ওঠে।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

শামায়েল রাসুল (সা.)-এর চুল সাদা হলেও যেমন দেখাত

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ১১:০৯ এএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ১১:৪৩ এএম
রাসুল (সা.)-এর চুল সাদা হলেও যেমন দেখাত
ছবি: সংগৃহীত

মানুষের চুল সাধারণত বয়স বা চিন্তার কারণে পাকে। কিন্তু মহাবিশ্বের শ্রেষ্ঠ মানব রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর চুল পাকার পেছনে ছিল এক স্বর্গীয় এবং কম্পন সৃষ্টিকারী কারণ। কিন্তু প্রিয় নবি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র মাথার সেই অল্প কিছু চুলের চমৎকার রূপ কেমন ছিল, তা কি আপনি জানেন? চলুন আজ জেনে নিই সেই অজানা ইতিহাস।

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র চুল-দাড়ির শুভ্রতা বা সাদা হওয়া সাধারণ কোনো বার্ধক্যের লক্ষণ ছিল না, বরং তা ছিল এক স্বর্গীয় গাম্ভীর্যের প্রতীক। সাহাবিদের বর্ণনা থেকে জানা যায়, তাঁর এই শ্বেতকেশ মোবারকের মধ্যেও এক অপূর্ব সৌন্দর্য লুকিয়ে ছিল। নবিজি (সা.)-এর মাথায় যখন অল্প কিছু চুল সাদা হতে শুরু করে, তখন দূর থেকে তা অদ্ভুত এক লালচে আভায় জ্বলজ্বল করত। সবুজ রঙের চাদর পরিহিত অবস্থায় তাঁর এই রূপ ছিল দেখার মতো। তা ছাড়া, তাঁর মাথার সিঁথির অংশে যে সামান্য কয়েকটি সাদা চুল ছিল, তাতে সুগন্ধি তেল ব্যবহার করলে শুভ্রতা পুরোপুরি ঢেকে যেত।

আবু রিমছা আত-তায়মী (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘সে সময় তাঁর পরনে ২টি সবুজ রঙের কাপড় ছিল। তাঁর চুল সাদা দেখা যাচ্ছিল কিন্তু মনে হচ্ছিল লাল।’ (মুসনাদে আহমাদ, ৭১১১; মুজামুল কাবীর, ১৮১৭৬; মুস্তাদরাকে হাকেম, ৪২০৩; শারহুস সুন্নাহ, ৩০৯১; মিশকাত, ৪৩৫৯)
জাবির ইবনে সামুরা (রা.) বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সিঁথি কাটার স্থানে কেবল কয়েকটি সাদা চুল শোভা পাচ্ছিল। এ চুলগুলোতে তৈল ব্যবহার করা হলে সাদা ঢেকে যেত।’ (মুসনাদে আহমাদ, ২১০৩০; মুজামুল কাবীর,১৯৩০)

একবার হযরত আবু বকর (রা.) ও অন্যান্য সাহাবি নবিজিকে বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! আপনার চুল তো সাদা হয়ে যাচ্ছে, আমরা আপনার বার্ধক্যের স্পষ্ট নিদর্শন দেখতে পাচ্ছি।’ জবাবে রাসুলুল্লাহ (সা.) এক অভূতপূর্ব কারণ ব্যক্ত করলেন। তিনি জানালেন, কোনো দুনিয়াবি দুশ্চিন্তা বা স্বাভাবিক বয়সের কারণে তাঁর চুল পাকেনি; বরং পবিত্র কোরআনের কিছু সুরার গভীর ভাবগাম্ভীর্য ও সতর্কবাণী তাঁকে বার্ধক্যের দিকে এগিয়ে নিয়েছে।
ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘সুরা হুদ, ওয়াকিয়া, মুরসালাত, আম্মা ইয়াতাসা-আলুন (নাবা), ইযাশ-শামসু কুভভিরাত (তাকভীর) আমাকে বৃদ্ধ বানিয়ে দিয়েছে।’ (মুস্তাদরাকে হাকেম,৩৩১৪; শারহুস সুন্নাহ, হাদিস: ৪১৭৫; জামেউস সগীর, ৬০৩৬; সিলসিলা সহীহাহ, হাদিস: ৯৫৫)

আবু জুহাইফা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘হুদ এবং তদানুরূপ সুরাগুলো আমাকে বার্ধক্যে উপনীত করেছে।’ (মুজামুল কাবীর লিত-তাবারানী, ১৭৭৭৪; মুসনাদে আবু ইআলা,  ৮৮০; মিশকাত,৫৩৫৩)। ইসলামি গবেষকদের মতে, এই সুরাগুলোতে কেয়ামতের ভয়াবহতা, জাহান্নামের কঠিন শাস্তি এবং পূর্ববর্তী জাতিগুলোর ধ্বংসের বিবরণ রয়েছে। উম্মতের প্রতি গভীর ভালোবাসা ও আল্লাহর ভয়মিশ্রিত দায়িত্ববোধের কারণেই এই সুরাগুলোর চিন্তায় আল্লাহর রাসুলের (সা.) চুল মোবারক শ্বেতবর্ণ ধারণ করেছিল।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

পবিত্র আশুরা ২৬ জুন

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৮:৫০ এএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ০৮:৫৫ এএম
পবিত্র আশুরা ২৬ জুন
ছবি: সংগৃহীত

দেশের আকাশে ১৪৪৮ হিজরি সনের পবিত্র মহররম মাসের চাঁদ দেখা গেছে। ফলে আজ বুধবার থেকে পবিত্র মহররম মাস গণনা করা শুরু হবে। হিসাব অনুযায়ী আগামী ২৬ জুন পবিত্র আশুরা পালিত হবে।

গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন বায়তুল মোকাররম সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ তথ্য জানানো হয়। ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সচিবের রুটিন দায়িত্ব) মো. ফজলুর রহমান সভায় সভাপতিত্ব করেন।

১৪৪৮ হিজরি সনের পবিত্র মহররম মাসের চাঁদ দেখা সম্পর্কে সব জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়, বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান (স্পারসো) হতে প্রাপ্ত তথ্য পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি।

সভায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আ. ছালাম খান, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি আবদুল মালেক, প্রধান তথ্য অফিসার মো. শাহ আলম, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মো. মাহবুব আলম, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মো. মমিনুল ইসলাম, বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠানের (স্পারসো) মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মুহাম্মদ শহিদুল ইসলামসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

আশুরা ইসলামের ইতিহাসে একটি ঘটনাবহুল দিন। এই দিনেই আরশ, কুরসি, লওহ, কলম, আসমান ও জমিন সৃষ্টি করা হয়। আদম (আ.)কেও এই দিনেই সৃষ্টি করা হয়। পরে শয়তানের প্ররোচনায় তিনি ভুল করলে এই দিনই তাকে দুনিয়ায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়। 

কারবালার শোকাবহ ও হৃদয়বিদারক ঘটনাটিও ঘটে এই দিনে। মহানবী মুহাম্মদ (সা.)-এর দৌহিত্র ইমাম হোসাইন (রা.) ও তার পরিবার এবং অনুসারীদের হত্যা করা হয় এই দিনে।

 

১৭ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৭:০০ এএম
১৭ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি
জুন, ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচির ছবি

প্রতিদিন সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ। নামাজ (সালাত) ইসলাজুনর পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি এবং ইসলাজুনর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, (হে আল্লাহর রাসুল!) আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয় আমল কোনটি? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘নামাজ (বুখারি ও মুসলিম)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সেভাবে নামাজ আদায় করো, যেভাবে আমাকে নামাজ আদায় করতে দেখেছ।’ (বুখারি, ৬৩১)

সঠিকভাবে নামাজ আদায় করতে হলে, নামাজের সময় জানতে হবে।

 

আজ ১৭ জুন ২০২৬, বুধবার। ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো

জোহর

১২.০২ মিনিট

আসর

৪.৩৮ মিনিট

 

মাগরিব

৬.৫০ মিনিট

 

এশা

৮.১৬ মিনিট

ফজর (১৮ জুন)

.৪৪ মিনিট

 

 

বিভাগীয় শহরের জন্য উল্লিখিত সময়ের সঙ্গে যেসব বিভাগে সময় যোগ-বিয়োগকরতে হবে।

বিয়োগ

চট্টগ্রাম: ৫ মিনিট

সিলেট: ৬ মিনিট

যোগ

খুলনা: ৩ মিনিট

রাজশাহী: ৭ মিনিট

রংপুর: ৮ মিনিট

বরিশাল: ১ মিনিট

 

সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন