কোরআন ও হাদিসের আলোকে এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়েছে। যেমন- পশুপাখির জিন ও ফেরেশতা দেখার বিষয়টি বিশুদ্ধভাবে প্রমাণিত, তেমনই প্রত্যেক মানুষের সাথে একজন করে জিনের সহচর থাকার বিষয়টিও সত্য। আল্লাহতায়ালা কোরআনে বলেন, ‘তার সহচর (শয়তান) বলবে, ‘হে আমার রব’ আমি তাকে অবাধ্যতায় লিপ্ত করাইনি; বরং সে নিজেই নিমজ্জিত ছিল ঘোর পথভ্রষ্টতায়।’ (সুরা কাফ, ২৭)
এই আয়াতের ব্যাখ্যায় ইবনু আব্বাস, মুজাহিদ এবং কাতাদাসহ অনেক তাফসির বিশেষজ্ঞ বলেছেন, এখানে ‘করিন’ বলতে শয়তান ও তার বংশধরকে বোঝানো হয়েছে, যারা মূলত জিন।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘তোমাদের প্রত্যেকের সাথে একজন করে শয়তান (জিন) নিযুক্ত আছে।’ সাহাবিরা জিজ্ঞাসা করলেন, ‘আপনার সাথেও হে আল্লাহর রাসুল?’ নবিজি (সা.) বললেন, ‘হ্যাঁ, আমার সাথেও; তবে আল্লাহ আমাকে তার ব্যাপারে সাহায্য করেছেন। তাই সে মুসলিম হয়ে গিয়েছে। এ জন্য সে আমাকে সর্বদা ভালো কাজের প্রতি উৎসাহিত করে।’
যারা জিনের অস্তিত্ব অস্বীকার করে, তারা প্রশ্ন করতে পারে, জিনেরা যদি আগুন থেকে তৈরি হয়ে থাকে এবং আমাদের সবার সাথেই সহচর জিন থাকে, তা হলে আমাদের দেহের তাপমাত্রা সারাক্ষণ ১০০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে থাকার কথা। এমনটা তো হয় না।
এর উত্তর হলো, আল্লাহতায়ালা কোরআনে বলেছেন, ‘তিনি মানবসৃষ্টির সূচনা করেছেন মাটি থেকে।’ (সুরা রাহমান, ১৪) মানুষের সৃষ্টির শুরু যেমন মাটি থেকে, তেমনি জিন ও শয়তানদের সৃষ্টি আগুন থেকে। তবে মানুষের সৃষ্টির শুরু মাটি থেকে হলেও পরে তা প্রজননের মাধ্যমে অব্যাহত থেকেছে। একইভাবে, জিনদের সৃষ্টির সূচনা আগুন থেকে হলেও, এরপর তারা প্রজননের মাধ্যমেই বংশবৃদ্ধি করেছে। এর ধরন ও প্রকৃতি সম্পর্কে আল্লাহতায়ালাই ভালো জানেন।
লেখক: আলেম ও সাংবাদিক