জিনদের অস্তিত্ব যেমন কোরআন ও হাদিসের মাধ্যমে প্রমাণিত, তেমনি তাদের মধ্যে মুসলিম, কাফির, ভালো ও মন্দ সব শ্রেণির জিনও রয়েছে। কোরআনে বর্ণিত আছে, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে জিনদের একটি প্রতিনিধি দল এসেছিল এবং তিনি তাদের ইসলাম শিক্ষা দিয়েছেন। পরবর্তী সময়ে কিছু মুসলিম জিন রাসুলের হাদিস বর্ণনা করেছে তবে তা নিয়ে শরিয়তের দৃষ্টিভঙ্গি কী?
ইসলামের ইতিহাসে জিনদের হাদিস বর্ণনার কিছু ঘটনা পাওয়া যায়। আবু নুআইম আসবাহানি (রহ.) উবাই ইবনু কাব (রা.) থেকে একটি ঘটনা বর্ণনা করেন। একদল লোক মক্কার পথে যাত্রা করে। দীর্ঘ পথ অতিক্রমের পর তারা পথ হারিয়ে ফেলে এবং পানির অভাবে প্রায় মৃত্যুর মুখে পতিত হয়। এমতাবস্থায়, তাদের কাছে এক জিন এসে জানায় যে সে নবিজি (সা.)-এর কাছে আগমনকারী জিন দলের শেষ সদস্য। জিনটি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছে, ‘প্রকাশ্যে হোক বা অপ্রকাশ্যে, এক মুমিন অপর মুমিনের ভাই। পানি ও পথ প্রদর্শনে সে তার ভাইকে ধোঁকা দেয় না।’ এরপর জিনটি তাদের পানির সন্ধান এবং সঠিক পথের দিকনির্দেশনা দেয়।
এ ধরনের আরও কিছু হাদিসের বর্ণনা পাওয়া যায়, যেখানে কোনো মুসলিম জিন হাদিস রিওয়ায়াত করেছেন। তবে, ইসলামি শরিয়তের মূলনীতি অনুযায়ী, জিনদের বর্ণিত হাদিস মানুষের জন্য শরিয়তের দলিল হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়। এ বিষয়ে সব মুসলিম ইমাম একমত পোষণ করেছেন। এর কারণ হলো, হাদিস গ্রহণের ক্ষেত্রে বর্ণনাকারীর নির্ভরযোগ্যতা, স্মৃতিশক্তি ও সততা বিশেষভাবে যাচাই করা হয়। জিনদের জগৎ মানুষের থেকে ভিন্ন এবং তাদের স্বভাব ও জ্ঞান সম্পর্কে মানুষের পূর্ণাঙ্গ ধারণা নেই। তাই, তাদের বর্ণনার ওপর ভিত্তি করে শরিয়তের কোনো বিধান নির্ধারণ করা যুক্তিযুক্ত নয়।
তবে, জিনরা নিজেদের মধ্যে হাদিস বর্ণনা করতে পারবে। এতে কোনো বাধা নেই। কারণ তাদের নিজস্ব জীবন ও শরয়ী বিধিবিধান থাকতে পারে, যা তারা একে অপরের কাছে বর্ণনা করতে পারে। কিন্তু সেই বর্ণনা মানুষের জন্য অনুসরণীয় বা দলিল হিসেবে ব্যবহারযোগ্য হবে না। জিনদের হাদিস বর্ণনা ইসলামি ইতিহাসে একটি গ্রহণযোগ্য বিষয় হলেও, মানুষের জন্য শরিয়তের দলিল হিসেবে তা গ্রাহ্য নয়। মানুষের জন্য অনুসরণীয় দলিল হলো সাহাবা, তাবেইন ও অন্য নির্ভরযোগ্য মানব বর্ণনাকারীদের মাধ্যমে পরম্পরায় বর্ণিত রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বাণী ও কর্ম।
লেখক: আলেম ও সাংবাদিক