দৈনন্দিন জীবনে মুসলমানরা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের জন্য আজান দিয়ে থাকেন। অন্যান্য ওয়াক্তের আজানের বাক্যগুলো এক থাকলেও ফজরের আজানে একটি বিশেষ বাক্য 'আসসালাতু খাইরুম মিনান নাউম' অতিরিক্ত বলতে হয়। কিন্তু যদি কোনো মুয়াজ্জিন ফজরের আজান দেওয়ার সময় ভুলবশত এই বাক্যটি বলতে ভুলে যান, তাহলে কি আজানটি অশুদ্ধ হয়ে যাবে এবং পুনরায় আজান দিতে হবে? এ প্রশ্ন অনেকের মনেই উদিত হয়।
ইসলামি আইন ও ফিকাহ শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞরা এই বিষয়ে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তাঁদের মতে, ফজরের আজানে 'আসসালাতু খাইরুম মিনান নাউম' বাক্যটি বলা মুস্তাহাব পর্যায়ের একটি আমল। অর্থাৎ, এটি আজানের এমন একটি অংশ যা বলা সওয়াবের কাজ, কিন্তু এটা ছাড়া আজান দেয়া হলে তা অশুদ্ধ হবে না।
অতএব, যদি কোনো কারণে এই বাক্যটি বাদ পড়ে যায়, তাহলে আজানটি মাকরুহ হয় না এবং এর জন্য আজান পুনরায় দেওয়ার প্রয়োজন নেই। এই শব্দগুলো ব্যতীত যে আজান দেওয়া হয়েছে, তা দিয়েই আজানের হুকুম সম্পূর্ণরূপে আদায় হয়ে যাবে।
যদি আজান দেওয়ার সময় 'আসসালাতু খাইরুম মিনান নাউম' বলতে বলতে ভুলে যাওয়া হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে মনে পড়ে, তাহলে উত্তম হলো সে স্থান থেকেই বাক্যগুলো উচ্চারণ করে আজানের বাকি অংশ শেষ করা। এতে আজানের ধারাবাহিকতা বজায় থাকে।
আর যদি আজান শেষ হওয়ার পর মনে পড়ে যে বাক্যটি বাদ পড়ে গেছে, তাহলে মনের প্রশান্তি এবং আজানকে পরিপূর্ণ করার উদ্দেশ্যে চাইলে মাইক ছাড়া বা নীচুস্বরে পুনরায় আজাদন দেওয়া যেতে পারে। তবে এটি আবশ্যক নয়, বরং এটি একটি ঐচ্ছিক পদক্ষেপ যা আজানের পূর্ণতা নিশ্চিত করে।
তুহফাতুল ফুকাহা (১/১১১), হিন্দিয়া (১/৫৬), এবং রদ্দুল মুহতার (১/৬৩৯)। এসব গ্রন্থ অনুযায়ী, আজানের মূল উদ্দেশ্য (নামাজের সময় ঘোষণা এবং মানুষকে নামাজের প্রতি আহ্বান) পূরণ হলেই আজান সহীহ বলে গণ্য হবে, যদিও মুস্তাহাব অংশ বাদ পড়ে যায়।
লেখক: আলেম ও সাংবাদিক