পিতা-মাতা মানুষের জীবনের অমূল্য সম্পদ। সন্তানের প্রতি তাদের স্নেহ, ভালোবাসা, ত্যাগ ও মমতার প্রতিদান কোনো কিছু দিয়েই পরিশোধ করা সম্ভব নয়। তাই সন্তানের অন্যতম বড় দায়িত্ব হলো পিতা-মাতার জন্য দোয়া করা। দোয়াই জীবিত অবস্থায় তাদের জন্য শান্তি এনে দেয় এবং মৃত্যুর পরও অব্যাহত সওয়াবের উৎস হয়ে থাকে। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যখন মানুষ মারা যায় তখন তিন প্রকার আমল ব্যতীত তার সকল আমল বন্ধ হয়ে যায়। এক. সদকায়ে জারিয়া, দুই. এমন ইলম যার দ্বারা উপকার সাধিত হয় এবং তিন. নেককার সন্তান যে তার জন্য দোয়া করতে থাকে। (মুসলিম, হাদিস: ১৬৩১)
কোরআনে পিতা-মাতার জন্য তিনটি দোয়া বিশেষভাবে উল্লেখ রয়েছে। এগুলোর মাধ্যমে দোয়া করা উত্তম। সেগুলো হলো-
এক. রহমতের দোয়া: বাংলা উচ্চারণ : রাব্বির হামহুমা কামা রব্বাইয়ানি সগিরা । অর্থ: হে আমার প্রতিপালক! তাদের প্রতি দয়া করুন, যেমন তারা আমাকে শৈশবে লালন-পালন করেছেন। (সুরা বনী ইসরাইল: ২৪)
দুই. ক্ষমা প্রার্থনার দোয়া: বাংলা উচ্চারণ : রব্বানাগ ফিরলি ওয়ালি ওয়ালিদাইয়া ওয়ালিল মুমিনিনা ইয়াওমা ইয়াক্কুমুল হিসাব। অর্থ: হে আমাদের প্রতিপালক! রোজ কেয়ামতে আমাকে, আমার পিতা-মাতা ও সকল মুমিনকে ক্ষমা করুন। (সুরা ইবরাহিম: ৪১)
তিন. সবার জন্য দোয়া: বাংলা উচ্চারণ : রাব্বিগ ফিরলি ওয়ালি ওয়ালিদাইয়া ওয়ালিমান দাখালা বাইতিয়া মুমিনাও ওয়ালিল মুমিনিনা ওয়াল মুমিনাত। ওয়ালা তাজিদিজ জা-লিমিনা ইল্লা তাবারা । অর্থ: হে আমার রব! আমাকে, আমার পিতা-মাতাকে, যে আমার ঘরে ঈমানদার হয়ে প্রবেশ করবে তাকে এবং মুমিন নারী-পুরুষদের ক্ষমা করুন আর আপনি জালিমদের ধ্বংস ছাড়া কিছু বাড়িয়ে দেবেন না। (সুরা নুহ: ২৮)
সন্তান যখন পিতা-মাতার জন্য দোয়া করে আল্লাহতায়ালা তখন তাৎক্ষণিকভাবে কবুল করেন এবং তাদের প্রতি রহমত বর্ষণ করেন। তাই সন্তানদের উচিত দোয়া কবুলের মুহূর্তগুলোতে তাদের জন্য বেশি বেশি দোয়া করা। অন্তত দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের পর দোয়ায় তাদেরকে স্মরণ রাখা। আল্লাহতায়ালা সবাইকে নিয়মিত দোয়া করার তাওফিক দান করুন। আমিন।
লেখক: আলেম ও মাদরাসা শিক্ষক