ঢাকা ৫ আষাঢ় ১৪৩৩, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
পুলিসিচকে ঘিরে উদ্বেগ লাল কার্ডের পর বসনিয়ার জালে সুইজারল্যান্ডের গোল উৎসব অসুস্থ মেসির বাবা, গুজব ছড়ানোয় ক্ষুব্ধ পরিবার গোলশূন্য সমতায় বিরতিতে সুইজারল্যান্ড-বসনিয়া অবশেষে কাটল ভিসা জটিলতা, কানাডায় খেলতে পারবেন ওয়াহি বিশ্বকাপে সহজ ম্যাচ বলে কিছু নেই: ডগলাস সান্তোস বিশ্বকাপে সৌদি আরবের জন্য ভিন্ন নিয়ম পেনাল্টি গোলে চেক প্রজাতন্ত্রকে রুখে দিল দক্ষিণ আফ্রিকা অপ্সরার আন্তর্জাতিক অভিষেক আদালতে আত্মসমর্পণ করতে গিয়ে কারাগারে আওয়ামী লীগ নেতা বাদশা গণপিটুনির শিকার তিন ডিবি সদস্য, উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি মেনে নাও, মেসি সেরা: রোনালদো নাজারিও কেইনের প্রেরণা এমবাপ্পে-হালান্ড কুমিল্লায় ধর্ষণকাণ্ড: গ্রেপ্তার শিবির নেতার পক্ষে দাঁড়ানো দুই এপিপির নিয়োগ বাতিল টাঙ্গাইলে প্রতিমন্ত্রী টুকুর নামে প্রতারণা, গ্রেপ্তার ১ দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথমার্ধে এগিয়ে চেক প্রজাতন্ত্র টাকার অভাবে রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি অনিশ্চিত, সহায়তার আবেদন রাজবাড়ীতে ৭ বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ নেইমার ভক্তদের জন্য দুঃসংবাদ সাবেক মন্ত্রী হারুণ অর রশীদ অর নেই কুমিল্লায় মাদক মামলায় কারাবন্দি যুবদলকর্মীর মৃত্যু চুয়াডাঙ্গায় বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু হাইতির বিপক্ষে নামার আগে ব্রাজিলকে সুখবর দিল ফিফা ওয়ালটন পিসিবিএ'র রপ্তানি উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি উপদেষ্টা ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে অনুষ্ঠিত হলো গ্লোবাল ইয়ুথ লিডারশিপ কনফারেন্স ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ, গণপিটুনির শিকার তিন পুলিশ বিশ্বকাপে ৩ ম্যাচ নিষিদ্ধ দক্ষিণ আফ্রিকার মিডফিল্ডার সময় টিভির সাবেক এমডি জোবায়ের কারাগারে কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের সুরক্ষায় ইইউর ১.৪ কোটি ইউরো অনুদান বিশ্বকাপে বড় ধাক্কা খেল আইভরি কোস্ট, কানাডার ভিসা পেলেন না ওয়াহি

মসজিদভিত্তিক লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা ও রূপরেখা

প্রকাশ: ২১ নভেম্বর ২০২৫, ০৭:০০ পিএম
মসজিদভিত্তিক লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা ও রূপরেখা
ছবি: সংগৃহীত

ইসলামকে বলা হয় জ্ঞানচর্চার ধর্ম। মানুষ অন্যান্য সৃষ্টি থেকে শ্রেষ্ঠত্বের আসনে রয়েছে তার জ্ঞান, বুদ্ধি ও বিবেচনাবোধের বিচারে। ইসলাম মানুষের এই জ্ঞানকে শানিত করার জন্য, জ্ঞানের প্রদীপালোকে আলোকিত হওয়ার জন্য সর্বোচ্চ পথনির্দেশ করেছে। পবিত্র কোরআনের প্রথম নাজিল করা আয়াত এসেছে পড়ার নির্দেশ নিয়ে। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘পড়ো তোমার প্রতিপালকের নামে, যিনি (সবকিছু) সৃষ্টি করেছেন।’ (সুরা আলাক: ১) এখান থেকেই অনুমিত হয় ইসলামে জ্ঞানচর্চার অবস্থান অনেক মর্যাদাময়। জ্ঞান অর্জনকে ইসলাম ফরজও ঘোষণা করেছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘জ্ঞান অর্জন করা প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর জন্য ফরজ।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস: ২২৪)

শুধু কিছু ফিকহি বিধান জানাকে ইসলাম ফরজ করেনি। ইসলাম সব ধরনের উপকারী জ্ঞানের চর্চাকে উদ্বুদ্ধ করে থাকে। আর জ্ঞানচর্চার জন্য সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ স্থান হলো লাইব্রেরি বা গ্রন্থাগার। যুগ যুগ ধরে সব উন্নত সভ্যতায় লাইব্রেরির অবস্থান অনেক ঊর্ধ্বে রাখা হয়েছে। কোনো বিজ্ঞজন এটাকে অস্বীকার করবেন না। ইসলামি স্বর্ণযুগে বাগদাদে অবস্থিত বায়তুল হিকমাহর কথাও আমরা বিবেচনা করতে পারি।

মুসলিমদের জন্য মসজিদ হলো জ্ঞানচর্চার সূতিকাগার। সমাজের যাবতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মুসলিম সমাজব্যবস্থায় মসজিদকেন্দ্রিক পরিচালিত হয়ে থাকে। মহানবি (সা.) ছিলেন মসজিদভিত্তিক সমাজব্যবস্থার প্রতিষ্ঠাতা। তিনি মদিনায় হিজরত করে মসজিদে নববি প্রতিষ্ঠা করে এখান থেকেই সব কার্যা পরিচালনা করতেন। জ্ঞানচর্চায়ও মসজিদের ভূমিকা অপরিসীম। বিভিন্ন মুসলিম সভ্যতায়ও আমরা এর নিদর্শন পেয়ে থাকি। আর বাংলাদেশে এর গুরুত্ব আরও বেশি।

 বাংলাদেশে মসজিদভিত্তিক লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা: বিশ্বের আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ উন্নত কোনো রাষ্ট্র নয়। জ্ঞান, বিজ্ঞানের প্রতি অবহেলা এই জাতিকে পিছিয়ে রেখেছে। নব্বই শতাংশের অধিক মুসলিম অধ্যুষিত রাষ্ট্র হওয়ার পরও দেশের যাবতীয় ক্ষমতায়ন সেকুলারপন্থি। এর অন্যতম কারণ মুসলিমদের সঠিক জ্ঞানের অভাব। এজন্য মুসলিমদের মধ্যে এত বিভাজন ও অনৈক্য। নারীদের কথা বিবেচনা করলে দেখা যায়, গ্রামাঞ্চলের নারীরা এখনো অনেক পিছিয়ে রয়েছে। বাংলাদেশে ৬৪ জেলায় মসজিদের সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৩ লাখ। এর মধ্যে কিছু বড় বড় মসজিদে লাইব্রেরি কার্যক্রম রয়েছে। কিন্তু তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। এ ছাড়া রয়েছে সঠিক পরিচালনার অভাব। এত অধিকসংখ্যক মসজিদ থেকে যদি জাতি সঠিক জ্ঞানের সন্ধান পায়, তবে এই ঘাটতি কিছুটা লাঘব হবে। জাতি হিসেবে আমরাও শির উঁচু করে দাঁড়াতে পারব।

লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠার প্রাথমিক উদ্যোগ: বাংলাদেশে মসজিদভিত্তিক লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠার জন্য বিশেষত সচেতন ও বিজ্ঞ জনগণকে এগিয়ে আসতে হবে। প্রতিটি মসজিদের পাশের কিছু মানুষকে একত্রিত হয়ে করণীয় কিছু বিষয় ধাপে ধাপে তুলে ধরা হলো।

সঠিক নিয়ত: কাজের আগে সঠিক নিয়ত থাকা আবশ্যক। কাজের আগে উপযুক্ত ও কার্যকর লক্ষ্য-উদ্দেশ্য ঠিক করা এবং পরিকল্পনা গ্রহণ করা আসল কাজের অর্ধেক। এটা না হলে কাজ হয়ে গেলেও তা একসময় ঝিমিয়ে পড়বে বা সঠিক ফলাফল দেবে না। আর মুসলিম হিসেবে আমাদের কাজের প্রতিদান তো নিয়ত হিসেবেই পেয়ে থাকব। রাসুল (সা.) তো বলেছেন, ‘বান্দার সব কাজই তার নিয়তের ওপর নির্ভরশীল। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১) এজন্য আগেই সঠিক নিয়ত ও কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা উচিত।

মসজিদ কমিটি এবং মুসল্লিদের সঙ্গে পরামর্শ: সচেতন জনগণ যদি মসজিদ কমিটি থেকে উঠে আসে, তাহলে অবশ্যই কাজ বেশি সহজ হবে। কিন্তু তা না হলে মসজিদ কমিটি এবং মুসল্লিদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে পরামর্শ করতে হবে। তাদের এর উপকারিতা ও প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করাতে হবে। আশা করা যায় সঠিকভাবে উপস্থাপন ও পরিকল্পনা গ্রহণ করতে পারলে পজিটিভ সাড়া আসবে।

একটি গঠনতন্ত্র প্রস্তুত করা: এবার পরামর্শক্রমে একটি লাইব্রেরি পরিচালনার গঠনতন্ত্র এবং একটি পরিচালনা কমিটি গঠন করতে হবে। এটি লাইব্রেরিকে প্রাতিষ্ঠানিকতা দেবে। লাইব্রেরির অধীনে করা সব কাজ গোছালোভাবে অন্যদের সামনে তুলে ধরা যাবে।

লাইব্রেরি গঠন ও পরিচালনা: প্রাথমিক কাজ শেষ হলেই এবার কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে আসবে। সেগুলো সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তা পরিচালনা করতে হবে। নিম্নে তারও কিছু প্রস্তাবনা বা ধাপ তুলে ধরছি।

ফান্ড কালেকশন: কাজের শুরুতে ফান্ডের দিকে মনোযোগ দিতেই হবে। তা কীভাবে সংগ্রহ করতে হবে তা ঠিক করে নেওয়া খুব গুরুত্বপূর্ণ। এটা মুসল্লিদের থেকে চাঁদা, মসজিদ ফান্ড থেকে গ্রহণ, সমাজের ধনী মানুষদের থেকে গ্রহণ ইত্যাদি করা যেতে পারে। এ ছাড়া বিভিন্ন সংস্থা থাকে যারা এগুলোতে ফান্ডিং করে থাকে, তাদের কাছে অ্যাপ্লাই করা। এর মধ্যে ইসলামিক ফাউন্ডেশনও রয়েছে। এভাবে করেই প্রাথমিক ফান্ড গঠন করা যাবে। সতর্কতা হলো, সমাজের গরিবদের কাছে বা রাস্তা আটকিয়ে এই চাঁদা কালেকশন থেকে বিরত থাকতে হবে। এটা শুরুতেই লাইব্রেরির ভাবগাম্ভীর্য নষ্ট করবে।

বই সংগ্রহ: ফান্ড কালেকশনের পরে বই সংগ্রহের পালা। অবশ্য বই রাখা এবং পড়ার জন্য জায়গা নির্দিষ্ট করে নিতে হবে। এবার কোন ধরনের বা কোন ক্যাটাগরির বই সংগ্রহ করতে হবে তা স্থান-কাল-পাত্রভেদে বিভিন্ন হতে পারে। তবুও কোরআন, হাদিস, সিরাত, আধুনিক ফিকহ, ইসলামি সভ্যতা-সংস্কৃতি, আত্মোন্নয়নমূলক, বিজ্ঞান, শিল্প-সাহিত্য, শিশুতোষ ইত্যাদি ক্যাটাগরির বই রাখা যাবে।

কার্যকর প্রচারণা: এবার প্রচারণা বা দাওয়াতি কাজ আঞ্জাম দিতে হবে। অনলাইন, স্থানীয় গণমাধ্যম, মসজিদের খুতবা, স্থানীয় বাজার, বিভিন্ন জায়গায় চিঠি প্রদান, পোস্টারিং ইত্যাদির মাধ্যমে প্রচারণা করতে হবে। সঠিকভাবে প্রচারণা করতে পারলে পাঠক, দাতা উভয়ই বাড়বে।

আরামদায়ক পড়ার স্থান: বই পড়ার জন্য উপযুক্ত জায়গারও প্রয়োজন হয়। তবে এটা সাধ্যের অনুগত। মসজিদ আঙিনায় আলাদা জায়গার ব্যবস্থা হলে তো ভালোই হয়। সেখানে চেয়ার, টেবিলেরও ব্যবস্থা করা যাবে। তবে এটা না হলে মসজিদ ফ্লোরেই যথেষ্ট।

বই বিতরণের ব্যবস্থা: অনেকের জন্য মসজিদে বসে পড়ার সময় বা সুযোগ না হতে পারে। তাদের জন্য নির্দিষ্ট সময় বেঁধে বই বাসায় নেওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত। লাইব্রেরির গঠনতন্ত্রে সদস্য হওয়ার নিয়মও রাখা যেতে পারে। তাহলে সদস্যদের মধ্যে বই বিতরণ বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াবে।

যথাসময়ে বই ফেরত: এই ব্যবস্থাতে কিছু কড়াকড়ি জরুরি। বই নিয়ে ফেরত না দেওয়া বা দিতে গড়িমসি করা অনেক মানুষের স্বভাব। যদি বই সময়মতো ফেরত না আসে, তবে লাইব্রেরি বন্ধও হয়ে যেতে পারে। এক্ষেত্রে গঠনতন্ত্রে একটা নিয়ম রাখা যেতে পারে যে, বই ফেরত দিতে দেরি হলে ৫ কিংবা ১০ টাকা লাইব্রেরি ফান্ডে জরিমানাস্বরূপ দিতে হবে।

লাইব্রেরি কেন্দ্রিক আরও সৃজনশীল উদ্যোগ: লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠার পর এর অধীনে আরও এমন কার্যক্রমের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে যাতে মানুষ বেশি বেশি লাইব্রেকেন্দ্রীক হয়। যেমন- নির্ধারিত বই পাঠ প্রতিযোগিতা, কুইজ প্রতিযোগিতা। এটা শিশু-কিশোর, যুবক, নারী, বয়স্ক সব ক্যাটাগরিতে আলাদাভাবে আয়োজন করা যায়। এর মাধ্যমে খুব ভালো সাড়া পড়বে। এ ছাড়া নির্ধারিত বইয়ের ওপর মাসিক আলোচনা চক্র করা যেতে পারে।

সামগ্রিক উন্নতি, অগ্রগতির জন্য জাতিকে বইমুখী করার বিকল্প নেই। আর এজন্য মসজিদভিত্তিক লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠার এই উদ্যোগ হতে পারে সমাজ পরিবর্তন বা সংস্কারের হাতিয়ার।

 

লেখক: শিক্ষার্থী,

 আল-হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া

আধ্যাত্মিক ধনী হওয়ার সহজ সমীকরণ

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৭:০০ পিএম
আধ্যাত্মিক ধনী হওয়ার সহজ সমীকরণ
ছবি: সংগৃহীত

ভাবুন তো, মাত্র এক মিনিটে যদি আপনার ব্যাংক ব্যালান্সে এক হাজার ডলার জমা হয়, তবে কেমন লাগবে? দুনিয়ার বুকে এমন কোনো বৈধ ব্যবসা নেই যা আপনাকে মাত্র ৬০ সেকেন্ডে এত বড় মুনাফা দিতে পারে। অথচ আখেরাতের বাজারে প্রতিদিন মাত্র এক মিনিটে এক হাজার নেকি অর্জন করা এবং একই সঙ্গে এক হাজার গুনাহ মাফ করিয়ে নেওয়া সম্ভব! রাসুল (সা.) আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের এমন কিছু অবিশ্বাস্য আধ্যাত্মিক সমীকরণ শিখিয়েছেন, যা আধুনিক মানুষকে এক নিমেষেই পরকালের শ্রেষ্ঠ ধনীতে পরিণত করতে পারে।

আমরা অনেকেই মনে করি, অনেক বড় ইবাদত বা কঠিন পরিশ্রম ছাড়া বড় সওয়াব পাওয়া অসম্ভব। কিন্তু আল্লাহর রাসুল (সা.) এই ধারণাটি সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছেন।
হযরত সা’দ ইবনে আবু অক্কাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। তিনি বললেন, তোমাদের কোনো ব্যক্তি প্রত্যহ এক হাজার নেকি অর্জন করতে অপারগ হবে কি?  উপস্থিত একজন জিজ্ঞেস করলেন, ‘কীভাবে এক হাজার নেকি অর্জন করবে?’ তিনি বললেন, একশ’বার তাসবীহ (সুবহানাল্লাহ) পড়বে। ফলে তার জন্য এক হাজার নেকি লেখা হবে এবং এক হাজার গুনাহ মিটিয়ে দেওয়া হবে। (মুসলিম, ২৬৯৮; তিরমিজি, ৩৪৬৩)

নতুন দৃষ্টিকোণ: মুহাদ্দিসগণের সুক্ষ্ম ভাষ্য ও বর্ণনার পাঠভেদ (যেমন- শু’বাহ ও ইয়াহয়্যা আলক্বাত্তানের বর্ণনা) অনুযায়ী, এখানে ‘অথবা’ নয়, বরং ‘এবং’ শব্দটির ব্যবহারই অগ্রগণ্য। অর্থাৎ, মাত্র ১০০ বার ‘সুবহানাল্লাহ’ বললে ১০০০ নেকি পাওয়ার পাশাপাশি একই সঙ্গে ১০০০ গুনাহও খাতা থেকে মুছে যায়। বিজ্ঞান বলে মানুষের শরীরে শত শত হাড়ের জোড় বা জয়েন্ট রয়েছে। ইসলাম এই প্রতিটি সুস্থ জয়েন্টের জন্য প্রতিদিন সকালে একটি ‘সদকা’ বা ট্যাক্স ধার্য করেছে। কিন্তু সেই ট্যাক্স পরিশোধের উপায়টি কত চমৎকার!

হযরত আবু যার (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, তোমাদের প্রত্যেকের প্রতিটি (হাড়ের) জোড়ের পক্ষ থেকে প্রতিদিন সদকা দেওয়া আবশ্যক। প্রতিটি ‘সুবহানাল্লাহ’ সদকা, ‘আলহামদু লিল্লাহ’ সদকা, ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ সদকা এবং ‘আল্লাহু আকবার’ বলাও সদকা। সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ করাও সদকা। আর এসব কিছুর পরিবর্তে চাশতের (পূর্বাহ্নের) দুই রাকাআত নামাজ পড়াই যথেষ্ট। (মুসলিম, ৭২০; সুনানে আবু দাউদ, ১২৮৫)

মহাবিশ্বের পরম সত্তা আল্লাহতায়ালা বান্দার সঙ্গে কেমন আচরণ করবেন, তার পুরো নিয়ন্ত্রণ কিন্তু বান্দার নিজের চিন্তাভাবনার ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আল্লাহতায়ালা বলেন: আমি আমার বান্দার ধারণার পাশে থাকি (সে যেমন ধারণা করে, আমি তেমনই করি)। সে যখন আমাকে মনে মনে স্মরণ করে, আমি তাকে আমার মনে স্মরণ করি। আর সে যদি কোনো সভায় আমাকে স্মরণ করে, তবে আমি তাকে তাদের চেয়েও উত্তম (ফেরেশতাদের) সভায় স্মরণ করি। (বুখারি, ৭৪০৫; মুসলিম, ২৬৭৫)

মুখের কোণে একটু ‘সুবহানাল্লাহ’র গুঞ্জন আর দিনের শুরুতে দুই রাকাআত চাশতের নামাজ–এই সামান্য অভ্যাসগুলোই আমাদের পুরো দিনটিকে আল্লাহর সুরক্ষায় মুড়িয়ে দেয়। সবচেয়ে বড় কথা, আমরা যখন নির্জনে বা জনসম্মুখে আল্লাহকে ডাকি, তখন স্বয়ং স্রষ্টা আমাদের নাম নিয়ে ফেরেশতাদের সামনে গর্ব করেন। 

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

সততার মাপকাঠি কেমন হওয়া উচিত?

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৩:০১ পিএম
সততার মাপকাঠি কেমন হওয়া উচিত?
ছবি: সংগৃহীত

গভীর রাতে দুহাত তুলে কাঁদছেন, দূর-দূরান্তের ক্লান্তিকর সফর শেষে ধূলিমলিন শরীরে স্রষ্টাকে আকুল হয়ে ডাকছেন, তবুও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত সাড়া। আধুনিক জীবনে আমাদের চারপাশের বহু মানুষ আজ এই বিষণ্ণতায় ভোগেন কিন্তু অনুভূতির এই কান্নার আড়ালে আমরা কি কখনো আমাদের খাবারের প্লেট কিংবা উপার্জনের খতিয়ান খতিয়ে দেখেছি?

হযরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত এক যুগান্তকারী হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ পবিত্র, তিনি পবিত্র বা হালাল ছাড়া কিছুই গ্রহণ করেন না রাসুল (সা.) এমন এক মুসাফিরের উদাহরণ দেন, যার চুল এলোমেলো, শরীর ধূলিধূসরিত সে আকাশের দিকে হাত তুলেহে প্রভু! হে প্রভু!’ বলে কাঁদছে; অথচ তার খাদ্য, পানীয়, পোশাক এবং জীবিকা নির্বাহের পুরো মাধ্যমটিই হারাম রাসুল (সা.) প্রশ্ন ছুড়ে দেন, এমন ব্যক্তির দোয়া কীভাবে কবুল হতে পারে? (মুসলিম, ২৭৬০)

নৈতিকতার চাদরে সাদা আর কালোর বাইরে একটি ধূসর এলাকা বাগ্রে জোনথাকে, যাকে আমরা সন্দেহজনক বিষয় বলি হযরত নুমান ইবনু বাশীর (রা.) বর্ণিত হাদিস অনুযায়ী, হালাল হারাম একদম স্পষ্ট, কিন্তু এর মাঝে রয়েছে কিছু সন্দেহজনক বস্তু যে ব্যক্তি এই সন্দেহ পরিহার করে, তার দ্বীন সম্মান সুরক্ষিত থাকে আর যে এর ধারেকাছে যায়, সে নিষিদ্ধ চারণভূমিতে ঢুকে পড়া পশুর মতো যেকোনো সময় হারামে লিপ্ত হতে পারে রাসুল (সা.) সতর্ক করেন, মানুষের শরীরের ভেতরে একটি গোশতের টুকরো বা অন্তর আছে; সেটি যদি সঠিক পবিত্র থাকে, তবে পুরো দেহই সঠিক থাকে আর সেটি কলুষিত হলে পুরো জীবনটাই বিকৃত হয়ে যায় (মুসলিম, ২৭৬২)

আজকের করপোরেট বা অনলাইন ব্যবসার যুগে এসে অনেক উপার্জনকে আমরা সাধারণ মনে করি অথচ হযরত আবু হুজায়ফা (রা.) বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেছেন রক্ত বিক্রির অর্থ, কুকুরের মূল্য এবং ব্যভিচারের বিনিময় একই সাথে তিনি লানত বা অভিশাপ দিয়েছেন সুদ গ্রহীতা, সুদদাতা, শরীরে উল্কি (ট্যাটু) অঙ্কনকারী এবং ছবি অঙ্কনকারীর ওপর (মিশকাত, ২৭৬৫)

সততার মাপকাঠি কেমন হওয়া উচিত, তা প্রথম মুসলিম খলিফার জীবন থেকে শেখার আছে হযরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, আবুবকর সিদ্দিক (রা.)-এর এক গোলামের উপার্জিত খাবার থেকে তিনি না জেনে এক লোকমা খেয়ে ফেলেছিলেন পরে যখন জানতে পারলেন যে, সেই অর্থ গোলামটি জাহেলি যুগে মানুষকে ধোঁকা দিয়ে গণকী (জ্যোতিষী) করে কামিয়েছিল, তখন আবুবকর (রা.) সাথে সাথে মুখের ভেতর আঙুল ঢুকিয়ে পেটের সমস্ত খাদ্য বমন করে বের করে দেন (মিশকাত, ২৭৮৬)

সাফল্যের সব দুয়ার খোলার প্রধান শর্ত হলো শরীরের রক্তে হারামের ছোঁয়া না লাগা আজই আমাদের উচিত নিজের উপার্জনের উৎসটি পুনর্মূল্যায়ন করা, যেন আমাদের প্রার্থনাগুলো স্রষ্টার দরবারে পৌঁছানোর আগেই হারিয়ে না যায়

 লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

রাসুল (সা.)-এর রাতের অভ্যাস কি ছিল?

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ১০:০০ এএম
রাসুল (সা.)-এর রাতের অভ্যাস কি ছিল?
ছবি: সংগৃহীত

আধুনিক যুগের চিকিৎসকরা ঘুমানোর আগে চোখের নানা যত্নের কথা বলেন। কিন্তু আপনি কি জানেন, আজ থেকে চৌদ্দ শত বছর আগে প্রিয় রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রতি রাতে ঘুমানোর আগে চোখের সুরক্ষায় চমৎকার একটি নিয়ম মেনে চলতেন? চলুন জেনে নিই নবিজির সেই রাতের অভ্যাস–

ইসলামে বাহ্যিক সৌন্দর্য ও সুস্থতার সুষম সমন্বয় দেখা যায় প্রিয় নবি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতিটি অভ্যাসে। তিনি কেবল দিনের বেলাতেই নিজেকে পরিপাটি রাখতেন না, বরং রাতে ঘুমানোর আগেও শরীরের যত্ন নিতেন। এর মধ্যে অন্যতম একটি সুন্দর ও উপকারী সুন্নাহ হলো চোখে সুরমা লাগানো।

নবিজির (সা.) প্রিয় সুরমা ও তাঁর ব্যবহারের নিয়ম সব সুরমা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে এক রকম ছিল না। তিনি ‘ইছমিদ’ নামক একটি বিশেষ পাথর থেকে তৈরি সুরমা ব্যবহারের তাগিদ দিয়েছেন এবং একে সর্বোৎকৃষ্ট বলেছেন। নবিজি (সা.)-এর নিজস্ব একটি সুরমাদানি ছিল। প্রতি রাতে বিছানায় যাওয়ার আগে তিনি সুনির্দিষ্ট নিয়মে চোখে সুরমা মাখতেন।

ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন, ‘রাসুল (সা.)-এর একটি সুরমাদানি ছিল। প্রতি রাতে (ঘুমানোর পূর্বে) ডান চোখে তিনবার এবং বাম চোখে তিনবার সুরমা লাগাতেন।’ (সুনানুল কুবরা লিল ইমাম বাইহাকি, ৮৫১৬)
দৃষ্টিশক্তি ও সৌন্দর্যের যুগলবন্দি আল্লাহর রাসুল (সা.) সুরমা ব্যবহারের চমৎকার কিছু শারীরিক উপকারিতার কথা স্পষ্ট করে গেছেন, যা আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের গবেষণায় হুবহু প্রমাণিত হয়েছে। ‘ইছমিদ’ সুরমা মূলত চোখের দৃষ্টিকে তীক্ষ্ণ করে এবং চোখের পাতার লোম বা ভ্রূ দ্রুত ও ঘনভাবে গজাতে সাহায্য করে।

জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছে: ‘তোমরা শোয়ার সময় অবশ্যই ‘ইছমিদ’ সুরমা ব্যবহার করবে। কারণ, তা চোখের জ্যোতি বৃদ্ধি করে এবং এর ফলে অধিক ভ্রূ জন্মায়।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, ৩৪৯৬; মুসনাদে আবু ইয়ালা, ২০৫৮)
ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের জন্য ইছমিদ সুরমা সর্বোৎকৃষ্ট। কারণ, তা দৃষ্টি বাড়ায় এবং এর ফলে অধিক ভ্রূ জন্মায়।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, ৩৪৯৭; মুস্তাদরাকে হাকেম, ৮২৪৮)

সুরমার বৈজ্ঞানিক ও স্বাস্থ্যগত উপকারিতা মুহাদ্দিস ও গবেষকদের মতে, সওয়াবের নিয়তে নারী-পুরুষ উভয়ের জন্যই সুরমা লাগানো মুস্তাহাব। বিজ্ঞান বলছে, ইছমিদ সুরমা অত্যন্ত কার্যকরী জীবাণুনাশক হিসেবে কাজ করে, যা চোখের যেকোনো ছোঁয়াচে রোগ বা জীবাণুকে ধ্বংস করে। এ ছাড়া এটি বাতাসে থাকা ধুলাবালি চোখ থেকে বের করে দিতে সাহায্য করে এবং চোখ জ্বালাপোড়া করা কমায়। প্রতি রাতে সুরমা লাগানো কেবল চোখের জ্যোতিই বাড়ায় না, বরং এটি অনুসরণের মাধ্যমে একজন মুমিন খুব সহজেই সুন্নাহর সওয়াব লাভ করতে পারেন।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

১৮ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৭:০০ এএম
১৮ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি
জুন, ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচির ছবি

প্রতিদিন সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ। নামাজ (সালাত) ইসলাজুনর পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি এবং ইসলাজুনর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, (হে আল্লাহর রাসুল!) আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয় আমল কোনটি? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘নামাজ (বুখারি ও মুসলিম)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সেভাবে নামাজ আদায় করো, যেভাবে আমাকে নামাজ আদায় করতে দেখেছ।’ (বুখারি, ৬৩১)

সঠিকভাবে নামাজ আদায় করতে হলে, নামাজের সময় জানতে হবে।

 

আজ ১৮ জুন ২০২৬, বৃহস্পতিবার। ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো— 

জোহর

১২.০৩ মিনিট

আসর

৪.৩৯ মিনিট

 

মাগরিব

৬.৫১ মিনিট

 

এশা

৮.১৮ মিনিট

ফজর (১৯ জুন)

.৪৪ মিনিট

 

 

বিভাগীয় শহরের জন্য উল্লিখিত সময়ের সঙ্গে যেসব বিভাগে সময় যোগ- বিয়োগ করতে হবে।

বিয়োগ

চট্টগ্রাম: ৫ মিনিট

সিলেট: ৬ মিনিট

যোগ

খুলনা: ৩ মিনিট

রাজশাহী: ৭ মিনিট

রংপুর: ৮ মিনিট

বরিশাল: ১ মিনিট

 

সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যে জগৎ মানুষের অপেক্ষায় আছে

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৭:০০ পিএম
যে জগৎ মানুষের অপেক্ষায় আছে
ছবি: সংগৃহীত

বিজ্ঞান যেখানে আজও মহাবিশ্বের রহস্যের কূল-কিনারা করতে পারছে না, সেখানে সৃষ্টির অন্তরালে কী এমন চমক লুকিয়ে রেখেছেন মহান স্রষ্টা?
দুনিয়ার জীবনটা মানুষের জন্য এক পরীক্ষাগার। এই পরীক্ষায় যারা উত্তীর্ণ হবে, তাদের জন্য কী পুরস্কার অপেক্ষা করছে, তা মানুষের সীমিত বুদ্ধিমত্তা দিয়ে পরিমাপ করা অসম্ভব। মানবজাতির এই কৌতূহল ও আকাঙ্ক্ষাকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন রাসুলুল্লাহ (সা.)। তিনি এক হাদিসে কুদসিতে স্বয়ং আল্লাহর বাণী আমাদের শুনিয়েছেন, যা জান্নাতের প্রকৃত স্বরূপকে আমাদের সামনে উন্মোচিত করে।

মহান আল্লাহ বলেন, তিনি তাঁর পুণ্যবান ও অনুগত বান্দাদের জন্য পরকালে এমন এক রাজত্ব বা পুরস্কার তৈরি করে রেখেছেন, যা দুনিয়ার কোনো চোখ কখনো দেখেনি। আমাজন বনের অপার সৌন্দর্য, সুইজারল্যান্ডের মনোরম দৃশ্য কিংবা মানুষের তৈরি কোনো আধুনিক বিস্ময়–কোনো কিছুই তার ধারেকাছে নয়। শুধু তাই নয়, সেই জগতের সুর, আনন্দ বা কোলাহলের মাধুর্য কোনো কান কখনো শোনেনি। এমনকি মানুষের উর্বর মস্তিষ্ক বা কল্পনাশক্তিও কখনো সেই সুখের সামান্যতম অনুমান করতে সক্ষম হয়নি।

রাসুলুল্লাহ (সা.) এই অকল্পনীয় পুরস্কারের সত্যতা নিশ্চিত করতে পবিত্র কোরআনের সুরা সাজদাহর ১৭ নম্বর আয়াতটি তিলওয়াত করতেন। যেখানে স্পষ্ট বলা হয়েছে, কেউই জানে না তার জন্য তার কৃতকর্মের বিনিময়স্বরূপ নয়ন-প্রীতিকর কী পুরস্কার লুকিয়ে রাখা হয়েছে।

এ হাদিসটি আমাদের জাগতিক চিন্তার বৃত্তকে ভেঙে দেয়। আমরা সাধারণত কোনো ভালো কাজের বিনিময়ে চেনা কোনো পুরস্কারের আশা করি। কিন্তু আল্লাহ আমাদের শেখাচ্ছেন, জান্নাত কোনো চেনা উপাদানের উন্নত সংস্করণ নয়। এটি সম্পূর্ণ এক নতুন মাত্রা বা ‘ডাইমেনশন’, যা কেবল বিশ্বাসের চোখেই দেখা সম্ভব। দুনিয়ার সব কষ্ট আর ত্যাগের ক্লান্তি এক নিমেষেই মুছে যাবে, যখন বান্দা সেই ‘চোখে না দেখা’ আর ‘কল্পনা না করা’ পরম প্রাপ্তির মুখোমুখি হবে।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক