যিনি আপনার পাশের বাসায় থাকেন, কিংবা পাশের দোকানে, অথবা আপনার কৃষিজমির পাশে, নতুবা কারখানা বা বাজারে আপনার সঙ্গেই আছেন- এরা সবাই প্রতিবেশী। ‘কোরআন, সুন্নাহ ও ইজমা দ্বারা প্রতিবেশীর অধিকার স্বীকৃত। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো, তাঁর সঙ্গে কোনো কিছুকে শরিক করো না। আর পিতা-মাতা, আত্মীয়-স্বজন, ইয়াতিম, মিসকিন, আত্মীয় প্রতিবেশী, অনাত্মীয় প্রতিবেশী এবং পার্শ্ববর্তী সঙ্গীর সঙ্গে সদ্ব্যবহার করো। (সুরা নিসা, আয়াত: ৩৬)। এই আয়াতে উল্লিখিত দশটি হকের মধ্যে প্রতিবেশীর হকও রয়েছে।
প্রতিবেশী আমাদের কাছে এসে বাসা করেছে, আমাদের পাশে থেকেছে। সুতরাং তার হক হলো, আমাদের পক্ষ থেকে যেন তার প্রতি কোনো কষ্ট না পৌঁছায়। সেটা কথা দিয়ে হোক বা কাজ দিয়ে। কেউ যদি প্রতিবেশীকে অনেক ধনসম্পদ দেয়, কিন্তু সঙ্গে একটি কর্কশ কথাও বলে- এই মন্দ কথাটি তার অন্তরে যে ক্ষত সৃষ্টি করবে, তাকে অনেক সম্পদ দিয়েও কখনো সেটি মোছা যাবে না। একটি কোমল ও মধুর বাক্য অনেক সময় সম্পদের চেয়েও বেশি মূল্যবান ও কার্যকরী হয়।
মিষ্টি ও সহানুভূতিশীল কথা মানুষের হৃদয়ে যে গভীর ভালোবাসা ও কল্যাণকামিতার জন্ম দেয়, তা কোনো অর্থ-কড়ি দিয়ে পাওয়া সম্ভব নয়। কারণ, মিষ্টি কথার প্রভাব অর্থবিত্তের চেয়েও গভীর, ফলপ্রসূ ও স্থায়ী।
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী, সে যেন তার প্রতিবেশীর সম্মান করে। এর মধ্যে কথা ও কাজ উভয় প্রকারের সম্মানই অন্তর্ভুক্ত। কথার মাধ্যমে সম্মান দেখানো যেমন সহজ, তেমনই সবচেয়ে ফলপ্রসূ। যেমন- কারও সঙ্গে মধুর কথা বলা, দেখা হলে সালাম দেওয়া এবং সে সালাম দিলে তার চেয়েও উত্তমরূপে জবাব দেওয়া।
আর কাজের মাধ্যমে সম্মান হলো- তাকে হাদিয়া-তোহফা পাঠানো, প্রয়োজনের সময় তার খোঁজ নেওয়া, অক্ষম হলে তার প্রয়োজন পূরণ করে দেওয়া, আপনার দৃষ্টিকে তার গোপনীয়তা থেকে ফিরিয়ে রাখা, তার গোপন বিষয় জানার জন্য গোয়েন্দাগিরি না করা, তার বাড়ির সামনে বা চলাচলের পথে কষ্টদায়ক কিছু ফেলে তার পথ রুদ্ধ না করা এবং আপনার সন্তানদের তার সন্তানদের কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত রাখা।
একবার নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন, জিবরাইল আলাইহিস সালাম আমাকে প্রতিবেশীর হকের ব্যাপারে এত বেশি তাগিদ দিচ্ছিলেন যে, আমার মনে হচ্ছিল, তিনি হয়তো প্রতিবেশীকে উত্তরাধিকারীই বানিয়ে দেবেন।’ এর থেকে বোঝা যায় প্রতিবেশীর হক কতটা গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবেশীর সম্মান করা যদি ঈমানের পূর্ণতার পরিচায়ক হয়, তবে তাকে কষ্ট দেওয়া নিঃসন্দেহে ঈমানের অপূর্ণতারই লক্ষণ।
লেখক: আলেম ও সাংবাদিক