ঢাকা ৮ আষাঢ় ১৪৩৩, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
রাজশাহীতে রেস্তোরাঁয় হামলা: সাবেক শিবির নেতাসহ ৩০ জনের নামে মামলা মঙ্গল ও চাঁদে অভিযানের জন্য নাসার নতুন রোভার আরনেস্ট জয়পুরহাটে দিনব্যাপী জব ফেয়ার অনুষ্ঠিত ঈশ্বরদীতে দুইদিনের গবেষণা সম্প্রসারণ কর্মশালার উদ্বোধন পৃথিবীর গঠন অধ্যায়ের ৯টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ১ম পর্ব, এইচএসসির ভূগোল ১ম পত্র দেশের ৬ জেলায় সেনা মোতায়েনের নির্দেশ ব্রাজিলিয়ান জন্য সুখবর, পূর্ণ অনুশীলনে নেইমার দায় নিজের কাঁধে নিলেন বিয়েলসা ঝিনাইদহে শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় যুবকের ফাঁসি মধুখালীতে ডাকাতি, নগদ টাকা-স্বর্ণালংকার লুটের অভিযোগ মিডজার্নি আনছে নতুন আলট্রাসনিক বডি স্ক্যানার ক্যারিবীয় সাগরে আবারও মার্কিন হামলা, নিহত ২ হাইড্রেশন ব্রেকের বিরুদ্ধে স্কালোনি রসুনের ১০টি প্রমাণিত উপকারিতা চট্টগ্রামবাসীকে নিয়ে সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করার ঘোষণা ৫ ইসলামি ধারার ব্যাংকের চাকরিচ্যুতদের সাইপ্রাসে উদ্ধার মরদেহটি নিখোঁজ বাংলাদেশি ছাত্রের হতে পারে গুম ও গণহত্যার বিচারের দাবিতে মঙ্গলবার ১১ দলের সমাবেশ সুস্ময়ের আন্তর্জাতিক অলিম্পিয়াডে মেডেল জয় গাছের গায়ে যে কারণে সাদা রং দেওয়া হয় সাময়িক বন্ধের পর চালু মস্কোর ৪ বিমানবন্দর বেসরকারি সংস্থায় চাকরির সুযোগ দুর্নীতির মামলায় বিচারের মুখোমুখি স্পেনের প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী এমবাপ্পেকে থামাতে ইরাকের ৩ গোলরক্ষক খেলানোর ইচ্ছায় সাড়া দেয়নি ফিফা কওমি তরুণদের বাজেট ভাবনা শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক ফরিদপুরে বাসচাপায় নিহত ১ চলন্ত বাইকে ইটের আঘাতে আহত সেই যুবকের মৃত্যু অস্ট্রিয়াকে নিয়ে সতর্ক স্কালোনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ‘উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি’ হয়েছে : ইরান এক রাতেই ইউক্রেনের ৩০১টি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি রাশিয়ার নাইজেরিয়ায় অপহরণকারীদের মোকাবিলায় ১০০০ বনরক্ষী নিয়োগ

ধৈর্য, তাকওয়া ও ইন্তেজারের যাত্রা

প্রকাশ: ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ১২:৪৮ পিএম
আপডেট: ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ০১:৫৯ পিএম
ধৈর্য, তাকওয়া ও ইন্তেজারের যাত্রা
ছবি: সংগৃহীত

জীবনের প্রতিটি মোড়ে আমরা কিছু না কিছুর জন্য অপেক্ষা করি। কেউ করে কাঙ্ক্ষিত মানুষটার জন্য, পরীক্ষার ফলাফল, কেউ সাফল্যের, কেউ আবার কোনো অজানা শুভক্ষণের। অপেক্ষার ভেতরেই মানুষ বড় হয়, ধৈর্যের মূলগুলো শক্ত হয়। যেমন-একটি বীজকে অঙ্কুরিত হতে সময় লাগে, তেমনি মানুষের ইচ্ছা, স্বপ্ন আর দোয়াও পরিপূর্ণ হয় উত্তম সময়ে। আমাদের পরিকল্পনার বাইরে আমাদেরকে ঘিরে আমাদের রবের পরিকল্পনা থাকে। তার ভেতর উপলব্ধি আসে, অবশ্যই আমার রবের পরিকল্পনাই সর্বোত্তম পরিকল্পনা।  

মানুষের কাজ হলো প্রচেষ্টা চালানো এবং দোয়া করা, আর ফলাফলের জন্য শান্ত মনে অপেক্ষা করা। আল্লাহতায়ালা আমাদের সেই প্রচেষ্টার ভিত্তিতে মূল্যায়ন করেন। ইমাম গাজালি বলেছেন—‘ধৈর্যের সঙ্গে অপেক্ষা করা ঈমানের অর্ধেক।’ কারণ যে অপেক্ষা করে, সে ভরসা করে। আর যে ভরসা করে, সে ব্যর্থ হয় না।

নবিদের জীবনে ইন্তেজার উদাহরণ: ‎আমরা দেখি, আল্লাহর প্রিয় নবিরা কীভাবে ইন্তেজার করেছেন। ইউসুফ (আ.) ছোটবেলায় ভাইদের দ্বারা কূপে ফেলা হলেন, তারপর দাসত্ব, জেল— এই দীর্ঘ সময় তিনি অপেক্ষা করলেন আল্লাহর সাহায্যের জন্য। অবশেষে তিনি মিসরের প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন।‎ ইয়াকুব (আ.) প্রিয় সন্তান ইউসুফকে হারিয়ে দীর্ঘ বছর কাঁদতে কাঁদতে চোখ হারিয়েছেন কিন্তু আশা হারাননি। বললেন, ‘আমি আমার দুঃখ ও কষ্ট আল্লাহর কাছেই প্রকাশ করছি।’ (সুরা ইউসুফ: ৮৬) মারইয়াম (আ.) সমাজের কঠিন দৃষ্টির সামনে তিনি ছিলেন একা, কিন্তু আল্লাহ তার পাশে ছিলেন। তার নীরবতা ছিল ধৈর্যের ভাষা।‎ আসিয়া (ফিরআউনের স্ত্রী): কাফেরের মতো কঠিন এক স্বামী, তার অত্যাচার। তার পরও তিনি জান্নাতের এক প্রাসাদ চাইলেন ধৈর্যের সঙ্গে অপেক্ষা করে।

নারীদের জন্য ইন্তেজার শিক্ষা: বর্তমান সমাজে মুসলিম নারীর জন্য ইন্তেজার একটি বড় পরীক্ষা। বিয়ে, সন্তান, জীবনের নিরাপত্তা, স্বামীর ভালোবাসা কিংবা সমাজের স্বীকৃতি—এসব চাওয়ার মাঝে যখন দেরি হয়, তখন একজন মুমিন নারী বুঝে নেয়, আল্লাহ দেরি করতে পারেন, কিন্তু ভুল করেন না। বর্তমান সমাজ আমাদের দ্রুত ফল চায়। অথচ দ্রুত পাওয়ার চেয়ে যে সম্পর্ক ধীরে ধীরে গড়ে, তা গভীর হয়। যে সফলতা ধৈর্য নিয়ে আসে, তা স্থায়ী হয়। আর যে সুখ অপেক্ষার পর পাওয়া যায়, তার স্বাদ সবকিছুকে ছাপিয়ে যায়।

খাদিজা (রা.) নবুওতের বহু আগে পর্যন্ত নবিজি (সা.)-কে জানতেন না, কিন্তু একদিন তিনি হয়ে গেলেন ‘উম্মুল মুমিনীন’। ফাতিমা (রা.) কঠিন জীবনেও ধৈর্য হারাননি; জানতেন, এই দুনিয়ার সব কিছু ক্ষণস্থায়ী,  অপেক্ষার জায়গা, চিরসুখের নয়। আল্লাহতায়ালা মাঝে মাঝে  বান্দার পরীক্ষা নেয়, আমাদের মনোভাব, সহনশীলতা আর ধৈর্যের এবং উত্তম সময়েই সেটার প্রতিফলন ঘটান। কখনো হাসি, কখনো কান্না, কখনো প্রাপ্তি- আবার কখনো শূন্যতা। এই উত্থান-পতনের মাঝেই আল্লাহ আমাদের শিক্ষা দেন ‘ইন্তেজার’ ধৈর্যপূর্ণ অপেক্ষার শিক্ষা। বিশ্বাস রেখে সঠিক পথে অবিচল থাকা, যতক্ষণ না আল্লাহর ফয়সালা আসে। এই অপেক্ষা শুধু সময় পার করার বিষয় নয়, সময় যত দীর্ঘ হয় ফলাফল হয় অধিকতর উত্তম।

ইন্তেজার ও তাকওয়া: ইন্তেজার মানেই আল্লাহর ওপর সম্পূর্ণ ভরসা করে অপেক্ষা করা। যখন আমরা আমাদের দোয়ার উত্তর পাই না, তখন বুঝতে হবে—বরং আল্লাহ তাকে সঠিক মুহূর্তে সঠিক জায়গায় পৌঁছানোর জন্য প্রস্তুত করছেন। অনেক সময় দেরিই মানুষের জন্য রহমত হয়ে দেখা দেয়। আমরা যা চাই, তার চেয়েও ভালো কিছু হয়তো আল্লাহ আমাদের জন্য রেখে দিয়েছেন- যা আমাদের জন্য উত্তম। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘সবর করো, নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছেন।’ (সুরা আনফাল, ৪৬)।

ইন্তেজার আমাদের শেখায়—আশা হারাতে নেই। আল্লাহ কখনোই তাঁর বান্দাকে নিরাশ করেন না। ইন্তেজার করতে জানা মানে নিজেকে সময় দেওয়া, জীবনকে সময় দেওয়া, আল্লাহকে সময় দেওয়া। যে ইন্তেজার করে—সে হেরে যায় না। কারণ অপেক্ষার প্রতিটি দিন তাকে এমন জায়গায় দাঁড় করিয়ে দেয়, যেখানে প্রাপ্তি শুধু পুরস্কার নয়—বরং পরিপূর্ণতা পেয়ে আসে।‎ 

লেখক: শিক্ষার্থী
আনন্দমোহন কলেজ, ময়মনসিংহ

কওমি তরুণদের বাজেট ভাবনা শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০১:০০ পিএম
কওমি তরুণদের বাজেট ভাবনা শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক
স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও ২০ লাখ কওমি শিক্ষার্থী বাজেট বৈষম্যের শিকার। ছবি: সংগৃহীত

এবারের জাতীয় বাজেটেও কওমি শিক্ষাধারার জন্য কোনো বরাদ্দ না রাখায় বঞ্চিত হয়েছে প্রায় ৪০ হাজার কওমি মাদরাসায় ২০ লাখের বেশি শিক্ষার্থী। এই বৈষম্য দূর করে কওমি মাদরাসা স্বকীয়তা বজায় রেখে এবং সরকারি হস্তক্ষেপ থেকে মুক্ত থেকে কীভাবে রাষ্ট্রীয় বরাদ্দ নিশ্চিত করা যায়, সেই লক্ষ্যে গতকাল ২১ জুন তোপখানা রোডস্থ বাংলাদেশ শিশু কল্যাণ পরিষদের সম্মেলনকক্ষে সাধারণ আলেম সমাজের ব্যানারে কওমি তরুণদের বাজেট ভাবনা শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট লেখক-গবেষক ও রাষ্ট্রচিন্তক আলেম মুসা আল হাফিজ এবং অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সাধারণ আলেম সমাজের মুখপাত্র রিদওয়ান হাসান। বৈঠকে কওমি অঙ্গনের তরুণ আলেম, গবেষক ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা অংশ নিয়ে তাঁদের সুনির্দিষ্ট অর্থনৈতিক ও নীতিগত বক্তব্য তুলে ধরেন।

গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি অর্থনৈতিক ও বাজেট বৈষম্যের বিরুদ্ধে যে লড়াই হয়েছিল, স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও ২০২৬ সালে কওমি শিক্ষার্থীরা সেই একই ধরনের কাঠামোগত বঞ্চনার শিকার। দেশের মোট জনসংখ্যার এক বিশাল অংশ হওয়া সত্ত্বেও জাতীয় বাজেটে কওমি ধারার জন্য কোনো রাষ্ট্রীয় বরাদ্দ না থাকা তাদের মৌলিক নাগরিক ও মানবাধিকারের পরিপন্থী। 

বৈঠকের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইসলামি অর্থনীতিবিদ ও গবেষক আলেম মুফতি আবদুল্লাহ মাসুম। তিনি বলেন, ওলামায়ে কেরামদের মধ্যে যারা ইসলামী দল করেন, তারা এক সময় বাজেট নিয়ে কথাই বলতেন না। এখন অবশ্য কথা বলেন, কিন্তু বাজেট নিয়ে তাঁদের উপস্থাপন অনেকটা বামপন্থীদের মতো। 

এবারের বাজেটে রাজস্ব নীতি ও প্রশাসনকে আলাদা করার উদ্যোগ, করবহির্ভূত আয়ে গুরুত্বারোপ ও বাজেট বক্তব্য বিসমিল্লাহ দিয়ে শুরু করার বিষয়গুলোকে ইতিবাচক আখ্যা দিয়ে তিনি কওমি শিক্ষার অনুপুস্থিতি ও ২০০৫-০৬ সালের সাথে তথ্যগত তুলনার বিভ্রান্তি তুলে ধরেন। 

উসুলে হাশতেগানার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কওমি মাদরাসা স্বকীয়তা বজায় রেখে এবং হস্তক্ষেপ মুক্ত অবস্থায় সরকারি বরাদ্দ নেওয়া যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে কূটনৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক প্রস্তাবনা দাঁড় করাতে পারলে ভালো হবে। বিশেষ আলোচকের বক্তব্যে প্রথম আলোর ধর্ম বিভাগের জ্যেষ্ঠ সহসম্পাদক মনযূরুল হক, ইসলামিক সোশ্যাল ফাইন্যান্সের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, জাতীয় জাকাত তহবিল থেকে রাজস্ব খাতে সরকারের পক্ষে ১ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা উত্তোলন করা সম্ভব। ইসলামি অর্থনীতির এই শক্তিশালী খাতটি রাষ্ট্রীয় মূলধারার অর্থনীতিতে সন্নিবেশ হতে পারে। তবে এই তহবিলকে সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত রাখাটাই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

সভাপতির বক্তব্যে রাষ্ট্রচিন্তক আলেম মুসা আল হাফিজ বলেন, তিনি সামষ্টিক বাজার পরিস্থিতি ও তরুণদের দূরদর্শিতার ওপর জোর দিয়ে বলেন, নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে। এক্ষেত্রে ভর্তুকি স্থায়ী কোনো সমাধান নয়, সরবরাহ ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো প্রয়োজন। কওমি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমরা পুরো রাষ্ট্র, বাজেটের প্রক্রিয়া, দেশের অর্থনীতি বুঝতে পারছি কিনা, এটা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

বৈঠকে অনুষ্ঠানের মূল সমন্বয়ক ও মুখপাত্র রিদওয়ান হাসান কওমি তরুণদের নাগরিক ও সাংবিধানিক অধিকারের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, রাষ্ট্রে শিক্ষার ভিন্নতা থাকতে পারে, কিন্তু নাগরিক অধিকারে কোনো ভিন্নতা থাকতে পারে না।
তিনি ঘোষণা করেন, কওমি মাদরাসা শিক্ষার্থীদের অধিকারসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে এই গোলটেবিল বৈঠক থেকে একটি সমন্বিত নীতিমালা ও খসড়া প্রস্তাবনা তৈরি করা হচ্ছে, যা আগামী ১৫ দিনের মধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) জমা দেওয়া হবে।

সাধারণ আলেম সমাজের যুগ্ম আহ্বায়ক ও ইমাম সমাজ বাংলাদেশের মহাসচিব মুফতি মিনহাজ উদ্দীন ওয়াকফ সম্পত্তির আধুনিকায়নের দাবি জানিয়ে বলেন, বিদ্যমান ওয়াকফ সম্পত্তির অবস্থা নাজেহাল। এই সম্পত্তির আধুনিকায়ন এবং আমানতদারির সঙ্গে রক্ষণাবেক্ষণ করা গেলে মাদ্রাসার প্রয়োজন পূরণ তো হবেই, সরকারও রাজস্ব পাবে। কওমি মাদ্রাসার জন্য সাহায্য চাওয়ার বিষয়টি পরিহার করে এখন বরাদ্দের জোরালো দাবি তুলতে হবে।

ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের সদস্য সচিব সানাউল্লাহ খান রাষ্ট্রের সাথে কওমি অঙ্গনের মনস্তাত্ত্বিক দূরত্ব ঘোচানোর তাগিদ দিয়ে বলেন, রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করতে পারেনি কওমি অঙ্গণ। সম্পর্ক তৈরি না হলে রাষ্ট্র কখনো কওমি মাদ্ নিয়ে ভাববে না। এতিম মানেই কওমি মাদ্রাসা, এই সংকীর্ণ চিন্তা থেকে আমাদের বের হয়ে আসতে হবে।

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র মজলিসের সভাপতি মুহাম্মদ রায়হান আলী সনদের প্রায়োগিক কার্যকারিতা নিশ্চিতের দাবি তুলে বলেন, কওমি সনদের স্বীকৃতি সাধারণ শিক্ষার্থীদের বাস্তব জীবনে কোনো কাজে আসছে না। এই স্বীকৃতি যাতে কর্মক্ষেত্রে যথাযথভাবে কাজে লাগে, রাষ্ট্রকে সেই কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক ইউসুফ পিয়াস বলেন, জাতীয় পর্যায়ে জাতীয় বাজেট সম্পর্কে প্রথমবারের মতো কওমি তরুণরা বক্তব্য রাখছেন, বিষয়টা প্রশংসার। সাধারণ আলেম সমাজের দাবির সাথে তিনি একমত পোষণ করেন।

লেদার ইন্ডাস্ট্রি ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের সদস্য সচিব মোফাজ্জল ইবনে মাহফুজ কওমি তরুণদের বড় পরিসরে ব্যবসার মূলধারায় আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা যখন ব্যবসা করি, তখন আমরা এটাকে আটা, মধু বা কালোজিরার মধ্যে সীমাবদ্ধ করি। তিনি ধর্মীয় মূল্যবোধসম্পন্ন ব্যবসায়ীদের জন্য একটি ইসলামী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ড্রাস্ট্রি গঠনের প্রচেষ্টার কথা জানান।

গোলটেবিল বৈঠকে এছাড়াও বক্তব্য রাখেন সাধারণ আলেম সমাজের সভাপতি মাছুম বিল্লাহ মাহমুদী, সাধারণ সম্পাদক আকিফ আবদুল্লাহ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের প্রচার সম্পাদক মুফতি ইমরানুল বারী সিরাজী, ন্যাশনাল ওলামা এলায়েন্সের আহ্বায়ক এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক আশরাফ উদ্দীন মাহদী, অনলাইন একটিভিস্ট জাওয়াদ আহমাদ, বৈষম্যবিরোধী কওমি ছাত্র আন্দোলনের নেতা মো. মাকছুদুর রহমান প্রমুখ এবং সাধারণ আলেম সমাজের নেতৃবৃন্দ। 

বৈঠক থেকে কওমি তরুণদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে আইটি, কারিগরি শিক্ষা ও ভাষা শিক্ষার জন্য স্বকীয়তা রক্ষা করে রাষ্ট্রীয় বাজেট বরাদ্দের জন্য নিয়মতান্ত্রিক চাপ সৃষ্টির প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।

শরীফাতুন্নিছা মহিলা মাদরাসার অভিভাবক সম্মেলন ও বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৯:৩২ এএম
শরীফাতুন্নিছা মহিলা মাদরাসার অভিভাবক সম্মেলন ও বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরের ব্যাটারী ঘাট এলাকায় অবস্থিত শরীফাতুন্নিছা মহিলা মাদরাসার উদ্যোগে অভিভাবক সম্মেলন ও বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সকাল ১০টায় মাদরাসা অডিটোরিয়ামে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাবেক চেয়ারম্যান ও যুগ্ম-আহ্বায়ক হাজী মোহাম্মদ মনির হোসেন। উদ্বোধক ছিলেন হাফেজ্জী হুজুর (রহ.) সেবা ফাউন্ডেশনের সভাপতি মাওলানা মুহাম্মদ রজীবুল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নিদাউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল হাফেজ মাওলানা শহীদুল ইসলাম। দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন মদিনায় দীর্ঘ ৩০ বছর কুরআনের খেদমতে নিয়োজিত থাকা হাফেজ মাওলানা আবদুল্লাহ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শরীফাতুন্নিছা মহিলা মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ইমদাদুল হক তৈয়ব।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে হাজী মোহাম্মদ মনির হোসেন বলেন, আদর্শ ও শিক্ষিত নারী সমাজ গঠনে দ্বীনি শিক্ষার বিকল্প নেই। শরীফাতুন্নিছা মহিলা মাদরাসা কন্যা সন্তানদের নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষায় গড়ে তোলার যে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়।

উদ্বোধকের বক্তব্যে মাওলানা মুহাম্মদ রজীবুল হক বলেন, দ্বীনি শিক্ষা মানুষের চরিত্র ও নৈতিকতা গঠনের মূল ভিত্তি। নারী শিক্ষার ক্ষেত্রে এমন উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে হাফেজ মাওলানা শহীদুল ইসলাম বলেন, একটি প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত সাফল্য কেবল ফলাফলে নয়, বরং আদর্শবান ও যোগ্য শিক্ষার্থী গড়ে তোলার মধ্যেই নিহিত। তিনি মাদরাসার ধারাবাহিক শিক্ষাগত সাফল্যের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

সভাপতির বক্তব্যে প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ইমদাদুল হক তৈয়ব বলেন, ২০১১ সালে প্রতিষ্ঠিত শরীফাতুন্নিছা মহিলা মাদরাসা গত ১৫ বছর ধরে কন্যা সন্তানদের জন্য মানসম্মত দ্বীনি শিক্ষা প্রদান করে আসছে। মাদরাসাটি ধারাবাহিকভাবে বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের পরীক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জন করেআসছে।

এ বছর বেফাকের মেধাতালিকায় স্থান অর্জনকারী দুই শিক্ষার্থীকে রৌপ্য ব্রেসলেট প্রদান করা হয়। ভবিষ্যতে মাদরাসাকে দাওরায়ে হাদিস (মাস্টার্স) পর্যন্ত উন্নীত করা, স্থায়ী ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠা এবং ফারেগ শিক্ষার্থীদের জন্য ইংরেজি, কম্পিউটার, সেলাই ও রান্না বিষয়ক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা রয়েছে।

অনুষ্ঠানে শিক্ষা ও সমাজসেবায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ছয়জন গুণী ব্যক্তিকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। আজীবন সম্মাননা-২০২৬ প্রদান করা হয় হাজী মোহাম্মদ মনির হোসেন, হাফেজ মাওলানা শহীদুল ইসলাম এবং মাওলানা মুহাম্মদ রজীবুল হককে। এছাড়া শিক্ষা সম্মাননা-২০২৬ প্রদান করা হয় ন্যাশনাল কালচারাল সোসাইটি অব বাংলাদেশ (এনসিএসবি)-এর চেয়ারম্যান আলহাজ মো. সেলিম আহম্মেদ, পাওয়ার প্লাস ইঞ্জিনিয়ারিং (প্রা.) লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ রিয়াজুল করিম এবং বিশিষ্ট সমাজসেবক মো. আবেদ আলীকে।

অনুষ্ঠানে মাদরাসার সিনিয়র শিক্ষকবৃন্দ শিক্ষা কার্যক্রম, উন্নয়ন পরিকল্পনা ও শিক্ষার মানোন্নয়ন বিষয়ে আলোচনা করেন। অভিভাবকরাও মাদরাসার কার্যক্রমের প্রশংসা করে বিভিন্ন গঠনমূলক মতামত প্রদান করেন।

আলোচনা শেষে কৃতি শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ এবং দেশ, জাতি ও প্রতিষ্ঠানের সার্বিক কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

২২ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৭:০০ এএম
২২ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি
জুন, ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচির ছবি

প্রতিদিন সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ। নামাজ (সালাত) ইসলাজুনর পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি এবং ইসলাজুনর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত।

আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, (হে আল্লাহর রাসুল!) আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয় আমল কোনটি? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘নামাজ (বুখারি ও মুসলিম)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সেভাবে নামাজ আদায় করো, যেভাবে আমাকে নামাজ আদায় করতে দেখেছ।’ (বুখারি, ৬৩১)

সঠিকভাবে নামাজ আদায় করতে হলে, নামাজের সময় জানতে হবে।

 

আজ ২২ জুন ২০২৬, সোমবার। ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো— 

জোহর

১২.০৩ মিনিট

আসর

৪.৩৯ মিনিট

 

মাগরিব

৬.৫১ মিনিট

এশা

৮.০৮ মিনিট

 

ফজর (২৩ জুন)

.৪৪ মিনিট

 

 

বিভাগীয় শহরের জন্য উল্লিখিত সময়ের সঙ্গে যেসব বিভাগে সময় যোগ-বিয়োগকরতে হবে।

বিয়োগ

চট্টগ্রাম: ৫ মিনিট

সিলেট: ৬ মিনিট

যোগ

খুলনা: ৩ মিনিট

রাজশাহী: ৭ মিনিট

রংপুর: ৮ মিনিট

বরিশাল: ১ মিনিট

 

সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আধ্যাত্মিক ধনী হওয়ার সহজ সমীকরণ

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ০৭:০০ পিএম
আধ্যাত্মিক ধনী হওয়ার সহজ সমীকরণ
ছবি: সংগৃহীত

ভাবুন তো, মাত্র এক মিনিটে যদি আপনার ব্যাংক ব্যালান্সে এক হাজার ডলার জমা হয়, তবে কেমন লাগবে? দুনিয়ার বুকে এমন কোনো বৈধ ব্যবসা নেই যা আপনাকে মাত্র ৬০ সেকেন্ডে এত বড় মুনাফা দিতে পারে। অথচ আখেরাতের বাজারে প্রতিদিন মাত্র এক মিনিটে এক হাজার নেকি অর্জন করা এবং একই সঙ্গে এক হাজার গুনাহ মাফ করিয়ে নেওয়া সম্ভব! রাসুল (সা.) আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের এমন কিছু অবিশ্বাস্য আধ্যাত্মিক সমীকরণ শিখিয়েছেন, যা আধুনিক মানুষকে এক নিমেষেই পরকালের শ্রেষ্ঠ ধনীতে পরিণত করতে পারে।

আমরা অনেকেই মনে করি, অনেক বড় ইবাদত বা কঠিন পরিশ্রম ছাড়া বড় সওয়াব পাওয়া অসম্ভব। কিন্তু আল্লাহর রাসুল (সা.) এই ধারণাটি সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছেন।
হযরত সা’দ ইবনে আবু অক্কাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। তিনি বললেন, তোমাদের কোনো ব্যক্তি প্রত্যহ এক হাজার নেকি অর্জন করতে অপারগ হবে কি?  উপস্থিত একজন জিজ্ঞেস করলেন, ‘কীভাবে এক হাজার নেকি অর্জন করবে?’ তিনি বললেন, একশ’বার তাসবীহ (সুবহানাল্লাহ) পড়বে। ফলে তার জন্য এক হাজার নেকি লেখা হবে এবং এক হাজার গুনাহ মিটিয়ে দেওয়া হবে। (মুসলিম, ২৬৯৮; তিরমিজি, ৩৪৬৩)

নতুন দৃষ্টিকোণ: মুহাদ্দিসগণের সুক্ষ্ম ভাষ্য ও বর্ণনার পাঠভেদ (যেমন- শু’বাহ ও ইয়াহয়্যা আলক্বাত্তানের বর্ণনা) অনুযায়ী, এখানে ‘অথবা’ নয়, বরং ‘এবং’ শব্দটির ব্যবহারই অগ্রগণ্য। অর্থাৎ, মাত্র ১০০ বার ‘সুবহানাল্লাহ’ বললে ১০০০ নেকি পাওয়ার পাশাপাশি একই সঙ্গে ১০০০ গুনাহও খাতা থেকে মুছে যায়।
বিজ্ঞান বলে মানুষের শরীরে শত শত হাড়ের জোড় বা জয়েন্ট রয়েছে। ইসলাম এই প্রতিটি সুস্থ জয়েন্টের জন্য প্রতিদিন সকালে একটি ‘সদকা’ বা ট্যাক্স ধার্য করেছে। কিন্তু সেই ট্যাক্স পরিশোধের উপায়টি কত চমৎকার!

হযরত আবু যার (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, তোমাদের প্রত্যেকের প্রতিটি (হাড়ের) জোড়ের পক্ষ থেকে প্রতিদিন সদকা দেওয়া আবশ্যক। প্রতিটি ‘সুবহানাল্লাহ’ সদকা, ‘আলহামদু লিল্লাহ’ সদকা, ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ সদকা এবং ‘আল্লাহু আকবার’ বলাও সদকা। সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ করাও সদকা। আর এসব কিছুর পরিবর্তে চাশতের (পূর্বাহ্নের) দুই রাকাআত নামাজ পড়াই যথেষ্ট। (মুসলিম, ৭২০; সুনানে আবু দাউদ, ১২৮৫)

মহাবিশ্বের পরম সত্তা আল্লাহতায়ালা বান্দার সঙ্গে কেমন আচরণ করবেন, তার পুরো নিয়ন্ত্রণ কিন্তু বান্দার নিজের চিন্তাভাবনার ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আল্লাহতায়ালা বলেন: আমি আমার বান্দার ধারণার পাশে থাকি (সে যেমন ধারণা করে, আমি তেমনই করি)। সে যখন আমাকে মনে মনে স্মরণ করে, আমি তাকে আমার মনে স্মরণ করি। আর সে যদি কোনো সভায় আমাকে স্মরণ করে, তবে আমি তাকে তাদের চেয়েও উত্তম (ফেরেশতাদের) সভায় স্মরণ করি। (বুখারি, ৭৪০৫; মুসলিম, ২৬৭৫)

মুখের কোণে একটু ‘সুবহানাল্লাহ’র গুঞ্জন আর দিনের শুরুতে দুই রাকাআত চাশতের নামাজ–এই সামান্য অভ্যাসগুলোই আমাদের পুরো দিনটিকে আল্লাহর সুরক্ষায় মুড়িয়ে দেয়। সবচেয়ে বড় কথা, আমরা যখন নির্জনে বা জনসম্মুখে আল্লাহকে ডাকি, তখন স্বয়ং স্রষ্টা আমাদের নাম নিয়ে ফেরেশতাদের সামনে গর্ব করেন। 

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

কোরআন সুন্নাহ মাল্টিমিডিয়ার তিন হাফেজের সৌদি আরব যাত্রা

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ০২:২৩ পিএম
আপডেট: ২১ জুন ২০২৬, ০২:২৯ পিএম
কোরআন সুন্নাহ মাল্টিমিডিয়ার তিন হাফেজের সৌদি আরব যাত্রা
ছবি: সংগৃহীত

পবিত্র কোরআনের আলোয় বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে সৌদি আরব যাচ্ছেন কোরআন সুন্নাহ (কিউএস) মাল্টিমিডিয়ার তিন মেধাবী হাফেজে কোরআন। সৌদি আরব আন্তর্জাতিক হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতা-২০২৬-এ বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে অংশগ্রহণের গৌরবময় সুযোগ অর্জন করেছেন তারা।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বিশ্বমঞ্চে এই তিন হাফেজের অংশগ্রহণ দেশের জন্য এক অনন্য গৌরব ও মর্যাদার মুহূর্ত বয়ে আনবে।

আন্তর্জাতিক এই আসরে সুযোগ পাওয়ার আগে এই তিন হাফেজ দেশের শীর্ষস্থানীয় তিনটি জাতীয় হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছেন। তারা কিউএস মাল্টিমিডিয়া আয়োজিত— আরটিভির (Rtv) 'আলোকিত কোরআন', চ্যানেল ২৪-এর (Channel 24) 'সময়ের সেরা হাফেজ' এবং জিটিভির (Gtv) 'কুরআনের ছোঁয়া' প্রতিযোগিতায় যথাক্রমে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জন করে দেশব্যাপী কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখেন। জাতীয় পর্যায়ের সেই গৌরবময় বিজয়ই এবার তাদের বিশ্বমঞ্চের টিকিট এনে দিয়েছে।

AvjvwKZ KviAvb (AviwUwf)Õi 2019-Gi P¨vw¤úqb| †kL gvngy`yj nvmvb AvkÖvwd

 

KziAv‡bi †Qvuqv (wRwUwf)Õi 2021-Gi P¨vw¤úqb| nv‡dR byiæwÏb RvKvwiqv

 

mg‡qi †miv nv‡dR (P¨v‡bj 24)Õi 2026-Gi 3q ¯’vb AR©bKvwibx| iv‡eZv web‡Z igRvb

 

এই অসামান্য অর্জনে কোরআন সুন্নাহ মাল্টিমিডিয়ার চেয়ারম্যান হাফেজ মাওলানা লুৎফর রহমান উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। তিনি তিন হাফেজের সাফল্য কামনা করে দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়ে বলেন, এই তিন হাফেজ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আমাদের দেশের সম্মান ও মর্যাদাকে বিশ্ব দরবারে আরও উজ্জ্বল করবে ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ তায়ালা তাদের এই যাত্রাকে সফল করুন, কোরআনের খেদমতে কবুল করুন এবং বাংলাদেশের জন্য আরও সম্মান ও গৌরব বয়ে আনার তাওফিক দান করুন। আমিন।

 

কিউএস মাল্টিমিডিয়া কর্তৃপক্ষ জানায়, জাতীয় গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করতে এই তিন কৃতি হাফেজ সম্পূর্ণ প্রস্তুত। দেশের মানুষের ভালোবাসা ও দোয়া সঙ্গে নিয়ে তারা সৌদি আরবের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক