সুলামা শব্দের অর্থ অস্থিগ্রন্থি বা জোড়। আর মানবদেহে জোড় অসংখ্য। এক হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মানুষের দেহে তিনশ ষাটটি জোড় রয়েছে। এর কিছু বড়, কিছু ছোট, যা সারা দেহে ছড়িয়ে আছে। আর এই প্রতিটি জোড়ের শুকরিয়া আদায়ের জন্য আপনার ওপর প্রতিদিন তিনশ ষাটটি সাদাকা ওয়াজিব হয়ে যায়। কিন্তু কে আছে এমন, যে প্রতিদিন তিনশ ষাটটি সাদাকা করতে সক্ষম? আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা এই পথকে সহজ করে দিয়েছেন। তিনি সাদাকাকে কেবল সম্পদের মাঝেই সীমাবদ্ধ রাখেননি, বরং এমন সব কাজের মধ্যেও রেখেছেন, যা সম্পদের চেয়েও ব্যাপক এবং যা পালনে সবাই সক্ষম।
আর তার কিছু দৃষ্টান্ত হলো- আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘প্রতিদিন যখন সূর্য ওঠে, তখন মানুষের প্রতিটি অস্থিগ্রন্থির ওপর একটি সাদাকা ওয়াজিব হয়ে যায়। দুই ব্যক্তির মাঝে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করাও একটি সাদাকা। কোনো ব্যক্তিকে তার বাহনের ব্যাপারে সাহায্য করা, তাকে বাহনের ওপর চড়িয়ে দেওয়া অথবা তার মালপত্র তুলে দেওয়া- একটি সাদাকা। একটি সুন্দর কথা বলাও সাদাকা। সালাতের উদ্দেশ্যে যাওয়ার প্রতিটি পদক্ষেপ সাদাকা। আর পথ থেকে কোনো কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে ফেলাও একটি সাদাকা। (বুখারি, ২৯৮৯; মুসলিম, ১০০৯)
এ ছাড়াও দুই ব্যক্তির মাঝে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করাও একটি সাদাকা। অর্থাৎ, যখন দুই ব্যক্তির মাঝে কোনো বিবাদ বা মনোমালিন্য দেখা দেয়, তখন আপনি তাদের মাঝে মীমাংসা করে দেন, তাদের বিচ্ছিন্ন হৃদয়কে পুনরায় মিলিয়ে দেন এবং তাদের মাঝে শান্তি ও সম্প্রীতি ফিরিয়ে আসে- এই কাজটিও একটি সাদাকা। আল্লাহতায়ালা বলেন, তাদের অধিকাংশ সলাপরামর্শ ভালো নয়; কিন্তু যে সলাপরামর্শ দান-খয়রাত করতে কিংবা সৎকাজ করতে কিংবা মানুষের মধ্যে সন্ধি স্থাপনের নিয়ত করত তা স্বতন্ত্র। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় এমনটি করবে, আমি তাকে মহাপুরস্কার দান করব। (সুরা নিসা, ১১৪)
একজন মুসলিমের কর্তব্য হলো, বিবদমান দুই পক্ষের মাঝে মীমাংসা করে দেওয়া, বিশেষ করে যখন তা প্রতিবেশী ও আত্মীয়দের মাঝে হয়। কিন্তু আফসোস, কিছু মানুষ ঠিক এর উল্টো কাজ করে। তারা বিভেদের আগুনে ঘি ঢালে, এক পক্ষকে অন্য পক্ষের বিরুদ্ধে আরও উসকিয়ে তোলে, এমন মানুষ তো আসলে পথভ্রষ্ট শয়তানের মতো। অন্যদিকে একজন মুসলিম! সে কখনও চায় না দুই মুসলিম মুখ ফিরিয়ে থাকুক, সে চায় মিল, মমতা, মাফ, এমনকি প্রয়োজনে নিজের পকেট খালি করেও সে ঝগড়ার ইতি টানে, দুই আত্মার মাঝে ফিরিয়ে আনে স্বস্তি। এটি একটি মহৎ গুণ, আর আল্লাহ কখনো একজন মীমাংসাকারীর প্রতিদান নষ্ট করবেন না।
লেখক: আলেম ও সাংবাদিক