ঢাকা ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, রোববার, ১৪ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
চীনে ক্রায়োজেনিক প্রযুক্তিতে রকেট ট্যাংক ডোমের উৎপাদনে সাফল্য বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংকে চাকরির সুযোগ দেশে এখনও প্রযুক্তিনির্ভর কমোডিটি মার্কেট গড়ে ওঠেনি: সিইসি এমডি হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের ৮০তম জন্মদিন উদযাপন রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার পাঠ থেকে ৪টি অনুশীলনীর প্রশ্ন ও উত্তর, ২য় পর্ব, পঞ্চম শ্রেণির বাংলা সিরাজগঞ্জ আদালতে আত্মসমর্পণ করলেন এমপি আমির হামজা জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বড় পরিবর্তন আসছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে ‘কালো মানিক’ উপহার দেওয়া সেই সোহাগ মৃধা গ্রেপ্তার বৃদ্ধাশ্রম নয়, পরিবারই হোক নিশ্চিত আশ্রয় ইসলামী ব্যাংককে ২৫০০ কোটি টাকা ধার দিল বাংলাদেশ ব্যাংক টেকনাফে রোহিঙ্গা ক্যাম্প সংলগ্ন লবণ মাঠে অভিযান: গ্রেনেড, গুলি ও গাঁজা উদ্ধার আল্লাহর ভালোবাসা পাওয়ার চার শর্ত সাবেক আইজিপি বেনজীর গ্রেপ্তার টেকনাফে আঘাতপ্রাপ্ত মা হাতি লোকালয়ে, উদ্ধারে বন বিভাগের তৎপরতা ঝিনাইদহে দুর্নীতি বিরোধী চিত্রাংকন ও রচনা প্রতিযোগিতা মিরপুরে মাদরাসার সাইনবোর্ড লাগানোর সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে শিক্ষার্থীসহ দগ্ধ ৩ ইংল্যান্ড দলের চুরি যাওয়া সরঞ্জাম উদ্ধার প্রাথমিক শিক্ষক বদলিতে বড় সংস্কার জাপানিজ সমর্থকরা কেন স্টেডিয়াম পরিষ্কার করেন? জামালপুরে মানববন্ধনে শিশুশ্রমকে লাল কার্ড প্রদর্শন ইন্টারনেট সেবাদাতাদের কার্যালয়ে হামলা-দখলের নিন্দা, শাস্তির দাবি আইএসপিএবির টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মাদকের আখড়া মুন্সীগঞ্জে স্কুলছাত্রী ও তার মাকে হত্যার চেষ্টা, গ্রেপ্তার ১ এনএসইউ ট্রাস্টি বেনজীর আহমেদ ফের সাউথ এশিয়া রিজিওনাল কাউন্সিলের কোষাধ্যক্ষ ফরিদপুরে ট্রাক-মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে যুবক নিহত সিলেটে হাম উপসর্গে আরও ১ শিশুর মৃত্যু খুলনায় মসজিদে ঢুকে ২ মুসল্লিকে গুলি কু‌ড়িগ্রামে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ব্যবসায়ীর মৃত্যু ঈশ্বরদীতে ব্রাজিল-মরক্কো খেলা দিয়ে বিশ্বকাপ ফুটবল উত্তেজনা শুরু ময়মনসিংহ মেডিকেলে হাম উপসর্গে প্রাণ গেল আরও ১ শিশুর
Nagad desktop

যে ক্ষুদ্র আমলে রয়েছে অসামান্য প্রতিদান

প্রকাশ: ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:১২ এএম
আপডেট: ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:১৮ এএম
যে ক্ষুদ্র আমলে রয়েছে অসামান্য প্রতিদান
ছবি: সংগৃহীত

আল্লাহতায়ালা বলেন, নিশ্চয়ই আল্লাহতায়ালা নবির উপর রহমত নাজিল করেন এবং ফেরেশতারা তাঁর জন্য রহমতের দোয়া করেন। সুতরাং হে মুমিনগণ! তোমরাও তাঁর প্রতি  ‍দুরূদ পড়ো এবং অধিক পরিমাণে সালাম পাঠাও। (সুরা আহযাব,৫৬)

আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন আমি আল্লাহর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, যে ব্যক্তি আমার ওপর একবার দুরূদ পড়বে, বিনিময়ে আল্লাহতায়ালা তার উপর দশটি রহমত নাজিল করবেন।(মুসলিম, ১/১৬৬)

মানুষের জীবনে এমন কিছু আমল আছে, যা ছোট বলে মনে হলেও তার প্রতিদান আকাশসম। উচ্চারণে ক্ষুদ্র, অথচ ওজনে ভারী এমনই এক আমল হলো রাসুলুল্লাহ (সা.) এর প্রতি দুরুদ পাঠ। এই ব্যাপারে আল্লাহর নবি (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি আমার উপর একবার দুরুদ পাঠ করে, আল্লাহতায়ালা তার ওপর দশবার রহমত নাজিল করেন। এই হাদিসটি মুমিনের হৃদয়ে যেন রহমত ও আশার দ্বার খুলে দেয়।

আমরা সাধারণত আমলের হিসাব করি পরিশ্রম দিয়ে, কিন্তু এখানে আল্লাহতায়ালা আমাদের শেখাচ্ছেন লাভের অংক। একবার দুরুদ দশবার আল্লাহর রহমত। বিনিময়টা কেমন? বান্দার একটি ক্ষুদ্র উচ্চারণের বিপরীতে রব্বুল আলামিনের পক্ষ থেকে দশগুণ করুণা।

দুরুদ কেবল কিছু শব্দের সমষ্টি নয়। এটি নবিপ্রেমের প্রকাশ, ঈমানের স্বাক্ষর, এবং বান্দা ও রবের মধ্যকার এক অনুপম সেতুবন্ধন। যে জিহ্বা দুরুদে সিক্ত হয়, সে জিহ্বা মিথ্যা ও অশালীনতা থেকে ধীরে ধীরে লজ্জিত হতে শেখে। যে হৃদয় দুরুদে অভ্যস্ত হয়, সে হৃদয় হিংসা-বিদ্বেষের ভার থেকে মুক্ত থাকে।

আজকের ব্যস্ত, ক্লান্ত, উদ্বিগ্ন জীবনে মানুষ শান্তি খুঁজে ফেরে নানামুখী পথে কখনো অর্থে, কখনো খ্যাতিতে, কখনো নিঃসঙ্গ বিনোদনে। অথচ একটি দুরুদ নীরবে, ভিড়ের মাঝেই মানুষের ভেতরে এক স্বস্তি বয়ে আনতে পারে। কারণ দুরুদ মানে শুধু নবি (সা.) কে স্মরণ করা নয়, দুরুদ মানে আল্লাহর দরবারে নিজের নামটি তুলে ধরা রহমতের খাতায়।

এই হাদিস আমাদের আত্মসচেনতাও শেখায়। আমরা কেউই নিখুঁত নই, আমাদের আমলে ফাঁক আছে, ইখলাসে দুর্বলতা আছে, গুনাহের বোঝা আছে। তবু আল্লাহতায়ালা আমাদের তুচ্ছ করেননি। বরং বলেছেন তুমি একবার দুরুদ পাঠ করো, আমি দশবার তোমার দিকে ফিরব। কী অসীম দয়া! বান্দা ডাকে একবার, রবের সন্তুষ্টি, দয়া, করুণা ঝরে পড়ে দশবার।

দুরুদের আরেকটি সৌন্দর্য হলো, এটি সর্বাবস্থার আমল। পবিত্রতা, স্থান, সময় কোনো জটিল শর্ত নেই। হাঁটতে হাঁটতে, কাজের ফাঁকে, ক্লান্ত বিকেলে, অথবা গভীর রাতে একটুু নীরব উচ্চারনে আকাশে হিসাব লেখা হয়। হৃদয়ের রুক্ষতা, সম্পর্কের টানাপোড়েন এমন সময়ও সহজ এই আমল হৃদয়কে কোমল করে  প্রশান্তি দেয়। 

মনে রাখতে হবে, যে জাতি তার নবিকে স্মরণ করে, সে জাতি পথ হারিয়ে ফেললেও পুরোপুরি দিশেহারা হয় না। আর এই দুরুদকে আমাদের জবানে কতো সহজ করা হয়েছে।আর প্রতিদানকে করা হয়েছে বিশাল। তাই এর থেকে লাভজনক আমল আর কী হতে পারে? আজ থেকেই শুরু হোক নিভৃতে ভালোবাসা নিয়ে ‘সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম’ এই মহান বাক্যটির সুমিষ্ট ধ্বনি।

লেখক: আলেম ও মাদরাসা শিক্ষক 

 

আল্লাহর ভালোবাসা পাওয়ার চার শর্ত

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৩:০০ পিএম
আল্লাহর ভালোবাসা পাওয়ার চার শর্ত
ছবি: সংগৃহীত

কোনো মানুষের দুনিয়ায় জনপ্রিয় হওয়া বা মানুষের হৃদয়ে স্থান পাওয়া কি কেবলই তার বাহ্যিক যোগ্যতার ওপর নির্ভর করে, নাকি এর পেছনে রয়েছে কোনো আসমানী রহস্য? সৃষ্টির সেরা জীব মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক, ভালোবাসা এবং বন্ধুত্বের ধরন কীভাবে আল্লাহর ভালোবাসা পাওয়ার মাধ্যম হতে পারে–তা নিয়ে ইসলাম এক অভিনব দর্শন দিয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রামাণ্য হাদিসগুলো বিশ্লেষণ করলে সামাজিক বন্ধন ও আত্মিক শুদ্ধির এক অনন্য রূপরেখা আমাদের সামনে উন্মোচিত হয়।

দুনিয়ার বুকে মানুষের ভালোবাসা পাওয়ার এক গোপন সূত্র রয়েছে। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত একটি চমৎকার হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, আল্লাহ যখন কোনো বান্দাকে ভালোবাসেন, তখন জিবরাঈল (আ.)-কে ডেকে বলেন যে, তিনি অমুককে ভালোবাসেন। ফলে জিবরাঈল (আ.) এবং আকাশের সমস্ত ফেরেশতা তাকে ভালোবাসতে শুরু করেন। এর পর: সে ব্যক্তির জন্য জমিনেও জনপ্রিয়তা দান করা হয় (মুসলিম, মিশকাত হা/৫০০৫)।বিপরীতে, আল্লাহ কোনো বান্দাকে ঘৃণা করলে আসমানী ফেরেশতাদের মাধ্যমে জমিনের মানুষের হৃদয়েও তার প্রতি ঘৃণা সৃষ্টি হয়।

মানুষের জীবনে বন্ধু বা সঙ্গীর প্রভাব কতটা গভীর, তা বোঝাতে রাসুল (সা.) এক অনন্য উদাহরণ দিয়েছেন। আবু মুসা আশয়ারী (রা.) বর্ণিত হাদিস অনুযায়ী, ভালো ও মন্দ বন্ধুর দৃষ্টান্ত হলো যথাক্রমে আতর বিক্রেতা ও কামারের হাঁপড়ের মতো। আতর বিক্রেতার কাছ থেকে কিছু না কিনলেও সুঘ্রাণ পাওয়া যায়, আর কামারের কাছে গেলে জামা-কাপড় না পুড়লেও তার ধোঁয়ার দুর্গন্ধ সহ্য করতেই হয় (বুখারি, মুসলিম, মিশকাত হা/৫০১০)।

নিছক পার্থিব স্বার্থের বাইরে গিয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য গড়ে ওঠা সম্পর্কের মূল্য অপরিসীম। মুয়ায ইবনু জাবাল (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে কুদসিতে আল্লাহতায়ালা বলেন, যারা আল্লাহর উদ্দেশ্যে পরস্পরকে ভালোবাসে, সমাবেশে মিলিত হয়, সাক্ষাৎ করে এবং সম্পদ ব্যয় করে, তাদের জন্য আল্লাহর ভালোবাসা অবধারিত (মালেক, মিশকাত হা/৫০১১)। আর এই ভালোবাসাকে টিকিয়ে রাখতে মিকদাদ ইবনু মা‘দীকারাব (রা.) বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) এক মনস্তাত্ত্বিক ফর্মুলা দিয়েছেন–কেউ তার কোনো ভাইকে ভালোবাসলে সে যেন তাকে তা জানিয়ে দেয় (আবু দাঊদ, হা/৫০১৬)।

সামাজিক এই সুসম্পর্কের চূড়ান্ত পরিণতি রূপ নেয় পরকালের শান্তিতে। আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুল (সা.) এমন একদল মানুষের সুসংবাদ দিয়েছেন যাদের জন্য জাহান্নামের আগুন হারাম। তারা হলেন এমন ব্যক্তিবর্গ–যাদের মেজাজ নরম, স্বভাব কোমল, মানুষের সঙ্গে মিশুক এবং আচরণ অত্যন্ত সরল সহজ (তিরমিজি, হা/৫০৮৪)। আসমানী ভালোবাসা অর্জন, সৎসঙ্গের সান্নিধ্য এবং মানুষের সঙ্গে কোমল আচরণের মাধ্যমেই একটি আদর্শ সমাজ গঠন সম্ভব, যা মানুষকে পরকালের কঠিন আগুন থেকে রক্ষা করবে।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক

শামায়েল কোন চিহ্ন দেখে নবিজিকে চিনেছিলেন সালমান (রা.)

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৯:৪৪ এএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬, ০২:৩০ পিএম
কোন চিহ্ন দেখে নবিজিকে চিনেছিলেন সালমান (রা.)
ছবি: সংগৃহীত

সত্যের সন্ধানে পারস্য থেকে মদিনায় আসা এক ক্রীতদাস। কোন তিনটি অলৌকিক চিহ্ন দেখে নিশ্চিত হয়েছিলেন যে ইনিই শেষ নবি? হজরত সালমান ফারসি (রা.) ছিলেন একজন সত্যসন্ধানী সাহাবি। পূর্ববর্তী আসমানি কিতাবের জ্ঞান থেকে তিনি জানতেন, শেষ নবির তিনটি স্পষ্ট বৈশিষ্ট্য থাকবে–তিনি সদকা (দান) খাবেন না, হাদিয়া (উপহার) গ্রহণ করবেন এবং তাঁর দুই কাঁধের মাঝে ‘মোহরে নবুওয়াত’ বা নবি হওয়ার বিশেষ সিলমোহর থাকবে।

মদিনায় হিজরতের পর সালমান (রা.) কাঁচা খেজুরের একটি পাত্র নিয়ে নবিজি (সা.)-এর সামনে এসে বললেন, ‘এগুলো সদকা।’ রাসুল (সা.) সাহাবিদের বললেন, ‘তোমরা খাও, আমরা সদকা খাই না।’ সালমান (রা.) মনে মনে বললেন, ‘এটি প্রথম নিদর্শন।’ পরের দিন তিনি আবার খেজুর এনে বললেন, ‘এটি আপনার জন্য হাদিয়া।’ তখন রাসুল (সা.) নিজে খেলেন এবং সাহাবিদেরও খেতে বললেন। সালমান (রা.) ভাবলেন, ‘এটি দ্বিতীয় নিদর্শন।’

এরপর সালমান (রা.) নবিজি (সা.)-এর পেছনে গিয়ে দাঁড়ালেন তাঁর পিঠের মোহরটি দেখার জন্য। রাসুল (সা.) তাঁর মনের ইচ্ছা বুঝতে পেরে পিঠের চাদরটি সামান্য সরিয়ে দিলেন। সালমান (রা.) সেখানে নবুওয়াতের অলৌকিক চিহ্নটি দেখতেই কেঁদে ফেললেন এবং ইসলাম গ্রহণ করলেন। (মুসনাদে আহমাদ, ২৩৪৭; মুসনাদুল বাজজার, ৪৪০৭)

সাহাবি আবু সাঈদ খুদরি (রা.)-কে যখন এই মোহর সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়, তিনি বলেন, ‘তা ছিল তাঁর পৃষ্ঠদেশের ওপর এক টুকরো বাড়তি গোশত।’ (জামেউস সগির, ৮৯৩৯; সিলসিলা সহিহাহ, ২০৯৩)
অন্য এক বর্ণনায় হজরত আবদুল্লাহ ইবনে সারজিস (রা.) বলেন, নবিজি যখন তাঁর চাদর সরিয়েছিলেন, তখন তিনি দুই কাঁধের মাঝে সেই মোহরটি দেখেন। তাঁর ভাষায় ‘তা ছিল মুষ্টিবদ্ধ আঙুলীর মতো (উঁচু) এবং এর চারপার্শ্বে আঁচিলের মতো কতগুলো তিলক শোভা পাচ্ছিল।’ (সুনানুল কুবরা লিন নাসাঈ, ১১৪৩২)

সালমান (রা.) এক ইহুদির দাস ছিলেন। তাঁর মুক্তির শর্ত ছিল একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ এবং মনিবের জন্য একটি খেজুর বাগান তৈরি করা, যেখানে ফল না আসা পর্যন্ত পরিচর্যা করতে হবে। রাসুল (সা.) নিজ হাতে সেই বাগানের চারা রোপণ করলেন। কেবল একটি চারা হজরত ওমর (রা.) রোপণ করেছিলেন। অলৌকিকভাবে সে বছরই সব গাছে খেজুর এল, শুধু ওমরের (রা.) রোপণ করা গাছটি ছাড়া।

 নবিজি (সা.) কারণ জানতে পেরে সেই চারাটি উপড়ে আবার নিজ হাতে রোপণ করলেন এবং অলৌকিকভাবে সে বছরই তাতে ফল চলে এল। এভাবেই সালমান (রা.) দাসত্ব থেকে মুক্তি পান। নবিজি (সা.)-এর এই অবয়ব ও অলৌকিকতা কেবল সৌন্দর্যই প্রকাশ করে না, বরং তা ছিল সত্যের এক জীবন্ত দলিল।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

১৪ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৭:০০ এএম
১৪ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি
জুন, ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচির ছবি

প্রতিদিন সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ। নামাজ (সালাত) ইসলাজুনর পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি এবং ইসলাজুনর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত।

আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, (হে আল্লাহর রাসুল!) আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয় আমল কোনটি? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘নামাজ (বুখারি ও মুসলিম)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সেভাবে নামাজ আদায় করো, যেভাবে আমাকে নামাজ আদায় করতে দেখেছ।’ (বুখারি, ৬৩১)

সঠিকভাবে নামাজ আদায় করতে হলে, নামাজের সময় জানতে হবে।

 

আজ ১৪ জুন ২০২৬, রবিবার । ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো— 

জোহর

১২.০২ মিনিট

আসর

৪.৩৮ মিনিট

 

মাগরিব

৬.৫০ মিনিট

 

এশা

৮.১৬ মিনিট

ফজর (১৫ জুন)

.৪৪ মিনিট

 

 

বিভাগীয় শহরের জন্য উল্লিখিত সময়ের সঙ্গে যেসব বিভাগে সময় যোগ-বিয়োগকরতে হবে।

বিয়োগ

চট্টগ্রাম: ৫ মিনিট

সিলেট: ৬ মিনিট

যোগ

খুলনা: ৩ মিনিট

রাজশাহী: ৭ মিনিট

রংপুর: ৮ মিনিট

বরিশাল: ১ মিনিট

 

সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ঘটনা যে সম্পদ চোখের পলকে ধ্বংস হয়ে যায়

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৯:৩০ পিএম
যে সম্পদ চোখের পলকে ধ্বংস হয়ে যায়
ছবি: সংগৃহীত

সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমতা ইসলামের অন্যতম মূল ভিত্তি। পবিত্র কোরআনের স্পষ্ট ঘোষণা—ধনীদের উদ্বৃত্ত সম্পদে অভাবী ও বঞ্চিত মানুষের সুনির্দিষ্ট অধিকার রয়েছে। কিন্তু মানুষ যখন চরম আত্মকেন্দ্রিক হয়ে এই ঐশী বিধানকে অমান্য করে, তখনই নেমে আসে বিপর্যয়। সুরা আল-কালামে বর্ণিত ‘বাগানওয়ালাদের’ ঐতিহাসিক ঘটনাটি তেমনই এক চিরন্তন শিক্ষার স্মারক।

ইয়েমেনের সানা নগরীর কাছে এক আল্লাহভীরু ব্যক্তির একটি বিশাল ফলের বাগান ছিল। তিনি নিয়মিত বাগানের আয়ের একটি বড় অংশ গরিব-দুঃখীদের মাঝে বিলিয়ে দিতেন। তাঁর মৃত্যুর পর ছেলেরা সেই বাগানের মালিক হয়। কিন্তু পিতার উদারতা ও মানবিক মূল্যবোধ ছেলেদের স্পর্শ করেনি। বিপুল সম্পদের মালিক হয়ে তারা চরম কৃপণ ও অদহংকারী হয়ে ওঠে।

একদিন ভাইয়েরা মিলে এক গোপন বৈঠক করল। লোভের বশবর্তী হয়ে তারা সিদ্ধান্ত নিল—পিতার মতো তারা আর গরিবদের একটি কণাও দেবে না। এক ভাই বাধা দিতে চাইলেও বাকিরা তা শুনল না। তারা পরিকল্পনা করল, ভোরের আলো ফোটার আগেই বাগানের সব ফসল কেটে ঘরে তুলে ফেলবে, যাতে কোনো অভাবী মানুষ টের পেয়ে কিছু চেয়ে না বসে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী শেষরাতে তারা বাগানের দিকে রওনা হলো। কিন্তু সেখানে পৌঁছেই তারা স্তম্ভিত হয়ে গেল! তাদের অবাধ্যতা ও কৃপণতার শাস্তিস্বরূপ রাতের অন্ধকারে আল্লাহর নির্দেশে এক ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটে গেছে। পুরো বাগানটি আগুনে পুড়ে কালো ছাই হয়ে পড়ে আছে। যে সম্পদ নিয়ে তারা অহংকার করেছিল, নিমেষেই তা ধ্বংস হয়ে গেল।

সর্বস্ব হারিয়ে ভাইদের ভুল ভাঙল। তারা বুঝতে পারল, সম্পদ একা ভোগ করার জিনিস নয়, এর সাথে জড়িয়ে থাকে সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের অধিকার। তারা নিজেদের অন্যায়ের জন্য আল্লাহর দরবারে খাঁটি মনে তওবা করল। আল্লাহ অত্যন্ত দয়াময়; তিনি তাদের ক্ষমা করলেন এবং পরবর্তী সময়ে বাগানটিকে আবার সুমিষ্ট ফলে ভরিয়ে দিলেন।

এই ঘটনা আমাদের শেখায়, আল্লাহর দেওয়া নেয়ামত পেয়ে যারা অহংকার করে এবং গরিবের হক নষ্ট করে, তাদের পতন অনিবার্য। অসহায়দের ভালোবাসা আল্লাহর নৈকট্য লাভের মাধ্যম। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, দরিদ্র মুমিনরা ধনীদের চেয়ে পাঁচ শ বছর আগে জান্নাতে প্রবেশ করবে। তাই সম্পদ জমিয়ে রাখা নয়, বরং তা বিলিয়ে দেওয়ার মাঝেই লুকিয়ে আছে প্রকৃত বরকত।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

পরকালের আয়নায় আপনার কর্মফল দেখেছেন কি?

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৭:০০ পিএম
পরকালের আয়নায় আপনার কর্মফল দেখেছেন কি?
ছবি: সংগৃহীত

রক্তের নদী, জ্বলন্ত তন্দুর আর সোনা-রুপার শহর রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর চোখে দেখা পরকালের সেই শিহরিত করা দৃশ্যপট আজ আমাদের কী বার্তা দিচ্ছে? রাসুল (সা.) প্রায়ই সাহাবিদের জিজ্ঞেস করতেন, তোমাদের কেউ কোনো স্বপ্ন দেখেছ কি? কিন্তু এক সকালে তিনি নিজেই শোনালেন এক অভূতপূর্ব সফরের কথা। জিবরাঈল ও মিকাঈল (আ.)-এর সঙ্গে রাতের আঁধারে তিনি পাড়ি জমিয়েছিলেন এক ভিন্ন জগতে, যেখানে উন্মোচিত হয়েছিল মানুষের ইহকালীন পাপ ও পুণ্যের পরকালীন প্রতিচ্ছবি।

সংক্ষিপ্ত অথচ অত্যন্ত গভীর সেই সফরের দৃশ্যগুলো আমাদের চেনা পৃথিবীর চেনা অপরাধেরই এক ভয়ঙ্কর রূপক:
আল্লাহর রাসুল (সা.) দেখলেন, এক ব্যক্তি কাত হয়ে শুয়ে আছে আর ভারী পাথর দিয়ে তার মাথা চূর্ণ-বিচূর্ণ করা হচ্ছে। অপরাধ? সে কোরআন শিখেও তা আমল করেনি এবং ফরজ নামাজ ছেড়ে ঘুমিয়ে থাকত।

অপর এক ব্যক্তির চোয়াল, নাক ও চোখ লোহার আঁকড়া দিয়ে টেনে মাথার পেছন পর্যন্ত চিরে ফেলা হচ্ছিল। আধুনিক যুগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেভাবে মুহূর্তের মধ্যে গুজব ছড়িয়ে পড়ে, এই শাস্তি ছিল ঠিক সেই মিথ্যুকদের জন্য, যাদের মিথ্যা চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়ত।
একটি সংকীর্ণ মুখের জ্বলন্ত তন্দুর চুলার ভেতর উলঙ্গ নারী-পুরুষের আর্তনাদ দেখালেন ফেরেশতাদ্বয়। তারা হলো দুনিয়ার ব্যভিচারী ও ব্যভিচারিণীর দল।

রক্তের নদীতে সাঁতার কাটতে থাকা এক ব্যক্তির মুখে তীরের লোক ক্রমাগত পাথর ছুড়ে মারছিল। সে ছিল দুনিয়ার সুদখোর।
এই ভয়ঙ্কর শাস্তির খণ্ডচিত্র পার হয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) পৌঁছালেন এক শান্তিময় সবুজ বাগানে। সেখানে দীর্ঘকায় নবি ইব্রাহিম (আ.)-এর চারপাশে খেলা করছিল নিষ্পাপ শিশুরা, যাদের মধ্যে মুশরিকদের সন্তানরাও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

সফরের শেষ প্রান্তে সোনা ও রুপার ইটের তৈরি এক অপরূপ শহরে অর্ধেক সুন্দর আর অর্ধেক কুৎসিত দেহের কিছু মানুষকে ধপধপে সাদা নদীতে ডুব দিয়ে পূর্ণ সুন্দর হতে দেখা গেল–যারা দুনিয়ায় ভালো-মন্দ আমল মিশ্রিত করেছিল এবং আল্লাহ তাদের ক্ষমা করে দিয়েছেন। জিবরাঈল ও মিকাঈল (আ.) রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জন্য নির্ধারিত জান্নাতি প্রাসাদটি দেখিয়ে বললেন, দুনিয়ার অবশিষ্ট আয়ু পূর্ণ হলেই আপনি এখানে প্রবেশ করবেন।
এই হাদিস আমাদের শেখায়, পরকালের শাস্তি কোনো রূপকথা নয়, বরং আমাদের দৈনন্দিন কর্মেরই অবিকল প্রতিফলন। আমাদের একটি ক্লিক বা অসচেতন ঘুমও পরকালের চিরস্থায়ী ক্ষতির কারণ হতে পারে।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক