আল্লাহতায়ালা বলেন, নিশ্চয়ই আল্লাহতায়ালা নবির উপর রহমত নাজিল করেন এবং ফেরেশতারা তাঁর জন্য রহমতের দোয়া করেন। সুতরাং হে মুমিনগণ! তোমরাও তাঁর প্রতি দুরূদ পড়ো এবং অধিক পরিমাণে সালাম পাঠাও। (সুরা আহযাব,৫৬)
আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন আমি আল্লাহর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, যে ব্যক্তি আমার ওপর একবার দুরূদ পড়বে, বিনিময়ে আল্লাহতায়ালা তার উপর দশটি রহমত নাজিল করবেন।(মুসলিম, ১/১৬৬)
মানুষের জীবনে এমন কিছু আমল আছে, যা ছোট বলে মনে হলেও তার প্রতিদান আকাশসম। উচ্চারণে ক্ষুদ্র, অথচ ওজনে ভারী এমনই এক আমল হলো রাসুলুল্লাহ (সা.) এর প্রতি দুরুদ পাঠ। এই ব্যাপারে আল্লাহর নবি (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি আমার উপর একবার দুরুদ পাঠ করে, আল্লাহতায়ালা তার ওপর দশবার রহমত নাজিল করেন। এই হাদিসটি মুমিনের হৃদয়ে যেন রহমত ও আশার দ্বার খুলে দেয়।
আমরা সাধারণত আমলের হিসাব করি পরিশ্রম দিয়ে, কিন্তু এখানে আল্লাহতায়ালা আমাদের শেখাচ্ছেন লাভের অংক। একবার দুরুদ দশবার আল্লাহর রহমত। বিনিময়টা কেমন? বান্দার একটি ক্ষুদ্র উচ্চারণের বিপরীতে রব্বুল আলামিনের পক্ষ থেকে দশগুণ করুণা।
দুরুদ কেবল কিছু শব্দের সমষ্টি নয়। এটি নবিপ্রেমের প্রকাশ, ঈমানের স্বাক্ষর, এবং বান্দা ও রবের মধ্যকার এক অনুপম সেতুবন্ধন। যে জিহ্বা দুরুদে সিক্ত হয়, সে জিহ্বা মিথ্যা ও অশালীনতা থেকে ধীরে ধীরে লজ্জিত হতে শেখে। যে হৃদয় দুরুদে অভ্যস্ত হয়, সে হৃদয় হিংসা-বিদ্বেষের ভার থেকে মুক্ত থাকে।
আজকের ব্যস্ত, ক্লান্ত, উদ্বিগ্ন জীবনে মানুষ শান্তি খুঁজে ফেরে নানামুখী পথে কখনো অর্থে, কখনো খ্যাতিতে, কখনো নিঃসঙ্গ বিনোদনে। অথচ একটি দুরুদ নীরবে, ভিড়ের মাঝেই মানুষের ভেতরে এক স্বস্তি বয়ে আনতে পারে। কারণ দুরুদ মানে শুধু নবি (সা.) কে স্মরণ করা নয়, দুরুদ মানে আল্লাহর দরবারে নিজের নামটি তুলে ধরা রহমতের খাতায়।
এই হাদিস আমাদের আত্মসচেনতাও শেখায়। আমরা কেউই নিখুঁত নই, আমাদের আমলে ফাঁক আছে, ইখলাসে দুর্বলতা আছে, গুনাহের বোঝা আছে। তবু আল্লাহতায়ালা আমাদের তুচ্ছ করেননি। বরং বলেছেন তুমি একবার দুরুদ পাঠ করো, আমি দশবার তোমার দিকে ফিরব। কী অসীম দয়া! বান্দা ডাকে একবার, রবের সন্তুষ্টি, দয়া, করুণা ঝরে পড়ে দশবার।
দুরুদের আরেকটি সৌন্দর্য হলো, এটি সর্বাবস্থার আমল। পবিত্রতা, স্থান, সময় কোনো জটিল শর্ত নেই। হাঁটতে হাঁটতে, কাজের ফাঁকে, ক্লান্ত বিকেলে, অথবা গভীর রাতে একটুু নীরব উচ্চারনে আকাশে হিসাব লেখা হয়। হৃদয়ের রুক্ষতা, সম্পর্কের টানাপোড়েন এমন সময়ও সহজ এই আমল হৃদয়কে কোমল করে প্রশান্তি দেয়।
মনে রাখতে হবে, যে জাতি তার নবিকে স্মরণ করে, সে জাতি পথ হারিয়ে ফেললেও পুরোপুরি দিশেহারা হয় না। আর এই দুরুদকে আমাদের জবানে কতো সহজ করা হয়েছে।আর প্রতিদানকে করা হয়েছে বিশাল। তাই এর থেকে লাভজনক আমল আর কী হতে পারে? আজ থেকেই শুরু হোক নিভৃতে ভালোবাসা নিয়ে ‘সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম’ এই মহান বাক্যটির সুমিষ্ট ধ্বনি।
লেখক: আলেম ও মাদরাসা শিক্ষক