ইসলামে স্বপ্নকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। একটি আল্লাহর পক্ষ থেকে সুসংবাদ, অন্যটি শয়তানের পক্ষ থেকে আতঙ্ক।
১. যখন ভালো স্বপ্ন দেখবেন
ভালো স্বপ্ন আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি নিয়ামত। এমন স্বপ্ন দেখলে তিনটি কাজ করা সুন্নাত: ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা।
এই স্বপ্ন দেখে আনন্দিত হওয়া। স্বপ্নটি কেবল এমন ব্যক্তির কাছে প্রকাশ করা যাকে আপনি ভালোবাসেন বা যিনি আপনার শুভাকাঙ্ক্ষী।
২. যখন মন্দ বা ভয়ংকর স্বপ্ন দেখবেন
মন্দ স্বপ্ন শয়তানের পক্ষ থেকে হয়। এমন স্বপ্নে বিচলিত না হয়ে নিচের পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করুন:
বাম দিকে তিনবার থুথু ফেলার মতো করে হালকা ফুঁ দিন। ৩ বার ‘আউযুবিল্লাহি মিনাশ শায়তানির রাজীম’ বলুন।
যে পাশে শুয়ে স্বপ্নটি দেখেছিলেন, সেই পাশ পরিবর্তন করে অন্য পাশে শয়ন করুন। মন্দ স্বপ্নের কথা কারও কাছে ভুলেও প্রকাশ করবেন না। হাদিস অনুযায়ী, গোপন রাখলে এই স্বপ্ন আপনার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। যদি খুব বেশি অস্থির লাগে, তবে বিছানা ছেড়ে উঠে দুই রাকাত নামাজ আদায় করুন।
৩. মন্দ স্বপ্নপরবর্তী বিশেষ দোয়া
ইবনুস সুন্নির বর্ণনা অনুযায়ী, খারাপ স্বপ্ন ভাঙলে এই দোয়াটি পাঠ করা অত্যন্ত কার্যকর:
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوْذُ بِكَ مِنْ عَمَلِ الشَّيْطَانِ وَسَيِّئَاتِ الْأَحْلَامِ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিন আমালিশ শাইতানি ওয়া সাইয়্যিয়াতিলি আহলাম।
অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে শয়তানের কর্মকাঞ্জ (ফাঁদ) এবং মন্দ স্বপ্নের অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাই।
মন্দ স্বপ্ন দেখলে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। নবিজি (সা.) আমাদের আশ্বস্ত করেছেন যে, এই আমলগুলো করলে ওই স্বপ্নের মন্দ প্রভাব আর কার্যকর থাকে না। এটি মুমিনের জন্য একটি বড় মানসিক ও আধ্যাত্মিক সুরক্ষা।
লেখক: আলেম ও সাংবাদিক