প্রশ্ন: বর্তমানে অনেক ধর্মভিত্তিক টিভি চ্যানেল বা মিডিয়া প্রতিষ্ঠান তাদের পরিচালনা ও প্রচারের জন্য জাকাতের অর্থ চেয়ে থাকে। অনেক সাধারণ মানুষ সওয়াবের আশায় সেখানে জাকাত প্রদানও করেন। শরিয়তের দৃষ্টিতে টিভি চ্যানেল বা বিভিন্ন বোর্ড ও সংস্থায় জাকাতের টাকা দেওয়া কি বৈধ?
উত্তর: ইসলামের পঞ্চ স্তম্ভের অন্যতম হলো জাকাত। এটি কেবল একটি দান নয়, বরং এটি নির্দিষ্ট খাতে ব্যয় করার একটি ইবাদত। আপনার প্রশ্নের প্রেক্ষিতে শরিয়তসম্মত সমাধানটি নিচে তুলে ধরা হলো-
১. টিভি চ্যানেল জাকাতের খাত নয়
জাকাত আদায় হওয়ার জন্য প্রধান শর্ত হলো— এটি কোনো অভাবী বা দরিদ্র ব্যক্তিকে সরাসরি মালিক বানিয়ে দিতে হবে (যাকে শরিয়তের পরিভাষায় ‘তামলিক’ বলা হয়)। টিভি চ্যানেল কোনো ব্যক্তি নয়, বরং একটি প্রতিষ্ঠান। তাই ধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্য হলেও কোনো টিভি চ্যানেল প্রতিষ্ঠা বা পরিচালনার জন্য জাকাতের অর্থ প্রদান করা যাবে না। এতে দাতার জাকাত আদায় হবে না।
২. প্রচারের চেয়ে পাত্র নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ
জাকাত যেমন ফরজ, এটি সঠিক ‘পাত্রে’ (উপযুক্ত ব্যক্তি) পৌঁছানোও তেমনি ফরজ। কেউ আবেদন করলেই বা টিভিতে বিজ্ঞাপন দিলেই সেখানে জাকাত দেওয়া উচিত নয়। জাকাত দেওয়ার আগে নিশ্চিত হতে হবে যে, সেই অর্থ কোনো প্রকৃত অভাবী মানুষের হাতে পৌঁছাচ্ছে কি না।
৩. বোর্ড ও দাতব্য সংস্থার ক্ষেত্রে সতর্কতা
বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি জাকাত বোর্ড বা দাতব্য সংস্থার ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য। যদি সেই সংস্থা জাকাতের টাকা দিয়ে কোনো ভবন নির্মাণ, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন প্রদান বা প্রাতিষ্ঠানিক খরচ মেটায়, তবে সেখানে জাকাত দেওয়া যাবে না। তবে যদি তারা সংগৃহীত অর্থ আমানতদারিতার সঙ্গে কেবল দরিদ্রদের মাঝে বণ্টন করে, তবেই সেখানে জাকাত দেওয়া বৈধ হবে। জাকাত প্রদানের আগে অভিজ্ঞ ও বিজ্ঞ আলেমদের থেকে মাসয়ালা জেনে নেওয়া জরুরি।
নিজে সরাসরি চেনাজানা অভাবী আত্মীয়স্বজন বা প্রতিবেশীদের জাকাত দেওয়া সবচেয়ে নিরাপদ ও উত্তম। প্রতিষ্ঠানকে সহযোগিতার প্রয়োজন হলে জাকাত ছাড়া সাধারণ নফল দান বা সদকা ব্যবহার করুন।
বি.দ্র.: জাকাত হলো দরিদ্রের হক। আপনার একটু অসতর্কতা আপনার এই গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতটিকে নষ্ট করে দিতে পারে। তাই আবেগের বশবর্তী না হয়ে সঠিক খাতে জাকাত প্রদান করুন।