ইসলামি পারিবারিক আইনে বায়ান তালাক (বিচ্ছেদ নিশ্চিতকারী তালাক) হয়ে যাওয়ার পর স্বামী-স্ত্রীর বৈবাহিক সম্পর্ক সম্পূর্ণ ছিন্ন হয়ে যায়। এরপর তারা একে অপরের জন্য ‘আজ নবী’ বা পরপুরুষ ও পরনারীতে পরিণত হন। তবে অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, সঠিক মাসয়ালা জানা না থাকার কারণে তালাকের পরও দম্পতিরা আগের মতো একই ছাদের নিচে বসবাস করেন। এমন পরিস্থিতির শরয়ী সমাধান ও করণীয় নিয়ে আজকের এই নিবন্ধ।
বায়ান তালাক হয়ে যাওয়ার পর স্বামী-স্ত্রী হিসেবে একত্রে অবস্থান করা ইসলামি শরিয়তে সম্পূর্ণ হারাম ও গুনাহের কাজ। যদি কোনো দম্পতি অজ্ঞতাবশত তালাকের পর একত্রে থেকে যান, তবে মাসয়ালা জানার সাথে সাথেই তাদের আলাদা হয়ে যাওয়া আবশ্যক। এক্ষেত্রে অতীত দিনের ভুলের জন্য কায়মনোবাক্যে আল্লাহর কাছে তওবা ও ইস্তিগফার করতে হবে।
সাধারণত তালাক দেওয়ার মুহূর্ত থেকেই ইদ্দত শুরু হয়। কিন্তু যদি তালাকের পর তারা আলাদা না হয়ে একত্রে বসবাস করেন, তবে ইদ্দতের নিয়মটি ভিন্ন হবে। এক্ষেত্রে মাসয়ালা হলো— তারা যেদিন একে অপর থেকে সম্পূর্ণ আলাদা হবেন, সেই দিন থেকেই নতুন করে ইদ্দত গণনা শুরু হবে।
সাধারণ অবস্থা: যদি মহিলা ঋতুমতী হন, তবে আলাদা হওয়ার পর থেকে পূর্ণ তিনটি ঋতুস্রাব (হায়য) অতিবাহিত হওয়া পর্যন্ত ইদ্দত পালন করতে হবে।
অন্তঃসত্ত্বা অবস্থা: যদি মহিলা গর্ভবতী হন, তবে সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়া পর্যন্ত তাকে ইদ্দত পালন করতে হবে।
আলাদা হওয়ার পর এই নির্দিষ্ট ইদ্দতকালীন সময় পার হলে ওই নারী চাইলে অন্য যেকোনো স্থানে আইনানুগ ও শরয়ী পদ্ধতিতে পুনরায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারবেন।
পারিবারিক জীবনে কোনো জটিলতা বা তালাকের মতো ঘটনা ঘটলে আবেগতাড়িত না হয়ে দ্রুত বিজ্ঞ আলেমদের কাছ থেকে মাসয়ালা জেনে নেওয়া জরুরি। সঠিক সময়ে সঠিক জ্ঞান না থাকা মানুষকে বড় ধরনের গুনাহের দিকে ঠেলে দিতে পারে।
তথ্যসূত্র: আলমুহীতুল বুরহানী ৫/২৩৩; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৫৩২; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ২/১১৮; আদ্দুররুল মুখতার ৩/৫১৮; ফাতহুল কাদীর ৪/১৫১
লেখক: আলেম ও সাংবাদিক