তাওয়াফের সময় প্রতিটি চক্করে আলাদা আলাদা নির্দিষ্ট দোয়া পড়া নিয়ে আমাদের দেশে এক ধরনের ভ্রান্ত ধারণা প্রচলিত আছে। অনেকে মনে করেন, প্রথম চক্করে অমুক দোয়া আর দ্বিতীয় চক্করে তমুক দোয়াই পড়তে হবে এবং তা না পড়লে বুঝি তাওয়াফ হবে না। এই ধারণাটি সঠিক নয়।
এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য ও পরামর্শ নিচে দেওয়া হলো:
শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, তাওয়াফের প্রতিটি চক্করের জন্য কোনো নির্দিষ্ট দোয়া পড়া জরুরি বা বাধ্যতামূলক নয়। কোনো ব্যক্তি যদি কোনো দোয়া মুখস্থ না থাকার কারণে চুপচাপ শুধু তাওয়াফ শেষ করে, তবুও তার তাওয়াফ হয়ে যাবে। নির্দিষ্ট দোয়া শেষ হয়ে গেলে অন্য দোয়া করা যাবে না–এমন মনে করা ভুল।
আরো পড়ুন: মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে কোরবানি করার বিধান কি?
রাসুলুল্লাহ (সা.) থেকে কেবল একটি নির্দিষ্ট স্থানের দোয়া প্রমাণিত, তা হলো–রুকনে ইয়ামানি ও হাজরে আসওয়াদের মধ্যবর্তী স্থানে ‘রাব্বানা আতিনা ফিদ-দুনিয়া হাসানাহ...’ এই দোয়াটি পড়া। এ ছাড়া পুরো তাওয়াফে আপনি কোরআন-হাদিস থেকে বর্ণিত যেকোনো দোয়া, তাসবিহ বা জিকির করতে পারেন।
আরো পড়ুন: এতিম ও দ্বীনি শিক্ষার্থীদের অধিকার হরণের অপচেষ্টা
দোয়া কেবল আরবিতেই করতে হবে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। আপনি আপনার নিজের ভাষায়, নিজের মনের আকুতি জানিয়ে আল্লাহর কাছে দোয়া করতে পারেন। অনেকে দোয়া মুখস্থ না থাকায় অন্যের সাহায্য নেন বা উচ্চৈঃস্বরে অন্যের পেছনে দোয়া আওড়ান, যা অনেক সময় অন্যের ইবাদতে বিঘ্ন ঘটায়। এর চেয়ে নিজের ভাষায় একাগ্রতার সঙ্গে মনে মনে দোয়া করা অনেক বেশি কার্যকরী ও উত্তম।
তাওয়াফের সময় বই দেখে দোয়া পড়ার চেয়ে আল্লাহর বড়ত্ব অনুভব করা এবং নিজের গুনাহের জন্য ক্ষমা চাওয়া বেশি জরুরি। আপনি সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ বা ইস্তেগফার পড়তে পারেন। বইয়ের পাতার নির্দিষ্ট দোয়ায় আটকে না থেকে অন্তর থেকে দোয়া করার চেষ্টা করুন। ইবাদত হোক সহজ ও স্বতঃস্ফূর্ত। নির্দিষ্ট দোয়ার বোঝা চাপিয়ে দিয়ে নিজের একাগ্রতা নষ্ট করবেন না। আল্লাহ আমাদের সবার তাওয়াফ ও দোয়া কবুল করুন।আমিন।
লেখক: আলেম ও সাংবাদিক