তখন দুপুর সোয়া ১২টা। রাজধানীর পল্টন মোড়ে সড়ক বিভাজনে হই-হুল্লোড় করছিল একদল শিশু-কিশোর। বয়স ৯ থেকে ১২ বছরের মধ্যে। তাদের মধ্যে ছিল অন্তত দুজন মেয়ে শিশু। সবার পরনে বিবর্ণ পোশাক। জীর্ণ-শীর্ণ চেহারা। সবার হাতেই বাতাস ফোলানো পলিব্যাগ। তাতে নাক-মুখ ডুবিয়ে একটু পরেই শ্বাস নিচ্ছিল এই শিশু-কিশোররা। অল্প সময়েই বোঝা গেল- ওরা ‘ড্যান্ডি’ নেশা গ্রহণ করছে। নেশায় বুঁদ হয়ে তারা একে অপরকে মজার ছলে ধাক্কা দিচ্ছিল, আর অশালীন গালমন্দ করছিল।
গত শনিবার এমনই চিত্র দেখা যায়, যার ভিডিও ধারণ করেন এই প্রতিবেদক। আলাপকালে জানা যায়, ওরা সবাই পথশিশু। ছিন্নমূল শিশুও বলা হয় ওদের। আশপাশের ফুটপাত, ফুটওভার ব্রিজ বা সড়ক বিভাজনে (যেখানে রেলিং দেওয়া রয়েছে) বা রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় তাদের বসবাস। এই পথশিশুদের কাছে ‘ড্যান্ডি’ নেশা এক মহা আকর্ষণ। ভাত-রুটি না খেলেও চলবে কিন্তু ড্যান্ডি তাদের লাগবেই। পথশিশুদের একটি বড় অংশ দিন-রাত নেশায় মত্ত থাকে। স্বাভাবিক চিন্তা-ভাবনা বা ভবিষ্যতের কোনো স্বপ্ন নেই ওদের। রোদ-ঝড়-বৃষ্টি বা বন্যা-খরায় পথই তাদের একমাত্র আশ্রয়ের জায়গা।
শিশুরা সাধারণত বাবা-মা তথা পরিবারের পরম স্নেহ-মমতা ভালোবাসায় বড় হয়। দুর্ভাগ্য যে, এই শিশুদের জীবনের শুরু পথে, শেষও পথেই। ওদের দেখার কেউ নেই, ওদের অভাব-অভিযোগ শোনারও কেউ নেই। পথ ওদের বাড়িঘর, পথই ঠিকানা। এই শিশুদের পড়াশোনা-স্বাস্থ্যসেবা নিয়েও কোনো ভাবনা নেই কারও। রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার আওতায় তাদের জন্য এসব বরাদ্দ থাকলেও দায়িত্বশীলদের এ বিষয়ে তেমন ভ্রুক্ষেপ নেই। অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে এই তথ্য। কিছু এনজিও বা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন পথশিশুদের নিয়ে কাজ করে। তবে তাদের টেকসই কর্মকৌশল না থাকায় শেষ পর্যন্ত এনজিওদের উদ্যোগ ফলদায়ক হয় না। বিশেষজ্ঞরা এ রকমটাই মনে করেন।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে- রাস্তার পাশে ফুটপাতে, রেলওয়ে স্টেশন, বাস কাউন্টার, টার্মিনাল, ফ্লাইওভার ও ফুটওভার ব্রিজের নিচে, এমনকি সড়ক বিভাজনের ওপরও পথশিশুদের অবস্থান প্রতিনিয়ত চোখে পড়ে। এদের অধিকাংশই মাদকাসক্ত। এই মাদকাসক্তের কারণে নানা অপরাধেও লিপ্ত হচ্ছে নেশাগ্রস্ত পথশিশুরা।
কেমন আছে পথশিশুরা, কী বলছে তারা
পল্টন মোড়ে গত শনিবার সকালে অবস্থানকালে দেখা যায়, ১০-১২ জন শিশু-কিশোর সড়ক বিভাজনের মাঝে বসে হাসিঠাট্টায় মেতে আছে। তাদের মধ্যে একজন অন্যজনের হাতের পলি ব্যাগ টানাটানি করছিল। ঠিক এমন সময় একটি শিশু মেয়ে তার কোমরে গুঁজে রাখা একটি ‘কাঁচি’ বের করে অপর ছেলে শিশুকে মারমুখী ভঙ্গিতে ভয় দেখাচ্ছিল। উদ্দেশ্য, ড্যান্ডির পলিব্যাগ নিয়ে যেন ছেলেটি কাড়াকাড়ি না করে।
ওই মেয়ে পথশিশুর (১২) সঙ্গে এই প্রতিবেদকের কথা হয় (ভিডিও সংরক্ষিত রয়েছে)। শিশু সোনিয়া (ছদ্মনাম) জানায়, বাবা একদিন হঠাৎ তাদের ফেলে চলে যায়। এর কিছুদিন পর মাও অন্য লোককে বিয়ে করেন। সোনিয়া আগে মায়ের সঙ্গে ছিল। এখন সে অন্য পথশিশুদের সঙ্গে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের পেছনে থাকে। সোনিয়া জানায়, সে কখনো স্কুলে যায়নি বা পড়াশোনা করেনি। দিনে খালি প্লাস্টিকের বোতল কুড়িয়ে বিক্রি করে অল্প কিছু টাকা পায়। সেই টাকা দিয়ে কিছু খাবার বা ড্যান্ডির নেশা করে।
নেশায় আসক্তি নিয়ে আলাপকালে সোনিয়া বলে, ‘আমগো লগের সবাই ড্যান্ডি খায়। তাই আমিও খাই। ভাল্লাগে, এই আরকি।’
এদিকে গত বৃহস্পতিবার ঢাকার বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, প্রবেশপথের পাশেই সাদা চটের বস্তা বিছিয়ে ঘুমিয়ে আছে এক শিশু। বয়স আনুমানিক ১২ বছর। পরনে ছেঁড়া ও ধূসর-নীল টি-শার্ট ও প্যান্ট। ঠিক তার পাশেই একটি কুকুরও নিশ্চিন্তে ঘুমাচ্ছিল। দুপুর তখন ১২টা ৭ মিনিট। ঘুম ভেঙে যায় শিশুটির। উঠে বসে চোখ ডলতে ডলতে চারদিক দেখছিল। মলিন মুখটা ময়লায় যেন আরও কালচে দেখাচ্ছিল। পাশ থেকে একটি পলিথিন বের করেই হাতে চেপে ভেতরে নাক-মুখ ডুবিয়ে গন্ধ শুকছিল। কয়েকবার শুকেই চটের বস্তাটি সঙ্গে নিয়ে উঠে চলে যায় শিশুটি।
এর আগে গত ৪ সেপ্টেম্বর দুপুরে বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশনের প্রবেশদ্বারে দেখি, রেললাইন থেকে বোতল ও ময়লা কুড়াচ্ছিল চার পথশিশু। তাদের বয়স আনুমানিক ৯ থেকে ১২ বছর। একজনের হাতে ছিল জ্বলন্ত সিগারেট। অন্যজনের কোমরে গোঁজা ছিল পলিথিনের প্যাকেট। তাদের মধ্যেও চলছিল হাসিঠাট্টা। কথোপকথনের একপর্যায়ে এক পথশিশু বলছিল, ‘এক লোক অর্ধেক সিগ্যারেট ফালাইয়া দিছে। আমি টুকাইয়া পাইছি। তরা টানবি..! না, দিমু না…।’
শুধু কমলাপুর, পল্টন বা বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশন নয়, রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় পথশিশুরা এমনই ছন্নছাড়া-ভবিষ্যৎহীন অন্ধকার জীবনে ডুবে আছে। ঢাকার বাইরেও দেশের ছোট-বড় শহরগুলোতে বিভিন্ন সড়কে পথশিশুদের স্বপ্ন-ভবিষ্যৎ এভাবেই গড়াগড়ি খাচ্ছে। ছোট্ট কোমলমতিরা অঙ্কুরেই ঝরে যাচ্ছে সুন্দর জীবনের স্বপ্ন থেকে। তবে দুই একজন ব্যতিক্রমী হয়ে সুন্দর জীবন গড়ার ইচ্ছায় চেষ্টা চালাচ্ছে।
গতকাল শাহবাগ ফুলের মার্কেটের সামনে থাকা ৯ বছর বয়সী পথশিশু সুমাইয়া (ছদ্মনাম) বলে, তার সঙ্গে থাকা অনেক শিশু ড্যান্ডি বা গাঁজা-জাতীয় নেশা করে। কিন্তু সে কোনো নেশা করে না। ফুল বিক্রি করে নিজের খাবারের টাকা জোগাড় করে। অনেক সময় তার পরিচিত শিশুরা নেশার জন্য তার কাছ থেকেও টাকা কেড়ে নেয়। সুমাইয়া জানায়, সারা দিন বাইরে ঘুরে রাতে শাহবাগে এক বোনের সঙ্গে সে ফুটপাথে ঘুমায়।
পথশিশুদের নিয়ে পরিসংখ্যান
২০২৪ সালে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও ইউনিসেফ বাংলাদেশ যৌথ উদ্যোগে ‘চাইল্ড সেনসিটিভ সোশ্যাল প্রোটেকশন ইন বাংলাদেশ, ফেইজ-২’ প্রকল্পের অধীনে একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। সেই প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে ৩৪ লাখেরও বেশি পথশিশু রয়েছে। অর্থনৈতিক চাপের কারণে এসব শিশুকে শ্রম দিতে বাধ্য করা হয়। তাদের শিক্ষার সুযোগ কমিয়ে দারিদ্র্যের চক্রে স্থায়ী করে রাখা হয়েছে। পিতামাতার অবহেলা, অপব্যবহার এবং সামাজিক নিগ্রহসহ নানা বিরূপ পরিস্থিতি তাদের রাস্তায় বেরিয়ে আসতে বাধ্য করে।
এদিকে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ প্রকাশিত ‘সার্ভে অন স্ট্রিট চিলড্রেন ২০২২’ প্রতিবেদন অনুসারে, দেশের মোট পথশিশুর প্রায় অর্ধেক ৪৮ দশমিক ৫ শতাংশ ঢাকা বিভাগের। মোট পথশিশুর ৮২ শতাংশ ছেলে, ১৮ শতাংশ মেয়ে।
অন্যদিকে ২০২২ সালে প্রকাশিত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) একটি গবেষণায় বলা হয়, দেশে ৫৮ শতাংশ পথশিশু মাদকাসক্ত। ১৪ শতাংশ শিশু ১০ বছর বয়সের আগেই মাদক সেবন করে। তুলনামূলক সহজলভ্য ও সস্তা হওয়ায় পথশিশুদের মধ্যে ৩১ দশমিক ৭ শতাংশ গাঁজা সেবন করে। ড্যান্ডি মাদকে আসক্ত ১৫ দশমিক ২ শতাংশ শিশু। এ ছাড়া রাজধানীতেই ড্যান্ডিতে আসক্ত পথশিশুর সংখ্যা প্রায় ৭৫ হাজার।
পথশিশুদের নিয়ে যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা
এ প্রসঙ্গে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মুনতাসীর মারুফ খবরের কাগজকে বলেন, ‘ড্যান্ডি-জাতীয় মাদকের আসক্তি শরীর ও মনের ওপর বহুমাত্রিক ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। দীর্ঘমেয়াদে স্নায়ুতন্ত্র দুর্বল হয়ে যায়, মস্তিষ্কের কোষ নষ্ট হয় এবং স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগ ক্ষমতা হ্রাস পায়। হৃদযন্ত্র ও ফুসফুসের ক্ষতি, যকৃৎ ও কিডনির কার্যকারিতা নষ্ট হওয়া এবং পেশি দুর্বল হওয়ার ঝুঁকিও থেকে যায়। এমনকি বাস্তবতার সঙ্গে সংযোগ হারানো, কল্পনার জগতে বসবাস করা, মানসিক বিভ্রান্তি ও আচরণগত সমস্যা দেখা দেয়। দীর্ঘ আসক্তি মস্তিষ্কের স্বাভাবিক আনন্দ-বেদনা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ভেঙে দেয়, ফলে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা কঠিন হয়ে পড়ে।’
এ প্রসঙ্গে অপরাধ বিশেষজ্ঞ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক খবরের কাগজকে বলেন, পথশিশুরা দেশের এক অবহেলিত করুণ অধ্যায়। পথশিশুদের অনেকের পরিবার রয়েছে। কিন্তু পরিবার থাকলেও তারা নিজের মতো করে বেড়ে উঠছে। আবার অনেকের পরিবারও নেই। পরিবারের শৃঙ্খলা, শাসন, আদর না থাকায় পথশিশুরা ড্যান্ডি মাদকে জড়িয়ে পড়ছে।
ড. তৌহিদুল হক বলেন, ‘পথশিশুদের মধ্যে কন্যাশিশুরা ড্যান্ডি সেবনের পাশাপাশি যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছে। অনেক সময় তাদের পাচার করে দেওয়ার অভিযোগও পাওয়া যায়। অনেককে জোরপূর্বক যৌনতায় বাধ্য করা হয়। এসব বিষয়ে সরকার, বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানগুলো নানা কর্মসূচির কথা বললেও সেগুলো সঠিক ধারায় পরিচালিত হচ্ছে না। ফলে, পথশিশুদের জীবনযাত্রার পরিবর্তন হচ্ছে না। যথাযথ গবেষণার ভিত্তিতে যদি সরকার তাদের পুনর্বাসন করতে পারে, তবেই তাদের জীবনমানে উন্নয়ন ঘটবে।’
স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন যা বলছে
মতিঝিলে পথশিশুদের প্রাথমিক শিক্ষা নিয়ে কাজ করা একটি সংগঠন ‘পথের স্কুল’। গতকাল পথের স্কুলের ভলান্টিয়ার আকাশ খান খবরের কাগজকে বলেন, ‘পথশিশুদের নিয়ে সরকারের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। এখনো পথশিশুদের শিক্ষা নিয়ে সরকারের তেমন কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়ে না। যেসব সংস্থা পথশিশুদের নিয়ে কাজ করে, বাংলাদেশে তার সংখ্যাও অনেক কম। আমরা মনে করি, পথশিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করে পুনর্বাসনের জন্য সরকার এবং সংশ্লিষ্টদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে। তবেই এদের সমাজের মূল স্রোতধারায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।’
‘ড্যান্ডি’ নেশা নাকি অন্য কিছু?
তথ্য বিশ্লেষণে জানা যায়, ড্যানড্রাইট অ্যাডহেসিভ বা ড্যানড্রাইট একটি জনপ্রিয় সিন্থেটিক রাবারভিত্তিক আঠা। এই আঠা কাঠ, চামড়া, রাবার, প্লাস্টিক, ধাতু, গ্লাস ও ফোমের মতো বিভিন্ন উপকরণকে একসঙ্গে জুড়তে ব্যবহার করা হয়। তবে এই আঠা ব্যবহার করেই নেশা করে মাদকসেবীরা, যা ‘ড্যান্ডি’ নেশা নামে পরিচিত। কার্বন টেট্রাক্লোরাইড, টলুইন, অ্যাসিটোন ও বেনজিন রাসায়নিক পদার্থের সমন্বয়ে তৈরি হয় ড্যান্ডি আঠা। সবই বর্ণহীন, তীব্র গন্ধযুক্ত, দাহ্য বা বিষাক্ত তরল।
পথশিশুরা যেভাবে ‘ড্যান্ডি’ সংগ্রহ করছে
ড্যান্ডি আঠাটি ভারত থেকে ব্যবসায়ীরা আমদানি করেন বাণিজ্যিক কারণে। কার্যকর আঠা হওয়ায় এটি দেশের বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ও হার্ডওয়্যার পণ্যের দোকানে পাওয়া যায়। এরপর বেশি দেখা যায় চর্মকার বা জুতা সেলাইয়ের কারিগরদের কাছে।
আলাপকালে পথশিশুরা জানিয়েছে, ড্যান্ডি নেশায় যারা আসক্ত, বিশেষ করে মাদকাসক্ত পথশিশুরা এটি ‘চর্মকারের’ দোকান বা কোনো হার্ডওয়্যারের দোকান থেকে কেনে। এরপর পলিথিন বা প্লাস্টিকের বোতলের ভেতর সামান্য পরিমাণে নিয়ে গন্ধ শুঁকতে থাকে, যা থেকে নেশা তৈরি হয়।
রাজধানীর আশকোনা, মগবাজার, পল্টনসহ বেশ কয়েকটি স্থানে বৈদ্যুতিক হার্ডওয়্যার পণ্য দোকানির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চর্মকাররা জুতা সেলাইয়ের সময় ড্যান্ডি ব্যবহার করেন, তারাই এর বড় ক্রেতা। অনেক সময় পথশিশুরাও এই আঠা কিনতে দোকানে আসে। টিউব বা টিনের কৌটায় এই আঠা পাওয়া যায়। আঠার পরিমাণ অনুযায়ী দাম নির্ধারিত হয়। টিউবের দাম কমবেশি ৪০ টাকা এবং কৌটার দাম প্রায় ৭০ টাকা। এ ছাড়া বড় কৌটাও রয়েছে।
গত শনিবার পল্টনে বায়তুল মোকাররমের মোড় এলাকায় পথশিশু রবিন (১০) (ছদ্মনাম) এই প্রতিবেদককে বলে, ‘এই গাম (আঠা) ট্যাকা দিয়া কিন্না আনতে হয়। দোকান থিক্যা (থেকে) কিনি।’ টাকা কোথায় পাও জানতে চাইলে সে বলে, ‘ভিক্কা (ভিক্ষা) করি, বোতল টুকাইয়া হেগুলা বেইচ্চা (বিক্রি) ট্যাকা পাই।’
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যা বলছে
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গণমাধ্যম শাখার উপকমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান খবরের কাগজকে বলেন, ‘পথশিশুদের আর্থসামাজিক উন্নয়নে পুলিশের পক্ষ থেকে তেমন কিছু করা হয় না। তবে পথশিশুদের কেউ যদি কোনো অপরাধে জড়িয়ে যায়, তখন তাকে ধরে কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। পথশিশুদের নিয়ে সরকারের সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় কাজ করে।’
এ প্রসঙ্গে গতকাল ঢাকা জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের প্রধান ও উপপরিচালক আবু সাঈদ মো. কাওছার রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সবকিছু শুনে বিষয়টি নিয়ে সমাজসেবা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) সাদিকুল হকের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন। পরে সাদিকুল হককে ফোনে চেষ্টা করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।