বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘এ’-তে শেষ রাউন্ডের ম্যাচগুলোই ঠিক করে দেবে বাকি সমীকরণ। স্বাগতিক মেক্সিকো টানা দুই জয়ে ইতোমধ্যে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে। ৬ পয়েন্ট নিয়ে তারা আছে শীর্ষে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা দক্ষিণ কোরিয়ার সংগ্রহ ৩ পয়েন্ট। অন্যদিকে ১ পয়েন্ট করে নিয়ে এখনো আশা বাঁচিয়ে রেখেছে চেক প্রজাতন্ত্র ও দক্ষিণ আফ্রিকা। বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকাল ৮টায় একসঙ্গে মাঠে নামবে চার দল। মেক্সিকোর প্রতিপক্ষ চেক প্রজাতন্ত্র, আর দক্ষিণ আফ্রিকা খেলবে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে। দুই ম্যাচের ফলেই চূড়ান্ত হবে গ্রুপের শেষ চিত্র।
মেক্সিকো ইতোমধ্যেই শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করেছে। তবে নিজেদের দর্শকদের সামনে শতভাগ সাফল্য ধরে রেখে গ্রুপসেরা হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে নামবে হাভিয়ের আগিরের দল। দুই ম্যাচে ৬ পয়েন্টের পাশাপাশি এখন পর্যন্ত কোনো গোলও হজম করেনি স্বাগতিকরা। দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২-০ ও দক্ষিণ কোরিয়াকে ১-০ গোলে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে আছে তারা।
অন্যদিকে চেক প্রজাতন্ত্রের সামনে সমীকরণ একটাই; জিততেই হবে। প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে ২-১ গোলে হারের পর দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে ১-১ ড্র করেছে তারা। ফলে দুই ম্যাচ শেষে মাত্র ১ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে।
চেকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে ভারসাম্য রাখা। জয়ের জন্য আক্রমণে উঠতে হবে, কিন্তু তাতে পেছনে ফাঁকা জায়গা তৈরি হওয়ার ঝুঁকি থাকবে। সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেন মেক্সিকোর আক্রমণভাগের রাউল হিমেনেজ ও সান্তিয়াগো গিমেনেজ।
দুই দলের ইতিহাসও খুব সমৃদ্ধ নয়। এর আগে মোট তিনবার মুখোমুখি হয়েছে তারা। বিশ্বকাপে চেক প্রজাতন্ত্র নামে এটিই হবে প্রথম দেখা। সর্বশেষ ২০০০ সালে লুনার নিউ ইয়ার কাপে ২-১ গোলে জিতেছিল চেকরা। এর আগে ১৯৬২ বিশ্বকাপে চেকোস্লোভাকিয়ার কাছে ৩-১ গোলে হেরেছিল মেক্সিকো এবং ১৯৬১ সালের প্রীতি ম্যাচে জিতেছিল চেকোস্লোভাকিয়া।
দলীয় খবরেও বড় কোনো উদ্বেগ নেই। চেকদের আক্রমণে থাকবেন পাত্রিক শিক, মাঝমাঠে টমাস সউচেক। আর মেক্সিকোর হয়ে অভিজ্ঞ গোলরক্ষক গিয়ের্মো ওচোয়া, অধিনায়ক এডসন আলভারেজ এবং আক্রমণে রাউল হিমেনেজ-সান্তিয়াগো গিমেনেজ জুটি হতে পারে মূল ভরসা।
কোরিয়া-আফ্রিকার লড়াই
গ্রুপের অন্য ম্যাচটি কার্যত বাঁচা-মরার লড়াই। দুই ম্যাচে মাত্র ১ পয়েন্ট নিয়ে তলানিতে থাকা দক্ষিণ আফ্রিকার সামনে একটাই পথ; জয়। ড্র করলে প্রায় নিশ্চিতভাবেই শেষ হয়ে যাবে তাদের বিশ্বকাপ অভিযান।
দক্ষিণ কোরিয়ার অবস্থান তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক। প্রথম ম্যাচে চেক প্রজাতন্ত্রকে ২-১ গোলে হারানোর পর দ্বিতীয় ম্যাচে মেক্সিকোর কাছে ১-০ গোলে হেরেছে তারা। তবু ৩ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছে। নকআউট নিশ্চিত করতে অন্তত এক পয়েন্ট প্রয়োজন তাদের।
দক্ষিণ আফ্রিকা ২০১০ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপে ফিরে এসে এখনো নিজেদের সেরা ছন্দ খুঁজে পায়নি। দুই ম্যাচে মাত্র এক গোল করেছে দলটি। তবে চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে ড্র তাদের কিছুটা আত্মবিশ্বাস দিয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার শক্তি তাদের আক্রমণ ও অভিজ্ঞতা। সন হিউং-মিন, লি কাং-ইন ও হুয়াং হি-চানের মতো খেলোয়াড়রা যেকোনো সময় ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারেন। মাঝমাঠে হুয়াং ইন-বম ও আক্রমণে ও হিউন-গিউ ইতোমধ্যে এই টুর্নামেন্টে গোল করেছেন।
দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে লাইল ফস্টার, অসউইন অ্যাপোলিস ও এভিডেন্স মাকগোপা আক্রমণের দায়িত্বে থাকবেন। অধিনায়ক গোলরক্ষক রনওয়েন উইলিয়ামস এবং মাঝমাঠে তেবোহো মোকোয়েনার ওপরও থাকবে বাড়তি দায়িত্ব।
গ্রুপ ‘এ’-এর শেষ ম্যাচগুলোতে তাই দুই রকম গল্প। একদিকে মেক্সিকোর আধিপত্য ধরে রাখার মিশন, অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার নকআউট নিশ্চিতের লড়াই। আর চেক প্রজাতন্ত্র ও দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য এটাই শেষ সুযোগ।