প্যারাগুয়ের কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকে নিজেদের ছিটকে যাওয়ার ঘটনায় তীব্র ধাক্কা খেয়েছেন তুরস্কের কোচ ভেনসেঞ্জো মন্টেলা। তবে টানা দুই ম্যাচে গোলশূন্য থাকার পরও নিজের খেলোয়াড়দের প্রতি কোনো ক্ষোভ বা অভিযোগ নেই বলে জানিয়েছেন তিনি।
ম্যাচের প্রথমার্ধেই ১০ জনের দলে পরিণত হওয়া প্যারাগুয়েকে হারাতে ব্যর্থ হয়েছে তুরস্ক। পুরো ম্যাচে রেকর্ড ৩২টি আক্রমণ করেও ১-০ গোলের হেরে, এক ম্যাচ বাকি থাকতেই টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিল তারা।
ম্যাচ শেষে কোচ মন্টেলা বলেন, ‘আমরা সুযোগ তৈরি করছি, কিন্তু কোনো এক অদ্ভুত কারণে বল জালে জড়াচ্ছে না। উল্টো প্রতিপক্ষ দল তাদের সুযোগ কাজে লাগিয়ে গোল করে যাচ্ছে। মাত্র দুই ম্যাচ পরেই বিশ্বকাপকে বিদায় জানাতে হচ্ছে, এটা সত্যিই স্তব্ধ করে দেওয়ার মতো।’
‘ডি’ গ্রুপে শীর্ষস্থানের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী ভাবা হচ্ছিল তুরস্ককে। তবে নিজেদের প্রথম ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বল দখলে আধিপত্য বজায় রেখে ৩০টি শট নিয়েও ২-০ গোলে হারতে হয়েছিল তাদের।
মন্টেলা বলেন, ‘আমাদের ফিনিশিং আরও নিখুঁত হতে পারত, তবে এই মুহূর্তে খেলোয়াড়দের দোষ দেওয়ার মতো কোনো মানসিকতা আমার নেই। আমি এই ছেলেদের আগের চেয়েও বেশি ভালোবাসছি কারণ তারা মাঠে নিজেদের মন-প্রাণ উজাড় করে খেলেছে। ফুটবল আসলে কোনো যুক্তি মেনে চলে না। আর ঠিক এই কারণেই এটি বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর খেলা।’
২০০২ সালে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে খেলা তুরস্কের সমর্থকদের জন্য ২৪ বছর পর বড় মঞ্চে ফেরার এই রাতটি ছিল ভীষণ তিক্ততার। মন্টেলা মনে করেন, তুরস্ক দলের নিয়মিত বড় টুর্নামেন্টগুলোতে অংশ নেওয়া প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, ‘হয়ত অবচেতনভাবেই, দীর্ঘ বিরতির পর এমন একটি বড় টুর্নামেন্টে খেলার চাপ আমাদের ওপর চড়ে বসেছিল। বড় টুর্নামেন্টগুলোতে নিয়মিত খেলার অভ্যাস আমাদের তৈরি করতে হবে। আমার বিশ্বাস, এরপর থেকে পরিস্থিতির উন্নতি হবে।’
পাপ্পু/নাঈম