ঢাকা ৫ আষাঢ় ১৪৩৩, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
কেমন গেল বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ড ১৯ জুন ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি স্কটিশদের হিসাব মেলানোর রাত পুলিসিচকে ঘিরে উদ্বেগ লাল কার্ডের পর বসনিয়ার জালে সুইজারল্যান্ডের গোল উৎসব অসুস্থ মেসির বাবা, গুজব ছড়ানোয় ক্ষুব্ধ পরিবার গোলশূন্য সমতায় বিরতিতে সুইজারল্যান্ড-বসনিয়া অবশেষে কাটল ভিসা জটিলতা, কানাডায় খেলতে পারবেন ওয়াহি বিশ্বকাপে সহজ ম্যাচ বলে কিছু নেই: ডগলাস সান্তোস বিশ্বকাপে সৌদি আরবের জন্য ভিন্ন নিয়ম পেনাল্টি গোলে চেক প্রজাতন্ত্রকে রুখে দিল দক্ষিণ আফ্রিকা অপ্সরার আন্তর্জাতিক অভিষেক আদালতে আত্মসমর্পণ করতে গিয়ে কারাগারে আওয়ামী লীগ নেতা বাদশা গণপিটুনির শিকার তিন ডিবি সদস্য, উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি মেনে নাও, মেসি সেরা: রোনালদো নাজারিও কেইনের প্রেরণা এমবাপ্পে-হালান্ড কুমিল্লায় ধর্ষণকাণ্ড: গ্রেপ্তার শিবির নেতার পক্ষে দাঁড়ানো দুই এপিপির নিয়োগ বাতিল টাঙ্গাইলে প্রতিমন্ত্রী টুকুর নামে প্রতারণা, গ্রেপ্তার ১ দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথমার্ধে এগিয়ে চেক প্রজাতন্ত্র টাকার অভাবে রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি অনিশ্চিত, সহায়তার আবেদন রাজবাড়ীতে ৭ বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ নেইমার ভক্তদের জন্য দুঃসংবাদ সাবেক মন্ত্রী হারুণ অর রশীদ অর নেই কুমিল্লায় মাদক মামলায় কারাবন্দি যুবদলকর্মীর মৃত্যু চুয়াডাঙ্গায় বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু হাইতির বিপক্ষে নামার আগে ব্রাজিলকে সুখবর দিল ফিফা ওয়ালটন পিসিবিএ'র রপ্তানি উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি উপদেষ্টা ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে অনুষ্ঠিত হলো গ্লোবাল ইয়ুথ লিডারশিপ কনফারেন্স ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ, গণপিটুনির শিকার তিন পুলিশ বিশ্বকাপে ৩ ম্যাচ নিষিদ্ধ দক্ষিণ আফ্রিকার মিডফিল্ডার

কুইচৌর থোংরেনে শুরু হলো ড্রাগন বোট শোভাযাত্রা

প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৬, ০৫:৪৬ পিএম
কুইচৌর থোংরেনে শুরু হলো ড্রাগন বোট শোভাযাত্রা
ড্রাগন বোট শোভাযাত্রা

দক্ষিণ-পশ্চিম চীনের কুইচৌ প্রদেশের থোংরেন শহরে রবিবার শুরু হয়েছে বর্ণাঢ্য ড্রাগন বোট শোভাযাত্রা। আসন্ন এই নৌকা বাইচ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠান স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের জন্য উৎসবের আগাম আমেজ নিয়ে এসেছে।
রোববার সকালে একটি স্থানীয় ঘাটে শোভাযাত্রার সূচনা হয়। এ সময় প্রায় ২০০টি নৌকা বিভিন্ন বিন্যাসে সারিবদ্ধভাবে অবস্থান নেয়। এর মধ্যে ছিল ঐতিহ্যবাহী চীনা প্রমোদতরী, বাঁশের ভেলা, ঐতিহ্যবাহী ড্রাগন বোট এবং স্থানীয় বিশেষ প্রতিযোগিতা নিউলং-এর নৌকা।
শোভাযাত্রার পথটি সিনচিয়াং নদীর প্রধান মনোরম অঞ্চল অতিক্রম করে, যা থোংরেন শহরের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ও সাংস্কৃতিক আকর্ষণকে সংযুক্ত করেছে।

 

প্রমোদতরীগুলোতে শিল্পীরা দর্শকদের জন্য ঐতিহ্যবাহী লোকনৃত্য পরিবেশন করেন। 
ঘন্টা ও ঢাকের শব্দের মধ্যে নাবিকরা একে অপরের ওপর জল ছিটিয়ে দেন। এই বিশেষ রীতির মাধ্যমে তারা পরস্পরের প্রতি শীতলতা, প্রাণবন্ততা ও আশীর্বাদ পৌঁছে দেন।
ড্রাগন বোট উৎসব যা তুয়ানউ উৎসব নামেও পরিচিত। এটি প্রাচীন চীনের যুদ্ধরত রাজ্যকালের (৪৭৫-২২১ খ্রিস্টপূর্বাব্দ) কবি ছু ইউয়ান স্মরণে উদযাপিত এক ঐতিহ্যবাহী উৎসব।
চীনা চন্দ্র পঞ্জিকার পঞ্চম মাসের পঞ্চম দিনে পালিত এ উৎসব যা এ বছরের ১৯ জুন অনুষ্ঠিত হবে।

সূত্র: সিএমজি

বাওয়াছড়া লেক পাহাড়, বন আর নীল জলের অপূর্ব মিলন

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৬:৩৯ পিএম
পাহাড়, বন আর নীল জলের অপূর্ব মিলন
বাওয়াছড়া লেক মূলত একটি কৃত্রিম জলাধার।

বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কথা উঠলেই পাহাড়, ঝর্ণা, সমুদ্র কিংবা হাওরের কথা বেশি শোনা যায়। তবে প্রকৃতির নিভৃত সৌন্দর্য উপভোগ করতে চাইলে চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার বাওয়াছড়া লেক হতে পারে একটি চমৎকার গন্তব্য। পাহাড়ঘেরা শান্ত পরিবেশ, সবুজ বনভূমি এবং নীলাভ জলের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই লেক প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে এক অনন্য আকর্ষণ। শহরের কোলাহল থেকে দূরে কয়েক ঘণ্টার জন্য হলেও প্রকৃতির সান্নিধ্যে হারিয়ে যেতে চাইলে বাওয়াছড়া লেক হতে পারে আদর্শ ভ্রমণস্থল।

বাওয়াছড়া লেকের ইতিহাস
বাওয়াছড়া লেক মূলত একটি কৃত্রিম জলাধার। স্থানীয় মানুষের সেচ সুবিধা এবং পানি সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে এটি তৈরি করা হয়েছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে লেকটির চারপাশে গড়ে ওঠে ঘন সবুজ বনভূমি। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কারণে এটি ধীরে ধীরে পর্যটকদের কাছে পরিচিতি লাভ করে।
বর্তমানে বাওয়াছড়া লেক শুধু একটি জলাধার নয়, বরং মিরসরাই অঞ্চলের অন্যতম দর্শনীয় স্থান হিসেবে পরিচিত। স্থানীয়দের কাছে এটি দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত থাকলেও, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ভ্রমণপ্রেমীদের মাধ্যমে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এর জনপ্রিয়তা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে।

 

 

কোথায় অবস্থিত
বাওয়াছড়া লেক চট্টগ্রাম জেলার মিরসরাই উপজেলার ওয়াহেদপুর ইউনিয়ন এলাকায় অবস্থিত। এটি মূলত বাওয়াছড়া ইকোপার্ক ও সংরক্ষিত বনাঞ্চলের কাছাকাছি অবস্থিত একটি মনোরম জলাধার। চারপাশে পাহাড়, বন আর নীরব পরিবেশ লেকটিকে দিয়েছে আলাদা সৌন্দর্য।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক থেকে খুব বেশি দূরে নয় বলে এখানে যাতায়াত তুলনামূলক সহজ। ফলে একদিনের ভ্রমণের জন্যও অনেক পর্যটক এই স্থানটি বেছে নেন।

কীভাবে যাবেন
ঢাকা থেকে যেতে চাইলে প্রথমে চট্টগ্রামমুখী বাসে করে মিরসরাই পৌঁছাতে হবে। ঢাকা থেকে মিরসরাই যেতে সাধারণত চার থেকে ছয় ঘণ্টা সময় লাগে, যা যানজটের ওপর নির্ভর করে।
মিরসরাইয়ের বড়তাকিয়া বা বারইয়ারহাট এলাকায় নেমে স্থানীয় সিএনজি অটোরিকশা, রিকশা কিংবা মোটরসাইকেলে করে বাওয়াছড়া লেকের দিকে যাওয়া যায়। চট্টগ্রাম শহর থেকেও বাস বা স্থানীয় পরিবহনে মিরসরাই এসে একইভাবে লেকে পৌঁছানো সম্ভব।
নিজস্ব গাড়ি নিয়ে গেলে যাত্রা আরও সুবিধাজনক হয়। তবে শেষ অংশে কিছু কাঁচা ও সরু রাস্তা থাকতে পারে, তাই সতর্কতার সঙ্গে গাড়ি চালানো প্রয়োজন।

 

ভ্রমণ অভিজ্ঞতা
বাওয়াছড়া লেকে পৌঁছানোর আগেই ভ্রমণপিপাসুদের মন ভালো হয়ে যেতে শুরু করে। মিরসরাইয়ের গ্রামীণ পথ ধরে এগোতে এগোতে চারপাশে চোখে পড়ে সবুজ গাছপালা, ছোট ছোট পাহাড় এবং প্রকৃতির শান্ত পরিবেশ। শহরের ব্যস্ততা, যানজট আর কোলাহল পেছনে ফেলে যখন লেকের কাছে পৌঁছাবেন, তখনই অনুভব করবেন এক অন্যরকম প্রশান্তি। দূর থেকে নীলাভ জলরাশি আর সবুজ পাহাড়ের মিলন যেন চোখের সামনে একটি জীবন্ত ছবির মতো ধরা দেয়।
লেকের তীরে দাঁড়ালে প্রথমেই মন ভরে যায় নির্মল সৌন্দর্যে। বিশাল জলরাশির ওপর আকাশের নীল রং এবং আশপাশের পাহাড়ের ছায়া পড়ে এক অপূর্ব দৃশ্য তৈরি করে। হালকা বাতাস মুখে এসে লাগলে মনে হবে প্রকৃতি যেন আপনাকে স্বাগত জানাচ্ছে। চারদিকে এতটাই নীরব থাকে যে ঝিঁঝিঁর ডাক, বাতাসে পাতার মৃদু শব্দ কিংবা দূরের কোনো অচেনা পাখির সুরও স্পষ্ট শোনা যায়।
ভোরবেলা বা বিকেলের দিকে লেকের সৌন্দর্য সবচেয়ে বেশি উপভোগ করা যায়। সূর্যের কোমল আলো যখন পানির ওপর পড়ে ঝিলমিল করে, তখন পুরো পরিবেশ আরও মোহময় হয়ে ওঠে। যারা ফটোগ্রাফি করতে ভালোবাসেন, তাদের জন্য এটি একটি আদর্শ স্থান। লেকের বিভিন্ন কোণ থেকে ছবি তুললে প্রতিটি ছবিই যেন পোস্টকার্ডের মতো সুন্দর দেখায়।

 


বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা, পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কিছু নিরিবিলি সময় কাটানো কিংবা একা বসে প্রকৃতিকে অনুভব করার জন্য বাওয়াছড়া লেক একটি চমৎকার জায়গা। এখানে বসে অনেকেই বই পড়েন, প্রকৃতির ছবি আঁকেন বা শুধু নীরবে চারপাশের সৌন্দর্য উপভোগ করেন। পাহাড়, বন আর জলরাশির সম্মিলিত দৃশ্য মনকে সতেজ করে তোলে এবং মানসিক ক্লান্তি অনেকটাই দূর করে দেয়।
বিশেষ করে যারা প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটাতে ভালোবাসেন, তাদের কাছে বাওয়াছড়া লেকের ভ্রমণ হবে স্মরণীয় এক অভিজ্ঞতা। দিনের শেষে যখন ফিরে আসবেন, তখনো লেকের শান্ত পরিবেশ, পাহাড়ের সবুজ রং আর জলের সৌন্দর্য দীর্ঘদিন ধরে স্মৃতিতে ভাসতে থাকবে।

কখন গেলে সবচেয়ে ভালো
বাওয়াছড়া লেক ভ্রমণের জন্য অক্টোবর থেকে মার্চ মাস সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। এ সময় আবহাওয়া তুলনামূলক শীতল ও আরামদায়ক থাকে। আকাশ পরিষ্কার থাকায় লেক এবং আশপাশের পাহাড়ের সৌন্দর্যও ভালোভাবে উপভোগ করা যায়। তবে চাইলে বছরের অন্যান্য সময়েও যাওয়া যায়।
বর্ষাকালেও লেকের সৌন্দর্য বেড়ে যায়। চারপাশের পাহাড় ও বন আরও সবুজ হয়ে ওঠে এবং লেকে পানির পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। তবে অতিবৃষ্টি হলে রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে যেতে পারে, তাই বর্ষাকালে ভ্রমণের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।

 

 

কী কী সঙ্গে নেবেন
ভ্রমণে বের হওয়ার সময় পর্যাপ্ত পানীয়, হালকা খাবার, ক্যাপ, সানস্ক্রিন এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ সঙ্গে রাখা ভালো। মোবাইল ফোন ও ক্যামেরার জন্য পাওয়ার ব্যাংকও কাজে আসতে পারে। যদি দীর্ঘ সময় অবস্থান করার পরিকল্পনা থাকে, তাহলে অতিরিক্ত পোশাক ও একটি ছোট ব্যাগ সঙ্গে রাখা সুবিধাজনক হবে।

ভ্রমণের সময় সতর্কতা
প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি নিরাপত্তার বিষয়টিতেও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। লেকের গভীর অংশে অযথা নামা উচিত নয়। সঙ্গে শিশু থাকলে তাদের প্রতি বিশেষ নজর রাখতে হবে।
বর্ষাকালে পাহাড়ি পথ পিচ্ছিল থাকতে পারে, তাই ভালো গ্রিপযুক্ত জুতা ব্যবহার করা উচিত। বনের মধ্যে প্রবেশ করলে নির্ধারিত পথ অনুসরণ করা ভালো।
এছাড়া প্লাস্টিক, বোতল কিংবা অন্যান্য আবর্জনা যেখানে-সেখানে না ফেলে পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্বও পর্যটকদের।

আশপাশের দর্শনীয় স্থান
বাওয়াছড়া লেকে ভ্রমণের পাশাপাশি মিরসরাইয়ের আরও কয়েকটি জনপ্রিয় স্থান ঘুরে দেখা যায়। এর মধ্যে রয়েছে বাওয়াছড়া ইকোপার্ক, খৈয়াছড়া ঝর্ণা, নাপিত্তাছড়া ঝর্ণা এবং মহামায়া লেক। সময় নিয়ে পরিকল্পনা করলে একই সফরে এসব স্থানও উপভোগ করা সম্ভব। বিশেষ করে মহামায়া লেক ও খৈয়াছড়া ঝর্ণা দেশের অন্যতম জনপ্রিয় প্রকৃতিনির্ভর পর্যটন গন্তব্য হিসেবে পরিচিত।

সিনচিয়াংয়ে সংস্কৃতি ও পর্যটন উন্নয়ন সম্মেলন অনুষ্ঠিত

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৬:১০ পিএম
সিনচিয়াংয়ে সংস্কৃতি ও পর্যটন উন্নয়ন সম্মেলন অনুষ্ঠিত
সম্মেলনের মঞ্চ।

উত্তর-পশ্চিম চীনের সিনচিয়াং উইগুর স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের হোথান শহরে ২০২৬ সিনচিয়াং সংস্কৃতি ও পর্যটন উন্নয়ন সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনের মূল লক্ষ্য ছিল দেশি-বিদেশি আরও বেশি পর্যটককে সিনচিয়াং অঞ্চলে আকৃষ্ট করা।
সম্মেলনে সিনচিয়াংয়ের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও পর্যটন সম্ভাবনাকে তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি বিদেশি পর্যটকদের জন্য ভ্রমণ সহজীকরণে গৃহীত বিভিন্ন নীতি ও সুবিধা উপস্থাপন করা হয়। 

 

আয়োজকরা জানান, এই সম্মেলন সংস্কৃতি ও পর্যটন খাতে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে মতবিনিময় ও সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে। একই সঙ্গে পর্যটন পণ্যের উদ্ভাবন, আধুনিকায়ন এবং শিল্পের মানোন্নয়নেও এটি ভূমিকা রাখবে।
সিনচিয়াং আঞ্চলিক সরকার এবং সিনচিয়াং প্রোডাকশন অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন কর্পস যৌথভাবে এ  সম্মেলনের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে সিনচিয়াংকে সহায়তাকারী চীনের ১৯টি প্রদেশ ও পৌর এলাকার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

এছাড়া আন্তর্জাতিক ভ্রমণ সংস্থার প্রতিনিধি এবং দেশের শীর্ষস্থানীয় সংস্কৃতি ও পর্যটন খাতের প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
সিনচিয়াংয়ের সংস্কৃতি ও পর্যটন বিভাগ জানিয়েছে, সম্মেলনের মাধ্যমে অঞ্চলের পর্যটন খাতকে আরও গতিশীল ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পরিচিত করার উদ্যোগ জোরদার করা হবে। সূত্র: সিএমজি

চীনের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও পর্যটনের গল্প

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ০৫:৩৮ পিএম
চীনের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও পর্যটনের গল্প
গ্রেটওয়ালে পর্যটকরা।

প্রথমবার গ্রেট ওয়াল দেখার অভিজ্ঞতা কোনো ভ্রমণ নয় এ যেন সময়ের ভেতর দিয়ে হাঁটা। বেইজিং থেকে ট্রেনে করে বাদালিং পৌঁছে যখন প্রথম সিঁড়ি বেয়ে উঠতে শুরু করলাম, পায়ের নিচের প্রতিটি পাথর যেন ফিসফিস করে বলছিল ‘আমি দুই হাজার বছর ধরে এখানে দাঁড়িয়ে আছি।’
২০২৪ সালের শীতের সেই সকালে, কুয়াশার চাদর সরতে সরতে যখন প্রাচীরের বাঁকগুলো দৃশ্যমান হলো, মনে হলো যেন এক বিশাল ড্রাগন, পাহাড়ের গা বেয়ে ঘুমিয়ে আছে। আমি স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে রইলাম। বাংলাদেশের লালবাগ কেল্লা বা মহাস্থানগড়ের ধ্বংসাবশেষ দেখে ইতিহাসের যে অনুভূতি পেতাম, এখানে তার চেয়েও বেশি কিছু ঘটল মনে হলো। ইতিহাস শুধু পড়ার বিষয় নয়, ইতিহাস ছোঁয়া যায়, ইতিহাসের গায়ে হাত বোলানো যায়। আর ঠিক এই অনুভূতিটাই চীনের সাংস্কৃতিক পর্যটনের মূল শক্তি। এখানে ভ্রমণ শুধু দর্শনীয় স্থান দেখা নয়; এ যেন একটি সভ্যতার আত্মার সঙ্গে কথোপকথন।

সংস্কৃতি যেখানে রক্তের মতো প্রবহমান

চীনের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে কোনো জাদুঘরের কাঁচের বাক্সে বন্দী করা যায় না, কারণ এই সংস্কৃতি এখনো জীবিত; কখনো রাস্তার ধারের চায়ের দোকানে, বা সকালের পার্কে তাইচি করতে থাকা বৃদ্ধের হাতের মুদ্রায়, অথবা বসন্ত উৎসবের আগের রাতে আকাশভাঙা আতশবাজিতে। আমি যখন নানজিংয়ে পড়তে আসি, প্রথম কয়েক মাসে আমার মনে হতো এ যেন এক অদ্ভুত সময়যাত্রা। এক পাশে আকাশছোঁয়া কাঁচের দালান, আরেক পাশে কয়েকশ বছরের পুরনো মন্দির, যেখানে প্রতিদিন সকালে ধূপ জ্বলে। চীনের সংস্কৃতি এখানেই অনন্য আধুনিকতার সঙ্গে প্রাচীনত্বের এই মিশেলটাই তার পর্যটনের প্রাণ। 

২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে চীন আরও চারটি স্থানকে ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় যুক্ত করেছে;  বেইজিং সেন্ট্রাল অ্যাক্সিস, জিংমাই পর্বতের প্রাচীন চা বন, শিয়া রাজবংশের সমাধি, এবং প্রাচীন সমুদ্রবাণিজ্য কেন্দ্র ছুয়ানজৌ। এখন পর্যন্ত চীনের ৬০ টি বিশ্ব ঐতিহ্য স্থান আছে, যার প্রতিটিই একেকটি জীবন্ত ইতিহাসের সাক্ষী। আর চীন এই ঐতিহ্য শুধু সংরক্ষণ করছে না, ৬৫টি জাতীয় প্রত্নতাত্ত্বিক উদ্যান এবং ২০০টির বেশি সংস্কৃতি-কেন্দ্রিক পর্যটন রুট তৈরি করেছে। ২০২৬-২০৩০ মেয়াদের ১৫তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে সুসংহত তদারকির আওতায় আনার প্রস্তাব রাখা হয়েছে, অর্থাৎ সংস্কৃতি এখন শুধু আবেগ নয়, রাষ্ট্রীয় কৌশলের অংশ।

যে শহরগুলো প্রাচীন সময়কে মনে করিয়ে দেয়

রাজধানী বেইজিং

বেইজিং যেন এক জীবন্ত জাদুঘর। ফরবিডেন সিটি সেই প্রকাণ্ড প্রাসাদ, যেখানে পাঁচশো বছর ধরে ২৪ জন সম্রাট রাজত্ব করেছেন । এখানে ঢুকলে মনে হয় সময় থমকে গেছে। ১৮০ একরজুড়ে ছড়ানো এই প্রাসাদ নগরীর প্রতিটি লাল দরজা, প্রতিটি সোনালি ছাদের কারুকার্য যেন একেকটি গল্প বলে। আমি যখন প্রথম বার সেখানে গেলাম, এক চীনা দাদু আমার পাশে দাঁড়িয়ে ইংরেজিতে বললেন, ‘তুমি জানো, এই প্রাসাদের প্রতিটি ইটের নিচে একটা করে গল্প চাপা আছে।’ কথাটা নিছক কাব্যিক নয় এখানকার প্রতিটি কোণে ইতিহাস জমে আছে পলিমাটির মতো।

 

ঝাংজিয়াজিয়ে ন্যাশনাল ফরেস্ট পার্ক।

 


শিয়ান: মাটির নিচে ঘুমিয়ে থাকা সৈন্যবাহিনী

টেরাকোটা আর্মি নিয়ে যতই পড়েছি, কিছুই আমাকে প্রস্তুত করতে পারেনি সেই দৃশ্যের জন্য। ১৯৭৪ সালে এক কৃষক কুয়া খুঁড়তে গিয়ে যে আবিষ্কার করেছিলেন, তা আজ বিংশ শতাব্দীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক ঘটনা। হাজার হাজার মাটির সৈন্য, ঘোড়া, রথ প্রতিটি মুখভঙ্গি আলাদা, প্রতিটি বর্মের নকশা ভিন্ন। সম্রাট ছিন শি হুয়াং (Qin Shi Huang) মৃত্যুর পর নিজের সুরক্ষায় এদের তৈরি করেছিলেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, মৃত্যুর পরও মানুষের জীবন থাকে। তাই পরলোকে তাকে পাহারা দেওয়া এবং সেখানেও নিজের সাম্রাজ্য টিকিয়ে রাখার জন্য তিনি এই বিশাল মাটির সেনাবাহিনী তৈরির নির্দেশ দিয়েছিলেন। আমি যখন প্রদর্শনী কক্ষের ব্যালকনি থেকে নিচে তাকালাম, সেই সারিবদ্ধ সৈন্যদের দেখে গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠল মনে হলো তারা যেন দুই হাজার বছর ধরে শুধু শত্রুকেই খুঁজছে।


সাংহাই: যেখানে গতকাল আর আগামীকাল একসঙ্গে দাঁড়িয়ে

সাংহাইয়ের বান্ডে দাঁড়িয়ে হুয়াংপু নদীর ওপারে পুডং-এর আকাশছোঁয়া টাওয়ারগুলোর দিকে তাকালে যে ছবিটা চোখে পড়ে, সেটা যেন কল্পবিজ্ঞানের ভবিষ্যৎ পৃথিবী। অথচ পেছনে তাকালে ইউরোপীয় ঔপনিবেশিক স্থাপত্যের পুরনো বাড়িগুলো, বিংশ শতাব্দীর গোড়ার দিকের সাংহাইয়ের স্মৃতির নিদর্শন। এই বৈপরীত্যের মধ্যেই সাংহাইয়ের ম্যাজিক। বন্ধুরা মিলে রাতের বেলা বান্ডে হাঁটতে হাঁটতে আইসক্রিম খাচ্ছিলাম, আর ভাবছিলাম বাংলাদেশের পুরান ঢাকার সরু গলিগুলোর সঙ্গে এই দ্যুতিময় নগরীর কত অমিল, অথচ দুই জায়গাতেই ইতিহাস আর আধুনিকতা পাশাপাশি বাস করছে।

হাংঝো ও ওয়েস্ট লেক

ওয়েস্ট লেকের সকাল যেন চীনা জলরঙের পেইন্টিং থেকে উঠে আসা কোনো দৃশ্য। কুয়াশার ভেতর দিয়ে উইলো গাছের ঝুলন্ত শাখা, দূরে প্যাগোডার ছায়া, পানিতে রাজহাঁসের ভেসে বেড়ানো; সব মিলিয়ে মনে হয় বাস্তবতা আর কবিতার সীমারেখা মুছে গেছে। হাংঝো শহরটা চীনের সাংস্কৃতিক রোমান্টিকতার প্রতীক। মার্কো পোলো একে বলেছিলেন, ‘পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর ও চমৎকার শহর।’
আমি যখন লেকের পাশে বসে গ্রিন টি-তে চুমুক দিচ্ছিলাম, এক পাশে বাঁশের বাঁশির সুর ভেসে আসছিল মুহূর্তটা এতটাই নিখুঁত ছিল যে ফোনে ছবি তুলতেও ইচ্ছে করছিল না। চোখ দিয়েই ধরে রাখতে চাচ্ছিলাম সবটা।
 
ঝাংজিয়াজিয়ে

ঝাংজিয়াজিয়ে ন্যাশনাল ফরেস্ট পার্কে ঢুকে প্রথম যে অনুভূতি হয়, তা হলো ‘এটা কি সত্যি?’ আকাশের দিকে উঠে যাওয়া বিশাল বিশাল বেলেপাথরের স্তম্ভ, যেন কোনো দৈত্য, প্রকৃতির খেলাঘর থেকে এগুলো মাটিতে পুঁতে রেখেছে। জেমস ক্যামেরনের ‘অ্যাভাটার’ সিনেমার ভাসমান পাহাড়গুলো এই স্তম্ভগুলো থেকেই অনুপ্রাণিত। আমি যখন কাঁচের স্কাইওয়াকের ওপর দাঁড়িয়ে হাজার ফুট নিচে বনের দিকে তাকালাম, তখন বাংলাদেশের সিলেটের চা বাগান বা বান্দরবানের পাহাড়ের কথা মনে পড়ল প্রকৃতি যে কত বিচিত্র রূপ নিতে পারে, তা শুধু চীন ঘুরলেই বোঝা যায়।

ভ্রমণের স্বাদ: ট্রেন, খাবার আর উৎসব

চীনের হাই-স্পিড রেল নেটওয়ার্ক ২০২৫ সালে ৪.৬ বিলিয়ন যাত্রী পরিবহন করেছে, যা পৃথিবীর অর্ধেক জনসংখ্যার চেয়ে বেশি। ২০৩০ সালের মধ্যে এই নেটওয়ার্ক ৬০,০০০ কিলোমিটারে প্রসারিত করার পরিকল্পনা আছে। ভাবুন, বাংলাদেশের চট্টগ্রাম থেকে খুলনা যেতে যে সময় লাগে, এখানে তার চেয়ে কম সময়ে বেইজিং থেকে সাংহাই পৌঁছে যাওয়া যায়। ট্রেনের নিঃশব্দ গতি, পরিচ্ছন্নতা, আর নির্ধারিত সময়ে পৌঁছানোর সংস্কৃতি প্রতিটি ভ্রমণকে নিখুঁত আরামদায়ক করে তোলে।

আর খাবারের গল্প না বললে চীনের ভ্রমণকথা অসম্পূর্ণ থেকে যায়। বেইজিংয়ের রাস্তার ধারে গরম গরম জিয়াওজি (ডাম্পলিং) খেতে খেতে মনে হলো ঢাকার চকবাজারের সিঙাড়া-পুরির কথা। সিচুয়ানের ঝাল খাবার খেয়ে চোখে পানি এলেও স্বাদ এতই অপ্রতিরোধ্য যে থামানো যায় না। সাংহাইয়ের শেংজিয়ানবাও, ভাজা স্টিমড বান যেন বাংলাদেশের ভাপা পিঠার চীনা সংস্করণ। আর চায়ের কথা তো আলাদা করে বলতে হয়, বাংলাদেশ যেমন চায়ের দেশ, চীনও তেমনই চা সংস্কৃতির জননী। লংজিং চায়ের প্রথম চুমুকটিতে যেন হাংঝোয়ের পাহাড়ি সকালটাই গিলে ফেলছিলাম।

উৎসবের সময় চীন হয়ে ওঠে এক ভিন্ন গ্রহ। আমার দেখা প্রথম চীনা নববর্ষ ছিল এক চোখ-ধাঁধানো অভিজ্ঞতা। পুরো শহর লাল লণ্ঠনে সেজে ওঠে। আকাশে আতশবাজির ফুলঝুরি, রাস্তায় ড্রাগন নাচ, বাচ্চাদের হাতে লাল খাম বাংলাদেশের ঈদের আনন্দের সঙ্গে এর কত মিল! দুই সংস্কৃতির উৎসবপ্রিয়তার এই মিলটা আমাকে সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করেছে। মনে হয়েছে, উৎসবের ভাষা আসলে সার্বজনীন।

সংরক্ষণ আর আধুনিকতার সেতুবন্ধন

চীনের সাংস্কৃতিক পর্যটনের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো ঐতিহ্য সংরক্ষণ আর অর্থনৈতিক উন্নয়ন একই পথে হাঁটতে পারে। বিশ্ব প্রকৃতি সংরক্ষণ সংস্থার (আইইউসিএন) ২০১৪ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে প্রকাশিত চারটি প্রতিবেদনে দেখা গেছে, চীনের প্রাকৃতিক ও মিশ্র ঐতিহ্য স্থানগুলোর সংরক্ষণের মান বিশ্ব গড়ের চেয়ে ধারাবাহিকভাবে ভালো। ৯০ শতাংশের বেশি ঐতিহ্য স্থানে স্থানীয় বাসিন্দাদের সংরক্ষণ কর্মী হিসেবে নিয়োগ করা হয়, অর্থাৎ পর্যটন এখানে স্থানীয় অর্থনীতিরও চালিকাশক্তি।

২০২৫ সালে চীন ৬.৫ বিলিয়ন অভ্যন্তরীণ পর্যটন ট্রিপ এবং ৬৮ মিলিয়ন আন্তর্জাতিক পর্যটকের রেকর্ড গড়েছ। বিশ্ব ভ্রমণ ও পর্যটন কাউন্সিলের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩৬ সালের মধ্যে চীন হবে বিশ্বের এক নম্বর পর্যটন অর্থনীতি। ভিসামুক্ত নীতির আওতায় ২০২৫ সালে ৩০ মিলিয়নের বেশি বিদেশি পর্যটক চীন ভ্রমণ করেছেন যা আগের বছরের তুলনায় বহুগুণ বেশি। কিন্তু চীনের পর্যটন এখন শুধু গ্রেট ওয়াল বা ফরবিডেন সিটির মতো বড় গন্তব্যে সীমাবদ্ধ নেই। নতুন হাই-স্পিড রেল রুট ছোট শহর আর গ্রামীণ অঞ্চলগুলোকে পর্যটনের মানচিত্রে নিয়ে এসেছে। ২০২৬ সালের বসন্ত উৎসবের নয় দিনে প্রায় ৫৯৬ মিলিয়ন অভ্যন্তরীণ ভ্রমণ হয়েছে, যা ২০২৫ সালের একই সময়ের চেয়ে ৯৫ মিলিয়ন বেশি। জাদুঘর, ঐতিহাসিক পাড়া, লোকজ উৎসব, পারফর্মিং আর্ট সব মিলিয়ে চীনের সাংস্কৃতিক পর্যটন এখন পরিপূর্ণ এক বাস্তুসংস্থান।

বাংলাদেশ আর চীনের সাংস্কৃতিক সম্পর্ক নতুন নয়। বর্তমানে পদ্মা সেতু থেকে কর্ণফুলী টানেল চীন বাংলাদেশের উন্নয়ন যাত্রায় অংশীদার। কিন্তু সাংস্কৃতিক বিনিময়ের যে সেতু তৈরি হচ্ছে, সেটাই সবচেয়ে মজবুত। বাংলাদেশি শিক্ষার্থী হিসেবে চীনে থেকে আমি প্রতিদিনই নতুন কিছু শিখছি। চীনাদের কাছে পরিবারের গুরুত্ব, বড়দের প্রতি সম্মান, খাবারের প্রতি ভালোবাসা এগুলো আমাদের সংস্কৃতির সঙ্গে এতটাই মিলে যায় যে মাঝে মাঝে ভুলেই যাই আমি ভিনদেশে আছি। অথচ পার্থক্যগুলোও সমান আকর্ষণীয় তাদের সময়ানুবর্তিতা, কর্মনিষ্ঠা, আর দলগত কাজের প্রতি নিষ্ঠা আমাদের সমাজের জন্যও বড় শিক্ষা। আমি স্বপ্ন দেখি একদিন চীনের মতো বাংলাদেশও তার ঐতিহ্যকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরবে। আমাদের সুন্দরবন, পাহাড়পুর, বাগেরহাটের ষাট গম্বুজ মসজিদ, সোনারগাঁ এসব স্থানের পর্যটন সম্ভাবনা অফুরান। চীনের কাছ থেকে শেখার বিষয় হলো পর্যটন মানেই শুধু হোটেল-রেস্তোরাঁ নয়, পর্যটন হলো সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখার আন্দোলন, স্থানীয় অর্থনীতির ইঞ্জিন, আর জাতির আত্মপরিচয়কে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার মাধ্যম।

শেষ কথা

গ্রেট ওয়াল থেকে ফেরার পথে ট্রেনের জানালা দিয়ে সূর্যাস্ত দেখছিলাম। পাহাড়ের গায়ে প্রাচীরের শেষ আলোটুকু আঁকাবাঁকা হয়ে মিলিয়ে যাচ্ছিল ধীরে ধীরে। মনে হচ্ছিল এই প্রাচীর যেন চীনেরই প্রতিচ্ছবি দীর্ঘ, সহিষ্ণু, স্থিতধী, আর রহস্যে মোড়া। যে পর্যটক শুধু ছবি তুলতে আসে, সে প্রাচীরের পাথর দেখে ফেরে। কিন্তু যে ভ্রমণকারী ইতিহাসের স্পর্শ অনুভব করতে চায়, সে বোঝে এই পাথরগুলো শুধু সীমানা গড়েনি, এগুলো একটা সভ্যতার মেরুদণ্ড। চীনের সাংস্কৃতিক পর্যটন আমাকে শিখিয়েছে যে ভ্রমণ মানে শুধু গন্তব্যে পৌঁছানো নয় ভ্রমণ হলো নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করা, অন্য সংস্কৃতির আয়নায় নিজের প্রতিচ্ছবি দেখা। বাংলাদেশি হিসেবে আমি বুঝেছি, আমাদের সংস্কৃতি আর চীনের সংস্কৃতির মধ্যে যে মিলগুলো আছে, সেগুলোই দুই দেশের বন্ধুত্বের প্রকৃত ভিত্তি। আর পার্থক্যগুলো? সেগুলো শেখার জানালা নতুন করে ভাবতে শেখায়, নতুন চোখে দেখতে শেখায়।

লেখক: শিক্ষার্থী, নানচিং ইউনিভার্সিটি অফ ইনফরমেশন সাইন্স অ্যান্ড টেকনোলজি।

আরও ঝলমলে রঙিন হচ্ছে পাহাড়ি শহর ছোংছিংয়ের রাত

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ০৬:০০ পিএম
আরও ঝলমলে রঙিন হচ্ছে পাহাড়ি শহর ছোংছিংয়ের রাত
দক্ষিণ-পশ্চিম চীনের শহর ছোংছিং।

দক্ষিণ-পশ্চিম চীনের শহর ছোংছিং মিউনিসিপালিটি এক ব্যস্ত পাহাড়ি শহর হিসেবে পরিচিত। এখানে এক বৃহৎ আকারের সমন্বিত  আলোকসজ্জার পরিকল্পনা চালু করা হয়ছে। এর লক্ষ্য আরও ঝলমলে রাতের নগরদৃশ্য তৈরি করে পর্যটন ও ভোগব্যয় বৃদ্ধি করা।
শহরটি তার খাড়া ভূপ্রকৃতি, দৃষ্টিনন্দন সুউচ্চ ভবন ও নদীতে উঁচু সেতুর জন্য পরিচিত, যা পরিকল্পনাকারীদের জন্য একটি অনন্য সুযোগ তৈরি করেছে। এই সুউচ্চ কাঠামো দিয়ে তারা আরও বৈশিষ্ট্যপূর্ণ নগর আকাশরেখা গড়ে তোলার সম্ভাবনা দেখছেন।
এই প্রকল্পের অংশ হিসেবে ১৬ বর্গকিলোমিটারেরও বেশি এলাকাকে কেন্দ্র হিসেবে  নির্ধারণ করা হয়েছে। সেখানে উজ্জ্বলতা, রঙ এবং আলো সমন্বিতভাবে নিয়ন্ত্রিত হবে। এতে এক চমকপ্রদ রাতের দৃশ্য তৈরির চিন্তা রয়েছে। 
ছোংছিং মিউনিসিপাল আরবান লাইটিং সেন্টারের উপ-পরিচালক ছেন ইউয়ানখে  বলেন, ‘এই গ্রাফিকটি উজ্জ্বলতার অংশকে তুলে ধরছে। আগে ভবনগুলো নিজেদের মতো করে আলোর ব্যবস্থা পরিচালনা করত। এখন আমরা একটি সমন্বিত ব্যবস্থার দিকে যাচ্ছি।’
আলোকসজ্জার নকশা কেবল অনুভূমিক নয়, বরং উল্লম্বভাবেও বিস্তৃত, যা শহরের পাহাড়ি ভূপ্রকৃতিকে পুরোপুরি কাজে লাগাচ্ছে।
ছোংছিং মিউনিসিপাল আরবান ম্যানেজমেন্ট ব্যুরোর লাইটিং ম্যানেজমেন্ট বিভাগের উপ-পরিচালক লি হুয়াতোং বলেন, ‘কেন্দ্রীয় এলাকায় শহরের আলোর আভা একটি পটভূমি তৈরি করে, যেখানে সড়ক আলোকসজ্জা মূল স্রোত এবং ভবনগুলোর আলোকসজ্জা কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে কাজ করে। ফলে একটি সামগ্রিক পরিবেশ সৃষ্টি হয়।’
শহর প্রশাসন এই সমন্বিত আলোকসজ্জা প্রকল্প উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে বাস্তব সময়ে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে—ঠিক কখন এবং কীভাবে আলো জ্বলবে বা নিভবে। 
কর্তৃপক্ষ বলছে, ছোংছিং তার প্রিয় রাতের দৃশ্যকে পর্যটন ও ভোগব্যয়ের চালিকাশক্তি হিসেবে পুরোপুরি কাজে লাগাতে চায়। 
ছোংছিং টিভির কনটেন্ট প্রোডাকশন সেন্টারের উপ-পরিচালক কুও পেইচুন বলেন, ‘গত বছর ছোংছিংয়ে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন পর্যটক ভ্রমণ করেছেন। ভোক্তা ব্যয় পৌঁছেছে ৫৫৮.৫ বিলিয়ন ইউয়ানে, যা আগের বছরের তুলনায় ৭ শতাংশ বেশি।’ সূত্র: সিএমজি বাংলা

নর্ডিক দেশসমূহ: প্রকৃতি, সমৃদ্ধি ও মানবিক উন্নয়নের অনন্য দৃষ্টান্ত

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৪:১০ পিএম
আপডেট: ০৮ জুন ২০২৬, ০৪:৫৫ পিএম
নর্ডিক দেশসমূহ: প্রকৃতি, সমৃদ্ধি ও মানবিক উন্নয়নের অনন্য দৃষ্টান্ত
ছবি: খবরের কাগজ

ইউরোপের উত্তর প্রান্তে অবস্থিত নর্ডিক দেশসমূহ পৃথিবীর অন্যতম শান্তিপূর্ণ, সমৃদ্ধ এবং বাসযোগ্য অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। নরওয়ে, সুইডেন, ফিনল্যান্ড, ডেনমার্ক এবং আইসল্যান্ডকে নিয়ে গঠিত এই অঞ্চল শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য নয়, বরং প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, পরিবেশ সচেতনতা, সামাজিক নিরাপত্তা এবং উন্নত জীবনমানের জন্যও বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত।

বিশ্ব সুখ সূচক, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, স্বচ্ছতা, মানবাধিকার এবং পরিবেশ সংরক্ষণের মতো গুরুত্বপূর্ণ সূচকে নর্ডিক দেশগুলো নিয়মিতভাবে শীর্ষস্থান অধিকার করে। এখানকার মানুষ প্রকৃতির সঙ্গে সহাবস্থানে বিশ্বাস করে এবং আধুনিক প্রযুক্তি ও পরিবেশের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে উন্নয়নের এক অনন্য মডেল গড়ে তুলেছে।

নরওয়ে: ফিয়র্ডের দেশ

নরওয়ে তার অপরূপ ফিয়র্ড, সুউচ্চ পাহাড়, জলপ্রপাত এবং দীর্ঘ সমুদ্র উপকূলের জন্য বিশ্ববিখ্যাত। হাজার হাজার বছর আগে হিমবাহের প্রভাবে সৃষ্টি হওয়া গভীর উপসাগর বা ফিয়র্ডগুলো আজও পর্যটকদের বিস্ময়ে অভিভূত করে।

রাজধানী অসলো আধুনিক নগর পরিকল্পনা, পরিবেশবান্ধব পরিবহনব্যবস্থা এবং সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের জন্য সুপরিচিত। অন্যদিকে লোফোটেন দ্বীপপুঞ্জ, গেইরাঙ্গার ফিয়র্ড এবং ট্রোমসো অঞ্চলে দেখা মিলতে পারে প্রকৃতির অন্যতম বিস্ময় নর্দার্ন লাইটসের। এসব স্থান বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের পর্যটকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্র।

সুইডেন: উদ্ভাবন ও প্রকৃতির মেলবন্ধন

সুইডেন স্ক্যান্ডিনেভিয়ার বৃহত্তম দেশ। বিস্তীর্ণ বনভূমি, অসংখ্য হ্রদ এবং আধুনিক নগর সভ্যতার এক চমৎকার সমন্বয় এখানে দেখা যায়।

রাজধানী স্টকহোম উত্তর ইউরোপের অন্যতম সুন্দর শহর হিসেবে পরিচিত। অসংখ্য দ্বীপের ওপর গড়ে ওঠা এই শহরকে অনেকেই “উত্তরের ভেনিস” বলে অভিহিত করেন।

প্রযুক্তি, উদ্ভাবন, পরিবেশবান্ধব জীবনধারা এবং উচ্চমানের শিক্ষা ব্যবস্থার কারণে সুইডেন বিশ্বের অন্যতম উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। একই সঙ্গে গবেষণা, শিল্প ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রেও দেশটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান ধরে রেখেছে।

ফিনল্যান্ড: হাজার হ্রদের দেশ

ফিনল্যান্ডকে বলা হয় হাজার হ্রদের দেশ। বাস্তবে দেশটিতে রয়েছে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজারেরও বেশি হ্রদ।

গ্রীষ্মকালে সবুজ বনভূমি ও হ্রদের অপরূপ সৌন্দর্য যেমন মুগ্ধ করে, তেমনি শীতকালে তুষারে ঢাকা প্রাকৃতিক দৃশ্য এক ভিন্ন জগতের অনুভূতি তৈরি করে।

রাজধানী হেলসিঙ্কি আধুনিক স্থাপত্য, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং উন্নত নগর ব্যবস্থাপনার জন্য পরিচিত। উত্তরাঞ্চলের ল্যাপল্যান্ডে প্রতিবছর হাজার হাজার পর্যটক নর্দার্ন লাইটস দেখতে আসেন।

বিশ্বের অন্যতম সেরা শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্যও ফিনল্যান্ড সুপরিচিত। পাশাপাশি প্রযুক্তি, গবেষণা ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রেও দেশটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

ডেনমার্ক: সুখী মানুষের দেশ

ডেনমার্ককে প্রায়ই বিশ্বের সবচেয়ে সুখী দেশগুলোর একটি বলা হয়। নাগরিকদের উচ্চ জীবনমান, শক্তিশালী সামাজিক নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং কর্মজীবন ও ব্যক্তিগত জীবনের মধ্যে ভারসাম্য এখানে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

রাজধানী কোপেনহেগেন তার রঙিন নৌবন্দর, সাইকেল সংস্কৃতি এবং পরিবেশবান্ধব নগর পরিকল্পনার জন্য বিখ্যাত।

নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার ও টেকসই উন্নয়নের ক্ষেত্রে ডেনমার্ক বিশ্বের অগ্রগামী দেশগুলোর অন্যতম। পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ও সবুজ অর্থনীতির বিকাশেও দেশটির ভূমিকা প্রশংসিত।

আইসল্যান্ড: আগুন ও বরফের দেশ 

আইসল্যান্ড প্রকৃতির এক বিস্ময়কর সৃষ্টি। আগ্নেয়গিরি, হিমবাহ, গেইসার, উষ্ণ প্রস্রবণ এবং জলপ্রপাতের অপূর্ব সমন্বয় দেশটিকে বিশ্বের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্যে পরিণত করেছে।

রাজধানী রেইকিয়াভিক পৃথিবীর সবচেয়ে উত্তরাঞ্চলীয় রাজধানী শহর। এখানে প্রকৃতির অপরিসীম শক্তি এবং আধুনিক জীবনযাত্রা পাশাপাশি অবস্থান করছে।

আইসল্যান্ডের ভূপ্রকৃতি যেমন বৈচিত্র্যময়, তেমনি এর প্রাকৃতিক পরিবেশও পর্যটকদের জন্য এক অনন্য অভিজ্ঞতার জন্ম দেয়।

কেন নর্ডিক দেশগুলো বিশ্বে অনন্য?

নর্ডিক দেশগুলোর সাফল্যের পেছনে রয়েছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য-

উন্নত এবং বিনামূল্যে বা স্বল্প খরচের শিক্ষা ব্যবস্থা
শক্তিশালী ও সহজলভ্য স্বাস্থ্যসেবা
পরিবেশবান্ধব নীতি ও টেকসই উন্নয়ন
দুর্নীতির নিম্ন হার
নারী-পুরুষের সমতা
শক্তিশালী সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা
মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি অঙ্গীকার
প্রকৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধাবোধ

এখানকার মানুষ প্রকৃতির কাছাকাছি থাকতে ভালোবাসেন। বনভূমিতে হাঁটা, হ্রদের ধারে সময় কাটানো, মাছ ধরা, স্কিইং কিংবা পরিবার নিয়ে কটেজে অবকাশ যাপন তাদের জীবনযাত্রার অবিচ্ছেদ্য অংশ।

ভবিষ্যতের জন্য একটি অনুপ্রেরণা

নর্ডিক দেশগুলো শুধু পর্যটনের জন্য আকর্ষণীয় নয়; মানবিক উন্নয়ন, সুশাসন এবং টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রেও বিশ্বের জন্য এক অনুকরণীয় উদাহরণ।

আধুনিক সভ্যতার অগ্রযাত্রায় কীভাবে পরিবেশ, মানুষ এবং উন্নয়নের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা যায়, তার সফল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে এই অঞ্চল। উন্নয়ন যে শুধু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং মানুষের জীবনমান, সামাজিক নিরাপত্তা এবং পরিবেশ সংরক্ষণের সঙ্গেও গভীরভাবে সম্পর্কিত- নর্ডিক দেশগুলো তারই বাস্তব উদাহরণ।

বরফে আচ্ছাদিত পাহাড়, সবুজ বনভূমি, নীল হ্রদ, মনোমুগ্ধকর ফিয়র্ড এবং উন্নত জীবনব্যবস্থার সমন্বয়ে নর্ডিক অঞ্চল সত্যিই পৃথিবীর এক অনন্য সৌন্দর্যের নাম। একবার যে এই অঞ্চলের প্রকৃতি ও জীবনধারা কাছ থেকে দেখার সুযোগ পায়, তার হৃদয়ে নর্ডিক দেশগুলোর জন্য একটি বিশেষ স্থান তৈরি হয়ে যায়।

আমান/