সিরিয়া থেকে অদূর অভিষ্যতেও ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন ইসরায়লের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
মঙ্গলবার (১৭ ডিসেম্বর) সিরিয়া ও ইসরায়েলের সীমান্তবর্তী হারমন পর্বতে অবস্থান নেওয়া ইসরায়লি সৈন্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে এ কথা জানান তিনি।
নেয়তানিয়াহু বলেন, ‘চুক্তির মাধ্যমে ইসরায়লের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আগ পর্যন্ত সেনা প্রতাহ্যারের প্রশ্নই আসে না।’
এদিকে ৮ ডিসেম্বর বাশার আল-আসাদ পালানোর পর ইসরায়েলের সামরিক অবস্থান গোলান মরুভূমির বাইরে ছড়িয়ে পড়া নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে সিরিয়ার বিদ্রোহী সরকার।
হারমন পর্বতকে অস্থায়ী ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করছে ইসরায়েল।
এ প্রসঙ্গে নেতানিয়াহু বলেন, ‘হারমন পর্বতে এসে আমি আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছি। ৫৩ বছর আগে আমি সৈন্য হিসেবে এখানে এসেছিলাম।’
দেশের নিরাপত্তা রক্ষা করতে এই পর্বতে ইসরায়েলি সৈন্যদের অবস্থান জরুরী বলে জানান তিনি।
হারমন পর্বত সফরে নেতানিয়াহুর সঙ্গী ছিলেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ।
অঞ্চলটিতে ইসরায়লের সামরিক তৎপরতা পর্যবেক্ষণ করতেই এই সফর অনুষ্ঠিত হয়েছে।
লেবাননের বেক্কা উপত্যকায় সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহর কার্যক্রম নজরে রাখতেই হারমন পর্বতে ইসরায়েল অবস্থান নিয়েছে বলে জানান কাটজ।
তিনি বলেন, ‘দামেস্কে এখন বিদ্রোহীরা ঘুরে বেড়াচ্ছে। নিজেদেরকে সংস্কারপন্থী দাবি করলেও আদতে এরা প্রতিক্রিয়াশীল জঙ্গীগোষ্ঠী ছাড়া আর কিছু নয়।’
এদিকে ইসরায়েলি সামরিক তৎপরতার সমালোচনা করেছেন সিরিয়ার বিদ্রোহীগোষ্ঠী হায়াত তাহরির আল-শামের (এইচটিএস) প্রধান আহমেদ আল-শারা। ইসরায়েল ১৯৭৪ সালের আর্মিটাইস চুক্তি লঙ্ঘন করেছে বলে জানান কাটজ।
ইসরায়েলের বিমান হামলায় গত সপ্তাহে সিরিয়ার বেশ কয়েকটি সামরিক বহর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নৌ ও বিমান ঘাঁটির পাশাপাশি অস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্রও হামলার শিকার হয়েছে।
এ ছাড়া গোলান মালভূমি অঞ্চলে ইসরায়েলের দখল বাড়ানোর পরিকল্পনা করছেন নেতানিয়াহু।
অন্যদিকে সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে আন্তর্জাতিক সহায়তা জোগাচ্ছে সিরিয়ার অন্তর্বর্তী সরকার।
এই পরিস্থিতিতে দুদেশের কূটনৈতিক অস্থিরতা সহিংসতায় রূপ নিতে পারে বলে আশংকা করছেন বিশেষজ্ঞরা। সূত্র: দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস
নাইমুর/পপি/