যুক্তরাষ্ট্রে কেবল অবৈধভাবে অবস্থানের কারণে লোকদের জোরপূর্বক বিতাড়ন করা তাদের মর্যাদার জন্য হানিকর এবং এই কাজের শেষ পরিণতি খুব ভয়াবহ হবে বলে মন্তব্য করেছেন পোপ ফ্রান্সিস।
মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের বিশপদের লেখা চিঠিতে অভিবাসীদের কঠোরভাবে দমনের বিষয়ে ট্রাম্পের নীতির এভাবেই সমালোচনা করেন পোপ ফ্রান্সিস।
চিঠিতে পোপ ফ্রান্সিস যুক্তরাষ্ট্র থেকে জোরপূ্র্বক শরণার্থী বিতাড়নের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেমস ডেভিড ভ্যান্সকে সরাসরি আক্রমণ করেন।
ওই চিঠিতে পোপ ট্রাম্পের অবৈধ অভিবাসীদের নির্বাসন কর্মসূচির পদ্ধতিকে আক্রমণ করে এর ধর্মতাত্ত্বিক ন্যায্যতাকে চ্যালেঞ্জ করেছেন।
পোপ লিখেছেন- ‘সাত্ত্বিক হৃদয়ের ব্যক্তি এই অভিবাসন প্রক্রিয়ার পদ্বতি বিচার করতে অকৃতকার্য হতে পারেন না এবং এসব অবৈধ অভিবাসীদের সন্ত্রাসী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেন না।’
এ সময় তিনি চিঠিতে যিশু খ্রিস্টের শরণার্থীর অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করেছেন।
তিনি লিখেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র থেকে বলবপূর্বক অভিবাসীদের ফেরত পাঠানোর বিষয়টি আমি অত্যন্ত নিবিড়ভাবে লক্ষ্য করেছি। যে বিষয়টি গায়ের জোরে স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে সত্যের কোনো স্থান নেই এবং যেখানে মানবতার মর্যাদা নেই, সে বিষয়গুলোর শেষ খুব মর্মান্তিক হয়।’
পোপ আরও লিখেছেন, ‘খ্রিস্টীয় প্রেম এককেন্দিক স্বার্থের কোনো ভালোবাসা নয়।’
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের সম্মেলন থেকে এক প্রতিবেদনে ট্রাম্পের বিভিন্ন পলিসির সমালোচনা করা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ‘ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন কার্যক্রম যেমন- অভিবাসীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন কার্যক্রম, বিদেশে সাহায্য বন্ধ, মৃত্যুদণ্ড এবং পরিবেশ নিয়ে বিভিন্ন নীতির বহু নেতিবাচক দিক রয়েছে, যা আমাদের মধ্যে দুর্বলদের আরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করবে।’
হোয়াইট হাউজের তথ্যমতে, দ্বিতীয় বারের মত ট্রাম্প ক্ষমতা গ্রহণের পর যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রায় আট হাজার অবৈধ অভিবাসীদের আটক করা হয়েছে।
এর আগে মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণ নিয়ে ২০১৬ সালে পোপ ফ্রান্সিস ট্রাম্পের সমালোচনা করেছিলেন, যার ফলে ট্রাম্পের সঙ্গে পোপের কথা কাটাকাটি হয়েছিল। সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
সুমন/