আগের পাঁচ বছরের মতো ২০২৪ সালেও তীব্র খাদ্য অনিরাপত্তা ও শিশু অপুষ্টি বৃদ্ধি পেয়েছে। এ নিয়ে টানা ছয় বছরের মতো এটি বৃদ্ধি পেল। বিশ্বের ৫৩টি দেশ ও অঞ্চলের ২৯ কোটি ৫০ লাখ মানুষের ওপর প্রভাব ফেলেছে বিষয়টি। গতকাল শুক্রবার জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে বিষয়টি।
জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)-এর বিভাগীয় পরিচালক রেইন পলসন বলছেন, খাদ্যসংকটের ওপর তৈরি বৈশ্বিক প্রতিবেদনটি একটি মর্মান্তিক চিত্র তুলে ধরছে। সংঘাত, প্রতিকূল আবহাওয়া ও অর্থনৈতিক ধাক্কা এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে।
জাতিসংঘ বলছে, চলতি বছর পরিস্থিতি আরও প্রতিকূল হবে। এর পেছনে বড় মাপের একটি ভূমিকা রাখবে মানবিক খাদ্য তহবিলের স্বল্পতা। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউএস এজেন্সি ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টের বড় অংশ বন্ধ করে দিয়েছেন। ওই সংস্থাটি থেকে বিশ্বের মোট মানবিক সহায়তার ৮০ শতাংশের বেশি আসত।
বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির রোমের প্রধান সিনডি ম্যাককেইন সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ‘আমরা যে গুরুত্বপূর্ণ জীবনরক্ষার সহায়তা দেই, তা লাখ লাখ ক্ষুধার্ত মানুষ এরই মধ্যে হয় হারিয়ে ফেলেছে, না-হয় আগামীতে হারাতে চলেছে।’
জাতিসংঘের প্রতিবেদন বলছে, বিশ্বে ক্ষুধার মূল কারণ সংঘাত। ২০২৪ সালে বিশ্বের ২০টি দেশের ১৪ কোটি মানুষের ওপর সংঘাত প্রভাব ফেলেছে। গাজা, দক্ষিণ সুদান, হাইতি ও মালির মতো অঞ্চলগুলোতে খাদ্য অনিরাপত্তা বিপর্যয়কর মাত্রায় গিয়ে ঠেকেছে। সুদান এরই মধ্যে দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতির কথা জানিয়েছে।
২০২৪ সালে অর্থনৈতিক ধাক্কা, মূল্যস্ফীতির মতো বিষয়গুলো ১৫টি দেশের ৫ কোটি ৯৪ লাখ মানুষকে খাদ্যসংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে। কোভিড-১৯ মহামারির সময়ের তুলনায় এ মাত্রা দ্বিগুণ হয়েছে, বিশেষ করে সিরিয়া ও ইয়েমেনে।
খরা ও বন্যার মতো প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে ১৮টি দেশের মানুষ সংকটের মুখে পড়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণ আফ্রিকা, দক্ষিণ এশিয়া ও হর্ন অব আফ্রিকার দেশগুলোর মানুষ এ পরিস্থিতিতে পড়েছে। সূত্র: রয়টার্স