যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় অবস্থিত নাসার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে বুধবার (২৫ জুন) দুপুরে ভারতের মহাকাশযান ‘ড্রাগন’ মহাকাশে রওনা দিচ্ছে। ‘অ্যাক্সিয়ম-৪’ নামের এই অভিযানে ভারতের পক্ষে নেতৃত্ব দেবেন ভারতীয় বিমান বাহিনীর গ্রুপ ক্যাপ্টেন শুভাংশু শুক্ল।
এর আগে সর্বশেষ ১৯৮৪ সালে প্রথম ভারতীয় নভোচারী রাকেশ শর্মা সোভিয়েত ইউনিয়নের মিশনে মহাকাশে গিয়েছিলেন।
‘অ্যাক্সিয়ম-৪’ নামের এই অভিযানে শুভাংশুর সাথে থাকছেন আরও তিন আন্তর্জাতিক নভোচারী।
অভিযানের কমান্ডার রেগি হুইটসন। তিনি নাসার প্রাক্তন নভোচারী ও অ্যাক্সিয়ম স্পেসের মহাকাশ মিশনের পরিচালক। এ ছাড়াও থাকছেন পোল্যান্ডের স্লায়োস উজনানস্কি-উইসনিউস্কি এবং হাঙ্গেরির টিবর কাপু।
প্রথমে এই অভিযান পরিচালিত হওয়ার কথা ছিল এ বছরের ২৯ মে। কিন্তু আবহাওয়া, কারিগরি জটিলতা সহ অন্যান্য কারণে সাতবার দিন পরিবর্তনের পর অবশেষে ২৬ জুন মহাকাশযাত্রার দিন নির্ধারিত হয়।
এই অভিযানে ড্রাগন মহাকাশযানটিকে মহাকাশে নিয়ে যাবে ‘ফ্যালকন ৯’ রকেট, যেটি উৎক্ষেপণ করা হবে লঞ্চ প্যাড ৩৯এ থেকে।
নাসার ‘অ্যাক্সিয়ম-৪’ নামে এই অভিযানের জন্য ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো থেকে প্রাথমিকভাবে বেছে নেওয়া হয়েছিল দুজনকে। তারা হলেন- শুভাংশু শুক্ল এবং প্রশান্ত বালাকৃষ্ণন নায়ার।
উত্তরপ্রদেশের ছেলে শুভাংশু ভারতীয় বিমান বাহিনীর গ্রুপ ক্যাপ্টেন। মূল মহাকাশচারী হিসাবে বেছে নেওয়া হয় ৩৯ বছরের শুভাংশুকে। তার বিকল্প হিসাবে রাখা হয় প্রশান্তকেও। গত বছরের অগস্ট থেকে অভিযানের জন্য প্রশিক্ষণ নেওয়াও শুরু করে দিয়েছিলেন দুজন।
শুরুতে কথা ছিল- ২০২৫ সালের ২৯ মে শুভাংশুদের অভিযান হবে। কিন্তু বাদ সাধে আবহাওয়া, যান্ত্রিক ত্রুটি-সহ নানা কারণ। পরেও একাধিক বার সেই অভিযান পেছাতে বাধ্য হয় নাসা। অবশেষে বুধবার সেই অভিযান হতে চলেছে।
এর আগে এএন-৩২, জাগুয়ার, হক, মিগ-২১, সু-৩০-সহ নানা ধরনের যুদ্ধবিমান চালানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে শুভাংশুর। কিন্তু মহাকাশযান এই প্রথম! এ জন্য দীর্ঘ দিন ধরে স্পেসএক্স এবং ‘অ্যাক্সিয়ম স্পেস ইনকর্পোরেশন’-এর কাছে প্রশিক্ষণও নিতে হয়েছে তাকে।
অ্যাক্সিওম-৪ মিশন কী?
অ্যাক্সিওম মিশন ৪ (অ্যাক্স-৪) হল আইএসএস-এর জন্য একটি ব্যক্তিগত মহাকাশযান যা অ্যাক্সিওম স্পেস (মার্কিন-ভিত্তিক মহাকাশ-অবকাঠামো উন্নয়ন সংস্থা)দ্বারা পরিচালিত হয় , যা স্পেসএক্স ক্রু ড্রাগন মহাকাশযান ব্যবহার করে।
স্পেসএক্স ক্রু ড্রাগন হল একটি পুনর্ব্যবহারযোগ্য মহাকাশযান যা মহাকাশচারীদের আইএসএসে এবং সেখান থেকে বহন করে ।
এটি ন্যাশনাল অ্যারোনটিক্স অ্যান্ড স্পেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (NASA) এর সহযোগিতায় অ্যাক্সিওম মিশন ১, ২ এবং ৩ এর পরবর্তী চতুর্থ ফ্লাইট ।
মিশনের উদ্দেশ্য:
বাণিজ্যিক মহাকাশ উদ্যোগ: অ্যাক্সিওম-৪ লো আর্থ অরবিটে (LEO) মহাকাশ পর্যটনের মতো বাণিজ্যিক কার্যকলাপ সক্ষম করার উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে । এর লক্ষ্য ব্যবসা এবং গবেষণার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বাণিজ্যিক মহাকাশ স্টেশনগুলির সম্ভাব্যতা প্রদর্শন করা ।
আন্তর্জাতিক সহযোগিতা: এই মিশনে বিভিন্ন বহুজাতিক দল রয়েছে , যারা মহাকাশ অনুসন্ধানে বিশ্বব্যাপী সহযোগিতার উপর জোর দেয়। এর লক্ষ্য আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব জোরদার করা এবং মহাকাশ বিজ্ঞানের অগ্রগতিতে যৌথ প্রচেষ্টাকে উৎসাহিত করা।
সুলতানা দিনা/