ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ও তার স্ত্রী ব্রিজিত যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ হাজির করবেন, যাতে দেখানো যায় ব্রিজিত জন্মসূত্রে নারী।
গত জুলাইয়ে ম্যাক্রোঁ দম্পতি ডানপন্থি প্রভাবশালী ইনফ্লুয়েন্সার ক্যান্ডেস ওয়েন্স ও তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেন। অভিযোগে বলা হয়, ওয়েন্স তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ ছড়িয়ে নিজের মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের প্রচার, শ্রোতা বাড়ানো ও আর্থিক লাভের চেষ্টা করছেন।
ওয়েন্স গত বছর প্রকাশ্যে ঘোষণা করেছিলেন যে তিনি “নিজের পুরো পেশাগত সুনাম বাজি রাখবেন এই দাবিতে যে ব্রিজিত আসলে একজন পুরুষ, নাম জ্যাঁ-মিশেল ট্রগনো।” এরপর তিনি এই দাবি ধরে রেখে একটি আট পর্বের পডকাস্ট সিরিজও প্রকাশ করেন।
ম্যাক্রোঁ দম্পতির আইনজীবী টম ক্লেয়ার বিবিসির Fame under Fire পডকাস্টে বলেন, এসব দাবি ব্রিজিতকে ভীষণভাবে আহত করেছে এবং প্রেসিডেন্টের জন্যও এটি এক ধরনের ‘বাধা’।
তিনি জানান, বৈজ্ঞানিক প্রমাণসহ বিশেষজ্ঞ সাক্ষ্য আদালতে উপস্থাপন করা হবে। প্রয়োজনে ব্রিজিতের গর্ভাবস্থা ও সন্তান লালনপালনের ছবিও দেখানো হবে।
মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, জ্যাঁ-মিশেল ট্রগনো আসলে ব্রিজিতের বড় ভাই, যিনি উত্তর ফ্রান্সের অ্যামিয়েঁ শহরে থাকেন। ২০১৭ ও ২০২২ সালে ম্যাক্রোঁর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানেও তিনি উপস্থিত ছিলেন।
৭২ বছর বয়সী ব্রিজিত তার স্বামীর চেয়ে ২৪ বছরের বড়। একটি নাট্য কর্মশালায় শিক্ষকতার সময় তার সঙ্গে ইমানুয়েলের পরিচয় হয়। আগের বিয়েতে তার তিন সন্তান রয়েছে— যারা জন্মেছেন ১৯৭৫, ১৯৭৭ ও ১৯৮৪ সালে। এ ছাড়া তার সাত নাতি-নাতনি আছে।
ব্রিজিতকে ঘিরে “পুরুষ হয়ে জন্মেছিলেন” এই গুজব প্রথম ছড়িয়ে পড়ে ২০২১ সালে। ওই সময় দুই ব্লগারের বিরুদ্ধে তিনি মানহানির মামলা জিতেছিলেন। তবে পরে আপিল আদালত রায় দেয় যে এটি আইনিভাবে মানহানির সংজ্ঞায় পড়ে না। বর্তমানে ব্রিজিত ও তার ভাই বিষয়টি ফ্রান্সের সর্বোচ্চ আদালতে নিয়েছেন।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে করা মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, ওয়েন্স জেনেশুনেই সত্যতা যাচাই না করে ষড়যন্ত্রতত্ত্ব প্রচার করেছেন।
অন্যদিকে ওয়েন্সের আইনজীবীরা মামলা খারিজের আবেদন জানিয়ে বলেন, ডেলাওয়্যারে এ মামলা হওয়া উচিত নয়, কারণ তার ব্যবসার কার্যক্রম এ মামলার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। তবে ওয়েন্স এখনো দাবি করছেন, তার কথাই সত্য। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
মেহেদী/