ঢাকা ৯ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
লোহাগাড়ায় দুই বাসের সংঘর্ষে কলেজছাত্রী নিহত জীব ও পরিবেশের পারস্পরিক নির্ভরশীলতা অধ্যায় থেকে ৩টি অনুশীলনীর প্রশ্ন ও  উত্তর, ২য় পর্ব, পঞ্চম শ্রেণির বিজ্ঞান সাতকানিয়ায় যুবলীগ নেতা হাসান মাহমুদ গ্রেপ্তার বেনাপোলে আওয়ামী লীগের নৈরাজ্যের প্রতিবাদে শ্রমিক দলের বিক্ষোভ হ্যারি কেইনের ফর্মকে প্রশংসায় ভাসালেন ডেক্লান রাইস নিষিদ্ধ দলের তৎপরতা চোখে পড়া জাতির জন্য ব্যর্থতা: রেলপথমন্ত্রী ইবির কর্মচারীদের নিয়োগ যাচাইয়ে তদন্ত কমিটি, আতঙ্কে নিয়োগপ্রাপ্তরা বহুমাত্রিক সম্পর্কোন্নয়নে ভূমিকা রাখবে শরীয়তপুরে বিএনপির কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ পাঁচবিবিতে ট্রাকচাপায় যুবক নিহত ২৩ জুন: পাউন্ড ছাড়া সব মুদ্রার দাম কমেছে ইউসিটিসিতে ৭ম সিন্ডিকেট মিটিং অনুষ্ঠিত উখিয়ায় বিজিবির অভিযানে ১ লাখ ৯০ হাজার ইয়াবা জব্দ, আটক ১ ভারতের লখনউয়ে অগ্নিকাণ্ডে ১৫ শিক্ষার্থীর মৃত্যু বিশেষ ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা পেল ৬ জেলার সেনা কর্মকর্তারা ২-১ গোলে জর্ডানকে হারিয়ে নকআউটের আশা জিইয়ে রাখলো আলজেরিয়া কাতারে কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ: নিহত ১৩, আহত ৬৬ ইরানের তেল নিষেধাজ্ঞা আংশিক তুলে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র শিরোপার স্বপ্নে ভাসছেন না হালান্ড আশুরা উপলক্ষে ডিএমপির নির্দেশনা তৃণমূলের শীর্ষ পদ থেকে মমতাকে বাদ ১১৫ দিন পর হরমুজ অতিক্রম করল বাংলার জয়যাত্রা পর্তুগাল এখন যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি ঐক্যবদ্ধ: রবার্তো মার্তিনেস বিশ্ববিদ্যালয়ে জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতার চর্চা বাড়াতে হবে: ইবি উপাচার্য ইউএনওর আইডি ব্যবহার করে টেন্ডার কারসাজি টেকনাফে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি থেকে সরে যেতে মাইকিং বাউফল উপজেলা ছাত্রদল সভাপতি কারাগারে জাবিতে রোকনুজ্জামান খান ও বেগম রোকেয়ার জীবনকর্ম নিয়ে আলোচনা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ কুড়িগ্রামে ধানের গোলায় বিপুল পরিমাণ ভারতীয় পণ্য

হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রসহ রুশ মিগ-৩১ ছিনতাইয়ের ইউক্রেন-ব্রিটিশ চেষ্টা ব্যর্থ

প্রকাশ: ১২ নভেম্বর ২০২৫, ১২:৪৫ এএম
আপডেট: ১২ নভেম্বর ২০২৫, ০৮:৩১ এএম
হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রসহ রুশ মিগ-৩১ ছিনতাইয়ের ইউক্রেন-ব্রিটিশ চেষ্টা ব্যর্থ
হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র কিঞ্জাল এ সজ্জিত রুশ মিগ-৩১ যুদ্ধবিমান

রাশিয়া জানিয়েছে, ইউক্রেন ও যুক্তরাজ্যের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর যৌথ পরিকল্পনায় একটি মিগ–৩১ যুদ্ধবিমান ছিনতাইয়ের ষড়যন্ত্র তারা ভণ্ডুল করেছে। বিমানে ছিল রাশিয়ার অত্যাধুনিক হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘কিঞ্জাল’।

রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা সংস্থা এফএসবি মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানায়, ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের গোয়েন্দা বিভাগ এবং তাদের যুক্তরাজ্যভিত্তিক সহযোগীরা এই পরিকল্পনার পেছনে ছিল।

ষড়যন্ত্রটির উদ্দেশ্য ছিল এক রুশ পাইলটকে প্রলুব্ধ করে মিগ–৩১ বিমানটি রোমানিয়ার কনস্টান্টা শহরে নিয়ে যাওয়া—যেখানে ন্যাটো দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপে তাদের সবচেয়ে বড় বিমানঘাঁটি নির্মাণ করছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিমানটি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার হামলায় ধ্বংস করা হবে এবং ঘটনাটিকে বড় ধরনের “উস্কানিমূলক হামলা” হিসেবে উপস্থাপন করা হবে।

রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এফএসবি তথাকথিত বার্তা ও রেকর্ডিং প্রকাশ করেছে, যেখানে একজন ব্যক্তি ইউক্রেন ও ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থার হয়ে কাজ করছেন বলে দাবি করা হয়। ওই ব্যক্তি নাকি পাইলটকে ৩০ লাখ মার্কিন ডলার ও যেকোনো ইউরোপীয় দেশের নাগরিকত্বের প্রলোভন দেন।

এফএসবির এক কর্মকর্তা রাষ্ট্রীয় সংবাদসংস্থা তাসকে বলেন, যুক্তরাজ্যভিত্তিক অনুসন্ধানী সংস্থা বেলিংক্যাট—যাকে রাশিয়া “অবাঞ্ছিত সংগঠন” হিসেবে ঘোষণা করেছে—এই ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিল অথবা এটি তাদের নাম ব্যবহার করে আড়াল করা হয়েছিল।

তবে বেলিংক্যাট এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে জানিয়েছে, এসব দাবি “পুরোপুরি মিথ্যা”।

এফএসবি ইউক্রেন ও যুক্তরাজ্যের গোয়েন্দাদের “ষড়যন্ত্রে সৃজনশীলতার অভাব” বলে কটাক্ষ করেছে এবং জানিয়েছে, ২০২২ সালেও তারা অনুরূপ অভিযোগ তুলেছিল—যখন যুক্তরাজ্যের সহায়তায় ইউক্রেন একটি উন্নতমানের সুখই সু–৩৪ যুদ্ধবিমান ছিনতাইয়ের চেষ্টা করেছিল বলে রাশিয়া দাবি করেছিল।

তখনও বেলিংক্যাট এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছিল।

রাশিয়া, ইউক্রেন ও তাদের পশ্চিমা মিত্ররা বর্তমানে তীব্র তথ্যযুদ্ধের মধ্যে লিপ্ত, যখন স্থলযুদ্ধে বড় কোনো পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না। রুশ বাহিনী ধীরে ধীরে পূর্ব ইউক্রেনে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করছে, কিন্তু ফ্রন্টলাইনে তেমন অগ্রগতি নেই।

এছাড়া আকাশপথেও চলছে পাল্টাপাল্টি হামলা—প্রতিদিনই দুই পক্ষ শত শত আকাশ হামলা চালাচ্ছে একে অপরের বিরুদ্ধে। সম্প্রতি রাশিয়ার হামলায়, বিশেষত কিঞ্জাল ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে, ইউক্রেনের বিদ্যুৎ অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সূত্র: আল জাজিরা

মাহফুজ/

ভারতের লখনউয়ে অগ্নিকাণ্ডে ১৫ শিক্ষার্থীর মৃত্যু

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ১১:৩৪ এএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬, ১১:৪৪ এএম
ভারতের লখনউয়ে অগ্নিকাণ্ডে ১৫ শিক্ষার্থীর মৃত্যু
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের উত্তর প্রদেশের রাজধানী লখনউয়ের আলিগঞ্জ এলাকায় তিনতলা একটি বাণিজ্যিক ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১৫ শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছেে। এতে আহত হয়েছেন অন্তত পাঁচজন। 

সোমবার (২২ জুন) দুপুরে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের অধিকাংশই একটি গ্রাফিক্স অ্যানিমেশন সেন্টারের শিক্ষার্থী ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তিনতলা ওই ভবনটিতে একটি গ্রাফিক্স অ্যানিমেশন সেন্টার, পোষা প্রাণীর দোকান এবং একটি লাইব্রেরি ছিল। আগুন লাগার সময় ভবনটির দ্বিতীয় তলায় অ্যানিমেশন সেন্টারের ক্লাস চলছিল। হঠাৎ আগুন লেগে চারদিক ধোঁয়ায় অন্ধকার হয়ে গেলে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে অনেক শিক্ষার্থী ভেতরেই আটকে পড়েন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আগুন থেকে বাঁচতে অন্তত আটজন শিক্ষার্থী ভবন থেকে নিচে লাফিয়ে পড়েন। এছাড়া নিচতলায় থাকা পোষা প্রাণীর দোকানে আগুনে পুড়ে চারটি প্রাণীর মৃত্যু হয়েছে।

রাজ্যের নগর উন্নয়ন ও জ্বালানিমন্ত্রী এ কে শর্মা জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে- ভবনের এসি ডাক্ট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। পর্যাপ্ত জরুরি নির্গমন পথ না থাকায় ধোঁয়ায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে হতাহতের ঘটনা ঘটে। ভবনের নিরাপত্তা মান লঙ্ঘনের বিষয়টি তদন্ত করা হবে বলেও তিনি জানান।

ঘটনার পরপরই দমকল বাহিনীর ১২টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রায় তিন ঘণ্টার চেষ্টায় তারা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। স্থানীয় বাসিন্দারাও দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠাতে সহায়তা করেন।

এই মর্মান্তিক ঘটনার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অবহেলার অভিযোগে ভবনের তিন মালিক- রাম কৃষ্ণ উপাধ্যায়, বিরেন্দ্র প্রসাদ শুক্লা এবং তুষার কৃষ্ণ জয়সওয়ালকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

দায়িত্ব অবহেলার দায়ে চার সরকারি কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ঘটনার আসল কারণ উদঘাটনে রাজ্য সরকার দুই সদস্যের একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করেছে, যাদের আগামী সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার খবর পেয়ে উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ আলিগড়ে নির্ধারিত সফর সংক্ষিপ্ত করে লখনউয়ে ফিরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা হবে এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনা হবে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সামাজিক মাধ্যম এক্সে শোক প্রকাশ করে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।

তিনি ঘোষণা দেন, প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় ত্রাণ তহবিল থেকে মৃতদের প্রতিটি পরিবারকে দুই লাখ রুপি এবং আহতদের ৫০ হাজার রুপি করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।

উত্তর প্রদেশের উপমুখ্যমন্ত্রী ব্রজেশ পাঠক জানান, উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং সরকার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে রয়েছে। তিনি আরও বলেন, ১৩টি শিশুকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। সূত্র: দ্য হিন্দু

খাদিজা রুমি/অমিয়/

কাতারে কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ: নিহত ১৩, আহত ৬৬

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ১১:১৮ এএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬, ১১:২৬ এএম
কাতারে কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ: নিহত ১৩, আহত ৬৬
প্ল্যানেট ল্যাবস পিবিসি-এর এই কৃত্রিম উপগ্রহের ছবিতে ২০২৬ সালের ৬ মার্চের কাতারের রাস লাফান শিল্প এলাকা দেখা যাচ্ছে

কাতারের রাস লাফান শিল্পনগরীর একটি গ্যাস কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে ১৩ জন নিহত  এবং ৬৬ জন কর্মী আহত হয়েছেন।

নিহতদের মধ্যে ১২ জনই ভারতীয় নাগরিক এবং বাকি একজন পাকিস্তানি নাগরিক বলে নিশ্চিত করেছে কাতার কর্তৃপক্ষ ও দোহায় অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস।

রবিবার (২১ জুন) সন্ধ্যায় কাতার এনার্জির 'বারজান লোকাল গ্যাস সাপ্লাই' কারখানায় কাজ শুরু করার সময় একটি কারিগরি ত্রুটির কারণে এই বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ঘটনার পরপরই উদ্ধারকারী দল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। কারখানা থেকে কোনো ক্ষতিকারক গ্যাস লিক হয়নি এবং পরিবেশ বা জনসাধারণের কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং বর্তমানে তাদের অবস্থা স্থিতিশীল।

এদিকে ভারতীয় দূতাবাস এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে। মরদেহ দ্রুত দেশে পাঠানো এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সব ধরনের জরুরি সহায়তা দিতে দূতাবাস কাতার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে কাতার প্রশাসন ইতোমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে। সুত্র: দা হিন্দু

তামান্না রুপা/

তৃণমূলের শীর্ষ পদ থেকে মমতাকে বাদ

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ১১:০৭ এএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬, ১১:১৭ এএম
তৃণমূলের শীর্ষ পদ থেকে মমতাকে বাদ
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: সংগৃহীত

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসে বড় ধরনের রাজনৈতিক অভ্যুত্থান ঘটেছে। দলটির প্রতিষ্ঠাতা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দলের শীর্ষ পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। দলের নিয়ন্ত্রণ এখন বিদ্রোহীদের হাতে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী শিবির তৃণমূলের একটি নতুন কমিটি গঠন করেছে। নতুন কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে হাওড়ার বিধায়ক অরূপ রায়ের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। এ ছাড়া দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। 

সোমবার (২২ জুন) বিধানসভায় বাজেট অধিবেশন শেষ হওয়ার পর এই নাটকীয় ঘটনা ঘটে। 

অধিবেশন শেষে তৃণমূলের বিদ্রোহী বিধায়করা কলকাতার নিউ টাউনের একটি বিলাসবহুল হোটেলে বৈঠকে বসেন। এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে তৃণমূলের ৬০ জন বিধায়ক উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া কলকাতার প্রায় ৭০ জন সাবেক কাউন্সিলর এই বৈঠকে অংশ নেন। বৈঠক থেকেই তৃণমূলের নতুন ৩০ সদস্যের কমিটি গঠনের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।

বিদ্রোহী নেতারা দলের এই সিদ্ধান্তের পেছনে তৃণমূলের দলীয় সংবিধানের ২০ নম্বর ধারার উল্লেখ করেছেন। এই নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি ৩ বছর পর জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটির (কর্মসমিতি) বৈঠক ডাকার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু ২০২২ সালের পর থেকে তৃণমূলের কোনো জাতীয় কমিটির বৈঠক হয়নি। এই নিয়মতান্ত্রিক ব্যর্থতার কারণ দেখিয়ে আগের জাতীয় কমিটি ভেঙে দেওয়ার প্রস্তাব আনা হয় এবং তা পাস করা হয়। এরপর ঋতব্রতদের নেতৃত্বাধীন ‘তৃণমূল’ নতুন জাতীয় কমিটি গঠন করে। এই কমিটির চেয়ারম্যান হয়েছেন মধ্য হাওড়ার বিধায়ক অরূপ রায়। 

নতুন কমিটির সহসভাপতি করা হয়েছে রাজ্যের সাবেক মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকে। এ ছাড়া তৃণমূলের আরও দুই বিধায়ক ফিরহাদ হাকিম ও রথীন ঘোষকেও সহসভাপতি করা হয়েছে। সাধারণ সম্পাদক পদে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়াও রয়েছেন জাভেদ খান, সন্দীপন সাহা ও সাবিনা ইয়াসমিন। নতুন কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আখরুজ্জামানকে। 

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো,  সোমবার বিদ্রোহীদের এই বৈঠকের ব্যানারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোনো ছবি ছিল না। সেখানে শুধু মহাত্মা গান্ধী, বি আর আম্বেদকর, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং কাজী নজরুল ইসলামের ছবি রাখা হয়েছিল।

বিধানসভা নির্বাচনে বড় পরাজয়ের পর থেকেই মূলত তৃণমূলের ভেতরে অসন্তোষ ও বিদ্রোহের সূত্রপাত হয়। সেই ক্ষোভ ধীরে ধীরে বড় আকারের কোন্দলে রূপ নেয়। একে একে দলের বিধায়করা প্রকাশ্যে বিদ্রোহ করতে শুরু করেন। সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে, আনন্দবাজার পত্রিকা

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান চুক্তি কূটনৈতিক সাফল্য পেল পাকিস্তান

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৯:১০ এএম
কূটনৈতিক সাফল্য পেল পাকিস্তান
সুইজারল্যান্ডের লেক লুসার্নের বুর্গেনষ্টক রিসোর্টে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের শান্তি প্রক্রিয়া নিয়ে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের মধ্যে আলোচনার সময় মধ্যস্থতাকরেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধ বন্ধের চুক্তি সংক্রান্ত বৈঠকে মধ্যস্থতা করে বড় ধরনের কূটনৈতিক সাফল্য পেয়েছে পাকিস্তান। গত রবিবার সুইজারল্যান্ডে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল অসীম মুনির উপস্থিত ছিলেন। এই ঐতিহাসিক আলোচনার পর আন্তর্জাতিক মহলে পাকিস্তানের ভূমিকা বেশ প্রশংসিত হচ্ছে।

কূটনৈতিক সূত্রমতে, সম্পাদিত এই চুক্তিটি কোনো স্থায়ী শান্তিচুক্তি নয়। এটি মূলত একটি অন্তর্বর্তী কাঠামো মাত্র। এর মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যকার বিপজ্জনক সংঘাত সাময়িকভাবে থামানো হয়েছে। এই চুক্তি আগামী ৬০ দিনের জন্য একটি আলোচনার সুযোগ তৈরি করেছে। এই সময়ের মধ্যে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও পারমাণবিক সীমাবদ্ধতার মতো জটিল বিষয়ের সমাধান করতে হবে। শেষ মুহূর্তে লেবাননকেন্দ্রিক কিছু মতবিরোধের কারণে চুক্তিটি প্রায় ভেস্তে যেতে বসেছিল। কিন্তু পাকিস্তান ও কাতারের প্রচেষ্টায় এই প্রক্রিয়া রক্ষা পায়।

পাকিস্তান কেবল পরোপকারের জন্য এই মধ্যস্থতায় জড়ায়নি। এর পেছনে দেশটির নিজস্ব সুনির্দিষ্ট স্বার্থ ছিল। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ হলে পাকিস্তানের অর্থনীতি সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হতো। ইরানের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রায় ৯০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। এ ছাড়া পাকিস্তান জ্বালানি সরবরাহের জন্য পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর গভীরভাবে নির্ভরশীল। সেখানে যুদ্ধ চললে তেলের দাম বাড়ত এবং সামুদ্রিক বাণিজ্য ব্যাহত হতো। তাই এই মধ্যস্থতা ছিল পাকিস্তানের জন্য একধরনের কৌশলগত আত্মরক্ষা।

এই কূটনীতির প্রথম সুফল ইতোমধ্যেই দৃশ্যমান হয়েছে। পাকিস্তান বিশ্বমঞ্চে প্রমাণ করেছে আন্তর্জাতিক সংকট নিরসনে তারা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তানের আলোচনা কেবল অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকটের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। এই মধ্যস্থতা সেই নেতিবাচক ভাবমূর্তি অনেকটাই বদলে দিয়েছে। বিশ্ব এখন পাকিস্তানকে সংকটের উৎস হিসেবে নয়, বরং সংকট সমাধানের মাধ্যম হিসেবে দেখছে। ওয়াশিংটন এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর কাছে ইসলামাবাদের কূটনৈতিক গুরুত্ব নতুন করে তৈরি হয়েছে।

পাকিস্তানের জন্য আসল পুরস্কার লুকিয়ে আছে নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের উত্তেজনা কমলে পাকিস্তানের পশ্চিম সীমান্তে চাপ কমবে। এতে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে এবং জ্বালানিসংকটের ঝুঁকি হ্রাস পাবে। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, এই সফল মধ্যস্থতার ফলে পাকিস্তান এখন ইরান, সৌদি আরব, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার সুযোগ পাচ্ছে। 

অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও পাকিস্তানের সামনে বড় সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা কমলে এই অঞ্চলের বাণিজ্য রুটে বড় পরিবর্তন আসবে। দীর্ঘকাল ধরে দুবাই ছিল ইরানের প্রধান বাণিজ্যিক প্রবেশদ্বার। কিন্তু সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় আমিরাত ইরানি ব্যবসার ওপর কিছু নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এর ফলে ইরান এখন বিকল্প বাণিজ্য রুটের সন্ধান করছে। পাকিস্তান এই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে নিজেকে একটি বিকল্প রুট হিসেবে উপস্থাপন করতে পারে।

এদিকে চার মাস ধরে চলা ইরান যুদ্ধের পর মধ্যপ্রাচ্যে এক নতুন কূটনৈতিক মেরূকরণ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এই যুদ্ধের চূড়ান্ত পরিণতিতে পাকিস্তান এক বড় কূটনৈতিক বিজয়ী দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। যে যুদ্ধটি ইসরায়েলের সরাসরি অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছিল, তা এখন শেষ হচ্ছে ওয়াশিংটন, তেহরান এবং ইসলামাবাদের তৈরি করা একটি বিশেষ কাঠামোর মাধ্যমে। 

যুক্তরাষ্ট্র এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এখন এই কূটনৈতিক ট্র্যাকটি পরিচালনা করছে। তবে ইসরায়েল এই প্রক্রিয়ায় পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারী ভূমিকা নিয়ে প্রকাশ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। ভারতে নিযুক্ত ইসরায়েলি কনসাল জেনারেল ইয়ানিভ রেভাখ স্পষ্ট করেই বলেছেন, পাকিস্তান ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে উঠে আসুক, তা ইসরায়েল একেবারেই পছন্দ করছে না। অবশ্য জেরুজালেম মার্কিন সরকারের ওপর আস্থা রাখছে। 

পাকিস্তানের এই কূটনৈতিক সাফল্যের পেছনে মূল শক্তি হিসেবে কাজ করেছে তার ভৌগোলিক অবস্থান। ইরান, আফগানিস্তান এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের মাঝখানে পাকিস্তানের অবস্থান তাকে একটি স্থায়ী কৌশলগত সুবিধা এনে দিয়েছে। অতীতে ওসামা বিন লাদেনের উপস্থিতি নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ক কিংবা পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক সংকট–কোনো কিছুই ওয়াশিংটনের কাছে ইসলামাবাদের গুরুত্ব কমাতে পারেনি। ভৌগোলিক অবস্থানগত শক্তি কোনো আন্তর্জাতিক শুভেচ্ছা বা বন্ধুত্বের ওপর নির্ভর করে না, এটি একটি বাস্তব সত্য। ইসরায়েলের অস্বস্তির মূল কারণও এটিই।

সূত্র: দ্য ডন, জেরুজালেম পোস্ট

ব্রিটেনে ১০ বছরে ৬ প্রধানমন্ত্রী, কেন বাড়ছে রাজনৈতিক অস্থিরতা?

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৯:০৩ এএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬, ০৯:০৫ এএম
ব্রিটেনে ১০ বছরে ৬ প্রধানমন্ত্রী, কেন বাড়ছে রাজনৈতিক অস্থিরতা?
ছবি: সংগৃীহত

লন্ডনের ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটের সেই বিখ্যাত চকচকে কালো দরজাটি ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীদের সরকারি বাসভবন। প্রায় ৩০০ বছরের ইতিহাসে এই বাড়িটি বহু বিখ্যাত নেতার সাক্ষী হয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিল এখানে কাটিয়েছেন মোট ৯ বছর। ১৯৮০-এর দশকে ‘লৌহমানবী’ মার্গারেট থ্যাচার প্রায় ১২ বছর এবং টনি ব্লেয়ার ১৯৯৭ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত টানা এক দশক এখানে বাস করেছেন।

তবে গত ১০ বছরের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। ২০১৬ সালের পর থেকে এ পর্যন্ত ছয়জন প্রধানমন্ত্রী এই বাসভবনে এসেছেন। পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে, মালপত্র গোছানোর আগেই অনেককে বিদায় নিতে হয়েছে। শুধু গত চার বছরেই চারজন প্রধানমন্ত্রী পরিবর্তন দেখেছে ব্রিটেন।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের নিয়ম

যুক্তরাজ্যের ভোটাররা আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মতো সরাসরি তাদের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন করেন না। এর পরিবর্তে, ভোটাররা ব্রিটিশ পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ ‘হাউস অব কমন্স’-এর সদস্য (এমপি) নির্বাচন করেন। পার্লামেন্টে যে দল সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পায়, সাধারণত সেই দলের নেতাই প্রধানমন্ত্রী হন।

রাজনৈতিক দলগুলো তাদের নিজস্ব অভ্যন্তরীণ নির্বাচনের মাধ্যমে যেকোনো সময় নেতা পরিবর্তন করতে পারে। যদি কোনো ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী দলের পর্যাপ্ত সদস্যের আস্থা হারান, তবে তাকে পদ ছাড়তে হয়। প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করলে বা দল থেকে বহিষ্কৃত হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার প্রধানমন্ত্রিত্ব চলে যায়।

এই ব্যবস্থার কারণে সাধারণ নির্বাচন ছাড়াই প্রধানমন্ত্রী পরিবর্তন সম্ভব। তবে ক্ষমতাসীন দলটির হাতেই সরকারের নিয়ন্ত্রণ থাকে। যুক্তরাজ্যের আইন অনুযায়ী, সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর সাধারণ নির্বাচন হওয়া বাধ্যতামূলক। তবে ক্ষমতাসীন সরকার চাইলে যেকোনো সময় আগাম নির্বাচন দিতে পারে। গত এক দশকে এমন ঘটনা বারবার ঘটেছে, যা দেশটির রাজনীতিতে এক ধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরি করেছে।

ব্রেক্সিট: ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে জটিল বিচ্ছেদ

এই রাজনৈতিক সংকটের শুরু ২০১৬ সালের ব্রেক্সিট (ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ব্রিটেনের বের হয়ে যাওয়া) গণভোটের মাধ্যমে। ওই ভোটে অল্প ব্যবধানে ব্রেক্সিটের পক্ষে রায় দেয় জনগণ। এর ফলে দেশটির রাজনীতিতে যে বড় ধরনের মেরূকরণ শুরু হয়, তার প্রভাব এখনো চলছে।

তৎকালীন কনজারভেটিভ পার্টির প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন ২০১৫ সালের নির্বাচনী প্রচারণার প্রতিশ্রুতি বলেছিলেন, তিনি জিতলে ইইউ সদস্যপদের বিষয়ে গণভোট দেবেন। নির্বাচনে জিতে তিনি ক্ষমতায় ফিরলেও গণভোটের ফলাফল তার পক্ষে যায়নি। তিনি ইইউ-তে থাকার পক্ষে প্রচার চালিয়েছিলেন। ফলে ২০১৬ সালের জুলাইয়ে তিনি পদত্যাগ করেন।

ব্রেক্সিট কনজারভেটিভ পার্টিকে পুরোপুরি বদলে দেয়। দলটির অনেক পুরোনো ভোটার দল ছেড়ে পপুলিস্ট বা জনমতভিত্তিক ব্রেক্সিট আন্দোলনের দিকে ঝুঁকে পড়েন। অন্যদিকে প্রধান বিরোধী দল লেবার পার্টির প্রথাগত শ্রমজীবী শ্রেণির সমর্থকরাও ব্রেক্সিটকে সমর্থন করেন।

মে, জনসন, ট্রাস ও সুনাক যুগ

ব্রেক্সিট আন্দোলনের সময় ভোটারদের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল যে, ইইউ থেকে বের হলে অভিবাসন কমবে, অর্থনীতির উন্নতি হবে এবং জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা (এনএইচএস) বড় তহবিল পাবে। কিন্তু করোনা মহামারি, ইউক্রেন যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে সেই প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করা কঠিন হয়ে পড়ে। উল্টো ব্রিটেনজুড়ে শুরু হয় রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা এবং অর্থনৈতিক স্থবিরতা।

ক্যামেরনের পর ব্রেক্সিট বাস্তবায়নের দায়িত্ব পাওয়া থেরেসা মে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে ২০১৯ সালে চোখের জলে বিদায় নেন। এরপর ‘গেট ব্রেক্সিট ডান’ স্লোগান দিয়ে ক্ষমতায় আসেন বরিস জনসন। অভিবাসন কমানোর প্রতিশ্রুতি দিলেও তার সময়েই রেকর্ডসংখ্যক মানুষ দেশটিতে প্রবেশ করে, যা দলের প্রতি জনগণের আস্থা ধসিয়ে দেয়। শেষ পর্যন্ত লকডাউনের নিয়ম ভেঙে ডাউনিং স্ট্রিটে পার্টি করা (পার্টিগেট কেলেঙ্কারি) এবং এক যৌন নিপীড়নে অভিযুক্ত নেতাকে পদোন্নতি দেওয়ার অভিযোগে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে জনসন পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।

এরপর লিজ ট্রাস আসেন, যিনি মাত্র ৪৫ দিন ক্ষমতায় থেকে ব্রিটেনের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময় দায়িত্ব পালন করা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে রেকর্ড গড়েন। তার কর ছাড়ের বিতর্কিত ‘মিনি-বাজেট’ আর্থিক বাজারে ধস নামায়। ট্রাসের পর আসেন ঋষি সুনাক। তিনি প্রায় দুই বছর টিকলেও মহামারি ও যুদ্ধের কারণে তৈরি হওয়া জীবনযাত্রার ব্যয় সংকট মোকাবিলা করতে পারেননি। ফলে ১৪ বছরের কনজারভেটিভ শাসনের পর ২০২৪ সালের জুলাইয়ের সাধারণ নির্বাচনে লেবার পার্টির কাছে দলটির বিশাল পরাজয় ঘটে।

লেবার পার্টিতেও সংকট, দোরগোড়ায় কি নতুন কেউ?

২০২৪ সালের নির্বাচনে বিশাল জয় নিয়ে লেবার পার্টির নেতা কিয়ার স্টারমার প্রধানমন্ত্রী হন। কিন্তু দুই বছর পার হওয়ার আগেই তার সরকারও এখন খাদের কিনারায়। নীতি পরিবর্তন, অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনার অভাবে তার নেতৃত্ব প্রশ্নের মুখে পড়েছে। এ ছাড়া দণ্ডিত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টাইনের বন্ধু পিটার ম্যান্ডেলসনকে যুক্তরাষ্ট্রে ব্রিটেনের রাষ্ট্রদূত নিয়োগ করা নিয়ে স্টারমার কেলেঙ্কারিতে জড়িয়েছেন।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত স্থানীয় সরকার নির্বাচনে লেবার পার্টির শোচনীয় পরাজয় স্টারমারের প্রধানমন্ত্রিত্বের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। দলের বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা ইতোমধ্যেই পদত্যাগ করেছেন এবং তাকে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। অন্তত দুজন দলীয় প্রতিদ্বন্দ্বী তাকে নেতৃত্বের চ্যালেঞ্জ জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

এই রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলার সুযোগ নিয়েছেন ব্রেক্সিটের অন্যতম কারিগর এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আদর্শিক মিত্র নাইজেল ফারাজ। তার দল ‘রিফর্ম ইউকে’ সাম্প্রতিক নির্বাচনে দারুণ ফলাফল করে মূলধারার রাজনীতিতে শক্তিশালী অবস্থানে চলে এসেছে।

আইন অনুযায়ী ২০২৯ সালের আগস্টের আগে স্টারমারকে নির্বাচন ডাকতে হবে। তিনি যদি দলের অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ সামলাতে পারেন, তবে হয়তো ততদিন টিকে থাকবেন। কিন্তু তার ওপর চাপ দ্রুত বাড়ছে। দল যদি নতুন কোনো নেতা নির্বাচন করে, তবে ২০২৯ সালের আগেই দেশে নতুন সাধারণ নির্বাচনের দাবি জোরালো হবে।

ওপিনিয়ন রিসার্চ সংস্থা ‘মোর ইন কমন’-এর ইউকে ডিরেক্টর লিউক ট্রিল বলেন, ‘২০১৬ সালের ব্রেক্সিট গণভোটের পর থেকে প্রতিটি ভোটই মূলত পরিবর্তনের পক্ষে ছিল। জনগণ আধুনিক ব্রিটেনের বর্তমান কাঠামো নিয়ে সন্তুষ্ট নয়। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন না আসায় এই রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা তৈরি হয়েছে। সূত্র: সিবিসি নিউজ