ঢাকা ৯ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
আশুরা উপলক্ষে ডিএমপির যে নির্দেশনা তৃণমূলে অভ্যুত্থান শীর্ষ পদ থেকে মমতাকে বাদ পর্তুগাল এখন যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি ঐক্যবদ্ধ: রবার্তো মার্তিনেস বিশ্ববিদ্যালয়ে জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতার চর্চা বাড়াতে হবে: ইবি উপাচার্য ইউএনওর আইডি ব্যবহার করে টেন্ডার কারসাজি টেকনাফে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি থেকে সরে যেতে মাইকিং বাউফল উপজেলা ছাত্রদল সভাপতি কারাগারে জাবিতে রোকনুজ্জামান খান ও বেগম রোকেয়ার জীবনকর্ম নিয়ে আলোচনা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ কুড়িগ্রামে ধানের গোলায় বিপুল পরিমাণ ভারতীয় পণ্য পাবনায় আমবাগানে মিলল নিখোঁজ ব্যক্তির মরদেহ প্যারোলে মুক্তি পেয়ে মায়ের জানাজায় অংশ নিলেন আওয়ামী লীগ নেতা মাগুরায় ‘বাঘ’ আতঙ্ক, বন বিভাগ বলছে মেছো বিড়াল সেন্টমার্টিনে ৩২ কোটি টাকার অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ, আটক ৬ বায়ুদূষণের শীর্ষে দিল্লি, ঢাকার বায়ুরমান ‘অস্বাস্থ্যকর’ দিনাজপুরে দিলশাদ, ভিন্ন স্বাদ ও কাচ্চি ভাইকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা যেমন থাকবে আজকের আবহাওয়া চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন ঢাকায় গ্রেপ্তার নেইমার কি আর খেলবে বিশ্বকাপ? পা ভাঙা রাজহাঁস নিয়ে থানায় নারী এমবাপ্পে, ইয়ামালদের যুগেও মেসিই ফুটবলের ‘ফাইনাল বস’ রাঙামাটিতে সেনাবাহিনীর অভিযানে ৯০ লাখ টাকার অবৈধ সেগুন কাঠ জব্দ হারিয়ে যেতে বসা হলুদ পাহাড়ি কচ্ছপ উদ্ধার সাহাবিদের জন্য রাসুল (সা.) কী ধরনের পোশাক পছন্দ করতেন হাঁসের বাচ্চায় বদলে যাওয়া গ্রাম নকআউটে ফ্রান্সের প্রতিপক্ষ কে? জেনে নিন রাউন্ড অব ৩২-এর সমীকরণ বাংলা একাডেমিতে মানিক রফিক আজাদ ও চন্দ্রাবতীকে স্মরণ ক্যালকুলেটর দিয়ে হিসাব করে ঘুষ নেন দেবীগঞ্জের পিআইও! কূটনৈতিক সাফল্য পেল পাকিস্তান বেলজিয়াম দলে ফিরছেন জেরেমি ডোকু

ইরানের বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড দিলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

প্রকাশ: ১৪ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:২১ পিএম
আপডেট: ১৪ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:৩৪ পিএম
ইরানের বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড দিলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

ইরান যদি বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে তবে, দেশটির বিরুদ্ধে খুবই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

বুধাবার (১৪ জানুয়ারি) বিবিসির এক প্রতিবেদনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এ বক্তব্য তুলে ধরা হয়।

মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, ইরানে সহিংস দমন-পীড়নে এ পর্যন্ত ২,৪০০-এর বেশি সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন।

গত সপ্তাহে ইরানে আটক হওয়া ২৬ বছর বয়সী এরফান সুলতানির আত্মীয়রা বিবিসি পার্সিয়ানকে জানিয়েছেন যে, বুধবার তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার কথা ছিল। তবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে কি না তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

মানবাধিকার সংস্থা হেনগাও-এর একজন প্রতিনিধি বিবিসিকে বলেছেন যে, তারা কখনো কোনো মামলা এত দ্রুত বিচারিক প্রক্রিয়ায় এগোতে দেখেননি।

বিবিসির যুক্তরাষ্ট্রের অংশীদার সিবিএস নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিক্ষোভকারীদের সম্ভাব্য মৃত্যুদণ্ড সম্পর্কে ট্রাম্প বলেন, ‘তারা যদি তাদের ফাঁসিতে ঝোলায়, তবে আপনারা অনেক কিছু দেখতে পাবেন... তারা এমন কিছু করলে আমরা অত্যন্ত কঠোর ব্যবস্থা নেব।’

সুলতানির এক আত্মীয় বিবিসি পার্সিয়ানকে জানান, ইরানের একটি আদালত মাত্র দুই দিনের মধ্যে অত্যন্ত দ্রুত প্রক্রিয়ায় এই মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছে।

ইন্টারনেট বন্ধ থাকার কারণে ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় তারা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে আশঙ্কা করছেন যে, কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই সুলতানির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হতে পারে।

হেনগাও-এর প্রতিনিধি আউইয়ার শেখি বুধবার বিবিসির ‘রেডিও ৪ টুডে’ অনুষ্ঠানে বলেন, ‘সুলতানিকে আটক করার মাধ্যমে ইরানি সরকার জনগণকে নিয়ন্ত্রণ করার এবং আর কোনো বিক্ষোভ হতে না দেওয়ার চেষ্টা করছে।’

শেখি আরও জানান, সুলতানির বোন- যিনি নিজে একজন আইনজীবী- এই মামলায় হস্তক্ষেপ করার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু কর্তৃপক্ষ তাকে জানিয়েছে যে এ বিষয়ে আর কিছু করার নেই।

ইরানে সাধারণত মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দিদের শেষ মুহূর্তে পরিবারের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ দেওয়া হয়। শেখি জানান, ইরানি কর্তৃপক্ষ পরিবারকে এরফানের মৃত্যুদণ্ডের আগে সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়ার কথা বললেও, গ্রেপ্তারের পর থেকে তাকে পরিবারের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করতে দেওয়া হয়নি।

ইরানের একজন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন যে, ২,০০০ মানুষ নিহত হয়েছে, তবে এর জন্য তিনি সন্ত্রাসীদের দায়ী করেছেন।

এর আগে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন যে, তিনি মঙ্গলবার রাতে হোয়াইট হাউসে একটি বৈঠকে অংশ নিয়ে ইরানের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করবেন এবং বিক্ষোভের প্রকৃত নিহতের সংখ্যা জানার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

হোয়াইট হাউসে ফেরার সময় সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, নিহতের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য বলে মনে হচ্ছে, কিন্তু আমরা এখনো নিশ্চিতভাবে জানি না। তিনি জানান যে, সংখ্যাটি পাওয়ার পর আমরা সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ জানিয়েছে, ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকা সত্ত্বেও তারা এ পর্যন্ত ১২ জন শিশুসহ ২,৪০৩ জন বিক্ষোভকারীর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। সংস্থাটি আরও জানায় যে, সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রায় ১৫০ জন ব্যক্তিও নিহত হয়েছেন।

ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থা ফার্স জানিয়েছে, বুধবার তেহরানে নিরাপত্তা বাহিনীর ১০০-এর বেশি সদস্য এবং তাদের ভাষায় আরও কিছু শহিদদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার ট্রাম্প তার নিজস্ব প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যাল-এ লিখেছেন যে, এই হত্যাকাণ্ডের জন্য ইরানি কর্তৃপক্ষকে বড় মূল্য দিতে হবে এবং তিনি জনগণকে বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি আরও যোগ করেন, বিক্ষোভকারীদের ওপর কাণ্ডজ্ঞানহীন হত্যাকাণ্ড বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত আমি ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সব বৈঠক বাতিল করেছি। 

বিক্ষোভ দমনের প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প সামরিক ও অন্যান্য বিকল্প নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করছেন। ইতোমধ্যে তিনি ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করা যেকোনো দেশের ওপর ২৫% শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন।

ইরান সরকার এর জবাবে অভিযোগ করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক হস্তক্ষেপের অজুহাত তৈরির চেষ্টা করছে এবং সতর্ক করে দিয়েছে যে, এই কৌশল আগেও ব্যর্থ হয়েছে।

মুদ্রার মান কমে যাওয়া এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির ফলে সৃষ্ট ক্ষোভ থেকে ইরানের ৩১টি প্রদেশের ১৮০টি শহর ও জনপদে এই বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়েছিল। দ্রুতই এটি রাজনৈতিক পরিবর্তনের দাবিতে রূপ নেয় এবং ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর এটিই এখন ধর্মীয় শাসকগোষ্ঠীর জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার থেকে বিক্ষোভ ব্যাপক আকার ধারণ করলে কর্তৃপক্ষ মারাত্মক শক্তি প্রয়োগ করে এবং ইন্টারনেট ও যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়। এইচআরএএনএ-এর তথ্য অনুযায়ী, চলমান এই অস্থিরতায় এ পর্যন্ত ১৮,৪৩৪ জনেরও বেশি বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর মতো বিবিসিরও ইরানের ভেতর থেকে রিপোর্ট করার সুযোগ নেই, তাই রক্তক্ষয়ের প্রকৃত মাত্রা পরিমাপ করা কঠিন।

তবে রবিবার অনলাইনে পোস্ট করা ভিডিওতে দেখা গেছে, তেহরানের কাহরিজাক ফরেনসিক সেন্টারে মানুষ তাদের প্রিয়জনদের মৃতদেহ খুঁজছে। বিবিসি ওই ফুটেজে অন্তত ১৮০টি চাদরে মোড়ানো মৃতদেহ এবং বডি ব্যাগ গণনা করেছে। সোমবার প্রকাশিত অন্য একটি ভিডিওতে সেই একই কেন্দ্রে আরও প্রায় ৫০টি মৃতদেহ দেখা গেছে।

সোমবার একজন অ্যাক্টিভিস্ট বিবিসি পার্সিয়ানকে বলেন, আমার এক বন্ধু তার ভাইয়ের খোঁজে সেখানে (কাহরিজাক) গিয়েছিল এবং সে নিজের দুঃখের কথা ভুলে গেছে। তারা প্রতিটি এলাকা থেকে মৃতদেহ স্তূপ করে রেখেছে। আপনারা সহিংসতার মাত্রার ভগ্নাংশও জানেন না।

লন্ডনভিত্তিক ইরানি ক্যানসার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক শাহরাম কোর্দাস্টি মঙ্গলবার বিবিসির ‘নিউজডে’ অনুষ্ঠানে বলেন, ‘তেহরানের এক সহকর্মীর কাছ থেকে তিনি সর্বশেষ যে বার্তাটি পেয়েছেন তাতে লেখা ছিল- অধিকাংশ হাসপাতাল এখন যুদ্ধক্ষেত্রের মতো। আমাদের চিকিৎসা সরঞ্জাম ও রক্তের সংকট দেখা দিয়েছে।’

তিনি আরও জানান, দুই-তিনটি হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন যে তারা শত শত আহত বা নিহত মানুষের চিকিৎসা দিয়েছেন।
কাস্পিয়ান সাগরের তীরের শহর রাশত-এর একজন বাসিন্দা শহরটিকে এখন চেনা যাচ্ছে না বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, ‘সব জায়গায় আগুন জ্বলছে।’

জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান ভলকার তুর্ক ইরানি কর্তৃপক্ষকে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর সব ধরনের সহিংসতা ও দমন-পীড়ন অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, ‘বিক্ষোভকারীদের সন্ত্রাসী হিসেবে আখ্যা দেওয়া অগ্রহণযোগ্য। সূত্র: বিবিসি

সুমন/

তৃণমূলে অভ্যুত্থান শীর্ষ পদ থেকে মমতাকে বাদ

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ১১:০৭ এএম
তৃণমূলে অভ্যুত্থান শীর্ষ পদ থেকে মমতাকে বাদ
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: সংগৃহীত

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসে বড় ধরনের রাজনৈতিক অভ্যুত্থান ঘটেছে। দলটির প্রতিষ্ঠাতা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দলের শীর্ষ পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। দলের নিয়ন্ত্রণ এখন বিদ্রোহীদের হাতে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী শিবির তৃণমূলের একটি নতুন কমিটি গঠন করেছে। নতুন কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে হাওড়ার বিধায়ক অরূপ রায়ের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। এ ছাড়া দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। 

সোমবার (২২ জুন) বিধানসভায় বাজেট অধিবেশন শেষ হওয়ার পর এই নাটকীয় ঘটনা ঘটে। 

অধিবেশন শেষে তৃণমূলের বিদ্রোহী বিধায়করা কলকাতার নিউ টাউনের একটি বিলাসবহুল হোটেলে বৈঠকে বসেন। এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে তৃণমূলের ৬০ জন বিধায়ক উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া কলকাতার প্রায় ৭০ জন সাবেক কাউন্সিলর এই বৈঠকে অংশ নেন। বৈঠক থেকেই তৃণমূলের নতুন ৩০ সদস্যের কমিটি গঠনের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।

বিদ্রোহী নেতারা দলের এই সিদ্ধান্তের পেছনে তৃণমূলের দলীয় সংবিধানের ২০ নম্বর ধারার উল্লেখ করেছেন। এই নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি ৩ বছর পর জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটির (কর্মসমিতি) বৈঠক ডাকার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু ২০২২ সালের পর থেকে তৃণমূলের কোনো জাতীয় কমিটির বৈঠক হয়নি। এই নিয়মতান্ত্রিক ব্যর্থতার কারণ দেখিয়ে আগের জাতীয় কমিটি ভেঙে দেওয়ার প্রস্তাব আনা হয় এবং তা পাস করা হয়। এরপর ঋতব্রতদের নেতৃত্বাধীন ‘তৃণমূল’ নতুন জাতীয় কমিটি গঠন করে। এই কমিটির চেয়ারম্যান হয়েছেন মধ্য হাওড়ার বিধায়ক অরূপ রায়। 

নতুন কমিটির সহসভাপতি করা হয়েছে রাজ্যের সাবেক মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকে। এ ছাড়া তৃণমূলের আরও দুই বিধায়ক ফিরহাদ হাকিম ও রথীন ঘোষকেও সহসভাপতি করা হয়েছে। সাধারণ সম্পাদক পদে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়াও রয়েছেন জাভেদ খান, সন্দীপন সাহা ও সাবিনা ইয়াসমিন। নতুন কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আখরুজ্জামানকে। 

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো,  সোমবার বিদ্রোহীদের এই বৈঠকের ব্যানারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোনো ছবি ছিল না। সেখানে শুধু মহাত্মা গান্ধী, বি আর আম্বেদকর, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং কাজী নজরুল ইসলামের ছবি রাখা হয়েছিল।

বিধানসভা নির্বাচনে বড় পরাজয়ের পর থেকেই মূলত তৃণমূলের ভেতরে অসন্তোষ ও বিদ্রোহের সূত্রপাত হয়। সেই ক্ষোভ ধীরে ধীরে বড় আকারের কোন্দলে রূপ নেয়। একে একে দলের বিধায়করা প্রকাশ্যে বিদ্রোহ করতে শুরু করেন। সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে, আনন্দবাজার পত্রিকা।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান চুক্তি কূটনৈতিক সাফল্য পেল পাকিস্তান

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৯:১০ এএম
কূটনৈতিক সাফল্য পেল পাকিস্তান
সুইজারল্যান্ডের লেক লুসার্নের বুর্গেনষ্টক রিসোর্টে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের শান্তি প্রক্রিয়া নিয়ে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের মধ্যে আলোচনার সময় মধ্যস্থতাকরেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধ বন্ধের চুক্তি সংক্রান্ত বৈঠকে মধ্যস্থতা করে বড় ধরনের কূটনৈতিক সাফল্য পেয়েছে পাকিস্তান। গত রবিবার সুইজারল্যান্ডে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল অসীম মুনির উপস্থিত ছিলেন। এই ঐতিহাসিক আলোচনার পর আন্তর্জাতিক মহলে পাকিস্তানের ভূমিকা বেশ প্রশংসিত হচ্ছে।

কূটনৈতিক সূত্রমতে, সম্পাদিত এই চুক্তিটি কোনো স্থায়ী শান্তিচুক্তি নয়। এটি মূলত একটি অন্তর্বর্তী কাঠামো মাত্র। এর মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যকার বিপজ্জনক সংঘাত সাময়িকভাবে থামানো হয়েছে। এই চুক্তি আগামী ৬০ দিনের জন্য একটি আলোচনার সুযোগ তৈরি করেছে। এই সময়ের মধ্যে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও পারমাণবিক সীমাবদ্ধতার মতো জটিল বিষয়ের সমাধান করতে হবে। শেষ মুহূর্তে লেবাননকেন্দ্রিক কিছু মতবিরোধের কারণে চুক্তিটি প্রায় ভেস্তে যেতে বসেছিল। কিন্তু পাকিস্তান ও কাতারের প্রচেষ্টায় এই প্রক্রিয়া রক্ষা পায়।

পাকিস্তান কেবল পরোপকারের জন্য এই মধ্যস্থতায় জড়ায়নি। এর পেছনে দেশটির নিজস্ব সুনির্দিষ্ট স্বার্থ ছিল। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ হলে পাকিস্তানের অর্থনীতি সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হতো। ইরানের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রায় ৯০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। এ ছাড়া পাকিস্তান জ্বালানি সরবরাহের জন্য পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর গভীরভাবে নির্ভরশীল। সেখানে যুদ্ধ চললে তেলের দাম বাড়ত এবং সামুদ্রিক বাণিজ্য ব্যাহত হতো। তাই এই মধ্যস্থতা ছিল পাকিস্তানের জন্য একধরনের কৌশলগত আত্মরক্ষা।

এই কূটনীতির প্রথম সুফল ইতোমধ্যেই দৃশ্যমান হয়েছে। পাকিস্তান বিশ্বমঞ্চে প্রমাণ করেছে আন্তর্জাতিক সংকট নিরসনে তারা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তানের আলোচনা কেবল অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকটের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। এই মধ্যস্থতা সেই নেতিবাচক ভাবমূর্তি অনেকটাই বদলে দিয়েছে। বিশ্ব এখন পাকিস্তানকে সংকটের উৎস হিসেবে নয়, বরং সংকট সমাধানের মাধ্যম হিসেবে দেখছে। ওয়াশিংটন এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর কাছে ইসলামাবাদের কূটনৈতিক গুরুত্ব নতুন করে তৈরি হয়েছে।

পাকিস্তানের জন্য আসল পুরস্কার লুকিয়ে আছে নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের উত্তেজনা কমলে পাকিস্তানের পশ্চিম সীমান্তে চাপ কমবে। এতে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে এবং জ্বালানিসংকটের ঝুঁকি হ্রাস পাবে। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, এই সফল মধ্যস্থতার ফলে পাকিস্তান এখন ইরান, সৌদি আরব, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার সুযোগ পাচ্ছে। 

অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও পাকিস্তানের সামনে বড় সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা কমলে এই অঞ্চলের বাণিজ্য রুটে বড় পরিবর্তন আসবে। দীর্ঘকাল ধরে দুবাই ছিল ইরানের প্রধান বাণিজ্যিক প্রবেশদ্বার। কিন্তু সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় আমিরাত ইরানি ব্যবসার ওপর কিছু নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এর ফলে ইরান এখন বিকল্প বাণিজ্য রুটের সন্ধান করছে। পাকিস্তান এই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে নিজেকে একটি বিকল্প রুট হিসেবে উপস্থাপন করতে পারে।

এদিকে চার মাস ধরে চলা ইরান যুদ্ধের পর মধ্যপ্রাচ্যে এক নতুন কূটনৈতিক মেরূকরণ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এই যুদ্ধের চূড়ান্ত পরিণতিতে পাকিস্তান এক বড় কূটনৈতিক বিজয়ী দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। যে যুদ্ধটি ইসরায়েলের সরাসরি অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছিল, তা এখন শেষ হচ্ছে ওয়াশিংটন, তেহরান এবং ইসলামাবাদের তৈরি করা একটি বিশেষ কাঠামোর মাধ্যমে। 

যুক্তরাষ্ট্র এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এখন এই কূটনৈতিক ট্র্যাকটি পরিচালনা করছে। তবে ইসরায়েল এই প্রক্রিয়ায় পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারী ভূমিকা নিয়ে প্রকাশ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। ভারতে নিযুক্ত ইসরায়েলি কনসাল জেনারেল ইয়ানিভ রেভাখ স্পষ্ট করেই বলেছেন, পাকিস্তান ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে উঠে আসুক, তা ইসরায়েল একেবারেই পছন্দ করছে না। অবশ্য জেরুজালেম মার্কিন সরকারের ওপর আস্থা রাখছে। 

পাকিস্তানের এই কূটনৈতিক সাফল্যের পেছনে মূল শক্তি হিসেবে কাজ করেছে তার ভৌগোলিক অবস্থান। ইরান, আফগানিস্তান এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের মাঝখানে পাকিস্তানের অবস্থান তাকে একটি স্থায়ী কৌশলগত সুবিধা এনে দিয়েছে। অতীতে ওসামা বিন লাদেনের উপস্থিতি নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ক কিংবা পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক সংকট–কোনো কিছুই ওয়াশিংটনের কাছে ইসলামাবাদের গুরুত্ব কমাতে পারেনি। ভৌগোলিক অবস্থানগত শক্তি কোনো আন্তর্জাতিক শুভেচ্ছা বা বন্ধুত্বের ওপর নির্ভর করে না, এটি একটি বাস্তব সত্য। ইসরায়েলের অস্বস্তির মূল কারণও এটিই।

সূত্র: দ্য ডন, জেরুজালেম পোস্ট

ব্রিটেনে ১০ বছরে ৬ প্রধানমন্ত্রী, কেন বাড়ছে রাজনৈতিক অস্থিরতা?

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৯:০৩ এএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬, ০৯:০৫ এএম
ব্রিটেনে ১০ বছরে ৬ প্রধানমন্ত্রী, কেন বাড়ছে রাজনৈতিক অস্থিরতা?
ছবি: সংগৃীহত

লন্ডনের ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটের সেই বিখ্যাত চকচকে কালো দরজাটি ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীদের সরকারি বাসভবন। প্রায় ৩০০ বছরের ইতিহাসে এই বাড়িটি বহু বিখ্যাত নেতার সাক্ষী হয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিল এখানে কাটিয়েছেন মোট ৯ বছর। ১৯৮০-এর দশকে ‘লৌহমানবী’ মার্গারেট থ্যাচার প্রায় ১২ বছর এবং টনি ব্লেয়ার ১৯৯৭ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত টানা এক দশক এখানে বাস করেছেন।

তবে গত ১০ বছরের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। ২০১৬ সালের পর থেকে এ পর্যন্ত ছয়জন প্রধানমন্ত্রী এই বাসভবনে এসেছেন। পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে, মালপত্র গোছানোর আগেই অনেককে বিদায় নিতে হয়েছে। শুধু গত চার বছরেই চারজন প্রধানমন্ত্রী পরিবর্তন দেখেছে ব্রিটেন।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের নিয়ম

যুক্তরাজ্যের ভোটাররা আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মতো সরাসরি তাদের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন করেন না। এর পরিবর্তে, ভোটাররা ব্রিটিশ পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ ‘হাউস অব কমন্স’-এর সদস্য (এমপি) নির্বাচন করেন। পার্লামেন্টে যে দল সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পায়, সাধারণত সেই দলের নেতাই প্রধানমন্ত্রী হন।

রাজনৈতিক দলগুলো তাদের নিজস্ব অভ্যন্তরীণ নির্বাচনের মাধ্যমে যেকোনো সময় নেতা পরিবর্তন করতে পারে। যদি কোনো ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী দলের পর্যাপ্ত সদস্যের আস্থা হারান, তবে তাকে পদ ছাড়তে হয়। প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করলে বা দল থেকে বহিষ্কৃত হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার প্রধানমন্ত্রিত্ব চলে যায়।

এই ব্যবস্থার কারণে সাধারণ নির্বাচন ছাড়াই প্রধানমন্ত্রী পরিবর্তন সম্ভব। তবে ক্ষমতাসীন দলটির হাতেই সরকারের নিয়ন্ত্রণ থাকে। যুক্তরাজ্যের আইন অনুযায়ী, সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর সাধারণ নির্বাচন হওয়া বাধ্যতামূলক। তবে ক্ষমতাসীন সরকার চাইলে যেকোনো সময় আগাম নির্বাচন দিতে পারে। গত এক দশকে এমন ঘটনা বারবার ঘটেছে, যা দেশটির রাজনীতিতে এক ধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরি করেছে।

ব্রেক্সিট: ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে জটিল বিচ্ছেদ

এই রাজনৈতিক সংকটের শুরু ২০১৬ সালের ব্রেক্সিট (ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ব্রিটেনের বের হয়ে যাওয়া) গণভোটের মাধ্যমে। ওই ভোটে অল্প ব্যবধানে ব্রেক্সিটের পক্ষে রায় দেয় জনগণ। এর ফলে দেশটির রাজনীতিতে যে বড় ধরনের মেরূকরণ শুরু হয়, তার প্রভাব এখনো চলছে।

তৎকালীন কনজারভেটিভ পার্টির প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন ২০১৫ সালের নির্বাচনী প্রচারণার প্রতিশ্রুতি বলেছিলেন, তিনি জিতলে ইইউ সদস্যপদের বিষয়ে গণভোট দেবেন। নির্বাচনে জিতে তিনি ক্ষমতায় ফিরলেও গণভোটের ফলাফল তার পক্ষে যায়নি। তিনি ইইউ-তে থাকার পক্ষে প্রচার চালিয়েছিলেন। ফলে ২০১৬ সালের জুলাইয়ে তিনি পদত্যাগ করেন।

ব্রেক্সিট কনজারভেটিভ পার্টিকে পুরোপুরি বদলে দেয়। দলটির অনেক পুরোনো ভোটার দল ছেড়ে পপুলিস্ট বা জনমতভিত্তিক ব্রেক্সিট আন্দোলনের দিকে ঝুঁকে পড়েন। অন্যদিকে প্রধান বিরোধী দল লেবার পার্টির প্রথাগত শ্রমজীবী শ্রেণির সমর্থকরাও ব্রেক্সিটকে সমর্থন করেন।

মে, জনসন, ট্রাস ও সুনাক যুগ

ব্রেক্সিট আন্দোলনের সময় ভোটারদের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল যে, ইইউ থেকে বের হলে অভিবাসন কমবে, অর্থনীতির উন্নতি হবে এবং জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা (এনএইচএস) বড় তহবিল পাবে। কিন্তু করোনা মহামারি, ইউক্রেন যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে সেই প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করা কঠিন হয়ে পড়ে। উল্টো ব্রিটেনজুড়ে শুরু হয় রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা এবং অর্থনৈতিক স্থবিরতা।

ক্যামেরনের পর ব্রেক্সিট বাস্তবায়নের দায়িত্ব পাওয়া থেরেসা মে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে ২০১৯ সালে চোখের জলে বিদায় নেন। এরপর ‘গেট ব্রেক্সিট ডান’ স্লোগান দিয়ে ক্ষমতায় আসেন বরিস জনসন। অভিবাসন কমানোর প্রতিশ্রুতি দিলেও তার সময়েই রেকর্ডসংখ্যক মানুষ দেশটিতে প্রবেশ করে, যা দলের প্রতি জনগণের আস্থা ধসিয়ে দেয়। শেষ পর্যন্ত লকডাউনের নিয়ম ভেঙে ডাউনিং স্ট্রিটে পার্টি করা (পার্টিগেট কেলেঙ্কারি) এবং এক যৌন নিপীড়নে অভিযুক্ত নেতাকে পদোন্নতি দেওয়ার অভিযোগে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে জনসন পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।

এরপর লিজ ট্রাস আসেন, যিনি মাত্র ৪৫ দিন ক্ষমতায় থেকে ব্রিটেনের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময় দায়িত্ব পালন করা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে রেকর্ড গড়েন। তার কর ছাড়ের বিতর্কিত ‘মিনি-বাজেট’ আর্থিক বাজারে ধস নামায়। ট্রাসের পর আসেন ঋষি সুনাক। তিনি প্রায় দুই বছর টিকলেও মহামারি ও যুদ্ধের কারণে তৈরি হওয়া জীবনযাত্রার ব্যয় সংকট মোকাবিলা করতে পারেননি। ফলে ১৪ বছরের কনজারভেটিভ শাসনের পর ২০২৪ সালের জুলাইয়ের সাধারণ নির্বাচনে লেবার পার্টির কাছে দলটির বিশাল পরাজয় ঘটে।

লেবার পার্টিতেও সংকট, দোরগোড়ায় কি নতুন কেউ?

২০২৪ সালের নির্বাচনে বিশাল জয় নিয়ে লেবার পার্টির নেতা কিয়ার স্টারমার প্রধানমন্ত্রী হন। কিন্তু দুই বছর পার হওয়ার আগেই তার সরকারও এখন খাদের কিনারায়। নীতি পরিবর্তন, অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনার অভাবে তার নেতৃত্ব প্রশ্নের মুখে পড়েছে। এ ছাড়া দণ্ডিত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টাইনের বন্ধু পিটার ম্যান্ডেলসনকে যুক্তরাষ্ট্রে ব্রিটেনের রাষ্ট্রদূত নিয়োগ করা নিয়ে স্টারমার কেলেঙ্কারিতে জড়িয়েছেন।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত স্থানীয় সরকার নির্বাচনে লেবার পার্টির শোচনীয় পরাজয় স্টারমারের প্রধানমন্ত্রিত্বের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। দলের বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা ইতোমধ্যেই পদত্যাগ করেছেন এবং তাকে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। অন্তত দুজন দলীয় প্রতিদ্বন্দ্বী তাকে নেতৃত্বের চ্যালেঞ্জ জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

এই রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলার সুযোগ নিয়েছেন ব্রেক্সিটের অন্যতম কারিগর এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আদর্শিক মিত্র নাইজেল ফারাজ। তার দল ‘রিফর্ম ইউকে’ সাম্প্রতিক নির্বাচনে দারুণ ফলাফল করে মূলধারার রাজনীতিতে শক্তিশালী অবস্থানে চলে এসেছে।

আইন অনুযায়ী ২০২৯ সালের আগস্টের আগে স্টারমারকে নির্বাচন ডাকতে হবে। তিনি যদি দলের অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ সামলাতে পারেন, তবে হয়তো ততদিন টিকে থাকবেন। কিন্তু তার ওপর চাপ দ্রুত বাড়ছে। দল যদি নতুন কোনো নেতা নির্বাচন করে, তবে ২০২৯ সালের আগেই দেশে নতুন সাধারণ নির্বাচনের দাবি জোরালো হবে।

ওপিনিয়ন রিসার্চ সংস্থা ‘মোর ইন কমন’-এর ইউকে ডিরেক্টর লিউক ট্রিল বলেন, ‘২০১৬ সালের ব্রেক্সিট গণভোটের পর থেকে প্রতিটি ভোটই মূলত পরিবর্তনের পক্ষে ছিল। জনগণ আধুনিক ব্রিটেনের বর্তমান কাঠামো নিয়ে সন্তুষ্ট নয়। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন না আসায় এই রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা তৈরি হয়েছে। সূত্র: সিবিসি নিউজ

মানবাধিকার কমিশন আইন সংশোধনের দাবি

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৮:৪৫ এএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬, ০৯:০৯ এএম
মানবাধিকার কমিশন আইন সংশোধনের দাবি
জাতীয় মানবাধিকার কমিশন

প্রস্তাবিত ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, ২০২৬’ সংশোধন করার জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ (এইচআরডব্লিউ) ১২টি মানবাধিকার সংস্থা। তারা বলেছে, এই খসড়া আইনটি মানবাধিকার সুরক্ষা এবং কমিশনের প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতার জন্য একটি বড় ধাক্কা। নতুন এই বিলের মাধ্যমে কমিশনের ক্ষমতা ও স্বাধীনতা মারাত্মকভাবে খর্ব করা হয়েছে। এর আগে ২০২৫ সালে একটি মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল। গত এপ্রিল মাসে সরকার সেই অধ্যাদেশটি বাতিল করে দেয়। নতুন খসড়া আইনটি ওই অধ্যাদেশের চেয়ে অনেক দুর্বল। এটি কমিশনের কার্যকারিতা এবং গ্রহণযোগ্যতা কমিয়ে দেবে বলে সংস্থাগুলো আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।

সংস্থাগুলো এক যৌথ বিবৃতিতে এই উদ্বেগের কথা জানিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, বর্তমান সময়ে বাংলাদেশে গুম, নির্যাতন, হেফাজতে মৃত্যু, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও নাগরিক অধিকারের ওপর আঘাত বন্ধ করতে শক্তিশালী তদারকি ব্যবস্থা প্রয়োজন। কিন্তু প্রস্তাবিত আইনটি উল্টো পথে হাঁটছে। এটি পাস হলে মানবাধিকার কমিশন একটি প্রতীকী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে জবাবদিহির আওতায় আনার কোনো ক্ষমতা এর থাকবে না।

আন্তর্জাতিক প্যারিস নীতিমালা অনুযায়ী জাতীয় মানবাধিকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বাধীন হতে হয়। কিন্তু নতুন বিলে কমিশনের স্বাধীনতা খর্ব করা হয়েছে। কমিশনের বাছাই কমিটিতে সরকারি কর্মকর্তাদের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক প্রভাব বাড়বে। আগের অধ্যাদেশে বাছাই কমিটিতে গণমাধ্যম ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধি রাখার নিয়ম ছিল। নতুন বিলে তা বাদ দেওয়া হয়েছে। আইন ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মতো সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে স্বার্থের সংঘাত তৈরি হবে। কারণ সরকারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্ত যারা করবেন, তাদের বাছাই করার মূল দায়িত্বে থাকবে সরকার নিজেই।

বিলটিতে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বাহিনীকে জবাবদিহি থেকে আড়াল করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়। বাংলাদেশে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার মতো গুরুতর অভিযোগগুলো প্রায়ই নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে ওঠে। কিন্তু নতুন খসড়া অনুযায়ী কমিশন নিজে এসব ঘটনার স্বাধীন তদন্ত করতে পারবে না। সংশ্লিষ্ট বাহিনীর প্রধান বা সরকারের দেওয়া রিপোর্টের ওপর কমিশনকে নির্ভর করতে হবে। 

সংস্থাগুলো সরকারকে এই বিলটি পুনর্বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছে। তারা অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে আইনটি সংশোধনের দাবি তুলেছে। তারা কমিশনের আর্থিক ও প্রশাসনিক স্বাধীনতা ফিরিয়ে দেওয়া এবং নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে স্বাধীন তদন্তের ক্ষমতা দেওয়ার দাবি জানায়।

এই যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে রয়েছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, সিভিকাস (ওয়ার্ল্ড অ্যালায়েন্স ফর সিটিজেন পার্টিসিপেশন), এশিয়ান ফোরাম ফর হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (ফোরাম-এশিয়া), এশিয়ান ফেডারেশন অ্যাগেইনস্ট ইনভলান্টারি ডিসঅ্যাপিয়ারেন্সেস (এএফএডি), অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য প্রিভেনশন অব টর্চার (এপিটি), ক্যাপিটাল পানিশমেন্ট জাস্টিস প্রজেক্ট (সিপিজেপি), আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ফেডারেশন (এফআইডিএইচ), অধিকার, রবার্ট অ্যান্ড এথেল কেনেডি হিউম্যান রাইটস সেন্টার, রিড্রেস এবং ওয়ার্ল্ড অর্গানাইজেশন অ্যাগেইনস্ট টর্চার (ওএমসিটি)।

পরবর্তী ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ১০:৫৩ পিএম
পরবর্তী ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম
অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগের ঘোষণার মধ্য দিয়ে দেশটিতে নতুন নেতৃত্ব বাছাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং এক দশকের মধ্যে সপ্তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন লেবার পার্টির জ্যেষ্ঠ নেতা অ্যান্ডি বার্নহ্যাম।

মাত্র গত সপ্তাহে উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে আবার পার্লামেন্টে ফেরা বার্নহ্যামকে স্টারমারের উত্তরসূরি হিসেবে সবচেয়ে এগিয়ে রাখা হচ্ছে। সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী ওয়েস স্ট্রিটিংও তাকে সমর্থন জানিয়েছেন।

সোমবার (২২ জুন) ডাউনিং স্ট্রিটের ১০ নম্বর বাসভবনের সামনে আবেগঘন ভাষণে পদত্যাগের ঘোষণা দেন স্টারমার। কণ্ঠ ভারী হয়ে আসা ভাষণে তিনি স্বীকার করেন, দুই বছর ক্ষমতায় থাকার পর তিনি লেবার পার্টির সংসদ সদস্যদের আস্থা হারিয়েছেন।

তিনি জানান, নতুন লেবার নেতা এবং সেই সূত্রে নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের পথ সুগম করতে তিনি রাষ্ট্রপ্রধান রাজা তৃতীয় চার্লসকে তার পদত্যাগের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছেন।

স্টারমার বলেন, ‘নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করব এবং সুশৃঙ্খলভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করব।’

এ সময় স্ত্রী ভিক্টোরিয়া ও দুই সন্তানকে ধন্যবাদ জানাতে গিয়ে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

২০২৪ সালের জুলাইয়ে কনজারভেটিভ পার্টিকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে ১৪ বছর পর লেবার পার্টিকে আবার ক্ষমতায় ফিরিয়েছিলেন স্টারমার। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই তার সরকার একের পর এক নীতিগত অবস্থান পরিবর্তন, মন্ত্রীদের পদত্যাগ এবং জনসমর্থন হ্রাসের কারণে চাপে পড়ে।

লেবারের আস্থাহীনতা

লেবার পার্টির সংসদ সদস্যদের একাংশ মনে করেন, অভিবাসনবিরোধী ডানপন্থী দল রিফর্ম ইউকের উত্থান ঠেকাতে স্টারমার আর সক্ষম নন। জাতীয় জনমত জরিপগুলোতেও দলটি এগিয়ে রয়েছে।

মে মাসে স্থানীয় ও আঞ্চলিক নির্বাচনে লেবারের ভরাডুবির পর থেকেই স্টারমারের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। গত সপ্তাহে বার্নহ্যামের উপনির্বাচনে জয় সেই চাপ আরও বাড়িয়ে দেয়।

যদিও স্টারমার আগে বলেছিলেন তিনি যেকোনো নেতৃত্ব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করবেন, তবে বার্নহ্যামের জয়ের পর দলের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী তাকে জানান যে তার সরে দাঁড়ানোর সময় এসেছে।

স্টারমার বলেন, ‘আমার দল এখন নিজেকে প্রশ্ন করছে, পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য আমি কি সবচেয়ে উপযুক্ত ব্যক্তি?’

‘আমার সংসদীয় দলের উত্তর আমি শুনেছি এবং সেটি আমি সাদরে গ্রহণ করছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি যে সিদ্ধান্তই নিয়েছি, সবসময় আমার প্রিয় দেশকে অগ্রাধিকার দিয়েই নিয়েছি। আর সে কারণেই আমি লেবার পার্টির নেতার পদ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছি।’

সেপ্টেম্বরে নতুন নেতা

স্টারমার জানান, তিনি লেবারের জাতীয় নির্বাহী কমিটিকে (এনইসি) নতুন নেতা নির্বাচনের সময়সূচি নির্ধারণ করতে বলেছেন। আগামী ৯ জুলাই থেকে মনোনয়ন গ্রহণ শুরু হবে।

তার ভাষ্য, ‘এর ফলে গ্রীষ্মকালীন অবকাশ শেষে সেপ্টেম্বরে পার্লামেন্ট অধিবেশন শুরু হওয়ার আগেই নতুন নেতা দায়িত্ব নিতে পারবেন।’

ভাষণ শেষে স্ত্রীকে আলিঙ্গন করেন স্টারমার। এ সময় ব্রেক্সিটবিরোধী এক কর্মী কাছাকাছি একটি সড়ক থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সংগীত ‘ওড টু জয়’ বাজিয়ে তার বক্তব্যে ব্যাঘাত ঘটানোর চেষ্টা করেন।

এদিকে এক্সে দেওয়া পোস্টে বার্নহ্যাম বলেন, ‘এই পরিবর্তন প্রক্রিয়া সুশৃঙ্খল ও দায়িত্বশীলভাবে সম্পন্ন হওয়া প্রয়োজন। আমি এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে নিজেকে প্রার্থী হিসেবে উপস্থাপন করব।’

অল্প সময়ের মধ্যেই সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং ঘোষণা দেন, তিনি নেতৃত্ব নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না; বরং বার্নহ্যামকে সমর্থন করবেন।

স্ট্রিটিং বলেন, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে বার্নহ্যামের সঙ্গে তার আলোচনা হয়েছে এবং তিনি বিশ্বাস করেন, ‘জাতীয়তাবাদী শক্তির বিরুদ্ধে আমাদের অস্তিত্বের এই লড়াইয়ে জয়ী হওয়ার সক্ষমতা বার্নহ্যামের রয়েছে।’

‘পরিবর্তনের শেষ সুযোগ’

গত সপ্তাহে উপনির্বাচনে জয়ের পর বার্নহ্যাম বলেছিলেন, লেবারের সামনে এটি ‘পরিবর্তনের শেষ সুযোগ’।

৫৬ বছর বয়সী বার্নহ্যাম লেবারের বিশাল সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথে এগিয়ে থাকলেও, তার জনপ্রতিনিধিত্বের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রিফর্ম ইউকের নেতা নাইজেল ফারাজ ইতোমধ্যে আগাম সাধারণ নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন।

রাজনীতিতে দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বার্নহ্যাম ২০০০-এর দশকে সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৭ সাল থেকে তিনি গ্রেটার ম্যানচেস্টরের মেয়র ছিলেন।

সাম্প্রতিক উপনির্বাচনে তিনি সহজেই রিফর্ম ইউকের প্রার্থীকে পরাজিত করেন। তবে লেবারের ‘সফট-লেফট’ ঘরানার এ নেতা ক্ষমতায় এলে কী ধরনের নীতি অনুসরণ করবেন, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কিছু জানাননি। এতে দলের কিছু সংসদ সদস্যের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।

ব্রিটিশ গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী হলে তিনি অর্থমন্ত্রী র‌্যাচেল রিভসকে সরিয়ে দিতে পারেন, তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদকে বহাল রাখতে পারেন। সূত্র: এএফপি

নাঈম/