ঢাকা ১০ আষাঢ় ১৪৩৩, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
২৪ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি মেক্সিকোর চোখ গ্রুপসেরায়, দ.কোরিয়ার সামনে নকআউট নিশ্চিতের সুযোগ অপেক্ষা ফুরাচ্ছে ওচোয়ার! ইংল্যান্ডকে জিততে দিল না ঘানা মায়ের মৃত্যুতে দেশে ফিরে গেলেন ফ্রান্সের কোচ অতঃপর দেম্বেলে… প্রথমার্ধে ইংল্যান্ডকে রুখে দিল ঘানা বিশ্বকাপে ইরানের সফর নীতি নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবলের ক্যানভাসে চিরযৌবন নেইমারে ভয় নেই স্কটল্যান্ডের মাঠে হেঁটেই সফল মেসি রোনালদোর রেকর্ডের রাতে পর্তুগালের গোল উৎসব ৪১ বছরেও থামেননি রোনালদো, ভাঙলেন মেসির রেকর্ড পর্তুগিজ কিংবদন্তিতে ছাড়িয়ে শীর্ষে রোনালদো রোনালদোর বিশ্বরেকর্ড, প্রথমার্ধে উজবেকিস্তানের জালে ৩ গোল পর্তুগালের গোল করেই ইতিহাস গড়লেন রোনালদো ফ্রান্স ম্যাচ নিয়ে ভাবছেন না হালান্ড তৃণমূল থেকে ফিরহাদ-অরূপসহ ৮ নেতা বহিষ্কার উপদেষ্টা জাহেদের ফেরা ছিল তার নিজের সিদ্ধান্ত: জয়সওয়াল কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় সিএফমোটো বাংলাদেশের নতুন শোরুম উদ্বোধন পর্তুগালের একাদশে ২ পরিবর্তন ব্লিং লেদার প্রোডাক্টস লিমিটেড ঘুরে দেখলেন রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি বিস্ফোরক সংকটে বন্ধ মধ্যপাড়া পাথরখনির উত্তোলন কার্যক্রম জলবায়ু অঙ্গীকার বাস্তবায়নে বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর হরমুজ প্রণালিতে রেকর্ড তেল রপ্তানির তথ্য দিলেন ট্রাম্প কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিশু নির্যাতন ও ধর্ষণবিরোধী মানববন্ধন আলোচিত কৃষক কবির হোসেন আর নেই ‘জুয়া প্রতিরোধ বিল, ২০২৬’ সংসদে উত্থাপন আদব মানুষকে সম্মানিত করে, আদবহীনতা মর্যাদা নষ্ট করে: ছারছীনার পীর ছাহেব কারা পাবেন হেদায়েতের এই পরম নিয়ামত?

গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ম্যাক্রোঁ বলেন: ইউরোপ গুন্ডাদের কাছে নতি স্বীকার করবে না

প্রকাশ: ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:২২ পিএম
আপডেট: ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:২৪ পিএম
গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ম্যাক্রোঁ বলেন: ইউরোপ গুন্ডাদের কাছে নতি স্বীকার করবে না
ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ

ট্রাম্পের আক্রমণাত্মক বার্তার জবাবে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ মঙ্গলবার কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছেন যে, ইউরোপ গুন্ডাদের কাছে নতি স্বীকার করবে না বা ভয় পাবে না। ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড বিক্রির প্রস্তাবে ইউরোপ রাজি না হলে বড় অংকের শুল্ক আরোপের যে হুমকি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দিয়েছেন, তার তীব্র সমালোচনা করে ম্যাক্রোঁ এসব কথা বলেন।

অন্যান্য ইউরোপীয় নেতারা আটলান্টিক ওপারের এই বিবাদ যাতে আর না বাড়ে সেজন্য পরিমিত সুর বজায় রাখার চেষ্টা করলেও ম্যাক্রোঁ সরাসরি পাল্টা আক্রমণ করেছেন।

সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে ম্যাক্রোঁ বলেন, ফ্রান্স এবং ইউরোপ নিষ্ক্রিয়ভাবে শক্তিশালীদের আইন মেনে নেবে না। তিনি আরও যোগ করেন যে, তা করা হলে তারা অন্যের অনুগত বা দাসে পরিণত হবে।

পরিবর্তে তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্ব যখন নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা করছে না, তখন ইউরোপ আঞ্চলিক সার্বভৌমত্ব এবং আইনের শাসনের পক্ষে কথা বলে যাবে। প্রয়োজনে ইউরোপীয় ইউনিয়ন পাল্টা কঠোর বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা দিয়ে এর জবাব দিতে পারে।

ম্যাক্রোঁ বলেন, ‘‘আমরা গুন্ডাদের চেয়ে সম্মানকে বেশি গুরুত্ব দিই এবং নৃশংসতার চেয়ে আইনের শাসনকে বেশি প্রাধান্য দিই।’’ ভাষণের সময় ম্যাক্রোঁ এভিয়েটর সানগ্লাস পরেছিলেন। এলিসি প্রাসাদ জানিয়েছে, চোখের রক্তনালী ফেটে যাওয়ায় চোখ সুরক্ষার জন্য তিনি এটি পরেছেন।

ট্রাম্প ফরাসি ওয়াইন ও শ্যাম্পেনের ওপর বিশাল শুল্ক আরোপের হুমকি দেওয়ার এবং ম্যাক্রোঁর পাঠানো ব্যক্তিগত বার্তা জনসমক্ষে প্রকাশ করে দেওয়ার পর এই ভাষণ দেন তিনি। ট্রাম্পের এমন কর্মকাণ্ডকে কূটনৈতিক শিষ্টাচারের নজিরবিহীন লঙ্ঘন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

গত শনিবার ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, গ্রিনল্যান্ড দখল বা অধিগ্রহণের অনুমতি না দেওয়া পর্যন্ত ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ফ্রান্সসহ বেশ কয়েকজন ইউরোপীয় মিত্রের ওপর দফায় দফায় শুল্ক বাড়ানো হবে। ইইউ-এর প্রধান রাষ্ট্রগুলো ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে ‘ব্ল্যাকমেইল’ হিসেবে নিন্দা জানিয়েছে।

ম্যাক্রোঁ বলেন, ওয়াশিংটনের এই অবিরাম শুল্ক বৃদ্ধি মৌলিকভাবে অগ্রহণযোগ্য। তিনি আরও বলেন, ‘‘যখন আঞ্চলিক সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে এগুলোকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়, তখন এটি আরও বেশি অগ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠে।’’

ইউরোপের পরবর্তী পদক্ষেপ কী?

গ্রিনল্যান্ড সংকট নিয়ে জরুরি আলোচনার জন্য আগামী বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ব্রাসেলসে একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলন ডেকেছেন ইইউ নেতারা। ট্রাম্প গত গ্রীষ্মে ইইউ-এর সঙ্গে একটি বাণিজ্য চুক্তিতে সম্মত হওয়ার পর ইইউ ৯৩ বিলিয়ন ইউরোর মার্কিন পণ্যের ওপর যে শুল্ক স্থগিত রেখেছিল, তা আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হতে পারে।

ম্যাক্রোঁ ইইউকে তাদের ‘অ্যান্টি-কোয়ার্সন ইনস্ট্রুমেন্ট’ (যা অনানুষ্ঠানিকভাবে ‘ট্রেড বাজুকা’ নামে পরিচিত) ব্যবহারের জন্য চাপ দিচ্ছেন। এটি ব্যবহার করলে মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সরকারি টেন্ডারে অংশ নেওয়া বা প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মের মতো পরিষেবা খাতে বাণিজ্য সীমিত হয়ে যেতে পারে। 

ম্যাক্রোঁ বলেন, পরিস্থিতি এতটা খারাপ হওয়াটা একটা ‘পাগলামি’।

সম্পর্কের অবনতি

ন্যাটো সদস্য ডেনমার্কের কাছ থেকে আর্কটিক দ্বীপ গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব কেড়ে নেওয়ার ট্রাম্পের এই জেদ ইউরোপের সঙ্গে আমেরিকার সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটিয়েছে। এটি ইউরোপীয় শিল্পখাত এবং আর্থিক বাজারেও বড় ধাক্কা দিয়েছে।

এছাড়া ট্রাম্পের প্রস্তাবিত নতুন আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘বোর্ড অব পিস’-এ যোগ দিতে ফ্রান্সের অনীহায় ট্রাম্প ক্ষুব্ধ হয়েছেন। প্যারিসের আশঙ্কা, এই সংস্থাটি জাতিসংঘের ভূমিকাকে খর্ব করতে পারে। 

ম্যাক্রোঁর এই অবস্থান সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প সোমবার রাতে বলেন, ‘‘আমি তার (ম্যাক্রোঁর) ওয়াইন এবং শ্যাম্পেনের ওপর ২০০% শুল্ক আরোপ করব, তখন সে ঠিকই যোগ দেবে; যদিও তার যোগ দেওয়ার কোনো দরকার নেই।’’

ব্যক্তিগত বার্তা প্রকাশ

এর কয়েক ঘণ্টা পর ট্রাম্প তার নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ম্যাক্রোঁর সঙ্গে বিনিময় করা মেসেজের একটি স্ক্রিনশট প্রকাশ করেন। ম্যাক্রোঁর ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে যে বার্তাটি সত্য। সেই বার্তায় ম্যাক্রোঁ ট্রাম্পকে বলেছিলেন, ‘‘আপনি গ্রিনল্যান্ড নিয়ে কী করছেন তা আমি বুঝতে পারছি না।’’

একই সঙ্গে তিনি রাশিয়া এবং অন্যদের আমন্ত্রণ জানিয়ে একটি জি-৭ বৈঠক আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তবে ট্রাম্প বা ফরাসি সূত্র মেসেজগুলোর নির্দিষ্ট তারিখ প্রকাশ করেনি।

দাভোসে কোনো বৈঠকের পরিকল্পনা নেই

ম্যাক্রোঁ নিশ্চিত করেছেন যে, তিনি দাভোসে তার সফর বুধবার পর্যন্ত দীর্ঘায়িত করবেন না। বুধবারেই ট্রাম্প সেখানে পৌঁছাবেন। ম্যাক্রোঁ বলেন, ‘‘আমার সূচি পরিবর্তন করার প্রয়োজন নেই।’’ তিনি জানান যে, আগে থেকেই তার সন্ধ্যায় চলে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল।

২০১৭ সাল থেকে প্রেসিডেন্টের দায়িত্বে থাকা ম্যাক্রোঁ ২০২৭ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকবেন। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের সময় থেকেই তাদের সম্পর্কে অনেক চড়াই-উতরাই দেখা গেছে—কখনও তারা একে অপরের প্রশংসা করেছেন, আবার কখনও কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেছেন।

ফরাসি কর্মকর্তারা ম্যাক্রোঁর সরাসরি ট্রাম্পের সঙ্গে যোগাযোগের প্রচেষ্টাকে সমর্থন করে বলেন যে, তারা প্রায়ই আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক চ্যানেলের বাইরে ফোনে কথা বলেন বা টেক্সট পাঠান। ম্যাক্রোঁর ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে, ম্যাক্রোঁ গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পক্ষে দাঁড়াচ্ছেন বলেই ট্রাম্প তাকে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছেন। 

ম্যাক্রোঁ শিবিরের আইনপ্রণেতা পিয়েরে-আলেকজান্দ্রে ল্যাংলেড রয়টার্সকে বলেন, ‘‘প্রতিরোধে নেতৃত্ব দেওয়ার কারণেই ফ্রান্স আজ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।’’ সূত্র: আল জাজিরা

মাহফুজ/

 

 

তৃণমূল থেকে ফিরহাদ-অরূপসহ ৮ নেতা বহিষ্কার

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ১১:০৬ পিএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬, ১১:০৬ পিএম
তৃণমূল থেকে ফিরহাদ-অরূপসহ ৮ নেতা বহিষ্কার
ছবি: সংগৃহীত

এবার সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের আট শীর্ষ নেতাকে বহিষ্কার করেছেন দলীয় প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বহিষ্কৃত নেতাদের মধ্যে রয়েছেন ফিরহাদ হাকিম, অরূপ রায়, জাভেদ আহমেদ খান, রথীন ঘোষ, বিপ্লব মিত্র, সাবিনা ইয়াসমিন, অরূপ বিশ্বাস এবং স্নেহাশিস চক্রবর্তী। দলবিরোধী কাজে যুক্ত থাকার অভিযোগে গতকাল মঙ্গলবার সকালে নিখিল ভারত তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে প্রথমে তাদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। তবে সেই শোকজের উত্তর পাওয়ার আগেই কালবিলম্ব না করে দুপুরে তাদের দল থেকে চূড়ান্তভাবে বহিষ্কার করা হয়। দলের বিরুদ্ধে গোপন বৈঠক ও বিদ্রোহীদের সঙ্গে হাত মেলানোর অভিযোগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছেন।

তবে এই চরম সিদ্ধান্তের নেপথ্যে রয়েছে তৃণমূলের অভ্যন্তরে তৈরি হওয়া এক গভীর সাংগঠনিক ফাটল। গত সোমবার কলকাতার নিউ টাউনের একটি হোটেলে বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে এক বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। দলীয় সূত্র জানায়, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে সর্বভারতীয় কার্যনির্বাহী কমিটি পুনর্গঠন না হওয়ায় জরুরি ভিত্তিতে এই বৈঠক ডাকা হয়েছিল। ২০২২ সালে সর্বশেষ কমিটি গঠনের পর নতুন কমিটি না হওয়াকে কেন্দ্র করেই এই সাংগঠনিক পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এই বৈঠকে দলের প্রায় ৬০ জন বিধায়ক এবং কলকাতা পুরসভার অন্তত ৭০ জন কাউন্সিলর উপস্থিত ছিলেন। সেখানে প্রতিনিধিদের সর্বসম্মত ভোটে ৩০ সদস্যের একটি নতুন জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়। 

বিদ্রোহী এই গোষ্ঠীটি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বাদ দিয়ে প্রবীণ নেতা ও হাওড়ার বিধায়ক অরূপ রায়কে তাদের নতুন কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত করেছে। নতুন এই কমিটিতে সহ-সভাপতি বা ভাইস চেয়ারম্যান পদের দায়িত্ব পেয়েছেন ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস, রথীন ঘোষ এবং সাবিনা ইয়াসমিন। সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, জাভেদ খান ও সন্দীপন সাহাকে। এ ছাড়া কোষাধ্যক্ষ হিসেবে আখরুজ্জামান আনসারিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। 

ওই বৈঠক ও কমিটি গঠন করায় ক্ষুব্ধ হন মমতা। তিনি বিদ্রোহীদের সঙ্গে হাত মেলানোর কারণে তার ঘনিষ্ঠ ৮ নেতাকে গতকাল বহিষ্কার করেন। বহিষ্কৃত এই আটজন সিনিয়র নেতা ও বিধায়ক ইতোমধ্যেই বিদ্রোহী নেতা ঋতব্রতের ‘আসল’ তৃণমূল শিবিরে যোগ দিয়েছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছায়াসঙ্গী ও দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের নিজের দিকে টেনে নিয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, আগামী দিনে এই তালিকায় আরও নতুন নাম যুক্ত হতে পারে। তিনি জেলা সভাপতি ও জেলা কমিটি গঠনেরও ঘোষণা দেন।

সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিয়েও তারা অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। তারা চান ‘দিদি’ মেন্টর বা অভিভাবকের ভূমিকা পালন করুন এবং তাদের পথ দেখান। 

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া, এনডিটিভি

হরমুজ প্রণালিতে রেকর্ড তেল রপ্তানির তথ্য দিলেন ট্রাম্প

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৯:৫৭ পিএম
হরমুজ প্রণালিতে রেকর্ড তেল রপ্তানির তথ্য দিলেন ট্রাম্প
ছবি: সংগৃহীত

কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে রেকর্ড ১ কোটি ৯০ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানির দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল–এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ তথ্য জানান। এ তথ্য প্রকাশ করেছে মিডল ইস্ট আই।

এই অর্জনকে ‘সর্বকালীন রেকর্ড’ হিসেবে অভিহিত করে ট্রাম্প লিখেন, ‘তেলের দাম হু হু করে কমছে এবং বিশ্ব এখন অনেক বেশি নিরাপদ স্থানে পরিণত হয়েছে!’ ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান শান্তি আলোচনার প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল হওয়াকে নিজের বড় সাফল্য হিসেবে তুলে ধরছেন ট্রাম্প।


তবে ট্রাম্পের দেয়া এই পরিসংখ্যান এখন পর্যন্ত স্বতন্ত্র কোনো সূত্র থেকে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সাধারণত হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের মোট খনিজ তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। গত কয়েক মাসের যুদ্ধের কারণে এই রুটে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়েছিল।

রেকর্ড তাপপ্রবাহে ফ্রান্সে ট্র্যাজেডি, পানিতে ডুবে ৪০ জনের মৃত্যু

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৮:৫৭ পিএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬, ০৯:৩৩ পিএম
রেকর্ড তাপপ্রবাহে ফ্রান্সে ট্র্যাজেডি, পানিতে ডুবে ৪০ জনের মৃত্যু
ছবি: সংগৃহীত

তীব্র তাপপ্রবাহে পুড়ছে ইউরোপ। ফ্রান্সসহ বেশির ভাগ দেশে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি বা তারও বেশি। সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি ফ্রান্সে। প্রচণ্ড গরম থেকে বাঁচতে গিয়ে গত কয়েক দিনে দেশটিতে পানিতে ডুবে অন্তত ৪০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

ফরাসি প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু মঙ্গলবার এক জরুরি বৈঠকের পর জানান, গত বৃহস্পতিবার থেকে তাপপ্রবাহসম্পর্কিত ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে বহু মানুষের, যাদের মধ্যে বেশির ভাগই তরুণ।

তিনি বলেন, ‘এরা এই সংকটের প্রথম শিকার।’ প্রায় ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার মধ্যে দেশজুড়ে জনজীবনে চরম চাপ সৃষ্টি হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

ফরাসি আবহাওয়া সংস্থা মেটিও-ফ্রান্স জানিয়েছে, সোমবার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত রাতটি ছিল ১৯৪৭ সাল থেকে শুরু হওয়া রেকর্ডের ইতিহাসে সবচেয়ে উষ্ণ রাত। গড় তাপমাত্রা ছিল ২১.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা ২০১৯ সালের আগের রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে।

তীব্র গরমে ফ্রান্সের বহু শহরে তাপমাত্রা রেকর্ড ভেঙেছে। বোর্দো ও পোয়াতিয়েরসহ একাধিক শহরে অতিরিক্ত তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ৫৪টি অঞ্চলে রেড হিট অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অনেকেই অনুমোদনহীন নদী ও জলাশয়ে সাঁতার কাটতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। এ ছাড়া গাড়ির ভেতরে অচেতন অবস্থায় পাওয়া দুই শিশু এবং বয়স্ক কয়েকজনের মৃত্যুর ঘটনাও তদন্ত করা হচ্ছে, যা তাপপ্রবাহ-সম্পর্কিত বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইউরোপজুড়ে চলমান এই তাপপ্রবাহ যুক্তরাজ্য ও স্পেনকেও প্রভাবিত করেছে। যুক্তরাজ্যে ৩৯ ডিগ্রির কাছাকাছি তাপমাত্রা পৌঁছাতে পারে বলে সতর্ক করেছে দেশটির আবহাওয়া দপ্তর। স্পেনের কিছু এলাকায়ও ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।

আল-জাজিরা/এসএন

ফিলিস্তিনি শিশুদের লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে ইসরায়েল: জাতিসংঘ তদন্ত কমিটি

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৩:৫৭ পিএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬, ০৪:১৩ পিএম
ফিলিস্তিনি শিশুদের লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে ইসরায়েল: জাতিসংঘ তদন্ত কমিটি
ছবি: সংগৃহীত

গাজা উপত্যকায় ফিলিস্তিনি শিশুদের সুপরিকল্পিতভাবে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনী। ফলে সেখানে গণহত্যা, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত হয়েছে। একই সঙ্গে অধিকৃত পশ্চিম তীরেও চালানো হয়েছে ব্যাপক যুদ্ধাপরাধ। 

মঙ্গলবার (২৩ জুন) জাতিসংঘের একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়। 

অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড এবং ইসরায়েল বিষয়ক জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশন এ প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ফিলিস্তিনি শিশুদের ওপর চালানো মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো বিশদভাবে খতিয়ে দেখেছে এই কমিশন। প্রতিবেদনে বলা হয়, গাজা যুদ্ধে নিহতদের প্রায় ৩০ শতাংশই শিশু।

কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, যুদ্ধ ছাড়াও ২০১৫ সালের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও ফিলিস্তিনি শিশুদের নিশানা করে হত্যা করা হয়েছে।

তদন্ত কমিশনের চেয়ারম্যান শ্রীনিবাসন মুরলীধরন এক বিবৃতিতে বলেন, 'ইসরায়েলি নিরাপত্তাবাহিনী ফিলিস্তিনি শিশুদের সুপরিকল্পিতভাবে নিশানা করেছে ও হত্যা করেছে।'

শিশুদের টার্গেট করার মাধ্যমে ইসরায়েল মূলত ফিলিস্তিনি জনগণের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা এবং তাদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের ক্ষমতাকে ধ্বংস করে দিচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

থিওটোনিয়াস/

ন্যাটোর সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যেই আর্কটিকে রাশিয়ার পারমাণবিক বোমারু বিমানের টহল

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ১২:৪৮ পিএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬, ০১:১৪ পিএম
ন্যাটোর সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যেই আর্কটিকে রাশিয়ার পারমাণবিক বোমারু বিমানের টহল
রাশিয়ার তুপোলেভ তু-১৬০ (Tu-160) বোমারু বিমান। ছবি: সংগৃহীত

ইউক্রেন সংঘাত নিয়ে পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর সঙ্গে চরম উত্তেজনার মধ্যেই আর্কটিক অঞ্চলে বিশেষ টহল দিয়েছে রাশিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম যুদ্ধবিমান।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের ‘তুপোলেভ তু-১৬০’ (Tu-160) স্ট্র্যাটেজিক বোমারু বিমানগুলো বেরেন্টস এবং নরওয়েজিয়ান সাগরের আন্তর্জাতিক জলসীমার ওপর দিয়ে এই উড্ডয়ন সম্পন্ন করে।

মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৬ ঘণ্টার এই দীর্ঘ মিশনে বোমারু বিমানগুলোর সুরক্ষায় সঙ্গে ছিল ‘মিগ-৩১’ ফাইটার জেট। নরওয়ে, আইসল্যান্ড এবং গ্রিনল্যান্ডের মধ্যবর্তী আর্কটিক অঞ্চলে নিয়মিত টহলের অংশ হিসেবে এই অভিযান চালানো হয়। মাঝ-আকাশেই জ্বালানি ভরার বিশেষ মহড়াও  সম্পন্ন করেছে বিমানগুলো। তবে দীর্ঘ এই যাত্রাপথের কিছু অংশে বিদেশি যুদ্ধবিমান রুশ বহরটিকে অনুসরণ বা ছায়ার মতো তাড়া করেছিল বলে রাশিয়ার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

টেলিগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জোর দিয়ে বলেছে, 'রাশিয়ান অ্যারোস্পেস ফোর্সের সমস্ত ফ্লাইট আন্তর্জাতিক আকাশসীমা ব্যবহারের নিয়ম কঠোরভাবে মেনে পরিচালনা করা হয়েছে।'

বিশ্বজুড়ে চলমান উত্তেজনা এবং নতুন ঝুঁকির কথা মাথায় রেখে গত মাসেই রাশিয়া ও বেলারুশ তাদের প্রথম যৌথ পারমাণবিক মহড়া সম্পন্ন করে।

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জানিয়েছেন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার স্বার্থেই এই পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা সচল রাখা হয়েছে। তবে চলতি মাসে সেন্ট পিটার্সবার্গ আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ফোরামে তিনি স্পষ্ট করেন যে, রাশিয়ার ওপর আগে হামলা না হলে তারা ন্যাটোর কোনো সদস্য দেশে আক্রমণ করবেন না।

এদিকে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ একটি নিবন্ধে সতর্ক করে লিখেছেন, ইউক্রেনকে ন্যাটোর সামরিক সহায়তা প্রদান এবং ইউরোপের ক্রমাগত সামরিকীকরণ পরিস্থিতিকে আরও বড় যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে। ন্যাটোর সঙ্গে রাশিয়ার সরাসরি সংঘাত শুরু হলে তা দ্রুত পারমাণবিক যুদ্ধের রূপ নিতে পারে, যার ফলাফল হবে পুরো পৃথিবীর জন্য মারাত্মক বিপর্যয়কর। সূত্র: আরটি

আজহার/