ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে আজ শনিবার দিল্লির ঐতিহাসিক যন্তর মন্তরে এক শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচির ডাক দিয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক যুব সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন থেকে ভারতের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।
তিনি আজ সকাল ৮টায় দিল্লির বিমানবন্দরে অবতরণ করবেন। এরপর তিনি এবং বিশিষ্ট পরিবেশ ও সামাজিক আন্দোলনকর্মী সোনম ওয়াংচুকসহ অন্য নেতারা সরাসরি পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় যাবেন। সেখানে তারা যন্তর মন্তরে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ প্রদর্শনের জন্য পুলিশের আনুষ্ঠানিক অনুমতি চাইবেন।
ভারতে ফেরার প্রাক্কালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় দিপকে লেখেন, তিনি নিজের ভাগ্যকে দেশের সংবিধানের হাতে সঁপে দিয়ে দেশে ফিরছেন। একই সঙ্গে সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অবিলম্বে বরখাস্ত করার জোর দাবি জানানো হয়েছে।
এদিকে প্রস্তাবিত এই বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলার আগাম নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনার নির্দেশনা চেয়ে দিল্লি হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা (পিআইএল) দায়ের করা হয়েছিল। তবে গতকাল আদালত এই বিষয়ে জরুরি শুনানির আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, ‘ককরোচ জনতা পার্টির’ উৎপত্তি মূলত একটি ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক আন্দোলন হিসেবে। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এক মামলার শুনানির সময় জাল ল ডিগ্রিধারী বেকার যুবকদের ‘তেলাপোকা’ বা ককরোচের সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। সেই মন্তব্যকে ঘিরে ইন্টারনেট দুনিয়ায় তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয় এবং পরবর্তীতে বোস্টন ইউনিভার্সিটির স্নাতক অভিজিৎ দিপকের হাত ধরে এই ব্যঙ্গাত্মক আন্দোলনের সূচনা হয়।
বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই সংগঠনের বিশাল অনুসারী রয়েছে, যার মধ্যে কেবল ইনস্টাগ্রামেই তাদের ফলোয়ার সংখ্যা ৮০ লাখের বেশি। এই আন্দোলনকে ইতোমধ্যে অভিনেতা প্রকাশ রাজ এবং সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক সমর্থন জানিয়েছেন। এ ছাড়া তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রবীণ কংগ্রেস নেতা শশী থারুরসহ বিভিন্ন দলের নেতারা সমর্থন জানিয়েছেন।
গত বুধবার দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস, বিজেতা দাহিয়া ও আশুতোষ রাঙ্কা জানান, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে পুনর্গঠন এবং শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে এই আন্দোলন। রাজনৈতিক মতাদর্শ নির্বিশেষে সবাইকে এই বিক্ষোভে শামিল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে বিশৃঙ্খলা এড়াতে সমর্থকদের বিমানবন্দরের পরিবর্তে সরাসরি থানায় আসার অনুরোধ করেছেন মুখপাত্র সৌরভ দাস।
আজ কর্মসূচি সফল ও শান্তিপূর্ণ রাখতে সংগঠনের পক্ষ থেকে আন্দোলনকারীদের জন্য কিছু নির্দিষ্ট ‘করণীয় ও বর্জনীয়’ নির্দেশনাবলী জারি করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে–বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার সময় জাতীয় পতাকা (ত্রিবর্ণ রঞ্জিত পতাকা) ও শিক্ষার প্রতীক হিসেবে একটি বই সঙ্গে রাখা, পুরো কর্মসূচির ভিডিও ধারণ করা, কোনো উস্কানিতে পা না দেওয়া এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের দেখামাত্র পুলিশে সোপর্দ করা। এ ছাড়া গরম আবহাওয়ার কারণে পর্যাপ্ত পানি পান করা, সানস্ক্রিন ব্যবহার, ক্যাপ পরিধান এবং খালি পেটে না এসে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে আসার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে কোনো তর্কে না জড়িয়ে তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ফুল উপহার দেওয়ারও অনুরোধ করেছে সংগঠনটি।
সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস