ম্যালেরিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে এক নতুন অস্ত্র। বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি সামুদ্রিক স্পঞ্জ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে এক নতুন অ্যান্টিম্যালেরিয়াল ড্রাগ বা ম্যালেরিয়া প্রতিরোধী অত্যন্ত কার্যকর ওষুধ আবিষ্কারের দাবি করেছেন। একদল বিজ্ঞানী ম্যালেরিয়া প্রতিরোধী এই ওষুধ আবিষ্কারের গবেষণা করেছেন। বিজ্ঞানভিত্তিক জার্নাল ‘সায়েন্স’-এ গবেষণাটি প্রকাশ পেয়েছে। যেখানে নতুন ওষুধটি কী ও কীভাবে কাজ করে সে সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেছে মার্কিন নেতৃত্বাধীন এক গবেষক দল।
এই নতুন ওষুধ ‘এমইডি ৬-১৮৯’ নামে পরিচিত এবং এটি ম্যালেরিয়ার পরজীবীকে দুটি ভিন্ন পথে আক্রমণ করে ধ্বংস করে দিতে সক্ষম। বিশ্বের অন্যতম প্রাণঘাতী রোগ ম্যালেরিয়ার বিরুদ্ধে এই আবিষ্কারকে বিজ্ঞানীরা বড় ধরনের অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন।
ম্যালেরিয়া এককোষী ‘প্লাজমোডিয়াম’ পরজীবী বহনকারী মশার কামড়ের মাধ্যমে মানবদেহে ছড়ায়। এই পরজীবী প্রথমে লিভারে লুকিয়ে থাকে এবং পরে লোহিত রক্তকণিকায় আক্রমণ করে। নতুন আবিষ্কৃত ‘এমইডি ৬-১৮৯’ ওষুধটি এই পরজীবীর এই দুটি ধাপকেই বাধাগ্রস্ত করে, ফলে পরজীবীটি বেঁচে থাকতে পারে না। এই দ্বিমুখী আক্রমণের কারণে পরজীবীর জন্য ওষুধের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা অনেক কঠিন হয়ে পড়ে।
বিশ্বের প্রায় অর্ধেক মানুষ ম্যালেরিয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। বিশেষ করে আফ্রিকার সাব-সাহারান অঞ্চলের শিশুরা এই রোগের কারণে সবচেয়ে বেশি মারা যায়। বর্তমানে ব্যবহৃত অনেক ম্যালেরিয়া প্রতিরোধী ওষুধের বিরুদ্ধে প্লাজমোডিয়াম পরজীবী প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। এই পরিস্থিতিতে নতুন ওষুধটি ম্যালেরিয়া নির্মূলে এক আশার আলো হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গবেষকরা সামুদ্রিক স্পঞ্জ থেকে পাওয়া প্রাকৃতিক যৌগের ওপর ভিত্তি করে এই নতুন ওষুধটি তৈরি করেছেন। ইঁদুর ও বানরের ওপর পরীক্ষায় দেখা গেছে, এই ওষুধ ম্যালেরিয়ার পরজীবীকে সম্পূর্ণ নিধন করতে সক্ষম।
সামুদ্রিক স্পঞ্জ থেকে আবিষ্কৃত এই নতুন ম্যালেরিয়া প্রতিরোধী ওষুধ ম্যালেরিয়া নির্মূলের লক্ষ্যে বড় ধরনের অগ্রগতি। তবে মানুষের ওপর এই ওষুধের কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে আরও ব্যাপক গবেষণা প্রয়োজন। এই আবিষ্কার ম্যালেরিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে এক নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
/আবরার জাহিন


