জার্মানির রাজধানী বার্লিনের এক চিড়িয়াখানায় এশিয়ান দুটি হাতির অভিনব আচরণ দেখা গেছে। পানির নল ব্যবহার করে ‘মেরি’ নামের এক হাতিকে নিজের শরীর পরিষ্কার করতে দেখে গবেষকরা বিস্মিত হয়েছেন। একদিকে এশিয়ান হাতিদের বুদ্ধিমত্তার অভূতপূর্ব প্রমাণ মিলেছে, অন্যদিকে সামাজিক আচরণের একটি চমকপ্রদ দিক উন্মোচিত হয়েছে।
সম্প্রতি এক ভিডিওতে দেখা যায়, মেরি নামের হাতিটি তার শুঁড় দিয়ে নল ব্যবহার করে নিজের শরীরের বিভিন্ন অংশ পরিষ্কার করছে। হাতিটি এমনভাবে শুঁড়ের সাহায্যে পানি ছড়িয়ে তার শরীর ধোয়ার চেষ্টা করছে; গবেষকরা এ আচরণকে ‘জটিল সমস্যার সমাধান কৌশল’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। গবেষক দলের প্রধান মাইকেল ব্রেখট এটিকে অসাধারণ দক্ষতা হিসেবে অভিহিত করেছেন।
মেরির গোসলের সময় আরও একটি মজার দৃশ্য বিজ্ঞানীদের নজরে আসে। ‘আঞ্চালি’ নামের আরেকটি হাতি মেরির পানি সরবরাহ বন্ধ করতে নলের ওপর চাপ প্রয়োগ করে। গবেষকরা মনে করছেন, এটি সম্ভবত ঈর্ষাজনিত আচরণ হতে পারে।
অধ্যাপক মাইকেল ব্রেখট বলেন, ‘আঞ্চালির এই নল বন্ধ করার চেষ্টা আমাদের অবাক করেছে। তার মজার এ আচরণটি সত্যিই অভিনব।’
দুটি হাতির এই আচরণ গবেষকদের কাছে চমকপ্রদ। কারণ, এটি সরঞ্জাম ব্যবহারের ক্ষেত্রে হাতিদের বুদ্ধিমত্তা ও পারস্পরিক সম্পর্কের জটিলতা উভয়ই তুলে ধরে।
গবেষকরা জানান, সরঞ্জাম ব্যবহারের ক্ষেত্রে সাধারণত মানুষকেই সবচেয়ে বুদ্ধিমান প্রাণী হিসেবে গণ্য করা হতো। তবে সাম্প্রতিককালে শিম্পাঞ্জি, কাক, ডলফিনসহ অন্য প্রাণীদের মধ্যেও এ ধরনের দক্ষতা পরিলক্ষিত হয়েছে।
এই গবেষণার ভিডিও ধারণকারী লেনা কাউফম্যান বলেন, ‘হাতিরা সাধারণত নিজেদের শরীরে পানি, কাদা বা ধুলা ছিটায়। গবেষণায় দেখা গেছে, হাতিদের সরঞ্জাম ব্যবহারের ৮০ শংতাশের বেশি ঘটনা শরীরের পরিচর্যার সঙ্গে সম্পর্কিত।’
তবে তিনি আরও বলেন, গোসলের সময় নল ব্যবহার করা হাতিদের জন্য বেশ জটিল। কারণ এটি নরম, প্রসারণযোগ্য এবং এর মধ্য দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়। এ কারণে মেরির দক্ষতা গবেষকদের কাছে বিশেষভাবে প্রশংসনীয় বলে মনে হয়েছে।
গবেষকরা এই বিশেষ আচরণকে বিশ্লেষণ করে হাতির বুদ্ধিমত্তা ও সরঞ্জাম ব্যবহার নিয়ে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি পেয়েছেন। এর মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে, হাতিরা শুধু শক্তিশালীই নয়, তারা অত্যন্ত কৌশলী এবং বুদ্ধিমান প্রাণীও বটে।
গবেষকদের মতে, চিড়িয়াখানায় হাতিদের সাধারণত নলের ওপর দাঁড়ানো থেকে বিরত রাখা হয়। আঞ্চালির এমন আচরণটি ইচ্ছাকৃতভাবে মেরির গোসল বন্ধের প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা যেতে পারে।
মেরি পানির নলটিকে গোসলের শাওয়ারের মতো ধরে ছিল। গবেষকদের মতে, হাতিটি তার ব্যবহারিক কৌশলকে নলের ধরন অনুযায়ী মানিয়ে নিতে সক্ষম। অধ্যাপক ব্রেখট বলেন, ‘হাতিরা নলের ব্যবহারে অসাধারণ। তাদের মধ্যে এই আচরণ একেকভাবে প্রকাশ পায়, আর মেরি এই ক্ষেত্রে সত্যিই শাওয়ারের রানী।’
গবেষকরা এই ঘটনা পর্যবেক্ষণ করে ভাবছেন, বন্য পরিবেশে হাতিরা এ ধরনের কৌশল বা খেলার চেষ্টা করে কি না। অধ্যাপক ব্রেখট বলেন, ‘আঞ্চালির প্রথমবার এই কৌশল দেখে আমি হেসে উঠেছিলাম। আমার মনে প্রশ্ন জাগে, আঞ্চালি কি এটাকে মজার কিছু মনে করছে, নাকি শুধু মেরিকে বিরক্ত করতে চেয়েছে?’ গবেষণার ফলাফল সাম্প্রতিক গবেষণা সাময়িকী কারেন্ট বায়োলজিতে প্রকাশিত হয়েছে। সূত্র: দ্য ইনডিপেনডেন্ট